Blog

  • সিরাজদিখানে সারের ডিলারশিপে অনিয়মের অভিযোগ, দোকান-গোডাউন ছাড়াই বরাদ্দ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি সার বিতরণের ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারের ডিলারশিপে প্রকৃত ব্যবসায়িক অবকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ডিলারের নামে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত স্থানে সার বিক্রির দোকান কিংবা সার সংরক্ষণের উপযোগী গোডাউন নেই। অথচ সরকারি সার বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ডিলারশিপ পেয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    অভিযোগের তালিকায় উপজেলার কেয়াইন, বাসাইল ও রশুনিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ গ্রহণ, মালিকদের পরিচয়, ব্যবসায়িক অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য এবং সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    কেয়াইন ইউনিয়নে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নিয়ে অভিযোগ

    কেয়াইন ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের নামে সারের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম মঞ্জুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ঠিকানা কুচিয়ামোড়া বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে চাকরি করেন এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত। এসব পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির নির্ধারিত দোকান ও গোডাউন নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বাসাইল ইউনিয়নে এসএ এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন

    বাসাইল ইউনিয়নে মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে কর্মরত এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর পেশাগত পরিচয় ও প্রভাবের কারণে ডিলারশিপ পাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রির জন্য নির্ধারিত দোকান ও সার সংরক্ষণের গোডাউন নেই। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত পূরণ করা হয়েছে, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

    রশুনিয়া ইউনিয়নে রনি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

    রশুনিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ রনি খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপটি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির দোকান ও গোডাউন না থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

    কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তদন্তের দাবি

    সরকারি সার কৃষকদের কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সার বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ডিলারশিপের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বাস্তবে সার বিক্রি করছে কি না, বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন ও বিতরণ হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজনীয় দোকান ও গোডাউন রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগকারীদের দাবি, সিরাজদিখান উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে সারের ডিলারশিপ প্রদানের প্রক্রিয়া, আবেদনপত্র, ব্যবসায়িক কাগজপত্র, গুদামের অস্তিত্ব এবং বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাব খতিয়ে দেখা হোক। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

    তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য নথিপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হবে।

  • অষ্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং আর্থিক সহায়তা করলেন বিএনপি নেতা ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবু


    বিশেষ প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতাদের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর শারদীয় দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিনে তিনি অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের ঋষিপাড়া, সূত্রধর পাড়াসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের শারদীয় শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তার মেম্বার, রেখন মেম্বার, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম মোশাররফ উদ্দিন হালিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জুয়েল মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মাহফুজ আলম খান দানা, যুবদল নেতা মোবারক হোসেন লিটন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরিয়ান তফসির, প্রবাসী নেতা মো. আলামিন মিয়া, মো. মেহফুজ চৌধুরী, মো. রিপন মিয়া, সদর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আফরোজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইদু মিয়া, খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

    পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, “আমাদের অষ্টগ্রাম ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য জনপদ। আবহমানকাল ধরে এখানে আমরা সব ধর্মের মানুষের আনন্দ মিলেমিশে ভাগাভাগি করে আসছি। অষ্টগ্রাম উপজেলার সকল হিন্দু সম্প্রদায়কে আমার এবং আমার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

  • বিআরটিএ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

    বিআরটিএ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর ও নিকুঞ্জ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর সম্পদের উৎস, জীবনযাত্রার ধরন এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিয়াউর রহমান চাকরিজীবনের শুরুতে বিআরটিএর মেকানিক্যাল বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টর এবং পরে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরিজীবনে তিনি মিরপুর, খিলক্ষেত ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে কথিত সম্পদের পরিমাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি ও মূল্যবান সম্পদ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

    তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, পরিমাণ, ক্রয়ের সময়কাল এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র বা যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    বিআরটিএর সেবা নিয়ে ঘুষের অভিযোগ

    জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট ফাইল নিষ্পত্তির সময় অনৈতিক অর্থ লেনদেনের চাপের মুখে পড়তে হয়।

    অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল অগ্রসর করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অনুমোদন বা সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তাঁর সহযোগিতা ছাড়া কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নগদ অর্থের লেনদেন ছাড়া কিছু কাজ করতে অনাগ্রহ দেখানোর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, লিখিত অভিযোগ কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ফাইলের নথি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি।

    প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো যাচাইকৃত নথি, নির্দিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য কিংবা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

    সরকারি চাকরিতে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরির নথি, পদোন্নতির আদেশ এবং পদায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করা যেতে পারে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের হস্তক্ষেপ দাবি

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে তাঁর ঘোষিত বৈধ আয়ের অসামঞ্জস্যের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    অভিযোগকারীরা মনে করেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে জিয়াউর রহমানের নামে বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে কথিত সম্পদের মালিকানা এবং সেগুলোর অর্থের উৎস সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

    বক্তব্য পাওয়া যায়নি

    অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

  • সরফভাটার গৃহবধূ গাজীপুরে কীভাবে! নিখোঁজের ঘটনায় নানা প্রশ্ন

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সরফভাটার গৃহবধূ নুপুর আক্তার (২২) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিখোঁজের পর তাঁর মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া গ্রামের একটি ক্যাথলিক গির্জার সামনে শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে রাঙ্গুনিয়া থেকে এত দূরে তিনি কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

    পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নুপুর আক্তার। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর তাঁর মা ডেইজি আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১৪৯।

    রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দীন জানান, গত ১৫ অক্টোবর নুপুরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তখন তিনি অভিমান বা এ ধরনের কোনো কারণে ঘর ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে ওসি উল্লেখ করেন।

    পুলিশের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তকরণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নুপুরের সর্বশেষ অবস্থান গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া এলাকায় পাওয়া যায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কৌশলে সরে যান বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    নুপুরের স্বামী কামাল উদ্দিন মোস্তফা বলেন, “আমাদের বাড়িতে তাঁকে নির্যাতন করার মতো কেউ নেই। বাড়িতে আমার মা ও ছোট ভাই থাকেন। ছোট ভাই পড়ালেখার কারণে শহরে থাকে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি মোবাইল ফোনে টিকটক ও ফেসবুক ব্যবহার করছিলেন। কেউ তাঁকে প্ররোচিত করে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা।”

    তিনি নুপুরকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

    রাঙ্গুনিয়ার একটি পরিবার থেকে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূর অবস্থান গাজীপুরে শনাক্ত হওয়ার তথ্য ঘিরে তাঁর নিখোঁজের প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন, নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন—তা নিশ্চিত হতে পুলিশি তদন্ত ও তাঁর নিরাপদে ফিরে আসা জরুরি।

  • কাপ্তাই সড়কে রাঙ্গুনিয়া বনবিভাগের বিশেষ অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ…

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে পাচারকালে সেগুন কাঠবোঝাই একটি গাড়ি আটক করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কাপ্তাই সড়কের পোমরা বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করা হয়।

    রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জার মেহরাজ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে গাড়িতে থাকা ১৬৭ টুকরা সেগুন কাঠ জব্দ করা হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, জব্দ করা কাঠের পরিমাণ ১২৬ ঘনফুট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি।

    রেঞ্জার মেহরাজ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাচার করা কাঠসহ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

    অভিযানে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জার মেহরাজ হোসেনের পাশাপাশি পোমরা বিট কর্মকর্তা সোলায়মানসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা অংশ নেন।

    বন স্টেশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে কাঠ পাচার?

    ব্যস্ত কাপ্তাই সড়কে পোমরা বন স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ পাচারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন স্টেশনের আশপাশ দিয়ে কীভাবে অবৈধ কাঠের গাড়ি চলাচল করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে এসব কাঠ পাচারের চেষ্টা হয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    এ বিষয়ে পোমরা বন স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা সিদ্দিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বনজ সম্পদ রক্ষায় শুধু অভিযান চালিয়ে কাঠ আটক করাই যথেষ্ট নয়; অবৈধ কাঠের উৎস, পরিবহনপথ এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

  • করিমগঞ্জ থানায় সেবা নিতে টাকা ও সুপারিশ লাগে না ,আমার দরজা জনগণের জন্য সব সময় উন্মুক্ত ওসি সোহেব খাঁন

    করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    থানায় মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে কোনো টাকা লাগে না, প্রয়োজন হয় না কারও সুপারিশেরও। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে থানায় এসে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে জন্য সবার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খাঁন।

    তিনি বলেন, থানায় মামলা ও জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না। আমার দরজা আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ খোলা। আপনাদের যেকোনো সমস্যা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত।

    পুলিশি সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই থানায় এসে প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে লক্ষ্যেই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন।

    করিমগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সহযোগিতা করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।

    মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

    ২০০৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা সোহেব খাঁন ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে নিজ জেলা বগুড়ায় বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি দুই দফায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ২০১৩-২০১৪ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২০-২০২১ সালে তিনি মিশনে অংশগ্রহণ করেন।

    আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওসি সোহেব খাঁন।

    সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই থানায় এসে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

    জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমানো, এসব লক্ষ্য সামনে রেখে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন করিমগঞ্জ থানার ওসি সোহেব খাঁন।

    থানায় সেবা নিতে টাকা কিংবা সুপারিশের প্রয়োজন নেই,তাঁর এ বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশি সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।

    সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, করিমগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত। অপরাধ দমনে থাকবে কঠোরতা, সেবায় থাকবে আন্তরিকতা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ থাকবে সর্বদা তৎপর।

  • পাথরঘাটায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

    পাথরঘাটায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

    কাউসার আহমেদ পনির:

    বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষকদের হয়রানি এবং নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দায়িত্ব পালন, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর সুজন হাওলাদার পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক রেকর্ড ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ

    সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হলো, তিনি নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মিত উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষকদের বিভিন্ন আবেদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তিনি কত দিন বা কতবার নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করতে অফিসের হাজিরা খাতা, উপস্থিতি-সংক্রান্ত রেকর্ড, ছুটির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করা জরুরি।

    একই সঙ্গে অফিসে সেবা নিতে আসা শিক্ষক ও অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হলে এ বিষয়ে বাস্তব চিত্র উঠে আসতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

    সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ, অর্থের পরিমাণ, লেনদেনের সময়, স্থান কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ কারণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অভিযোগটি যাচাই করতে হলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তার সমর্থনে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করাও জরুরি।

    সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তদন্তের আগে অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

    শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ

    সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে শিক্ষকদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে কোন শিক্ষক কী ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, কোন দাপ্তরিক কাজে সমস্যা হয়েছে কিংবা এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং শিক্ষকদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষককে অযৌক্তিকভাবে হয়রানি করা হলে তা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও দাপ্তরিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করাও জরুরি।

    অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ, আবেদন-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব তথ্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের ধরন ও ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও অভিযোগের দাবি

    সুজন হাওলাদারের পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তিনি এর আগে কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে কী ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং সেসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

    পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, অভিযোগের অনুলিপি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অতীতের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

    সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি, দায়িত্বশীল আচরণ, নিরপেক্ষভাবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    এ অবস্থায় সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট করার মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে

    সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

    একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, দাপ্তরিক রেকর্ড পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

  • রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় সিটি ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ ও কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত..

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা সিটি ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের উদ্যোগে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরফভাটা এজেন্ট আউটলেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সিটি ব্যাংকের চট্টগ্রাম ডিভিশনের এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের রিজিওনাল হেড ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নাজমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের এসএমই বিভাগের ইউনিট ম্যানেজার মিজানুর রহমান এবং চট্টগ্রাম সাউথ টেরিটরির টেরিটরি ম্যানেজার ও এভিপি নাইমুল ইসলাম।

    সিটি ব্যাংকের সরফভাটা এজেন্ট আউটলেটের ইনচার্জ এম এ করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন লায়ন ডা. এস এম আবুল ফজল,সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি খাইরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানব কন্ঠ পত্রিকার রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি নেজাম উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

    সমাবেশে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রসার, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    খসরু মৃধা:

    গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হারবাইদ এলাকা থেকে একটি বড় ধারালো চাকু ও একটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

    ১. মো. সফিকুল ইসলাম সাজু (৩২), পিতা—মৃত আঃ রশিদ, মাতা—মৃত শামসুন্নাহার, সাং—হারবাইদ (নন্দিবাড়ী), ওয়ার্ড নং-৪২, থানা—পূবাইল, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    ২. সিয়াম (২৫), পিতা—মৃত কাজল খন্দকার, মাতা—শাহনাজ বেগম, সাং—খরতৈল (ব্যাংকপাড়া), থানা—টঙ্গী পশ্চিম, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আনোয়ার হোসেন খান সঙ্গীয় এএসআই (নিঃ) সুমন মিয়া ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পূবাইল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। অভিযানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূবাইল থানাধীন হারবাইদ মধ্যপাড়া এলাকার আল-আরাফাহ জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে ওই দুইজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের হেফাজত তল্লাশি করে স্টিলের তৈরি একটি বড় ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। চাকুটির বাটসহ মোট দৈর্ঘ্য ২৩.৫ ইঞ্চি এবং ধারালো অংশের দৈর্ঘ্য ১৬.৫ ইঞ্চি। এ ছাড়া লোহার তৈরি একটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়, যার দৈর্ঘ্য খোলা অবস্থায় ১০ ইঞ্চি এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ ইঞ্চি। পরে চাকু দুটি জব্দ করা হয়।

    জব্দ করা আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁদের আদালতে সোপর্দ করেছেন।

  • অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎ ‎ ‎


    ‎
    ‎
    ‎মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
    ‎
    ‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ‎
    ‎রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রোকনুজ্জামান।
    ‎
    ‎সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি সন্তোষ দেবনাথ, অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ দাস, কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাধা কৃষ্ণ দাস, অষ্টগ্রাম উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি শুক্লা রানী দাস এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদ মিয়া।
    ‎
    ‎
    ‎এ ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়েজ হাসান বাবু।
    ‎
    ‎সভাটি সঞ্চালনা করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা পূজা উদযাপন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব জীবনময় শীল।
    ‎
    ‎সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তাঁরা পূজামণ্ডপসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
    ‎
    ‎সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবার পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
    ‎