Blog

  • কাপ্তাই সড়কে রাঙ্গুনিয়া বনবিভাগের বিশেষ অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ…

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে পাচারকালে সেগুন কাঠবোঝাই একটি গাড়ি আটক করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কাপ্তাই সড়কের পোমরা বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করা হয়।

    রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জার মেহরাজ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে গাড়িতে থাকা ১৬৭ টুকরা সেগুন কাঠ জব্দ করা হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, জব্দ করা কাঠের পরিমাণ ১২৬ ঘনফুট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার বেশি।

    রেঞ্জার মেহরাজ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাচার করা কাঠসহ গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

    অভিযানে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জার মেহরাজ হোসেনের পাশাপাশি পোমরা বিট কর্মকর্তা সোলায়মানসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা অংশ নেন।

    বন স্টেশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে কাঠ পাচার?

    ব্যস্ত কাপ্তাই সড়কে পোমরা বন স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ পাচারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন স্টেশনের আশপাশ দিয়ে কীভাবে অবৈধ কাঠের গাড়ি চলাচল করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে এসব কাঠ পাচারের চেষ্টা হয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    এ বিষয়ে পোমরা বন স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা সিদ্দিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বনজ সম্পদ রক্ষায় শুধু অভিযান চালিয়ে কাঠ আটক করাই যথেষ্ট নয়; অবৈধ কাঠের উৎস, পরিবহনপথ এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

  • করিমগঞ্জ থানায় সেবা নিতে টাকা ও সুপারিশ লাগে না ,আমার দরজা জনগণের জন্য সব সময় উন্মুক্ত ওসি সোহেব খাঁন

    করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    থানায় মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে কোনো টাকা লাগে না, প্রয়োজন হয় না কারও সুপারিশেরও। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে থানায় এসে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন, সে জন্য সবার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খাঁন।

    তিনি বলেন, থানায় মামলা ও জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না। আমার দরজা আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ খোলা। আপনাদের যেকোনো সমস্যা আমাদের জানাবেন। বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত।

    পুলিশি সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই থানায় এসে প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে লক্ষ্যেই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন।

    করিমগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন ওসি সোহেব খাঁন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সহযোগিতা করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি।

    মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

    ২০০৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তা সোহেব খাঁন ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে নিজ জেলা বগুড়ায় বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তার। তিনি দুই দফায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথমবার ২০১৩-২০১৪ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২০-২০২১ সালে তিনি মিশনে অংশগ্রহণ করেন।

    আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করিমগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ওসি সোহেব খাঁন।

    সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই থানায় এসে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

    জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমানো, এসব লক্ষ্য সামনে রেখে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন করিমগঞ্জ থানার ওসি সোহেব খাঁন।

    থানায় সেবা নিতে টাকা কিংবা সুপারিশের প্রয়োজন নেই,তাঁর এ বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশি সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।

    সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, করিমগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত। অপরাধ দমনে থাকবে কঠোরতা, সেবায় থাকবে আন্তরিকতা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ থাকবে সর্বদা তৎপর।

  • পাথরঘাটায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

    পাথরঘাটায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ ও শিক্ষক হয়রানির অভিযোগ

    কাউসার আহমেদ পনির:

    বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষকদের হয়রানি এবং নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দায়িত্ব পালন, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর সুজন হাওলাদার পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। এরপর থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক রেকর্ড ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ

    সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ হলো, তিনি নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মিত উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষকদের বিভিন্ন আবেদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে তিনি কত দিন বা কতবার নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করতে অফিসের হাজিরা খাতা, উপস্থিতি-সংক্রান্ত রেকর্ড, ছুটির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা করা জরুরি।

    একই সঙ্গে অফিসে সেবা নিতে আসা শিক্ষক ও অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হলে এ বিষয়ে বাস্তব চিত্র উঠে আসতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

    সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ, অর্থের পরিমাণ, লেনদেনের সময়, স্থান কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ কারণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অভিযোগটি যাচাই করতে হলে অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তার সমর্থনে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করাও জরুরি।

    সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তদন্তের আগে অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।

    শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ

    সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে শিক্ষকদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে কোন শিক্ষক কী ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, কোন দাপ্তরিক কাজে সমস্যা হয়েছে কিংবা এ নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং শিক্ষকদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষককে অযৌক্তিকভাবে হয়রানি করা হলে তা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও দাপ্তরিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করাও জরুরি।

    অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ, আবেদন-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব তথ্য যাচাই করা গেলে অভিযোগের ধরন ও ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও অভিযোগের দাবি

    সুজন হাওলাদারের পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তিনি এর আগে কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে কী ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং সেসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

    পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র, অভিযোগের অনুলিপি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অতীতের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটির নিষ্পত্তি কীভাবে হয়েছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

    স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

    সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি, দায়িত্বশীল আচরণ, নিরপেক্ষভাবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    এ অবস্থায় সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট করার মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকাশ করা হবে

    সুজন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

    একইভাবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, দাপ্তরিক রেকর্ড পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

  • রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় সিটি ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ ও কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত..

    কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা সিটি ব্যাংক এজেন্ট আউটলেটের উদ্যোগে গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরফভাটা এজেন্ট আউটলেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সিটি ব্যাংকের চট্টগ্রাম ডিভিশনের এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের রিজিওনাল হেড ও ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নাজমুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের এসএমই বিভাগের ইউনিট ম্যানেজার মিজানুর রহমান এবং চট্টগ্রাম সাউথ টেরিটরির টেরিটরি ম্যানেজার ও এভিপি নাইমুল ইসলাম।

    সিটি ব্যাংকের সরফভাটা এজেন্ট আউটলেটের ইনচার্জ এম এ করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন লায়ন ডা. এস এম আবুল ফজল,সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি খাইরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানব কন্ঠ পত্রিকার রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি নেজাম উদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক দৈনিক প্রলয় পত্রিকার প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

    সমাবেশে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রসার, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    খসরু মৃধা:

    গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হারবাইদ এলাকা থেকে একটি বড় ধারালো চাকু ও একটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

    ১. মো. সফিকুল ইসলাম সাজু (৩২), পিতা—মৃত আঃ রশিদ, মাতা—মৃত শামসুন্নাহার, সাং—হারবাইদ (নন্দিবাড়ী), ওয়ার্ড নং-৪২, থানা—পূবাইল, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    ২. সিয়াম (২৫), পিতা—মৃত কাজল খন্দকার, মাতা—শাহনাজ বেগম, সাং—খরতৈল (ব্যাংকপাড়া), থানা—টঙ্গী পশ্চিম, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আনোয়ার হোসেন খান সঙ্গীয় এএসআই (নিঃ) সুমন মিয়া ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পূবাইল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। অভিযানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূবাইল থানাধীন হারবাইদ মধ্যপাড়া এলাকার আল-আরাফাহ জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে ওই দুইজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের হেফাজত তল্লাশি করে স্টিলের তৈরি একটি বড় ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। চাকুটির বাটসহ মোট দৈর্ঘ্য ২৩.৫ ইঞ্চি এবং ধারালো অংশের দৈর্ঘ্য ১৬.৫ ইঞ্চি। এ ছাড়া লোহার তৈরি একটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়, যার দৈর্ঘ্য খোলা অবস্থায় ১০ ইঞ্চি এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ ইঞ্চি। পরে চাকু দুটি জব্দ করা হয়।

    জব্দ করা আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁদের আদালতে সোপর্দ করেছেন।

  • অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎ ‎ ‎


    ‎
    ‎
    ‎মোঃ আল-আমিন, বিশেষ প্রতিনিধি:
    ‎
    ‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    ‎
    ‎রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রোকনুজ্জামান।
    ‎
    ‎সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি সন্তোষ দেবনাথ, অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ দাস, কলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাধা কৃষ্ণ দাস, অষ্টগ্রাম উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি শুক্লা রানী দাস এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদ মিয়া।
    ‎
    ‎
    ‎এ ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়েজ হাসান বাবু।
    ‎
    ‎সভাটি সঞ্চালনা করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা পূজা উদযাপন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব জীবনময় শীল।
    ‎
    ‎সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তাঁরা পূজামণ্ডপসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
    ‎
    ‎সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবার পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
    ‎

  • মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    কাওসার আহমেদ পনির :

    মালয়েশিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখিয়ে তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশন’ (Dream Abroad Solution) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জিহাদ আহমেদ ও জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের নামে টাকা নেওয়া হলেও নির্ধারিত খাতে অর্থ জমা দেওয়া হয়নি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণামূলক ভিডিও দেখে তাঁরা মালয়েশিয়ায় পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনজন মিলে ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাঁদের Genovasi University-তে ভর্তির আশ্বাস দেয় এবং অফার লেটার সরবরাহ করে।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই অফার লেটারের ওপর বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তিনজনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে মোট চার লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, সরবরাহ করা অফার লেটারটি জাল ছিল বলে তাঁদের সন্দেহ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে সমস্যা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী না হলেও জমা দেওয়া টাকা ফেরত না দিয়ে বিকল্প প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে দুজনের জন্য UPTM University এবং অন্য একজনের জন্য Perdana College-এর অফার লেটার দেওয়া হয়।

    ### ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ

    শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের দুই মাসের মধ্যে ভিসা সম্পন্ন করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় গড়িয়ে চার, পাঁচ ও ছয় মাস পার হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, এ সময় এমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি। এতে তাঁদের মূল্যবান ছয় মাস নষ্ট হয়েছে।

    একপর্যায়ে তাঁরা ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তাঁদের জমা দেওয়া চার লাখ টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন।

    ### সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন

    ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তির সহায়তায় তাঁরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তাঁদের দাবি, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জমা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে জাহিদ হাসানের মাধ্যমে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের মালিক জিহাদ আহমেদ ও জাহিদ হাসানের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা ছিল। এ কারণে তাঁরা দুজনকে একই চক্রের অংশ বলে সন্দেহ করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভুক্তভোগীদের হিসাব অনুযায়ী, ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের কাছে জমা দেওয়া চার লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে সেমিস্টার ফি ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেওয়া ১৫ লাখ টাকা মিলিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ১৯ লাখ টাকা।

    ### অন্য শিক্ষার্থীদেরও একই অভিযোগ

    ভুক্তভোগীদের দাবি, মালয়েশিয়ায় এসে তাঁরা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হন, যাঁরা একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ ফি জমা না দিয়েই মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে তাঁদের বেসরকারি ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হতে বলা হয়।

    শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ে মূল কোর্সে ভর্তি হতে না পারলে তাঁদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে। আর্থিক সংকটের কারণে কেউ কেউ ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে পারেন বলেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপ্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    ### প্রমাণ থাকার দাবি, টাকা ফেরতের দাবি

    ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অফার লেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযোগের বিষয়ে ড্রিম অ্যাব্রোড সলিউশনের মালিক জিহাদ আহমেদ, জাহিদ হাসান, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে ব্যাংক লেনদেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও ফি-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

  • ​কাটাখালী-মনিপুরঘাট-বাসুরদিয়ার উন্নয়নে ইউপি সদস্য প্রার্থী ফরিদ মিয়ার বার্তা

    নিজাম উদ্দীন : কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

    কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ নং যশোদল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড—মনিপুরঘাট, কাটাখালী ও বাসুরদিয়া এলাকার মেম্বার (ইউপি সদস্য) পদপ্রার্থী মোঃ ফরিদ মিয়া আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি ১ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকার দীর্ঘদিনের নানা অবহেলা দূর করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী ওয়ার্ড গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
    ​ওয়ার্ডের সার্বিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী জনসংখ্যা উল্লেখ করে মোঃ ফরিদ মিয়া জানান, মনিপুরঘাট, কাটাখালী ও বাসুরদিয়া নিয়ে গঠিত আমাদের ১ নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৬৪০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৮৪১ জন এবং নারী ভোটার ১,৭৯৯ জন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই একতাবদ্ধ হলে একটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন, সংস্কার ও সামগ্রিক কল্যাণে ভূমিকা রেখে এটিকে একটি মডেল ও সমৃদ্ধশালী ওয়ার্ডে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে সে জন্য প্রয়োজন আপনাদের আন্তরিক ভালোবাসা, পারস্পরিক সহযোগিতা, উন্নয়নমুখী সদিচ্ছা এবং পরিবর্তনের এক দৃঢ় স্বপ্ন ও প্রতিজ্ঞা।”
    ​উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ ফরিদ মিয়া তাঁর বক্তব্য ও প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ তুলে ধরেন:
    ​ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (প্রধান অগ্রাধিকার):
    “আমাদের ১ নং ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক বিষয় হলো—এখানে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামেও সরকারি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে, অথচ মনিপুরঘাট, কাটাখালী ও বাসুরদিয়ার কোমলমতি শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমি নির্বাচিত হলে এই সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব এবং এলাকায় সরকারি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO): মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও আমি আমার জায়গা থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব , শুধু আপনারা আমার পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ করে দিবেন
    ​টেকসই যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন
    “ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা দূর করতে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
    ​ সরকারি অনুদান ও সামাজিক নিরাপত্তার সুষম বণ্টন
    “বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ভিজিডি কার্ডসহ সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা কোনো স্বজনপ্রীতি বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে দিব আপনাদের কথা দিলাম
    ​ মাদকমুক্ত ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন
    “তরুণ ও যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করবো এবং মনিপুরঘাট, কাটাখালী ও বাসুরদিয়াকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা আমার একমাত্র লক্ষ্য
    “ওয়ার্ডের যেকোনো নাগরিক সমস্যা সমাধান, সনদপত্র প্রদান ও জরুরি সরকারি সেবায় সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই তাদের মেম্বারকে পাশে পায়, সেই আলোকে ব্যর্থ করে আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম,
    ​পরিশেষে, ১ নং ওয়ার্ডের সার্বিক পরিবর্তন, শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের এই যাত্রায় মনিপুরঘাট, কাটাখালী ও বাসুরদিয়া এলাকার সমস্ত পুরুষ ও নারী ভোটারদের মূল্যবান সমর্থন, দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেছেন মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ ফরিদ মিয়া।

  • ফায়ার সার্ভিসে উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিসে উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (ঢাকা) মোঃ ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে পদায়ন ও প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ছালেহ উদ্দিন। চাঁদপুরের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে মায়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় ঢাকাতেই দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকায় ছিলেন ছালেহ উদ্দিন। পরবর্তীতে সিনিয়র স্টেশন অফিসার, উপ-সহকারী পরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদেও ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। বর্তমানে উপপরিচালক (ঢাকা), উপপরিচালকের দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ফলে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ঢাকার বাইরে পদায়ন নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও কানাঘুষা রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় যদি একই শহরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে এর পেছনে কোনো বিশেষ প্রভাব বা সুপারিশ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ

    উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাকরিজীবনে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার নামে-বেনামে ঢাকার বসিলা এলাকায় একাধিক প্লট এবং তেজগাঁও এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। জন্মস্থান চাঁদপুরেও বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

    তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং তার ঘোষিত আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

    ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন নিয়োগ ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের কাজ ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের দাবি, প্রতিটি রিপোর্টে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়।

    অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘিরেও প্রশ্ন

    ছালেহ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সিনিয়র স্টেশন অফিসার নাজিম ও রাজীবের নামও বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের ভেতরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছালেহ উদ্দিন নিয়মিত তেজগাঁও এলাকায় সিনিয়র স্টেশন অফিসার নাজিমের ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    প্রায় এক কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ

    চলতি বছরের জুন-জুলাই সময়ে বরাদ্দ করা প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের অর্থের বিপরীতে যথাযথভাবে মালামাল কেনা হয়নি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

    তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ক্রয় নথি, বিল-ভাউচার, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সরবরাহকারীর তথ্য এবং মালামাল গ্রহণের রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    বিভিন্ন আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। ম্যারাথন দৌড়, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগকারীদের দাবি, এসব আয়োজনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকছেন। এতে জরুরি মুহূর্তে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে জনবল সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ফায়ার সার্ভিসের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফলে প্রশাসনিক বা আনুষঙ্গিক কর্মসূচির কারণে জরুরি সেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটছে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।

    রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

    ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করা। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে তিনি কীভাবে একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?

    তাদের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একজন কর্মকর্তার প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে, তাহলে তার পদায়ন ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    অভিযোগ অস্বীকার ছালেহ উদ্দিনের

    এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোঃ ছালেহ উদ্দিন, উপপরিচালক (ঢাকা), উপপরিচালকের দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা বলেন, তার বাড়ি চাঁদপুরে—এটি সত্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন—এটিও সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি নিজেকে একজন ভালো মানুষ দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ সত্য নয়।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এতগুলো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশেষ করে দীর্ঘদিন ঢাকায় পদায়ন, সম্পদের হিসাব, নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং বিভিন্ন আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহ—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সত্যতা বের করা প্রয়োজন।

    অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগগুলো অসত্য হলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপপরিচালক মোঃ ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পদায়নের ইতিহাস, সম্পদের তথ্য, ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।

  • স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    জেলা প্রতিনিধি:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণ মামলায় মো. আরিফ ও মো. রুবেল নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ এবং একই এলাকার আয়নালের ছেলে মো. রুবেল।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারী তার স্বামী মোস্তাক আহমদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় আরিফ ও রুবেল তার পথরোধ করেন। পরে তার স্বামী সেখানে পৌঁছালে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মধুপুর থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    রায়ে প্রত্যেক আসামিকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।