

নরসিংদী প্রতিনিধি:
"মানুষ মানুষের জন্য"—এই চিরন্তন সত্যই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। চারপাশে যখন স্বার্থপরতার ছাপ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখনও কিছু তরুণ নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।
তেমনই একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক রামিম, যিনি নিজের সময়, শ্রম ও মানবিকতা দিয়ে হয়ে উঠেছেন অনেক মানুষের আস্থার প্রতীক।
২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির সময় চারদিকে যখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন রামিমের মনে জন্ম নেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প। সেই সময় থেকেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি শুধু একজন রক্তদাতা নন, বরং অসহায় মানুষের নির্ভরতার নাম হয়ে ওঠেন।
রামিমের মানবিক যাত্রার অন্যতম অধ্যায় রক্তদান। ২০২২ সালে প্রথমবার একজন রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীকে রক্তদান করার মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেন, একটি ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
যখনই কোনো রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়, তিনি সাড়া দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, প্রতিটি জীবনই অমূল্য।
রক্তদানের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কম্বল বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার মতো নানা মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশ নেন তিনি।
নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।
নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে রামিম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার জীবনের ব্রত। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে পারার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।
সমাজ যখন ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রামিমের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার নিরলস পথচলা প্রমাণ করে, মানুষের সেবা করতে বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি সহানুভূতিশীল মন এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা। রামিমের এই মানবিক অভিযাত্রা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম