Blog

  • টাঙ্গাইলে এটিএন বাংলার ক্যামেরা পারসন সুজনকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

    টাঙ্গাইলে এটিএন বাংলার ক্যামেরা পারসন সুজনকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

    টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: 

    টাঙ্গাইলে এটিএন বাংলার ক্যামেরা পারসন সুজন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পাকুল্যা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    এ ঘটনায় রাতে আহত সুজন মিয়া টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পাকুল্যা গ্রামে হাডুডু খেলা খেলা চলছিলো। এসময় সুজন মিয়া খেলার নিউজ কাভার করছিলেন। এক পর্যায়ে খেলার রেফারীর ছেলে রোমান সুজনকে অশ্লীল গালিগালাজ করে।
    সুজন এর প্রতিবাদ করলে রোমান প্রথমে মুখে এলোপাথারী ভাবে কিল ও ঘুষি মারে। পরে আরো কয়েকজন মিলে সুজনকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারীভাবে শরীরের বিভিন্নস্থানে পিটাতে থাকে। এসময় সুজনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় সুজন।
    এ ব্যাপারে এটিএন বাংলার ক্যামেরা পারসন সুজন মিয়া বলেন, খেলার নিউজ কাভারের এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত মনে হয়েছে আমার।
    এক পর্যায়ে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয় তারা। আমি এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। আমি দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানভীর আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ;

  • পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে: সালাহউদ্দিন

    পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে: সালাহউদ্দিন

    বাংলাদেশ ক্রাইম ডেস্ক:

     

    পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র যাতে সফল না হয় সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং অখন্ড বাংলাদেশ ও ‘সবাই বাংলাদেশি’ এই পরিচয়কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে।

    শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সিআরডিএফ মিলনায়তনে আয়োজিত আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “দেশকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সব নৃগোষ্ঠী, উপজাতি, আধা উপজাতিসহ সবাইকে বাংলাদেশি হতে হবে। একটি জাতি গঠনে ভাষা, একক সংস্কৃতি ও ধর্মই প্রধান বিষয় নয়; বরং বিভিন্ন ভাষাভাষী, ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত উপস্থিতিই জাতির পরিচয় দেয়।”

    তিনি আরও বলেন, “পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে আনতে কোটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে। এটি বিশ্বের প্রায় সব দেশে রয়েছে এবং আগামী ৫০-১০০ বছর পর হয়তো এর প্রয়োজন থাকবে না।”

    বিএনপির এই নেতা উল্লেখ করেন, “বিগত সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই জাতিকে বিভক্ত করার মানসিকতা দেখা গেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও বিভিন্ন পক্ষ-বিপক্ষের কথায় আমাদের বিভক্ত করা হয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল বলে আলাদা করতে চেয়েছিল, তারাও বিজয়ের পর তা অস্বীকার করেনি।”

    তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য নষ্ট না হওয়ার জন্য সতর্ক থাকার কথাও বলেন।

    ;

  • ডেমরায় যুবদলের বৃক্ষরোপণ ও বিএনপির ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন

    ডেমরায় যুবদলের বৃক্ষরোপণ ও বিএনপির ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ক্রাইম ডেস্ক: 

    ঢাকার ডেমরা থানা ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশের পরিবেশ ও রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুবদলের বিশেষ একটি কর্মসূচি গতকাল (৯ আগস্ট) সফলভাবে আয়োজন করা হয়। ডেমরা থানার যুবদলের এই উদ্যোগের মূল অংশ ছিল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক প্রণীত ৩১ দফা কর্মসূচির রূপরেখাসম্পন্ন লিফলেট বিতরণ।

    পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলেও রাজনৈতিক গুরুত্বেও এর বিশেষ তাৎপর্য ছিল। বিশেষত বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির মূল বার্তাগুলো সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। ডেমরা থানা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

    ডেমরা থানা বিএনপির প্রস্তাবিত নেতা মোঃ আনিসুজ্জামান ও যুবদলের আহ্বায়ক ডা. রফিকের নেতৃত্বে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো কর্মসূচিকে সাফল্যমণ্ডিত করতে কাজ করেছেন।

    বৃহত্তর জনগণের কল্যাণ ও পরিবেশের টেকসই সংরক্ষণে সংগঠিত এই কর্মসূচিতে বিশেষ বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ডেমরা থানা বিএনপির অভিভাবক, জাতীয়তাবাদী দলের বিশিষ্ট নেতা আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী। তিনি বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন,
    “গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান—এটি শুধু পরিবেশ নয়, দেশের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা। আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায়, মাটির সম্মান রক্ষায় কাজ করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন,
    “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংশোধিত ২৭ দফার রূপরেখার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দুর্নীতি দমন, সংবিধান ও সংস্থাগুলোর সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ, বেকার ভাতা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।”

    নবী উল্লাহ নবী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, “২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫ আসনে জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সফল এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি (বিএনপি) মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই তিনি সকল গণমানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশের সঠিক নেতৃত্ব গঠনে সহযোগিতা করার জন্য।”

    কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিএনপির ৩১ দফার রূপরেখাসহ উন্নয়নমুখী বার্তা সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই উদ্যোগ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, পরিবেশ সচেতনতা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দলের মুল্যবোধ ও অঙ্গীকার ব্যাপকভাবে পৌঁছাবে।

    ;

  • ওয়াহিদুজ্জামান দিপুর ছোঁয়াতে বদলাতে পারে বাগেরহাট -১ আসনের জনগণের ভাগ্য

    ওয়াহিদুজ্জামান দিপুর ছোঁয়াতে বদলাতে পারে বাগেরহাট -১ আসনের জনগণের ভাগ্য

    এইচ এম হাকিম:


    আওয়ামী লীগ সরকারের পালা বদলের পর সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সকল দলের প্রার্থীরা মাঠ গুছাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

    সারা দেশের ন্যায় বাগেরহাট-১ আসনে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগেরহাট আইনজীবী সমিতির বারংবার নির্বাচিত সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, বারংবার কারাবরণকারী বিএনপি নেতা শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।
    বাগেরহাট জেলা বিএনপি সহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মাঝে দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে ভূমিকা পালন করে চলেছেন শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।

    বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট, মোল্যাহাট, চিতলমারী) উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে দল-মত নির্বিশেষে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে খেতাব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।

    তার রাজনৈতিক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিএনপির জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং এলাকায় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণে এবারের এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন বাগেরহাট-১ আসনের বাসিন্দারা।
    যদি এবারও শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে বিএনপিকে বাগেরহাট-১ আসন উপহার দেবেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক নামের এক মৎস চাষি জানিয়েছেন, “শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু ভাই আমাদের এলাকার সন্তান। বিগত দিনগুলোতে কেউ বিপদে পড়লে তার কাছে গেলে তিনি কাউকে খালি হাতে ফেরত দিয়েছেন এমন নজির খুব কম আছে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে মানবসেবায় কাজ করে চলেছেন।”

    এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “দিপু ভাই সব সময় বাগেরহাটবাসীর স্বার্থ রক্ষার্থে রাজনীতি করেন। তিনি অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মতো নন। তার কাছ থেকে সকল প্রকার আইনি সুযোগ-সুবিধা বিনা মূল্যেই ভোগ করা যায়। তিনি যদি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান, জনগণ তাকে বিপুল সংখ্যক ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। ২০০৮ সালে তিনি শেখ হাসিনার বিপক্ষে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোট পেয়েছেন। জুলুমকারী হাসিনার পতন হয়েছে। ঐ সময়ে দিপু ভাই শেখ পরিবারের অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাই বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে দাবী একটাই, এবারও শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুকে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক।”

    মোল্যাহাটের ছাত্রনেতা ফুরকান বলেন, “শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় নেতা-কর্মিদের নামে যতো মামলা হয়েছিল সব তিনি নিজ খরচে মেকাবিলা করেছেন এবং নেতা-কর্মিদের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন, এখনো নিচ্ছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু ভাই আমাদের বাগেরহাট-১ আসনের এমপি হলে তিনি জনগণের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন বলে আশা করি।”

    ফকিরহাট, মোল্যাহাট, চিতলমারী উপজেলার বিএনপি সহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বাগেরহাট-১ আসনের নেতা-কর্মীদের সাথে কাজ করে চলেছেন শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।

    বাগেরহাট-১ আসনের এলাকাবাসী দলের হাইকম্যান্ডের কাছে দাবি তুলেছেন শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুকে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য।
    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু কি পেতে পারেন বিএনপির দলীয় মনোনয়ন!!

    ;

  • আগামী দিনে দেশ পরিচালনার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা বিএনপির: তারেক রহমানের প্রত্যাশা

    আগামী দিনে দেশ পরিচালনার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা বিএনপির: তারেক রহমানের প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের ক্রাইম ডেস্ক:

     বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দানের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দলটির রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, “মানুষ বিএনপির কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে। তারা বিশ্বাস করে, বিএনপি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আগামী দিনে দেশের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা বিএনপির রয়েছে, অবশ্যই একটি নির্বাচনের মাধ্যমে। এজন্য জনগণ বিএনপির কাছ থেকে ভালো কিছু এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে। আমাদের সেই শুরুটা করতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত একটি পরিবর্তন এসেছে। ওই দিন দেশের মানুষ যেন বুক ভরে শ্বাস নিতে পেরেছে।”

    নিজেকে কার্ডিয়াক রোগী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আমি একজন কার্ডিয়াক রোগী। আমার যখন অ্যাটাক হয়, শারীরিক চাপ কমানোর পর যখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসি, ঠিক সেরকম ওই ৫ আগস্ট দেশের মানুষের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার অনুভূতি পেয়েছি।”

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমানে সমগ্র বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের জন্য আকাঙ্ক্ষিত। প্রত্যেক মানুষ একটি ভালো পরিবর্তন চাইছে, যেন সামনে দিনগুলো উন্নত হয়। তবে বাস্তবতা হলো সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ভালো হবে না, এটা মেনে নিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।”

    দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে সেই প্র্যাকটিস পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে না। তবে ড্যাবের এই কাউন্সিল প্রমাণ করবে যে সব দল একরকম নয়।”

    তিনি বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকাও স্মরণ করে বলেন, “তিনি এই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পরাজিত করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদের এখন সেই ধারাবাহিকতাকে ধরে রাখতে হবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরো মজবুত করতে হবে।”

    তারেক রহমানের এই বক্তব্য আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির সম্ভাবনা ও নেতৃত্ব বিষয়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    ;

  • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে নতুন দানবের আগমন, নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করার জন্য (ডিএডি জলিল)

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে নতুন দানবের আগমন, নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করার জন্য (ডিএডি জলিল)

    ওয়াহিদ হোসেন: 

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের রিফর্ম সেলে উন্নয়নের কথা বলে (মূল পোস্টিং বগুড়া) বগুড়া জেলা খালি রেখে উপসহকারী পরিচালক আ. জলিলকে ঢাকা নিয়ে এসেছেন অধিদপ্তরের গুটিকয়েক অফিসার তাদের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য। কে এই জলিল? তিনি একাধারে দীর্ঘদিন সিনিয়র স্টেশন অফিসার হিসাবে সিদ্দিকবাজারে কর্মরত ছিলেন এবং সাবেক ডিজি আলী আহমদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তার কথা ছাড়া সাবেক ডিজি চলতেন না। সেই সুযোগে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য—এমন কিছু নাই যা সে করেনি।

    সে অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখায় ডিএডি হিসাবে কর্মরত থাকার সময় ৫০ কোটি টাকার হিসাব দিতে না পারায় তাকে বগুড়া বদলি করা হয়। পুরো টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেন, কোটি কোটি টাকা আয় করে ডলার বানিয়ে তার আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের নিকট পাঠান, ভাই আবার দেশে পাঠায়। এ ছাড়া সে নিজেকে ব্যাপক বুদ্ধিজীবী মনে করে ফায়ার সার্ভিসকে ধ্বংসের পায়তারা করছে।

    ইতিমধ্যে মহাপরিচালক মহোদয়—যিনি একজন ভদ্রলোক—তাকে কুবুদ্ধি দিয়ে ৪২ কোটি টাকা ফেরত প্রদান করেছেন কোনো কেনাকাটা না করে। ফলে গামবুট, হেলমেট, ডেলিভারি হোজ, ব্রাঞ্চ পাইপের অভাবে ভুগছে স্টেশনগুলো। তিনি কৌশলে বদলি ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন। তা ছাড়া সমস্ত দলবাজীর অন্যতম হোতা এই জলিল। দ্রুত গতিতে তাকে অধিদপ্তর থেকে না সরালে যেকোনো মুহূর্তে বিডিআর বিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

    সমস্ত অফিসার হতবাক—এই দালাল কিভাবে আবার অধিদপ্তরে এল? এ বিষয়ে তাকে ফোন করলে বলেন, “সুযোগ ছিল, টাকা কামাইছি, আপনার সমস্যা কি?”

    পরবর্তীতে থাকবে বিস্তারিত… চলবে।

    ;

  • কোরবানি পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ

    কোরবানি পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ

    নিজস্ব প্রতিনিধি:  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কোরবানির পর  ১২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

    উপদেষ্টা তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনদিন কোরবানি চলবে। প্রথম দিন প্রায় ৯০ শতাংশ গরু কোরবানি করা হয়ে যায়। এরপরও কিছু কিছু কোরবানি হয়। আমরা বলেছি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসকরা আমাদের কথা দিয়েছেন ১২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।’

    অপর এক পোস্টে উপদেষ্টা বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে জুয়ার সাথে জড়িত প্রায় এক হাজারেরও বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

    তিনি কোনো জুয়ার অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে থাকলে সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ। সরকার সাইবার স্পেসে জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুসারে জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলার সাথে জড়িত সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। এই আইনে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোন পোর্টাল/অ্যাপস/ডিভাইস তৈরি/পরিচালনা করা, জুয়া খেলা, খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপনের সাথে জড়িত থাকাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’;

  • খুলনায় আজ দুদকের ১৭৭ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত

    খুলনায় আজ দুদকের ১৭৭ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত

    নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি চলছে।

    এতে কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী প্রধান অতিথি  ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ বিশেষ  অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন।

    গণশুনানিতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানির শিকার বা সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ জনসাধারণ তাদের অভিযোগসমূহ খুলনা জেলার সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতিতে কমিশনের সামনে তুলে ধরছেন। একই সাথে সেবা বঞ্চিত জনসাধারণের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই এই গণশুনানির মূল অভিপ্রায়।

    গণশুনানিতে জনসাধারণের সমাগমকল্পে খুলনা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহব্যাপী মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, বুথ স্থাপন করে অভিযোগ সংগ্রহ, অভিযোগ বাক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়। ফলে খুলনা সদরের উক্ত গণশুনানির বিষয়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।;

  • ইসরাইলি হামলায় চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত

    ইসরাইলি হামলায় চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত

    অনলাইন ডেস্ক: ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় এক চিকিৎসক দম্পতির ৯ সন্তান নিহত হয়েছে বলে শনিবার জানায় গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। অন্যদিকে, এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ।

    গাজা সিটি থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলি অভিযান জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ২ মার্চ থেকে আরোপ করা সম্পূর্ণ অবরোধ আংশিকভাবে শিথিল করার পর, আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি প্রদানের দাবিও উঠে এসেছে।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “ডা. হামদি আল-নাজ্জার ও তার স্ত্রী ডা. আলা আল-নাজ্জারের বাড়ি থেকে নয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীর পুড়ে গেছে। তারা সবাই ওই দম্পতির সন্তান।”

    তিনি আরো জানান, শুক্রবারের হামলায় হামদি আল-নাজ্জার এবং তাদের আরেক সন্তান আদম গুরুতর আহত হয়েছে । তাদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের এক সূত্র জানিয়েছে, আদামের বয়স ১০ বছর।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনীর আলবুরশ এক্স-এর পোস্টে লেখেন, চিকিৎসক হামদি আল-নাজ্জার তার শিশু বিশেষজ্ঞ স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে ঘরে ফেরার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

    তিনি আক্ষেপ করে আরো জানান, “এটাই গাজার চিকিৎসকদের বাস্তবতা। এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মত না।”
    বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা পুড়ে যাওয়া মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বের করছেন।

    এএফপির ফুটেজে দেখা যায়, শিশুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নাসের হাসপাতালে। সেখানে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়া মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

    উইসাম আল-মাধুন নামে এক স্বজন বলেন, “হঠাৎ করে একটি এফ-১৬ মিসাইল এসে পুরো বাড়ি ধ্বংস করে দেয়। আমার বোন, তার স্বামী আর তাদের সন্তানরা  সবাই বেসামরিক নাগরিক। এই শিশুগুলোর কী অপরাধ নেতানিয়াহুর কাছে?”

    ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সেনাদের নিকটস্থ একটি স্থাপনায় সক্রিয় সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে খান ইউনিস শহরকে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র বলেও দাবি করেন।

    তবে “নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে” বলে জানানো হয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে। এতে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে বিমান বাহিনী ১শ টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    মাহমুদ বাসাল জানান, শনিবার ভোর থেকে চালানো হামলায় গাজাজুড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

    এর মধ্যে খান ইউনিসের আমাল এলাকায় ভোররাতে এক বাড়িতে হামলায় দুই শিশুসহ এক দম্পতি নিহত হন।

    শহরের পশ্চিমে, ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভিড়ে চালানো ড্রোন হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারান।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার বলেন, “গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে নিষ্ঠুর পর্ব পার করছে ফিলিস্তিনিরা।”

    তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে খাদ্য ও ওষুধের ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    ২ মার্চের পর প্রথমবার গত সোমবার সীমিত আকারে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ শুরু হয়।

    এদিকে গাজা সিটি পৌরসভা শনিবার সতর্ক করে জানায়, ভেঙে যাওয়া অবকাঠামো মেরামতের উপকরণ না থাকায় “পানিসংকট প্রকট” হতে পারে।

    এদিকে, শনিবার রাতে তেল আবিবে ফের বিক্ষোভ হয়, অংশগ্রহণকারীদের “জিম্মিদের বাঁচান, যুদ্ধ বন্ধ করুন” লেখা ব্যানার বহন করতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভরত জোনাথন আদেরেথ বলেন, “আমরা এখনই যুদ্ধের সমাপ্তি চাই। কারণ আমরা বুঝে গেছি, এই যুদ্ধ জিম্মিদের মুক্তি দেবে না, বরং উভয় পক্ষের জন্য আরো মৃত্যু ও দুর্ভোগ বয়ে আনবে।”

    শনিবার সকালে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট জানায়, তারা এমন অনেক ফোনকলের তথ্য পেয়েছে, যেখানে “জিম্মির কণ্ঠস্বর, বিস্ফোরণের শব্দ ও চিৎকারের রেকর্ডিং বাজানো হয়েছে।”

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, এসব ফোনে শোনা যাওয়া অডিও সম্ভবত হামাস কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত জিম্মি ইয়োসেফ হাইম ওহানার ভিডিও থেকে নেওয়া।

    তবে ডিরেক্টরেট এটিকে “জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রয়াস” বলে অভিহিত করে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানান।

    দু’মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল গত ১৮ মার্চ থেকে ফের অভিযান শুরু করে গাজায়।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, নতুন করে হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার ৭৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৯০১ জনে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।;

  • জাতীয় কবি নজরুলের ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

     

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি পালিত হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

    তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার, ২৪ মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য জীবনের পরতে পরতে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও।

    কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সমাজচিন্তক। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যার স্থান চিরভাস্বর। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সংগীত প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে আসছে, সমাজ পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছে।

    কাজী নজরুল ইসলাম একটা প্রতিষ্ঠান ও আন্দোলনের নাম, যুগে যুগে এক জীবন্ত আদর্শ। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, সঙ্গীত আর দর্শনেও নজরুলের অনবদ্য উপস্থিতি বর্ণাঢ্য করেছে বাংলা সাহিত্যকে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের সূচনা হয়েছিল দারিদ্র্য আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় পিতৃহারা নজরুল মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করেছেন, লেটো গানে অংশ নিয়েছেন। কঠিন জীবনসংগ্রাম তাকে দমাতে পারেনি। তিনি সাহিত্য ও সংগীতের মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য, শোষণ, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

    কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য জীবনের সূচনা ঘটে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে। তৎকালীন প্রভাবশালী কবি-সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ যা বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি করে নতুন এক ধারা। এই কবিতায় কবি নিজের আত্মাকে রূপ দিয়েছেন এক বিরাট শক্তিতে, যিনি অন্যায়, শোষণ ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেন সাহসের ঘোষণা।

    এই কবিতা কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু সাহিত্যের জগতে নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও পরিচিত করে তোলে। তার লেখা প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে গণচেতনাকে উজ্জীবিত করে।

    কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি প্রায় চার হাজার গান। এসব গান লিখে ও সুর দিয়ে তিনি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর গানে আছে প্রেম, প্রতিবাদ, ধর্মীয় ভাব, আধ্যাত্মিকতা এবং সাম্যবাদের স্পষ্ট প্রকাশ। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর গদ্য সাহিত্যে তুলে ধরেছেন সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। তার উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’ ও ‘কুহেলিকা’ প্রগতিশীল চিন্তার ধারক।

    যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দির জবানবন্দি প্রভৃতি প্রবন্ধগ্রন্থে তিনি সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতির নির্ভীক সমালোচনা করেছেন।

    বর্তমান পৃথিবীতে যখন বিদ্বেষ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্য বাড়ছে, তখন তাঁর অমর সৃষ্টি আমাদের জন্য ‘আলোর দিশারি’। কাজী নজরুল বাংলা সাহিত্যে এক বিস্ময়কর দ্যুতি। তাঁর জন্মবার্ষিকী স্মরণ করিয়ে দেয় যে কবির আদর্শ ও ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক। বৈষম্য, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অবিচার যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের বিষয়, তখন তাঁর জীবনদর্শন আলো জ্বালাতে পারে।

    কবিতার জন্যে জেলেও যেতে হয়েছিল কবিকে। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য নজরুলকে দেওয়া হয় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

    সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত ও চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন নজরুল। নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধ্রুব’তে অভিনয়ও করেছিলেন। তাই শুধু কবি পরিচয়েই আবদ্ধ নন কাজী নজরুল।

    কবি নজরুলকে সপরিবারে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহাবিদ্রোহী ও প্রেমিক পুরুষ।

    ‘মসজিদেরই পাশে আমার  কবর দিও ভাই’ গানে ব্যক্ত কবির এ ইচ্ছের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।;