রূপগঞ্জ পশ্চিম সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পশ্চিম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার নামে যশোর সদর ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট, জমি ও ভবন রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ পশ্চিম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ কাজে অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গোলাম মর্তুজার ঢাকার মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং যশোর সদর এলাকায় জমি ও একাধিক ভবন রয়েছে। তার সম্পদের পরিমাণ ও এসব সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর সদরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রারের বেতন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে তার কথিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে, রূপগঞ্জ পশ্চিম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একজন ওমেদার ও নকলনবিশের সঙ্গে কথা বলার দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, প্রশাসনের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে অর্থ দিতে হয়। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তাদের ভাষ্য, অফিসে বিভিন্ন পক্ষকে অর্থ দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। কার কাছে, কী কারণে এবং কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম মর্তুজার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার নামে বিপুল সম্পদের মালিকানার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তার সম্পদের উৎস ও আয়-ব্যয়ের বিষয়টি যাচাই করা। একই সঙ্গে রূপগঞ্জ পশ্চিম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *