লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট নৌরুটে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার চলছে। প্রতিদিন এ রুট দিয়ে ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী স্পিডবোট ও লঞ্চে পদ্মা নদী পার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা। বিশেষ করে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘাটে খাস আদায় চলাকালে ও নদীতে দুর্ঘটনার কারণে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক ছিল। তবে চলতি বছর ঘাট ইজারা দেওয়ার পর সেই নিয়ম কার্যত আর মানা হচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীদের পদ্মা নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

বুধবার সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাট ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের উত্তাল ঢেউ, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও খোলা স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ১৪ জন ধারণক্ষমতার একটি স্পিডবোটে ১৯ জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এছাড়া আগে যেখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা, বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১৮০ টাকা।

একই নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ বয়া নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্ধঘণ্টা পরপর শত শত যাত্রী এসব লঞ্চে পারাপার হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘাটের ইজারাদার বাবুল শিকদার এ বিষয়ে বলেন, “প্রতিটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। তারা না চাইলে আমাদের করার কিছু নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।

গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, “২০২২ সালে আমরা ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাটের ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর ঢাকার কমিশনার কার্যালয় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের না জানিয়ে রহস্যজনকভাবে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় স্থানীয় কয়েকজনের কাছে ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। বিষয়টি স্বচ্ছ ও বৈধ পদ্ধতিতে হয়নি বলে আমরা মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী চাপ কিছুটা কমে গেলেও বর্তমানে আবার এ নৌরুটে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে।

ঘাটের যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) বলেন, “স্পিডবোটে ওঠার পর আমরা বারবার লাইফ জ্যাকেট চেয়েছি। কিন্তু চালক আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি।”

অন্যদিকে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা বলেন, “লাইফ জ্যাকেট স্পিডবোটের ড্রয়ারে রাখা আছে। প্রয়োজন হলে বের করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.