‎নাসিরনগরে উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে শেষ হলো জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব ‎

‎ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
‎উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।

‎সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত অর্থ বিশ্ব আর নাথ অর্থ ঈশ্বর—অর্থাৎ জগন্নাথ হলেন জগতের ঈশ্বর। তাঁর কৃপা লাভ করলে মানুষের মুক্তি ঘটে এবং জীবরূপে পুনর্জন্ম নিতে হয় না—এমন বিশ্বাস থেকেই রথে জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।
‎উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

‎শুক্রবার ২৪ জুলাই  সকাল থেকে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ উপলক্ষ্যে নাসিরনগর সদর পশ্চিম পাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় গৌর মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রার রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

‎রথযাত্রার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো রথের দড়ি টানা। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-নির্বিশেষে হাজারো মানুষ এই মহোৎসবে অংশ নেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আন্তরিক ভক্তিভরে রথের দড়ি টানলে ঈশ্বরের কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ হয়।

‎রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য উৎসব। যুগ যুগ ধরে এই মহোৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাই রথযাত্রা ও উল্টো রথ শুধু ধর্মীয় নয়, বরং উপমহাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক।

‎উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
‎সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা শুরু হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ উৎসবের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশেও এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.