মোঃ আল-আমিন,বিশেষ প্রতিনিধি:
পবিত্র মহররম উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ইসলামী আলোচক হযরাতুল আল্লাম এম. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি বলেন, ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে শাহাদতবরণ করেন এবং সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ৬০ হিজরির ৮ জিলহজ হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের নিয়ে মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে বিভিন্ন ঘটনা অতিক্রম করে তিনি কারবালায় পৌঁছান। সেখানে কুফার গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের নির্দেশে তাঁর কাফেলাকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হযরাতুল আল্লাম এম. আমিরুল ইসলাম বলেন, এজিদের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইমাম হোসাইন (রা.) ঘোষণা করেছিলেন, “মিথ্যার কাছে সত্য কখনো মাথা নত করবে না।” এরপর তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর চরম নির্যাতন নেমে আসে। পানির অভাবে শিশু ও নারীসহ সবাই মানবেতর কষ্ট ভোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, মহররমের ১০ তারিখে সংঘটিত যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সঙ্গী-সাথি এবং আহলে বাইতের সদস্যরা একে একে শাহাদতবরণ করেন। শেষ পর্যন্ত অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে ইমাম হোসাইন (রা.) নিজেও শাহাদতবরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ইসলামি ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সত্য প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বক্তা বলেন, কারবালার ঘটনা কেবল শোকের নয়, বরং মানবতার জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জীবনাদর্শ মুসলিম উম্মাহকে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।
তিনি মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারবালার আত্মত্যাগের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
আলোচনা শেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, যেন মুসলিম উম্মাহ হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন!
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম