
ঢাকা প্রতিনিধি:
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা হরণের ঘটনাকে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহবায়ক খোমেনী ইহসান ও সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ পলাশি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
তারা বলেন ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। একটি প্রহসনমূলক যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে শুরু হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রায় দুশো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন। এই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার পর এ অঞ্চলের জনগণের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় শোষণ ও নির্যাতন। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভূমি ও অধিকার হরণ করে তাদের প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয় এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে ধ্বংস করে সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলে বারবার কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা ছিল গণহত্যার নামান্তর। ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল এর নির্মম উদাহরণ। এই দুর্ভিক্ষগুলো ঔপনিবেশিক শাসনের ভয়াবহ পরিণতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৩শে জুন শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের জাতির জীবনে আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি প্রতীক। এই দিনে আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুনের এই ঐতিহাসিক এবং শোকাবহ দিনটিকে ‘পলাশী দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার জোর দাবি জানান বিপ্লবী পরিষদের আহবায়ক ও সদস্য সচিব। তারা বলেন, এই দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতি তার অতীত ইতিহাসকে সম্মান জানাবে এবং ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম