Blog

  • ফায়ার সার্ভিসে উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিসে উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (ঢাকা) মোঃ ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে পদায়ন ও প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ছালেহ উদ্দিন। চাঁদপুরের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে মায়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। সেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় ঢাকাতেই দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকায় ছিলেন ছালেহ উদ্দিন। পরবর্তীতে সিনিয়র স্টেশন অফিসার, উপ-সহকারী পরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদেও ঢাকায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি। বর্তমানে উপপরিচালক (ঢাকা), উপপরিচালকের দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ফলে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ঢাকার বাইরে পদায়ন নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও কানাঘুষা রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরি জীবনের দীর্ঘ সময় যদি একই শহরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে এর পেছনে কোনো বিশেষ প্রভাব বা সুপারিশ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ

    উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাকরিজীবনে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার নামে-বেনামে ঢাকার বসিলা এলাকায় একাধিক প্লট এবং তেজগাঁও এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। জন্মস্থান চাঁদপুরেও বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

    তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং তার ঘোষিত আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

    ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন নিয়োগ ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের কাজ ও সুযোগ দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে।

    এ ছাড়া বিভিন্ন ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের দাবি, প্রতিটি রিপোর্টে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়।

    অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘিরেও প্রশ্ন

    ছালেহ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সিনিয়র স্টেশন অফিসার নাজিম ও রাজীবের নামও বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।

    আরও অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের ভেতরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছালেহ উদ্দিন নিয়মিত তেজগাঁও এলাকায় সিনিয়র স্টেশন অফিসার নাজিমের ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    প্রায় এক কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ

    চলতি বছরের জুন-জুলাই সময়ে বরাদ্দ করা প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের অর্থের বিপরীতে যথাযথভাবে মালামাল কেনা হয়নি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

    তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ক্রয় নথি, বিল-ভাউচার, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সরবরাহকারীর তথ্য এবং মালামাল গ্রহণের রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    বিভিন্ন আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ

    ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। ম্যারাথন দৌড়, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অভিযোগকারীদের দাবি, এসব আয়োজনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকছেন। এতে জরুরি মুহূর্তে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে জনবল সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ফায়ার সার্ভিসের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফলে প্রশাসনিক বা আনুষঙ্গিক কর্মসূচির কারণে জরুরি সেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটছে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।

    রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

    ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করা। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে তিনি কীভাবে একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন?

    তাদের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একজন কর্মকর্তার প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকে, তাহলে তার পদায়ন ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    অভিযোগ অস্বীকার ছালেহ উদ্দিনের

    এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোঃ ছালেহ উদ্দিন, উপপরিচালক (ঢাকা), উপপরিচালকের দপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা বিভাগ, ঢাকা বলেন, তার বাড়ি চাঁদপুরে—এটি সত্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন—এটিও সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি নিজেকে একজন ভালো মানুষ দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ সত্য নয়।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এতগুলো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশেষ করে দীর্ঘদিন ঢাকায় পদায়ন, সম্পদের হিসাব, নিয়োগ ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং বিভিন্ন আয়োজনের নামে অর্থ সংগ্রহ—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সত্যতা বের করা প্রয়োজন।

    অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগগুলো অসত্য হলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    উপপরিচালক মোঃ ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পদায়নের ইতিহাস, সম্পদের তথ্য, ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং ফায়ার সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে যাচাইযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।

  • স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    জেলা প্রতিনিধি:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণ মামলায় মো. আরিফ ও মো. রুবেল নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ এবং একই এলাকার আয়নালের ছেলে মো. রুবেল।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারী তার স্বামী মোস্তাক আহমদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় আরিফ ও রুবেল তার পথরোধ করেন। পরে তার স্বামী সেখানে পৌঁছালে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মধুপুর থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    রায়ে প্রত্যেক আসামিকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • অপহরণের ১৮ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    অপহরণের ১৮ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহৃত ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে এসআরবি-৪। অপহরণের পর শিশুটিকে একাধিক জায়গায় বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পরে স্থানীয় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের আদর্শনগরে একটি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তান্তর করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওই কেন্দ্র থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

    এসআরবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪।

    তিনি জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

    তদন্তে এসআরবি-৪ জানতে পারে, শিশু বায়জিদের বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েক দিন ধরে ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে নাসরিনের একটি শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় সংস্থাটি।

    পরে নাসরিন ও লিপি মিলে শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাজীপুরে নিয়ে যায় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে রাস্তায় ফেলে যায় তারা বলে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।

  • রেলওয়ের চাকরিতে,তিন লক্ষ টাকা ঘুষ কেড়ে নিল সোহেলের স্বপ্ন

    ঢাকা প্রতিনিধি:

    রাত তখন (৩,২০)মিনিট, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের মহাসড়ক প্রায় নীরব, চারপাশে যখন মানুষ গভীর ঘুমে, তখন একটি বাস কাউন্টারের বেঞ্চে শুয়ে রাত কাটাচ্ছিলেন (২৩) বছরের তরুণ সোহেল মিয়া।

    একসময় তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের পোশাক পরবেন, একটি স্থায়ী চাকরি করবেন এবং মায়ের মুখে হাসি ফুটাবেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই দূরের গল্প, জীবিকার তাগিদে বর্তমানে একটি চায়ের দোকানে কাজ করেন তিনি। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সুযোগ নেই, কারণ ভোরে আবার দোকান খুলতে হয়। তাই কাউন্টারের বেঞ্চই হয়ে উঠেছে তার রাতের আশ্রয়।

    ক্লান্ত শরীর, চোখে ঘুম আর বুকভরা হতাশা নিয়ে সোহেল জানান তার জীবনের গল্প,তার দাবি, বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট কালেক্টর (টিসি) পদে আবেদন করে লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো শেষ করার পর তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়,টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তার চাকরি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

    সোহেলের ভাষ্য, কমলাপুর রেলের অফিসে ফাইল বহনের কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি তাকে জানিয়েছিলেন,তিন লাখ টাকা দিতে পারলে টিসি পদে তার চাকরি হয়ে যাবে।

    কিন্তু দরিদ্র পরিবারের সন্তান সোহেলের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি,তিন লাখ টাকা থাকলে হয়তো আজ এই বেঞ্চে শুয়ে থাকতে হতো না,
    নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে সোহেল বলেন,
    আমার কাছে যদি তিন লাখ টাকা থাকত, তাহলে হয়তো আজ আমাকে এই বেঞ্চের ওপর ক্ষুধার্ত অবস্থায় শুয়ে থাকতে হতো না।

    তার দাবি, চাকরিটি পেলে পরিবারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কমে যেত,মাকে নিয়ে একটু স্বচ্ছল জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি,সোহেলের জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছে অনেক আগেই, ছোটবেলায় বাবা মরহুম আবদুল জব্বারকে হারান তিনি।

    এরপর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে তার কাঁধে,দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সোহেল,নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতেও তাকে কাজ করতে হয়েছে,অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই জীবিকার সঙ্গে লড়াই শুরু তার,অভাব তাকে স্বপ্ন দেখা থেকে থামাতে পারেনি।

    ছোটবেলা থেকেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে ভালোবাসতেন সোহেল। ট্রেনের জানালা দিয়ে দেশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে একসময় তার মনে ইচ্ছা জাগে,একদিন তিনিও রেলওয়েতে চাকরি করবেন।

    সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় ২০২২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট কালেক্টর (টিসি) পদে আবেদন করেন, পরীক্ষা দেন, ভাইভায় অংশ নেন এবং চাকরি পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন।

    কিন্তু তার দাবি, ভাইভার পরই তাকে জানানো হয় তিন লাখ টাকা দিলে চাকরি হবে,দরিদ্র পরিবারের সোহেলের কাছে সেই অর্থ ছিল না, ফলে তার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের অভাবেই থেমে যায় তার বহুদিনের স্বপ্ন।

    সোহেলের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির একটি গুরুতর বিষয়, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    স্বপ্ন ভেঙে গেলেও জীবন থামিয়ে দেননি সোহেল, বর্তমানে একটি চায়ের দোকানে কাজ করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন, কাজের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন, তিনি টঙ্গী কলেজে ডিগ্রি (বিবিএস) কোর্সে অধ্যয়নরত।

    দিনের বেলা চায়ের দোকানে কাজ, আর রাতে কখনো বাস কাউন্টারের বেঞ্চে ঘুম,এভাবেই চলছে তার জীবন,তারপরও মনের ভেতর স্বপ্নটা এখনো বেঁচে আছে,আমার মতো আর কারও স্বপ্ন যেন ঘুষের কাছে হার না মানে,সোহেলের একটাই চাওয়া,সরকার যেন সরকারি চাকরিতে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

    হয়তো রেলওয়ের সেই চাকরিটি সোহেলের ভাগ্যে জোটেনি, কিন্তু তার স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি, ২৩ বছরের এই তরুণ এখনো বিশ্বাস করেন, একদিন হয়তো এই বাস কাউন্টারের বেঞ্চ ছেড়ে নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হবে,মায়ের মুখে আবারও হাসি ফুটবে,এই আশাতেই প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করে যাচ্ছেন সোহেল মিয়া,কারণ দারিদ্র্য হয়তো মানুষের পথ কঠিন করে দিতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিতে পারে না।

  • শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পাশে ট্রেড ইউনিয়ন

    শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পাশে ট্রেড ইউনিয়ন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

    শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসংকট এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ কর্মসূচির পর এবার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাস্তায় নেমেছেন দেশটির বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের কর্মীরাও।

    গত মাসে প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবারের গণবিক্ষোভকে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দেশটির বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ স্কুলের প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়েছেন, ভবনে আগুন ধরিয়েছেন এবং পুলিশের দিকে পটকা ও আতশবাজি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ। সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মী এবং ৭০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উত্তর ফ্রান্সে সোমবারের সংঘর্ষে স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেইতে এক স্বাস্থ্যসেবা সহকারীর দিকে স্প্রে দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী আগ্নেয়াস্ত্র তাক করার অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে ‘যৌক্তিক’ বলে স্বীকার করলেও সহিংস কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনো দাবিই এমন সহিংসতাকে সমর্থন করে না।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারপতিদের একটি প্রধান ইউনিয়ন এবং কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ করছে।

    শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ উচ্চশিক্ষায় আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট ‘পারকোরসুপ’। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জটিল ও অস্পষ্ট ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

    গত রোববার রাতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু এক চিঠিতে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার এবং ‘পারকোরসুপ’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমেনি।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দেশটির বিভিন্ন শীর্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন। অন্যতম প্রধান শ্রমিক সংগঠন ‘সিজিটি’ (সিজিটি) বলেছে, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের কর্মী। বাজেট কাটছাঁটের বোঝা তাদের বহন করা উচিত নয়।

    ফ্রান্স সরকার বর্তমানে বাজেট ঘাটতি কমাতে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করছে। দেশটির ঋণের চাপ বৃদ্ধি এবং সুদের হার বাড়ার কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে। এর প্রেক্ষাপটেই সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

  • দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জীবন ও কর্মজীবন

    নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
    তারিখ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬

    বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট সরকার তাঁকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ১৯ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

    ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

    দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমপর্যায়ের বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন কমিশন কোনো চাপের মধ্যে নেই এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রত্যয় রয়েছে। তিনি দুদকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথাও জানান।

    আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতিকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের পাশাপাশি কমিশনার হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৮ আগস্ট তাঁরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এবং পরদিন দুদকে তাঁদের প্রথম কার্যদিবস শুরু হয়।

    দীর্ঘ বিচারিক কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুদকের নেতৃত্বে আসা বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের সামনে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নতুন কমিশন কীভাবে এসব দায়িত্ব বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।

    ইতোমধ্যে নতুন কমিশনের অধীনে প্রথম মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দুদকের নতুন নেতৃত্বের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রতিকার নিশ্চিত করে কমিশন জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।

  • মান্দা এলজিইডি প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে নাইটগার্ড, সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ

    নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
    তারিখ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬

    নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে বিভিন্ন রাস্তার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, অশোভন আচরণ এবং ক্যামেরায় থাকা গণমাধ্যমের বুম বা লোগো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের এবং কার্যালয়ে কর্মরত নাইটগার্ড রেজাউল ইসলাম।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আনন্দ টেলিভিশন, মোহনা টেলিভিশন, গ্লোবাল টেলিভিশন, দেশ বর্তমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে যান।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে পাঠান। ওই ব্যক্তি নিজেকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার বুম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।

    অফিস সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল ইসলাম ওই কার্যালয়ের একজন নাইটগার্ড। এ অবস্থায় দিনের বেলায় তাঁর দায়িত্ব কী এবং কীভাবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্বে ছিলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের কিছু দায়িত্ব নিজে পালন না করে নাইটগার্ড রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। বিষয়টি সত্য কি না এবং রেজাউল ইসলামকে কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজে একজন নাইটগার্ডের ভূমিকা থাকলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    সাংবাদিকদের অভিযোগ, বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। বরং রেজাউল ইসলামকে সামনে পাঠানোর পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।

    এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, সরকারি দপ্তরে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ থাকা স্বাভাবিক। কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে না চাইলে তা সরাসরি জানাতে পারেন। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা বা ক্যামেরার সরঞ্জামে হাত দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

    ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রেজাউল ইসলামের প্রকৃত পদ ও দায়িত্ব, দিনের বেলায় তাঁর দায়িত্ব পালনের কারণ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বা ক্যামেরার বুম সরানোর ঘটনায় তিনি কারও নির্দেশ পেয়েছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলছি। সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্য নেবে—এটাই স্বাভাবিক।”

    সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

  • সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোনের আঘাতে মো. সজিব হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি নাগরিক সজিব হোসেন প্রাণ হারান।

    বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    সজিবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর পরিবারের সদস্য ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে দূতাবাস।

    এদিকে সজিব হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’।

    এ দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। পুরান পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী অংশ নেন।

    মিছিলটি পুরান পল্টন এলাকা থেকে প্রেসক্লাব হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    মিছিলে আন্দোলনকারীদের ‘এই মাটি কারও বাপের না, এই মাটি আমাদের’, ‘এই মাটি দালালের না’, ‘এই মাটি আমেরিকার দালালের না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘এই রক্ত দেব, জীবন দেব, বন্দর দেব না’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    এ সময় আন্দোলনকারীরা বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

  • বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে গ্রাহক-কর্মকর্তার মারামারি, আহত ৫

    বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে গ্রাহক-কর্মকর্তার মারামারি, আহত ৫

    ভোলা প্রতিনিধি:

    ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডাকবাংলো মোড় এলাকায় ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন ওজোপাডিকোর মনপুরা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির এবং হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাতে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এ নিয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহের ভোগান্তির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ চার গ্রাহক আহত হন।

    পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ এনে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। পরে তাঁরা ঘটনার বিচার দাবি করে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।

    আহত গ্রাহক সোহাগ, নিরব, শরীফ ও আক্তার অভিযোগ করেন, রাতে তাঁরা মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন বলেও তাঁদের অভিযোগ। টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা। এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে মনির উত্তেজিত হয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে দাবি করেন তাঁরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। গ্রাহকেরা কোনো কথা না শুনে তাঁর ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় মামলা করেছেন।

    ওজোপাডিকোর মনপুরা আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি মেশিন দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অফিসে গিয়ে গ্রাহকদের কর্মকর্তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মনপুরার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

    মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তড়িৎ চন্দ্র শীল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ জানিয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।