কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান


কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের মোট ১১৭ জন মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। 

‎বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের হল রুমে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।

‎অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রক্টর অধ্যাপক মো. ড. আবদুল হাকিম এবং প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান। এছাড়াও বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, শুধু মেধাবী হলেই একজন মানুষ পরিপূর্ণ হয় না; একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিকতা, শিষ্টাচার, সুন্দর আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয় থাকতে হবে। এসব গুণাবলি ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একটি অংশ আজ আপনাদের একাডেমিক এক্সিলেন্সির মাধ্যমে এই সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেছেন। রাষ্ট্র ও জনগণের সহযোগিতায় অর্জিত উচ্চশিক্ষার সুযোগকে দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, অভিযোজনক্ষমতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “মেধাবৃত্তির আর্থিক মূল্য অপেক্ষা এর স্বীকৃতি ও প্রেরণার মূল্য অনেক বেশি, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। তিনি গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ ও অর্থায়ন সম্প্রসারিত হয়েছে এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা অনুদানের সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আগ্রহী। আমরা যদি তাঁকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারি এবং আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও সাফল্যগুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারি, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের বিষয় হবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে।”

‎সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, “মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরাদের মধ্যে সেরা এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। শুধু ভালো সিজিপিএ নয়; এআই লিটারেসি, ডিজিটাল দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, অনুপ্রেরণা ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।”

‎উল্লেখ্য, মেধাবী, অসচ্ছল মেধাবী এবং স্পোর্টস ক্যাটাগরিতে মোট ৪০২ জন শিক্ষার্থীকে এবার বৃত্তি প্রদান করা হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.