স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওএমএসের ডি-১ ডিলার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চাল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বিক্রয়স্থল ত্যাগ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য একটি ট্রাক নিয়ে আসা হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার আগেই পণ্য বিক্রি শেষ না করে চাল ও আটা ভর্তি ট্রাকটি বিক্রয়স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে আসা অনেক মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ওএমএসের পণ্য কেনার জন্য বিক্রয়স্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পণ্য কিনতে পারেননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ক্রেতা জানান, ওএমএসের চাল ও আটা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক নিয়ে এসে নির্ধারিত সময়ের আগে কেন বিক্রয়স্থল ত্যাগ করা হলো এবং অবিক্রীত পণ্য কোথায় নেওয়া হয়েছে—এর যথাযথ ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ওএমএসের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এআরও শহীদুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বিক্রয়স্থল থেকে বিকেল ৫টা বাজার আগে যাওয়ার কথা নয়। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওএমএসের ট্রাক বিক্রয়স্থলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে পণ্য বিক্রি বন্ধ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বিক্রিত ও অবিক্রীত চাল-আটার হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।









