আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ দিনভর চলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিল চোখে পড়ার মতো ভোটার উপস্থিতি। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও মাঝারি ভিড়—সব মিলিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সরগরম ছিল পুরো এলাকা।
সাভার পৌরসভা, আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও শিমুলিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তরুণ ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভোটার রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চাই। যে এগুলো নিশ্চিত করবে, তাকেই ভোট দিয়েছি। এমন প্রত্যাশাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে দিনভর ভোটকেন্দ্রগুলোতে।
ভোটের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন দুই প্রধান প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার চালান। ভোট শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী দিলসানা পারুল দাবি করেন, মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে তিনি আশাবাদী।
ভোটের দিন বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি কেন্দ্রে ধীরগতির ভোটগ্রহণ নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ দেখা দিলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি ছিল জোরদার।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এই আসনে শ্রমজীবী ভোটার ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উভয় শিবিরই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছে।
এখন শুরু হয়েছে ভোট গণনার কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। রাত যত গভীর হবে, ততই স্পষ্ট হবে—সাভার-আশুলিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের বিজয়ের মুকুট উঠছে কার হাতে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলমাস হোসাইন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান টাওয়ার নিচতলা বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল: ০১৭৭৫০৮০৬২০
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম