
বাবা,,,,,,
তোমাকে আজ এত মনে পড়ে কেন, কখনো কখনো বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন যেন শূন্য হয়ে যায়,চোখের কোণে অজান্তেই পানি জমে ওঠে,
তখন শুধু মনে হয়, ইশ্ বাবা যদি আজও আমার পাশে থাকতে।
বাবা তুমি যখন পাশে ছিলে, তখন হয়তো বুঝতেই পারিনি তুমি আমার জীবনে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলে। তোমার ছায়ায় তোমার ভালোবাসায়, তোমার বকুনিতে,তোমার শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মমতা ভরা কতটা নিরাপদে ছিলাম,তা আজ তোমাকে হারিয়ে বুঝতে পারছি।
আজ তুমি নেই কিন্তু তোমার কথা আছে, তোমার স্মৃতি আছে, তোমার কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি আছে,
আর আছে তোমাকে হারানোর এক গভীর শূন্যতা
যে শূন্যতা কোনোদিনও পূরণ হওয়ার নয়।
তুমার বলে যাওয়া প্রতিটি উপদেশ,আজও আমার কানে বাজে। তখন হয়তো তোমার কথাগুলোকে খুব সাধারণ ও বিরক্তকর মনে হতো,কিন্তু আজ বুঝি,সেগুলোর প্রতিটি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে ছিল আমার প্রতি তোমার অগাধ ভালোবাসা আর জীবনের অভিজ্ঞতা।
বাবা, তুমি জানো,,,,,,
আজও কখনো কোনো বিপদে পড়লে মনের
অজান্তেই তোমাকেই খুঁজে বেড়াই। মনে হয় তুমি থাকলে হয়তো বলতে,ভয় পাস না আমি তো আছি।
কিন্তু এখন তুমি নেই,তাই সেই কথাটা শোনার জন্য আমার মনটা কাঁদে।
আমার এই অভাগা মনটা আজও ভাবে,যদি তোমাকে আর একটিবার কাছে পেতাম, যদি সময়টা আর একটু ফিরে আসত,যদি তোমার পাশে বসে আর একবার তোমার হাতটা ধরতে পারতাম,
তাহলে হয়তো তোমার হাতটি বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতাম।
অশ্রু দিয়ে তোমার দুটি পা ধুয়ে দিয়ে শুধু একবার বলতাম,বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি তোমাকে দেওয়া অনেক কথাই রাখতে পারিনি। তোমার অনেক স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। তোমার মুখে হাসি ফোটানোর মতো তোমার জন্য কিছুই করতে পারিনি।
সরি বাবা,
বিশ্বাস করো, তোমাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছে আমার কখনোই ছিল না। জীবনের ব্যস্ততায়, অজ্ঞতায়, ভুলে
হয়তো তোমার অনেক ভালোবাসার মূল্য বুঝতে পারিনি।
আজ তুমি নেই আর তোমাকে বলারও কোনো সুযোগ নেই আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। যদি ওপারের কোনো জগৎ থেকে আমার মনের না বলা কথাগুলো শুনতে পাও,তাহলে তোমার এই সন্তানটাকে ক্ষমা করে দিও বাবা।
বাবা, তুমি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমার কাছে তুমি কখনো হারিয়ে যাওনি। তুমি আছো আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,আমার প্রতিটি প্রার্থনায়,
আমার প্রতিটি কান্নায়, আমার শৈশবের প্রতিটি স্মৃতিতে, আর আমার হৃদয়ের সেই গভীরতম জায়গাটিতে,যেখানে তোমাকে ছাড়া আর কারো স্থান নেই।
কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে তোমার কাছে ছুটে গিয়ে বলি,বাবা আমি খুব ক্লান্ত একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।
কিন্তু চোখ খুললেই বুঝতে পারি,তুমি নেই শুধু তোমার স্মৃতিটুকু আছে। বাবা তোমাকে যে কতটা মনে পড়ে,
তা হয়তো কোনো শব্দ দিয়ে বোঝাতে পারব না।
তোমাকে হারানোর কষ্টটা বুকের ভেতর এমনভাবে জমে আছে,যা চোখের পানি হয়েও শেষ হয় না।
ইচ্ছে করে সময়কে একবার পেছনে ফিরিয়ে নিতে
ইচ্ছে করে আর একবার তোমার কোলে মাথা রাখতে
ইচ্ছে করে আর একবার তোমার মুখটা দেখতে
আর একবার তোমার কণ্ঠে শুনতে,বাবা কেমন আছিস।
হায় বাবা আজ তোমাকে শুধু একবার দেখার জন্যও
আমার হৃদয়টা হাহাকার করে। তোমাকে খুব মনে পড়ে বাবা প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে নিঃশব্দে। তুমি নেই,এই সত্যিটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকার অভ্যাসটা হয়তোবা করে ফেলেছি, কিন্তু মনের অজান্তেই আজও তোমাকে খুঁজি।
জানো বাবা, আজও আমার জাকের ভাইয়েরা তোমাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে, তোমার কথা বলে, তোমাকে শ্রদ্ধা করে,তখন আমার বুকটা আরও বেশি ভারী হয়ে আসে।
কারণ আমি তোমার সন্তান হয়েও তোমাকে সঠিকভাবে সম্মান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসতে পারিনি, তোমাকে তোমার প্রাপ্য সম্মান ও তুমার ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে পারিনি।
আমি ব্যর্থ বাবা,,,
তোমার সন্তান হওয়ার যে সম্মান, তার যোগ্য হতে পারিনি। হয়তো আজীবন এই আক্ষেপটা
আমার বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে থাকবে সারাটা জীবন।
বাবা, একটা কথা আজও আমার মনকে কাঁদায়
তুমি আর কিছুদিন থাকলে তোমার কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত।
তুমি কি তোমার প্রভুর কাছে বলতে পারতে না,
হে আমার রব, আমি এখন যেতে চাই না।
আমার ছেলে-মেয়েরা যে এখনও অনেক ছোট।
আমি চলে গেলে ওদের কে দেখবে,কে ওদের আগলে রাখবে,কে ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে,কে ওদের ভুল করলে বকবে,কে ওদের কাঁদলে বুকে জড়িয়ে ধরবে।
বাবা, তুমি কি ভুলে গিয়েছিলে আমাদের কথা,,,,,,
তুমি ছাড়া আমাদের আপন বলতে আর কেউ ছিল না
তুমি কি একবারও ভাবোনি,তুমি চলে গেলে তোমার এই অবুঝ সন্তানগুলো,কতটা অসহায় হয়ে পড়বে।
তুমি কেন তোমার এই সন্তানদের কথা একবারও ভাবলে না বাবা, কেন তুমি অভিমান করলে আমাদের সাথে। নাকি তোমারও কিছু করার ছিল না নাকি সৃষ্টিকর্তার ডাকে তোমাকে যেতেই হতো।
এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর আজও পাই না।
শুধু রাতের নীরবতায়,চোখের পানি ফেলে তোমাকে খুঁজি। বাবা, তোমাকে যে কতটা মনে পড়ে,তা কোনো শব্দ দিয়ে বোঝানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আজও ভালোবাসি বাবা, আগের মতোই বরং তোমাকে হারানোর পর আরও বেশি ভালোবাসি।
আর যদি কোনদিন আল্লাহর দরবারে আমার কোনো দোয়া কবুল হয়ে থাকে,তাহলে আমার জন্য কিছু চাই না,একটা জিনিস ছাড়া।
আবার যদি কখনো মানব জনম পাই তাহলে তোমার ঘরেই যেন আমার জন্ম হয়, আর তোমাকে যেন বাবা বলে ডাকতে পারি আমার মনের জমানো ব্যথাগুলো দূর করতে পারি।
হে আমার প্রতিপালক আমার বাবাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দিও,তাঁর কবরকে নূরের আলো ভরে দিও। তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিও,আর তোমার অসীম রহমতের ছায়ায়,আমার বাবাকে চিরশান্তিতে রেখো।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন
তুমি আমার বাবা কে জান্নাতের সর্বোচ্চমর্যাদা দান করুন,আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম