

আলমাস হোসাইন (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় ৩০টি গরু বহনকারী একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরদিন ময়মনসিংহ বাইপাস সড়ক থেকে লুট হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ট্রাকের ভেতর পাওয়া যায় পাঁচটি মৃত গরু, যা ব্যবসায়ীদের মাঝে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাকি গরু উদ্ধারে এবং ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ জোরদার অভিযান চালাচ্ছে।
রবিবার সন্ধ্যায় মৃত গরুসহ উদ্ধার করা ট্রাকটি আশুলিয়া থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত ডাকাতচক্রের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার গভীর রাতে নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায়। পুলিশ ও গরুব্যাপারীদের বরাতে জানা যায়, জয়পুরহাট থেকে ৩০টি গরু নিয়ে কুমিল্লার হোমনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ট্রাকটি। ভোররাতের দিকে বাইপাইল এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মাইক্রোবাসে থাকা ডাকাতদের একটি দল ট্রাকের গতিরোধ করে। মুহূর্তেই তারা ট্রাকে থাকা পাঁচ গরুব্যাপারী, চালক ও সহকারীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গরুবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ বাইপাসের পাশে ফেলে রাখা অবস্থায় ট্রাকটি পাওয়া যায়। তবে ট্রাকের ভেতরের পাঁচটি গরুর মৃত্যু–ঘটনা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গরুব্যাপারী আব্দুর রহিম জানান, আমরা পাঁচজন মিলে মোট ৩০টি গরু কিনে কুমিল্লার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। ডিইপিজেড এলাকার আল-আমীন মাদ্রাসার কাছে পৌঁছাতেই ডাকাতরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সব গরুসহ ট্রাক নিয়ে যায়। আমার সাতটি গরুর সঙ্গে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকাও ছিল। সবাই মিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
লুট হওয়া গরুর মধ্যে আব্দুর রহিমের ৭টি, মোশারফের ১০টি, রহমানের ৬টি এবং রহিমের ৭টি গরু ছিল বলে নিশ্চিত করেন ব্যবসায়ীরা।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ডাকাতচক্রকে শনাক্তে আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি। বাকি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি মূল চক্রকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলমাস হোসাইন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান টাওয়ার নিচতলা বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল: ০১৭৭৫০৮০৬২০
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম