
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অন্যতম দিন ছিল ৪ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনে রক্তক্ষয়ি ও ভয়াবহতার সাক্ষী হয় সিরাজগঞ্জ। আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও ছাত্র-জনতার ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ প্রাণ হারান ২৯ জন। সেই ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ পরিবারগুলোর শোক কাটেনি। এদিকে, মামলা ও তদন্তে কিছু অগ্রগতি হলেও অন্যদিকে এখনও লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
চব্বিশের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। একই সময় শহরের বিভিন্ন অলি গলি থেকে আসা মিছিল প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল আওয়ামী পুলিশ। একপর্যায়ে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। পুলিশ পিছু হটে গেলে এস এস রোডসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় আওয়ামী অস্ত্রধারীরা।
সেদিন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গুলিতে ৩ জন স্বাধীনতা কামি শহীদ হন। একই দিনে এনায়েতপুরে ৩ শিক্ষার্থী। পরে থানা আক্রমণের ঘটনায় প্রাণ হারান ১৫ পুলিশ সদস্য। এছাড়া রায়গঞ্জে সাংবাদিক প্রদীপ কুমার ভৌমিকসহ ৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। এছাড়া, সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরীর বাসা থেকে আরও ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, শহীদের সংখ্যা ১৩। অন্যদিকে, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে এ পর্যন্ত মোট ৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত রঞ্জু, সুমন ও লতিফ হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলাসহ বাকি ৬টি হত্যা মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই আমরা বিজ্ঞ আদালতে দিয়েছি। আমার জানামতে পুলিশ সবকিছু বিবেচনা করেই চার্জশিট দাখিল করেছে। এখানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি চার্জশিটে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।
এদিকে, পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাকিল হায়দার বলেন, এই প্রক্রিয়াগুলো করতে গেলে সময় লাগে। তবে এই সময়গুলো শর্টলিও করা যায়, আবার এটা লম্বা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যেও যায়। তা এখন পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে নিশ্চয়ই এগুলা আমি দেখভাল করবো।
প্রিয়জন হারানোর বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন নিহতদের পরিবারগুলো। স্বামী, সন্তান কিংবা বাবাকে আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই তাদের। দুই বছর পরও তাদের একমাত্র দাবি, শহীদদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তাদের প্রত্যাশা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমেই শহীদ হত্যার ন্যায়বিচার মিলবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সুমন আহমেদ, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বাইপাইল মোড়া আশুলিয়া সাভার। মোবাইল:
দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম