
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার ‘আনোয়ারা হাসপাতালে’ ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার শিকার হয়ে এক প্রসূতি মা ও তার নবজাতক শিশু এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ভুক্তভোগী প্রসূতি সাথী আক্তার উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার সহোদর ভাই শাকিল আহমেদ বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, জেলা সিভিল সার্জন এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত ৫ জুলাই বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজার করানোর আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম ৪৫০০ টাকা লুফে নেয়। কিন্তু রাতে কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, অদক্ষ নার্স ও স্টাফ দিয়ে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে প্রসূতির প্রসবের রাস্তা মারাত্মকভাবে কেটে ফেলা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করে। বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, অদক্ষ প্রসবের কারণে মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং প্রসবকালীন টানাহেঁচড়ার কারণে নবজাতকের মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। শিশুটি এখন আইসিইউতে (ICU) মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন ওই তারিখে তাদের হাসপাতালে কোনো ডেলিভারি হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব নামসর্বস্ব ক্লিনিক আর কত মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম