Blog

  • ‎নাসিরনগরের খান্দুরায় হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত -১৫

    ‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
    ‎শনিবার (১আগস্ট) মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে খান্দুরা সালামবাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ধরমন্ডল ও শিমুলঘর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
    ‎ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের সালাম বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠে।

    ‎জানা যায়,শনিবার ১লা আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল কাবাডি দল বনাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শিমুল ঘর গ্রামের মধ্যে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলার শেষ পর্যায়ে ধরমন্ডল দল ৪.০ পয়েন্টে শিমুল ঘর দলকে পরাজিত করে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে, পরাজিত শিমুল ঘর দল ও সমর্থক ধরমন্ডল দলের এক খেলোয়াড়কে আটক করার চেষ্টা করে, আটকাতে না পেরে উত্তেজিত খেলোয়াড় ও সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে ধরমন্ডল দলের ২ সদস্যের উপর হামলা চালায় ও আহত হয়। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা  ধাওয়া শুধু হয়।

    ‎এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়ই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
    ‎পরে নাসিরনগর থানা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি


    আফজাল মিয়া,বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
    সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর তাই তারা দেশবাসীর উন্নয়নের চেয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দখলবাজি-চাঁদাবাজি আর ধর্ষণ করা নিয়ে ব্যস্থ রয়েছেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করেই বিএনপি ফ্যাসিস্ট হাসিনার পথেই হাটছে, কিন্তু তারা জানে না হাসিনা যত শক্তিশালী, বিএনপি তত শক্তিশালী নয়। তাই ভূলে যাবেন না এদেশের ছাত্র-জনতা চাইলে কি না করতে পারে।

    তিনি শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনা’সহ ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিচারের দাবিতে এবং জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে নতুন বাজারস্থ প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়।

    বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মতিউর রহমান ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জাহেদুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর এইচএম আক্তার ফারুক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান, দশঘর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ফখরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ পশ্চিম ছাত্র শিবিরের সভাপতি হোসাইন শাহ।

    এসময় গণমিছিল ও পথসভায় জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইমে সংবাদ প্রকাশের পর কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পাশে এমপি শহিদুল ইসলাম খান বাবুল


    জাকির হোসেন ফরিদী ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে ঘরের জানালা ভেংগে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে দেখা করলেন ফরিদপুর -৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। এ সময় ভুক্তভোগির পরিবার কে শান্তনা দেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্য কে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেংগে পরেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

    শনিবার(১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩ টার সময় উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ কালে শহিদুল ইসলাম খান বাবুল আরো বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত সঠিক তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহবান জানান তিনি।

    এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সঠিক তদন্ত ও দোষীদের উপযুক্ত্ বিচারের দাবী করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম (অর্থ ও প্রশাসন),সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, সেকেন্ড অফিসার মোখলেসুর রহমান, ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাউসার সহ স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।

    উল্লেখ্য গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে বসতঘরের জানালা ভেংগে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করা হয়। কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পরলে দুই যুবক মোটর সাইকেলে করে কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালাবার চেস্টা করলে স্থানীয়রা তাদের কে গনপিটুনী দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • কুবিতে বিএনসিসির ক্যাডেট সংগ্রহ কার্যক্রমে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন,নবীন ক্যাডেট সংগ্রহে কুবিতে বিএনসিসির লিখিত পরীক্ষা

    কুবি প্রতিনিধি:
    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্লাটুনের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন ক্যাডেট সংগ্রহের লিখিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

    শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    পরীক্ষা পরিচালনা করেন বিএনসিসি ময়নামতি রেজিমেন্টের সামরিক প্রশিক্ষক কর্পোরাল আব্দুল আউয়াল এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুনের ক্যাডেট সার্জেন্ট আবু বকর ছিদ্দিক।

    বিএনসিসির ক্যাডেট সার্জেন্ট আবু বকর সিদ্দিক নিশ্চিত করেছেন যে, এ বছর বিভিন্ন বিভাগের ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই ও নিয়মিত প্রশিক্ষণকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীকে সাময়িক ক্যাডেট হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনসিসি শুধু একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। লিখিত পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদেরই নির্বাচন করা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।’

    ক্যাডেট সার্জেন্ট আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার পর প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই ও প্রশিক্ষণকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে নেওয়া হবে। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্নকারীদের মৌখিক সাক্ষাৎকার শেষে চূড়ান্তভাবে ক্যাডেটশিপ প্রদান করা হবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও যোগ্য ক্যাডেট নির্বাচন সম্ভব হবে, যারা ভবিষ্যতে বিএনসিসির আদর্শ ধারণ করে দেশ ও জাতির সেবায় অবদান রাখবে।’

    এর আগে গত ২৯ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুন ক্যাডেট সংগ্রহ সপ্তাহ পালন করে।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৯ এপ্রিল ‘জ্ঞান ও শৃঙ্খলা’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্লাটুনটি ৯ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ন, ময়নামতি রেজিমেন্টের সেনা শাখার অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

  • টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চুরির অভিযোগে যুবক আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

    টেকনাফ,কক্সবাজার:

    কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে চুরি করা মালামাল উদ্ধারসহ এক স্থানীয় যুবককে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় চুরির অভিযোগে এক স্থানীয় যুবককে আটক করা হয়।

    আটকের পর উদ্ধারকৃত মালামাল এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত অভিযুক্তকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

    এপিবিএন সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চুরি, মাদক এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্প ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

  • শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শফিকুলকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

    মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    মাদকের আস্তানা থেকে নিয়মিত টাকা আদায় ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠার পরিপ্রেক্ষিতে (স্মারক নং-২১৭৮/আরও, তারিখ : ৩১শে জুলাই-২০২৬)-এর আদেশে এ
    প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দুল হাসান।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

    বিভিন্ন সময় পুলিশকে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, পুলিশকে ম্যানেজ করে অভিযুক্তরা পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।

    জানা গেছে- গত ৩১শে জুলাই সরকার বাজার এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মজনু মিয়াসহ কয়েকজনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    সরেজমিনে উপস্থিত লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতেই এএসআই শফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ভাবে আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ তুলেন। এরপর মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই শফিকুল ইসলাম শফিককে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইালে এএসআই শফিকুল ইসলাম এর মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লন্ডন প্রবাসী সোহাগের এক ভাইকে পূর্বে আটক করার জের ধরেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।

  • কক্সবাজারের চকরিয়ায় সারদা মহাজনের ঐতিহাসিক পুকুর, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন


    মোহাম্মদ হোসাইন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক সারদা মহাজনের পুকুর, বাড়ি, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ একটি প্রভাবশালী মহল বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রাচীন পুকুরটি ভরাট এবং সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করে জাল খতিয়ান তৈরি এবং সেই খতিয়ানের ভিত্তিতে জমি বিক্রির মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সারদা মহাজনের সম্পত্তির চারজন বৈধ ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও রতন কিশোর দাশ বিএস ২১১ নম্বর খতিয়ান থেকে জমি বিক্রি করে দখল নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ফনিন্দ্র লাল দাশের তিন কন্যাকে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মনিন্দ্র লাল দাশ ও ফনিন্দ্র লাল দাশের ওয়ারিশরা পৃথকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

    মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শ্মশান ও মন্দিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই ঐতিহাসিক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় সম্পত্তি সংরক্ষণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রিজার্ভ বনভূমিতে গাছ কেটে বন ভূমি দখলের প্রয়াস


    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জাধীন বরমাচল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট (ব্লক-২) এর আওতায় থাকা প্রায় ১৫০ একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা (Status Quo) তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে বন দখল, গাছ কর্তন এবং জমি উজার করার পাঁয়তারা। স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের একাংশ নিজেদের ‘দুর্বল’ ও প্রান্তিক হিসেবে জাহির করলেও, প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নেপথ্য মদদেই তারা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস। তবে বিস্ময়করভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অভিযানের সময় বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
    অভিযানকালে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি এবং ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির প্রধান (মন্ত্রী) লিডিয়া পিয়া প্রশাসনের কাছে বনের গাছ কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, তারা গাছ কাটার পক্ষে নন এবং কোনো গাছ কাটা হচ্ছে কি না তাও তাদের জানা নেই। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চাইলে তারা নানা অজুহাতে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান।

    পরবর্তীতে এসিল্যান্ড দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে জবরদখল ও তাজা গাছ কেটে সুপারি চারা রোপণসহ বন উজারের স্পষ্ট প্রমাণ পান। কিন্তু কৌশলগতভাবে অপরাধীদের আড়াল করে রাখা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযুক্তদের হাতেনাতে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি বা জরিমানা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

    একই সাথে এই প্রতিবেদকের নিজস্ব অনুসন্ধানেও উক্ত বনাঞ্চলে ব্যাপক হারে ও জোরেসোরে গাছ কাটার একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। তবে ওই এলাকায় প্রভাবশালী চক্র ও দখলদারদের সশস্ত্র মহড়া এবং তীব্র প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বা সাধারণ বাসিন্দাদের বক্তব্য রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।

    সংযুক্ত সরকারি নথি ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৭১, তারিখ: ২৫/০৭/২০২৬ এবং জিডি নং- ৯৮২, তারিখ: ২০/০৭/২০২৪) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (স্বত্ব মামলা নং- ১৮৫/২০২২) এই ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত উভয় পক্ষকে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির হরলাল পথাং (৫১), লিডিয়া পিয়া (৪০), আলফায়েস পথাং (৪৪), জনি সিঙ্গা (৩০) সহ একদল লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিজার্ভ ফরেস্টে মহড়া দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় তারা সরকারি বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাছপালা কেটে বনভূমি দখল ও জুম চাষের সাহস পাচ্ছে। বরমাচল বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বারবার থানায় জিডি করলেও পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

    ঘটনা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না মুঠোফোনে জানান, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। ক্ষেত্রবিশেষে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সরকারি জমি সুরক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।”
    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে বন উজারের আলামত পেয়েছি। নেপথ্যে যাদেরই ইন্ধন থাকুক বা আদালতের আদেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে যারা অবৈধ কার্যক্রম চালাবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। একদিকে প্রভাবশালী চক্রের হুমকি-ধামকি, অন্যদিকে জনবল সংকট—সব মিলিয়ে আমরা চরম ঝুঁকিতে কাজ করছি। তবুও সরকারি সম্পদ রক্ষায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার জানান, “আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে সরকারি রিজার্ভ বনভূমি দখল বা গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। এই অপকর্মের পেছনে যারা মদদ দিচ্ছে এবং যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সবাইকে আইনি আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সচেতন মহল জানান, বন বিভাগের চরম জনবল সংকট এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়ায় খাসিয়াদের লাগাতার হুমকিস্বরূপ আচরণের কারণে বন কর্মকর্তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে জেলা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ নাজমুল আলমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বনাঞ্চলের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ কুলাউড়ায় একদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘দুর্বলতার’ দোহাই, অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কায়েমী স্বার্থের কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অনুসন্ধানে গাছ কাটার জোরালো প্রমাণ মেলা এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক ও স্থানীয় মদদে রিজার্ভ ফরেস্টে একের পর এক জিডি হওয়ার পরও দখলের উৎসব চলে—তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ যেখানে প্রাণভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না, সেখানে প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযানের কথা বললেও বাস্তবে বন উজারের গতি থামছে না।

    বন বিভাগের তীব্র জনবল সংকট এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নীরবতা ভূমিদস্যুদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। অবিলম্বে পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী চক্রসহ সকল অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে কুলাউড়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—আর কত বন উজার হলে টনক নড়বে প্রশাসনের?
    ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮

  • মায়ের দুধই শিশুর জীবনের প্রথম সুরক্ষা: রাঙ্গুনিয়ায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধকরি পান, টেকসই উন্নয়ন করি বেগবান। — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ (১-৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে র‍্যালি শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার জয়নাব জমিলা। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

    আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা, নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধের উপকারিতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. রীতা দাশ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদুর শাহেদিন চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ বনিক এবং পরিবেশবাদী সংগঠন
    গ্রীন ফর সোসাইটির প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নেজাম উদ্দীন।

    বক্তারা বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন নবজাতকের শারীরিক গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধা ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রয়োজনে ফর্মুলা ফিডিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের স্তন্যপান করানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ফর্মুলা ফিডিং নয়, মায়ের দুধই সন্তানের জন্য সবচেয়ে উপকারী। মায়ের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না, এটি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।”

    তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়েদের জন্য বেস্ট ফিডিং রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।

    অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাইকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

  • বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত

    মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তি মোড়ে বিয়ের যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশা চালককে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় শান্তি মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রো-চ-১১-৪৮৪৪ নম্বরের একটি টয়োটা সুপার জিএল মাইক্রোবাসের ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় সেটি শান্তি মোড়ে একটি অটোরিকশা চালককে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় আহত অটোরিকশাচালক রুহুল আলী (বয়স অজ্ঞাত)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখর আলী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, তার জ্ঞান এখন ফেরেছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, মাইক্রোবাসে থাকা বিয়ের যাত্রীদের কেউ আহত হননি। স্থানীয় কয়েকজন জানান, মাইক্রোবাসটির টায়ার অনেক পুরোনো ও দুর্বল ছিল। তাদের ধারণা, টায়ারের সমস্যার কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।