স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি সার বিতরণের ডিলারশিপ নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারের ডিলারশিপে প্রকৃত ব্যবসায়িক অবকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ডিলারের নামে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত স্থানে সার বিক্রির দোকান কিংবা সার সংরক্ষণের উপযোগী গোডাউন নেই। অথচ সরকারি সার বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ডিলারশিপ পেয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগের তালিকায় উপজেলার কেয়াইন, বাসাইল ও রশুনিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ গ্রহণ, মালিকদের পরিচয়, ব্যবসায়িক অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য এবং সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কেয়াইন ইউনিয়নে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ নিয়ে অভিযোগ
কেয়াইন ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের নামে সারের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম মঞ্জুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ঠিকানা কুচিয়ামোড়া বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে চাকরি করেন এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের বডিগার্ড হিসেবে পরিচিত। এসব পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির নির্ধারিত দোকান ও গোডাউন নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাসাইল ইউনিয়নে এসএ এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন
বাসাইল ইউনিয়নে মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি আল মুসলিম গ্রুপে কর্মরত এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর পেশাগত পরিচয় ও প্রভাবের কারণে ডিলারশিপ পাওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সার বিক্রির জন্য নির্ধারিত দোকান ও সার সংরক্ষণের গোডাউন নেই। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত পূরণ করা হয়েছে, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
রশুনিয়া ইউনিয়নে রনি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
রশুনিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপ নিয়েও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মোহাম্মদ রনি খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপটি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ সাহেবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নামে সার বিক্রির দোকান ও গোডাউন না থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তদন্তের দাবি
সরকারি সার কৃষকদের কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সার বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ডিলারশিপের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান বাস্তবে সার বিক্রি করছে কি না, বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন ও বিতরণ হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজনীয় দোকান ও গোডাউন রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, সিরাজদিখান উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে সারের ডিলারশিপ প্রদানের প্রক্রিয়া, আবেদনপত্র, ব্যবসায়িক কাগজপত্র, গুদামের অস্তিত্ব এবং বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাব খতিয়ে দেখা হোক। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য নথিপত্র পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হবে।


কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

