সদরপুরে মানছেন না আদালতের আদেশ, বসতবাড়ি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ, স্থানীয় গুন্ডা দিয়ে গৃহবধূকে মারধর ও হয়রানি

সদরপুর প্রতিনিধি: সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ভাঙ্গা কোটের আদেশ অমান্য করে সদরপুরে বসতবাড়ি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী ফাহিমা বেগম ও সহযোগিদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ফাহিমা বেগম স্থানীয় গুন্ডা পান্ডা দিয়ে গৃহবধূ মমতাজকে মারধর করা সহ হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বসতবাড়ি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের মৃত্যু মোতালেব বেপারীর কন্যা মমতাজকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদরপুরে পুর্ব শ্যামপুর এলাকায় তিন ভাইয়ের নিকট থেকে তার বোন মমতাজ এর বসত বাড়ির সাথে আরো ৫.৫০ শতাংশ জমি মৌলিক ভাবে ১০ লাখ টাকায় খরিদ করেন। সেই থেকে তারা ভোগ দখল করেন এবং বসবাস করে আসছেন।
কিন্তু দুই ভাই সাহাদাত বেপারী ও লিটন বেপারী আপন বোনকে সম্পত্তি না দিয়ে বেশি দামে গত ২০/০১/২৬ তারিখে ২৮৫ নং দলিল মুলে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন । কিন্তু প্রকৃত বিক্রি করে মাত্র ১৫ লাখ টাকায়।
অতঃপর বোন মমতাজ মানুষের ধারে ধারে ও পথে পথে ঘুরে পরে সদরপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ভাঙ্গাতে মামলা করেন। যাহার নম্বর দেওয়ানি ৭৮/২৬ বিজ্ঞ সদরপুর সিভিল জজ আদালত, ভাংগা, ফরিদপুর। মামলার ধারা- বাটোয়ারা ও ভায় আপ।
দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে আদালত বাদি মমতাজ এর পক্ষে রায় দেন।
এ বিষয় ভাঙ্গা আদালতের অ্যাডভোকেট মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, আমার মক্কেল তার ভাইদের নিকট থেকে মৌখিক ভাবে সম্পত্তি কিনেছিলেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি করে দেননি।
ওই সম্পত্তি বোনকে না জানিয়ে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট তার ২ ভাই বিক্রি করে দেন। পরে মমতাজ বেগম জানতে পেরে তিনি ভাঙ্গা আদালতে বাটোয়ারা ও ভায় আপ ধারায় মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদরপুর ওসিকে নির্দেশ দেন যে, ওই সম্পত্তিতে বিবাদীরা প্রবেশ করতে পারবে না এবং স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমার মক্কেল বা মামলার বাদী মমতাজকে কোন পাত্তা দিচ্ছেন না সদরপুর থানার এসআই মোকলেছ।
এছাড়া বিবাদীরা তাকে ভয়-ভীতি সহ মারধর করা সহ বসতবাড়ি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করছেন । সদরপুর থানার পুলিশ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদী ফাহিমা বেগম এর পক্ষ নেন। আমার মক্কেলকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করে উল্টো তাকে হয়রানি করে আসছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বাদী ও বিবাদীগন মধ্যে সদরপুর থানার ৩৬নং শ্যামপুর মৌজার বি.এস-১০৬১ নং খতিয়ানে বি.এস-৩৭৭৭নং দাগে জমি বাড়ী ১০০০ সহস্রাংশে ৬১ শতাংশ মধ্যে ৫৭০ অংশে ৪১ শতাংশ। ইহার মধ্যে বন্টক কৃত ৯.৩৩ শতাংশ এবং বিগত ইং-২০/০১/২০২৬ তারিখের ২৮৫ নং দলিল এর Buy Up কৃত ৫.৫০ শতাংশ ভূমি লইয়া মোকদ্দমা চলমান রয়েছে এবং ইং-২০/০১/২০২৬ তারিখের ২৮৫ নং দলিল এর Buy Up কৃত ৫.৫০ শতাংশ ভূমি নিয়া অস্থায়ী ও অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। মাননীয় আদালত সন্তুষ্ট হইয়া জবাব দাখিল এবং শুনানী করা পর্যন্ত Statusquo (স্থিতিবস্থা) এবং ৭ দিনের শোকজ এর আদেশ প্রদান করিয়াছেন এবং গত ২৯/০৩/২০২৬ তারিখে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৯৪(এ) মোতাবেক দরখাস্ত করিলে তাহা মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার আদেশ দুটি মামলার বাদি মমতাজ বেগম এর পক্ষে রায় পান।
এব্যাপারে মামলার বাদি ও ভুক্তভোগী মমতাজ বলেন, আমি ২ন ভাইয়ের নিকট থেকে মৌখিক ভাবে সম্পত্তি কিনে প্রতারিত হয়ে আদালত সহ মানুষের দারে দারে ঘুরছি। ভাইয়েরা আমার সাথে প্রতারণা করে বেশি দাম পেয়ে জনৈক ফাহিমা বেগমের নিকট বিক্রি করে দেয়। এরপর আমি বাটোয়ারা ও ভায় অ্যাপ ধারায় ভাঙ্গা জজ আদালত সদরপুর কোর্টে মামলা করি। মামলায় জজ সাহেব সদরপুর থানার ওসিকে উক্ত সম্পত্তি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি সাহেব আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদীগনের পক্ষ নেয় এবং বিবাদী ফাহিমের সহ আমার দুই ভাই শাহাদাত ও লিটন আমাকে মারধর সহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং আমার দখলকৃত সম্পত্তি অন্যায় ভাবে বেদখল করতে চায়। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও সদরপুর থানার ওসি ও সেকেন্ড অফিসার আমাকে কোন সহযোগিতা করছে না।
তাই আমি বিষয়টি মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং পুলিশের পক্ষপাতিত্ব করার কারণে আমি পুলিশ সুপারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে সদরপুর থানার এস, আই মোহাম্মদ মোখলেচ বলেন, আমার কিছু করার নাই। বিবাদীর পক্ষের লোকজন আমাকে খুব চাপ সৃষ্টি করছে এবং আপনি মমতাজ ওই সম্পত্তিতে কোন টাকা দাখিল করেন নাই বিধায় আমি আইন গত ভাবে আমি কিছু করতে পারছি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলমাস হোসাইন, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান টাওয়ার নিচতলা বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল: ০১৭৭৫০৮০৬২০
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম