Author: DBC

  • এইচএসসি পরীক্ষা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি: সংকট উত্তরণে আবেগের চেয়ে বিবেক ও যৌথ দায়বদ্ধতা বেশি প্রয়োজন


    এইচ এম হাকিম:

    প্রকৃতির আকস্মিক রূপবদল আমাদের মাঝে মাঝেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও লোকালয় হুট করেই প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্রতা ও পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। প্রকৃতির এই আকস্মিক আচরণে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন তার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসে লেগেছে আমাদের তরুণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর। বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা গ্রহণ ও স্থগিত করা নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তেজনা। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, কিছু শিক্ষার্থী বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি তুলে রাজপথে নেমেছে। কিন্তু আবেগের বশে নেওয়া এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলন পরিস্থিতিকে কতটা জটিল করে তুলছে, তা আজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
    আন্দোলনের নামে রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা
    দাবি আদায়ের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজে সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের পথ যদি সহিংসতা ও জনভোগান্তির জন্ম দেয়, তবে তা মূল লক্ষ্যকেই কলঙ্কিত করে। আজ ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যে ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই সচেতন সমাজ আশা করেনি।
    সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়। প্রথমার্ধে আন্দোলন শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক থাকলেও, দুপুরের পর কিছু অতি-উৎসাহী এবং উস্কানিদাতার অনুপ্রবেশে পরিস্থিতি দ্রুত ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
    গণপরিবহন ভাঙচুর ও পথচারী ভোগান্তি: দুপুরের পর দেশের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষের প্রাইভেট কারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালানো হয়। সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখায় রাজপথে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে সাধারণ অফিসগামী মানুষ ও বয়োবৃদ্ধদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
    সরকারি স্থাপনায় হামলা ও সংঘর্ষ: একপর্যায়ে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশের সাথে তাদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। বোর্ডে থাকা সরকারি সম্পত্তি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ পথচারী আহত হন।
    শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে কখনো শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এই সহিংসতা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অর্জনের পরিবর্তে উল্টো ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।
    অতীতে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও এহসানুল হক মিলনের আপসহীন নেতৃত্ব
    যারা আজ আন্দোলনের মাঠে দাঁড়িয়ে বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন, তাদের হয়তো বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ইতিহাস এবং এহসানুল হক মিলনের পূর্বতন অবদান সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। অতীতেও তিনি অতি বিচক্ষণতার সহিত এই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছিলেন। সেই সময়কার শিক্ষা খাত আর আজকের শিক্ষা খাতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। তাঁর আমলের কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ আজও দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে:
    নকল মুক্ত পরীক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন: বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে গ্রাস করেছিল ‘নকলের মড়ক’। সেই অন্ধকার যুগ থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করে, গভীর রাতে ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিজে সশরীরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে নকল সরবরাহকারী ও অসদুপায় অবলম্বনকারীদের হাতেনাতে ধরেছেন। তাঁর এই আপসহীন অনমনীয় পদক্ষেপের ফলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘নকল মুক্ত’ পরীক্ষা পদ্ধতির যুগে প্রবেশ করে।
    প্রশ্নফাঁসের কঠোর প্রতিরোধ: বর্তমানের মতো উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি বা সিসিটিভি ক্যামেরা সে আমলে ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁর অসাধারণ গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক নজরদারির কারণে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেটগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। প্রশ্ন কেনাবেচার বাজার তিনি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সক্ষম হন।
    সেশন জটের অভিশাপ থেকে মুক্তি: দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা সেশন জট নিরসনে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিক ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে গতি ফিরিয়ে এনেছিলেন।
    যিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কারিগর, তাঁকে আজ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো চরম অকৃতজ্ঞতা ও অবিবেচকতার শামিল।
    পরীক্ষা আয়োজনের যৌথ দায়বদ্ধতা: মন্ত্রী একা দায়ী নন
    একটি সাধারণ সত্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে—এইচএসসি বা সমমানের একটি বিশাল জাতীয় পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে বহু স্তরবিশিষ্ট চেইন কাজ করে।

    নীতিনির্ধারণী পর্যায়: শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা সচিব এবং দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সামগ্রিক খসড়া তৈরি হয়।
    field-level বা মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন: মাঠ পর্যায়ে সরাসরি দায়িত্বে থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। প্রতিটি কেন্দ্র পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী কি না, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কি না—তার চাক্ষুষ রিপোর্ট দেন তারা।
    বাস্তবায়নকারী শক্তি: কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অংশগ্রহণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
    যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, রাস্তাঘাটের বন্যা এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের দেওয়া বাস্তব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প চিন্তা করা হয়, তখন তার পুরো দায় একা শিক্ষা মন্ত্রীর ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক? দেশের এই বিশাল দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসন সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্যই নেওয়া হয়। এখানে এককভাবে কাউকে বলির পাঁঠা বানানো মোটেও কাম্য নয়।
    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বার্তা এবং আর একটি সুযোগের যৌক্তিকতা
    আজকের উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য রেখেছেন শিক্ষা মন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন:
    “আমরা বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা করছি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে তাদের পরীক্ষাটি পুনরায় গ্রহণের ব্যাপারেও আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেব। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তারা আমার সন্তানের মতো; আমি অনুরোধ করব তোমরা বিশৃঙ্খলা পরিহার করে পড়ার টেবিলে ফিরে যাও।”
    একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প প্রশ্নপত্রের সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিশেষ টেকনিক্যাল প্রস্তুতিও শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করছে।
    শিক্ষা মন্ত্রীর এই সহমর্মিতাপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি সমস্যার সমাধান করতে আন্তরিক। সংকটের এই ক্রান্তিলগ্নে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার জেদ না ধরে, তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞতা এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যার রয়েছে, তিনিই পারেন এই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পথ বের করে দিতে।
    বিকল্পের শূন্যতা: তিনি না থাকলে হাল ধরবে কে?
    বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না—আজ যদি শিক্ষার্থীদের হঠকারী দাবির মুখে শিক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাকে করা হবে? এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে নতুন কেউ এসে কি এহসানুল হক মিলনের মতো একজন প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী এবং কঠোর প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন?
    নতুন কোনো ব্যক্তির পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো এই বিশাল ও জটিল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞ বুঝে উঠতে উঠতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাবে। এর ফলে পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে যাবে, যা প্রকারান্তরে শিক্ষার্থীদের সেশন জটের নতুন ও ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে। আবেগ দিয়ে সাময়িক তৃপ্তি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তা ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কোনো কাজে আসে না।

  • যেই কথা সেই কাজ এমপি আব্দুল মান্নান, ১০১ শয্যার অনুমোদন পেল নবীনগর হাসপাতাল

    নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি :

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবেন।

    জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের যোগাযোগ করেন। তার এই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন পাওয়া যায়।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে দেশের বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নবসৃষ্ট উপজেলাসহ ১৩টি নতুন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে নবীনগরবাসীকে কথা দিয়েছিলাম, ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফল এসেছে। হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন হয়েছে। এটি নবীনগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আমার নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন।”

    তিনি আরও বলেন, “এতে শুধু শয্যা বাড়বে না, নতুন চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায় নবীনগরের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অযথা জেলা শহর বা ঢাকামুখী হতে হবে না। আমি নবীনগরের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, মানসম্মত ও জনবান্ধব করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।”

  • সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন


    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষিরতলায় বাল্য বিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

    ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটায় উপজেলার ক্ষিরতলায় জেলা তথ্য, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলীর আয়োজনে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ কাজী মুদ্দীন কাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঘোষক জেলা তথ্য অফিস মোঃ বাবুল হোসেন, সিনে অপারেটর রেজাউল করিম, এপি প্রোগ্রাম অপারেটর আব্দুর রউফসহ জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

    উক্ত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের সকলকে সচেতন হয়ে একসাথে একযোগে কাজ করাসহ বাল্য বিবাহ ও অল্প বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কে জানতে পারে।

    ‘আমার গ্রাম, আমার দায়িত্ব, শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত’- শ্লোগানকে ধারণ করে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে

    স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে চলচিত্রটি উপভোগ করেন।

  • আমতলীতে হামের প্রার্দুভাব। হাসপাতালে এন্টিবায়েটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সঙ্কট

    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

    আমতলী উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ১৩ দিনে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ১৫ শিশু এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। কিন্তু হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সংঙ্কট রয়েছে। সঙ্কট থাকায় বাহির থেকে স্বজনদের এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবী শিশুর স্বজনদের।
    জানাগেছে, সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও আমতলী উপজেলায় ছিল ভিন্ন চিত্র। জুন মাস পর্যন্ত তেমন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। কিন্তু সেই চিত্র জুলাই মাসে ভেঙ্গে গেছে। গত ১৩ দিনে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে এখনও ১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। এদিকে হাসপাতালে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সঙ্কট থাকায় শিশুদের সরবরাহ করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে জানান শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর। ফলে স্বজনদের বাহির থেকে এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের আর্থি ক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতাল এন্টিবায়োটিক ও স্যালাইন সরবরাহের দাবী হামে আক্রান্ত শিশুর স্বজনদের। অপর দিকে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা ইউনিটে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই ইউনিটে বেড না থাকায় ফ্লোরে বিছানা পেতে শিশু ও শিশুর স্বজনদের থাকতে হচ্ছে। এতেও তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের আলাদা ফ্লোরে হাতে আক্রান্ত শিশু ও শিশুর স্বজনরা বিছানা পেতে থাকছেন। িএ ইউনিটে আলাদা কোন বেড নেই। শিশুর স্বজন রাবেয়া ও তাজিনুর বলেন, হাসপাতাল থেকে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন দিচ্ছে না। এগুলো বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে এন্টিবায়েটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহের দাবী তাদের। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন, হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সঙ্কট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, হতদরিদ্র শিশুদের এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, নতুন অর্থ বছরের কারনে এন্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে সেই সঙ্কট কেটে যাবে।

  • একবার নয়, দুইবার নয়—তৃতীয়বারের মতো এবারো নেত্রকোনা জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক পুলিশ অফিসার হিসেবে, সম্মাননা অর্জন করেছেন

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

    সর্বশেষ জুলাই ২০২৬ মাসে জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক টিএসআই হিসেবে এই সম্মান লাভ করেছেন।

    এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে সততা, নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার প্রতি আন্তরিকতা থাকলে সাফল্য বারবার ধরা দেয় এটাই তার বিশ্বাস। তাই তো এবারে ও
    *নেত্রকোণা জেলার জুন মাসের শ্রেষ্ঠ টিএসআই নির্বাচিত হলেন ত্রিশসালের জন্ম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান*

    *বিশ্ব কুমার প্রতিনিধি*
    কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে জুন-২০২৬ মাসে নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ টিএসআই নির্বাচিত হয়েছেন সদর ট্রাফিকের জনাব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

    অদ্য আজ ১৪ জুলাই সকাল ১০ ঘটিকার সময় ২০২৬ তারিখে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সম্মেলন কক্ষ নেত্রকোণা থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি” – এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করে তিনি নেত্রকোনা জেলার ট্রাফিক পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ।

    নেত্রকোণা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম, বিপি-৭৮০৮১১৮২১৫ সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করে তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি আরো জানান”আপনার এই কর্মদক্ষতা নেত্রকোনা জেলার সকল ট্রাফিক পুলিশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে এই প্রত্যাশা করি।”

    সম্মাননা, গ্রহণের সময় শ্রেষ্ঠ টিএসআই আসাদুজ্জামান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, জনগণের সেবা করাই জেলা ট্রাফিক পুলিশের মূল দায়িত্ব। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আমাকে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণা যোগাবে
    সকলেই আমার জন্য দোয়া করবেন,
    যেন এভাবে দেশ ও মানুষের সেবায়
    সর্বদায় নিয়োজিত থাকতে পারি সেই প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেয়ে আনা এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

  • দক্ষিন রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে হুমাম কাদের চৌধুরী

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্ণফুলী নদীর পাড়, রাস্তা, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি।
    ১৩ জুলাই মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সারাদিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। বন্যায় ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি তিনি সরফভাটা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বহমান কর্ণফুলী নদীর পাশে সড়ক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত নদীর পাড়ের বাড়ি যর বর্তমান অবস্থা এবং চলাচলের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই সংস্কার ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে তাদের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়। আকস্মিক বন্যায় ফসলি জমি ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীদের মতে, ব্রিজঘাট ব্রিজের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা তাদের যাতায়াতকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে, যা দ্রুত মেরামত না করলে বৃহত্তর দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ গ্রহণকালে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, সরকারি এই সহায়তা তাদের সাময়িক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কৃষি সহায়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন।

    ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান,রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিআরডিএর চেয়ারম্যান ইউছুফ চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী, সরফভাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আলমগীর চৌধুরী, আব্দুল করিম চৌধুরী, সৈয়দ নুর,রফিকুল ইসলাম,আকতার হোসেন,দিদার আলম,জসিম উদ্দিন,খাইরুল ইসলাম,সরোয়ার উদ্দিন,সালাউদ্দিন চৌধুরী,মাওলানা ইউসুফ,মাহবুব মেম্বার,দেলোয়ার হোসেন সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।

  • রথযাত্রা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
    সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধরঞ্জয় চ্যাটাজী, দিলীপ রায়সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রথযাত্রা উদযাপন কমিটির বিভিন্ন নেতা। মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার রথযাত্রা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, শোভাযাত্রার সুষ্ঠু পরিচালনা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের মতামত শোনেন। পরে তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় বক্তারা বলেন, প্রশাসন ও আয়োজকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রথযাত্রা উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। জেলা পুলিশও উৎসবকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • ডিএসসিসি প্রশাসকের সাথে ঢাকা ৪ ও ৫ আসনের এমপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


    যাত্রাবাড়ি,ঢাকা:
    ঢাকা মহানগরীর দখলকৃত খাল ও খেলার মাঠ উদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশক নিধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সাথে এক যৌথ মতবিনিময় সভা করেছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।
    আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগর ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় রাজধানীর যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:দখলকৃত খাল ও খেলার মাঠ দ্রুত উদ্ধার করা।জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন।বাসা-বাড়ির ময়লার অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষা।রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা।

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার।এলাকাভিত্তিক মাদকবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন।রকাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, “নাগরিকদের বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা যৌথভাবে কাজ করব। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, ৭৫ বোতল ভারতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। জব্দকৃত সিরাপের কোনো দাবিদার না থাকায় এগুলো মালিকবিহীন হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। নায়েক মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সীমান্ত পিলার ১৮২/৩-এস থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের উনিশদীঘি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।

    অভিযান চলাকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf সিরাপ উদ্ধার করে বিজিবি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি জানায়, জব্দ করা সিরাপগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।

  • সরফভাটায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সরফভাটা ইউনিয়নের ভারী বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি বিতরন করা হয়।

    ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সরফভাটা ইউনিয়নের ইত্যাদি চত্বরে সরফভাটার ৯ ওয়ার্ডের প্রায় ৫ শত পরিবারকে এই ত্রাণ সামগ্রি প্রদান করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আলমগীর চৌধুরী, আব্দুল করিম চৌধুরী, সৈয়দ নুর,রফিকুল ইসলাম,আকতার হোসেন,আবসার মেম্বার,ফরিদুল আবসার,দিদার আলম,জসিম উদ্দিন,খাইরুল ইসলাম,সরোয়ার উদ্দিন,সালাউদ্দিন চৌধুরী,মাওলানা ইউসুফ,মাহবুব মেম্বার,দেলোয়ার হোসেন সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।