পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দুর্নীতি


রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

অনলাইনে নামজারির আবেদনের পর প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মূল দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের। কিন্তু এই কাজটিকে বাণিজ্যে পরিণত করেছেন তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী।

তিনি জাকির হোসেন নামের এক বহিরাগত দালালের মাধ্যমে নামজারি প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নিচ্ছেন। জাকির হোসেন ভূমি অফিসের কোনো বৈধ কর্মচারী না হলেও তিনি প্রতিনিয়ত অফিসে উপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির নিজেকে “উন্নয়ন খাতে কর্মরত” বলে দাবি করে অফিসের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের অনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে তিনি বলেন,
“আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেও। সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার ধোপাপাড়া মৌজার (জে.এল নম্বর ৩৯) আওতায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত মোট ৯টি দাগে (২৮০১, ২৮০২, ২৮০৩, ২৮০৪, ২৮০৫, ২৮০৬, ২৮১০, ২৭২৭ ও ২৭৩০) প্রায় ২৫ বিঘা (৮.২৭ একর) সরকারি ধানী জমি রয়েছে। অথচ মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে মৃত আলীমুদ্দিনের ছেলে শাহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুর রহমানকে জমিগুলো একচ্ছত্র দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শাহিদুল বছরের পর বছর ধরে ওই খাস জমিতে পুকুর খনন করে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ভোগদখল করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সুফি এবরার আহমেদ বকসী রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগরীর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করেন, যা তিনি প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।

পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও খাস জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমার কাছে নাই। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.