নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
তারিখ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট সরকার তাঁকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশন কোনো চাপের মধ্যে নেই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রত্যয় রয়েছে। তিনি দুদকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথাও জানান।
আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতিকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের পাশাপাশি কমিশনার হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৮ আগস্ট তাঁরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এবং পরদিন দুদকে তাঁদের প্রথম কার্যদিবস শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুদকের নেতৃত্বে আসা বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের সামনে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন কমিশন কীভাবে এসব দায়িত্ব বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইতোমধ্যে নতুন কমিশনের অধীনে প্রথম মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের নতুন নেতৃত্বের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রতিকার নিশ্চিত করে কমিশন জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম