রাঙ্গুনিয়ার অপহৃত ৭ বছর বয়সী শিশু উদ্ধার; অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, ব্যবহৃত সিএনজি জব্দ


রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পিপিএম এর তত্ত্বাবধানে, চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বিত অভিযানে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত ৭ বছর বয়সী শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন-কে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রঃ) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭), পিতা- দেলোয়ার হোসেন, গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকালে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ভিকটিমের এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলে যে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় ডিবি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক টিম উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দিন-রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে মোঃ রাকিব (২২), মোঃ ফয়সাল (৩২) এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোঃ ফয়সাল ভিকটিমের পিতার আপন মামাতো ভাই। সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে অপহরণ করে তার পিতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে এবং এই কাজে তার পরিচিত সিএনজি চালকদের সম্পৃক্ত করে। মুক্তিপণের অর্থ আসামীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাদের এ অপরাধে যুক্ত করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং যেকোনো অপরাধ দমনে সর্বদা সতর্ক, পেশাদার ও আন্তরিক। শিশু অপহরণসহ সকল গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Many players prefer ultra casino because of its balance between functionality and simplicity. Avoiding overly complex menus helps users stay focused on games. This is particularly important for mobile casino players using smaller screens.