
নেত্রকোনা জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য, দিনের পর দিন হয়রানি ও বাড়তি টাকা আদায়। ভূমি অফিস নিয়ে সেবাগ্রহীতা ও সাধারন মানুষের এমন ধারনা পাল্টে দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ৩নং পোগলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নবাসীকে রিতিমতো ভূমি সংক্রান্ত সেবা দিয়ে অবাক করে দিয়েছেন। কিন্তু একদল কুচকরি মহল তার কাছ থেকে সুবিধা না পেয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছে তিনি এখানে যোগদান করার পর থেকেই।
অন্যদিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন খান বলেন, আমি এই ইউনিয়নের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এবং যতদিন আমি এই ইউনিয়নের সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছি ততদিন সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাবো ইনশাআল্লাহ। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান বলেন, গত ১৭ ই মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে (Dhaka Mail) নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ, একাধিকবার বদলি, তবুও থামেনি ভূমি কর্মকর্তা,নতুন কর্মস্থলেও ঘুষ গ্রহণ`` এমন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয় এবং (MD Uzzal Talukder ) নামক একটি ফেসবুক একাউন্ট হতে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। Dhaka mail অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও Md Uzzal Talukder নামক একটি ফেসবুক একাউন্ট হতে ভিডিও প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
প্রতিবেদক অন্যের প্ররোচনায় এবং ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং Md Uzzal Talukder নামে যে ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছে আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি মোহাম্মদ কামাল হোসেন খান সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি ও আমার পরিবারের জীবন চলার জন্য যতটুকু অর্থ ও সম্পদ প্রয়োজন,সেটুকু সৎ পথে কষ্ট ও পরিশ্রম করে উপার্জন করেছি। প্রতিবেদকসহ উল্লেখিত Dhaka mail অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক যে সংবাদটি প্রকাশ করেছে,সেখানে বলা হয়েছে একাধিকবার বদলি তবুও থামেনি ভূমি কর্মকর্তা, নতুন কর্মস্থলেও ঘুষ গ্রহণ এবং Md Uzzal Talukder নামে যে ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিও প্রকাশিত হয়। যেগুলো সম্পুর্ণ মিথ্যা।
বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহ সকল সরকারি দপ্তরে অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি নিয়ম মেনেই কেবল কাজ করা হয়। তাই এখানে ঘুষ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নাই। সেখানে কাজে অনিয়ম বা ঘুষ গ্রহণ করার কোনো প্রকার সুযোগ নেই। এমন উদ্ভট ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশে আমার নিজের এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাই আমি উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা, ভিত্তিহীন এই সংবাদের এবং ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও`র তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
এদিকে পোগলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের ভূমি অফিসে এসে আমার জমি আমি নিজেই অনলাইনে আবেদন করে নামজারি করেছি। অতিরিক্ত কোনো টাকা খরচ হয়নি আমি শুধু সরকারি ফি জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, এই ভূমি অফিসের বর্তমান ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেন খানের সেবায় আমি খুবই খুশি। তিনি সকলকে সরাসরি পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নেওয়ার আহবান জানান। তার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আমি এই ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সম্প্রতি সরেজমিনে পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গেইটে প্রবেশ করে একটু সামনে এগুতেই চোখে পড়বে পুরো অফিসের ফ্লু চার্ট। এর পাশেই সাঁটানো সিটিজেন চার্টার। এতে জমির নামজারি করতে খরচ, খতিয়ান তোলার খরচ, খাসজমি বন্দোবস্ত নিতে করণীয়,কোন বিষয়ে কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে। এসব তথ্য লেখা রয়েছে। এদিকে পোগলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান জানান,আমার পুরো অফিস দালাল মুক্ত করা হয়েছে।
অফিসের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,‘যার কাজ তাকেই সরাসরি আমার অফিসে আসতে উৎসাহ দিচ্ছি। অন্য কারো হাত দিয়ে আসা মানেই সেখানে দালাল ঢুকে পড়া। ফলে এখন সেবা গ্রহীতারা সরাসরি আমার অফিসে আসতে পারছেন।তিনি আরো বলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম স্যারের সার্বিক সহযোগীতায় ও কলমাকন্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামছুজ্জামান আসিফ স্যারের দিকনির্দেশনায় আমার অফিসকে একটি মডেল ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করছি, তাই আমি ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে ইউনিয়নের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগীতা কামনা করছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলমাস হোসাইন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান টাওয়ার নিচতলা বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল: ০১৭৭৫০৮০৬২০
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম