
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম