
নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামের কয়েকটি পাড়ায় গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আঘাত হানা আকস্মিক ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র আধাঘন্টার তীব্র ঝড়ে নোয়াপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, চকমানপুর ও ভত্তাপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি এলোমেলো হয়ে গেছে। পুরো উপজেলায় বৃষ্টিপাত হলেও কেবলমাত্র এই এলাকাটিতে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , ঝড়ের তীব্রতায় নোয়াপাড়ার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে পড়েছে। এতে করে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
দুর্ভোগের শিকার ৭০ বছর বয়সী নোয়াপাড়ার বাসিন্দা শিলু বাশিকী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, বয়সের ভারে তেমন কোনো কাজ করতে পারি না। অনেক কষ্টে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি মাত্র ঘর ছিল, কিন্তু ঝড়ে তাও উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।
একই পাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত জোহান হেমরম বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িরই কম-বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আমার বাড়ির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। আমরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন জানান,ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তবে তিনি দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যাচাই করে ত্রাণ সহায়তার প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, এবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি এলাকাভিত্তিক হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তারা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলমাস হোসাইন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান টাওয়ার নিচতলা বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল: ০১৭৭৫০৮০৬২০
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম