স্টাফ রিপোর্টার, যাত্রাবাড়ি, প্রতিনিধি:
আজ ১লা জুলাই-২০২৬ রোজ বুধবার বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আহ্ববায়ক(রিদওয়ান হাসান) ও সদস্য সচিব(সালাউদ্দিন জাহাঙ্গীর) এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সেই আত্মত্যাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং জাতির ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। সেই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। জনগণ মনে করেছিল, ক্ষমতার প্রতীক একটি ভবনকে জনগণের স্মৃতির ভাণ্ডারে পরিণত করা হবে একটি নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জাদুঘরটি এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি মনে করে, একটি জাতির ইতিহাস সংরক্ষণে অযথা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উদ্বোধনের তারিখ বারবার পিছিয়ে যাওয়া, প্রশাসনিক ধীরগতি এবং অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। ইতিহাসকে যত বেশি বিলম্বিত করা হবে, ততই সেই ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও সংযোগ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
জুলাই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মারক। এখানে শুধু একটি ভবন সংরক্ষণ নয়, বরং একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, বেদনা, সাহস এবং প্রতিরোধের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন নিজ চোখে সেই ইতিহাস জানতে পারে, গবেষকরা যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও দলিল সংগ্রহ করতে পারেন এবং দেশ-বিদেশের মানুষ যেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন—সেজন্য জাদুঘরটি দ্রুত উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, জাদুঘরটি শুধু প্রদর্শনীর স্থান না হয়ে গবেষণা, আর্কাইভ, শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতার একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। সেখানে শহীদদের জীবন, আহতদের সংগ্রাম, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল, দেয়াললিপি, পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্মৃতি-প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
আমরা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি—
* অবিলম্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
* উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ার কারণ জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
* জাদুঘরের পরিচালনা ও সংরক্ষণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
* গবেষক, ইতিহাসবিদ, শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর পরিচালনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
* জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দলিল, স্মারক ও তথ্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
জুলাইয়ের ইতিহাস কোনো ফাইলের ভাঁজে বা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকার ইতিহাস নয়। এটি জনগণের ইতিহাস। এটি একটি জাতির আত্মত্যাগ, সাহস ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম