Category: অপরাধ

  • চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    স্টাফ রিপোর্টার: 

    রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওএমএসের ডি-১ ডিলার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চাল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বিক্রয়স্থল ত্যাগ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য একটি ট্রাক নিয়ে আসা হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার আগেই পণ্য বিক্রি শেষ না করে চাল ও আটা ভর্তি ট্রাকটি বিক্রয়স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে আসা অনেক মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ওএমএসের পণ্য কেনার জন্য বিক্রয়স্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পণ্য কিনতে পারেননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক ক্রেতা জানান, ওএমএসের চাল ও আটা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক নিয়ে এসে নির্ধারিত সময়ের আগে কেন বিক্রয়স্থল ত্যাগ করা হলো এবং অবিক্রীত পণ্য কোথায় নেওয়া হয়েছে—এর যথাযথ ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।

    অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ওএমএসের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এআরও শহীদুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বিক্রয়স্থল থেকে বিকেল ৫টা বাজার আগে যাওয়ার কথা নয়। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

    সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওএমএসের ট্রাক বিক্রয়স্থলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

    স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে পণ্য বিক্রি বন্ধ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বিক্রিত ও অবিক্রীত চাল-আটার হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    তবে মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

  • ‎নাসিরনগরের খান্দুরায় হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত -১৫

    ‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
    ‎শনিবার (১আগস্ট) মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে খান্দুরা সালামবাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ধরমন্ডল ও শিমুলঘর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
    ‎ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের সালাম বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠে।

    ‎জানা যায়,শনিবার ১লা আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল কাবাডি দল বনাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শিমুল ঘর গ্রামের মধ্যে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলার শেষ পর্যায়ে ধরমন্ডল দল ৪.০ পয়েন্টে শিমুল ঘর দলকে পরাজিত করে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে, পরাজিত শিমুল ঘর দল ও সমর্থক ধরমন্ডল দলের এক খেলোয়াড়কে আটক করার চেষ্টা করে, আটকাতে না পেরে উত্তেজিত খেলোয়াড় ও সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে ধরমন্ডল দলের ২ সদস্যের উপর হামলা চালায় ও আহত হয়। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা  ধাওয়া শুধু হয়।
    ‎
    ‎এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়ই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
    ‎পরে নাসিরনগর থানা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    ‎

  • কক্সবাজারের চকরিয়ায় সারদা মহাজনের ঐতিহাসিক পুকুর, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন


    মোহাম্মদ হোসাইন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক সারদা মহাজনের পুকুর, বাড়ি, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ একটি প্রভাবশালী মহল বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রাচীন পুকুরটি ভরাট এবং সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করে জাল খতিয়ান তৈরি এবং সেই খতিয়ানের ভিত্তিতে জমি বিক্রির মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সারদা মহাজনের সম্পত্তির চারজন বৈধ ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও রতন কিশোর দাশ বিএস ২১১ নম্বর খতিয়ান থেকে জমি বিক্রি করে দখল নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ফনিন্দ্র লাল দাশের তিন কন্যাকে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মনিন্দ্র লাল দাশ ও ফনিন্দ্র লাল দাশের ওয়ারিশরা পৃথকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

    মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শ্মশান ও মন্দিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই ঐতিহাসিক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় সম্পত্তি সংরক্ষণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রিজার্ভ বনভূমিতে গাছ কেটে বন ভূমি দখলের প্রয়াস


    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জাধীন বরমাচল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট (ব্লক-২) এর আওতায় থাকা প্রায় ১৫০ একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা (Status Quo) তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে বন দখল, গাছ কর্তন এবং জমি উজার করার পাঁয়তারা। স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের একাংশ নিজেদের ‘দুর্বল’ ও প্রান্তিক হিসেবে জাহির করলেও, প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নেপথ্য মদদেই তারা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস। তবে বিস্ময়করভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অভিযানের সময় বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
    অভিযানকালে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি এবং ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির প্রধান (মন্ত্রী) লিডিয়া পিয়া প্রশাসনের কাছে বনের গাছ কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, তারা গাছ কাটার পক্ষে নন এবং কোনো গাছ কাটা হচ্ছে কি না তাও তাদের জানা নেই। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চাইলে তারা নানা অজুহাতে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান।

    পরবর্তীতে এসিল্যান্ড দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে জবরদখল ও তাজা গাছ কেটে সুপারি চারা রোপণসহ বন উজারের স্পষ্ট প্রমাণ পান। কিন্তু কৌশলগতভাবে অপরাধীদের আড়াল করে রাখা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযুক্তদের হাতেনাতে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি বা জরিমানা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

    একই সাথে এই প্রতিবেদকের নিজস্ব অনুসন্ধানেও উক্ত বনাঞ্চলে ব্যাপক হারে ও জোরেসোরে গাছ কাটার একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। তবে ওই এলাকায় প্রভাবশালী চক্র ও দখলদারদের সশস্ত্র মহড়া এবং তীব্র প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বা সাধারণ বাসিন্দাদের বক্তব্য রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।

    সংযুক্ত সরকারি নথি ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৭১, তারিখ: ২৫/০৭/২০২৬ এবং জিডি নং- ৯৮২, তারিখ: ২০/০৭/২০২৪) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (স্বত্ব মামলা নং- ১৮৫/২০২২) এই ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত উভয় পক্ষকে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির হরলাল পথাং (৫১), লিডিয়া পিয়া (৪০), আলফায়েস পথাং (৪৪), জনি সিঙ্গা (৩০) সহ একদল লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিজার্ভ ফরেস্টে মহড়া দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় তারা সরকারি বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাছপালা কেটে বনভূমি দখল ও জুম চাষের সাহস পাচ্ছে। বরমাচল বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বারবার থানায় জিডি করলেও পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

    ঘটনা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না মুঠোফোনে জানান, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। ক্ষেত্রবিশেষে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সরকারি জমি সুরক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।”
    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে বন উজারের আলামত পেয়েছি। নেপথ্যে যাদেরই ইন্ধন থাকুক বা আদালতের আদেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে যারা অবৈধ কার্যক্রম চালাবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। একদিকে প্রভাবশালী চক্রের হুমকি-ধামকি, অন্যদিকে জনবল সংকট—সব মিলিয়ে আমরা চরম ঝুঁকিতে কাজ করছি। তবুও সরকারি সম্পদ রক্ষায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার জানান, “আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে সরকারি রিজার্ভ বনভূমি দখল বা গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। এই অপকর্মের পেছনে যারা মদদ দিচ্ছে এবং যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সবাইকে আইনি আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সচেতন মহল জানান, বন বিভাগের চরম জনবল সংকট এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়ায় খাসিয়াদের লাগাতার হুমকিস্বরূপ আচরণের কারণে বন কর্মকর্তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে জেলা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ নাজমুল আলমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বনাঞ্চলের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ কুলাউড়ায় একদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘দুর্বলতার’ দোহাই, অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কায়েমী স্বার্থের কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অনুসন্ধানে গাছ কাটার জোরালো প্রমাণ মেলা এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক ও স্থানীয় মদদে রিজার্ভ ফরেস্টে একের পর এক জিডি হওয়ার পরও দখলের উৎসব চলে—তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ যেখানে প্রাণভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না, সেখানে প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযানের কথা বললেও বাস্তবে বন উজারের গতি থামছে না।

    বন বিভাগের তীব্র জনবল সংকট এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নীরবতা ভূমিদস্যুদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। অবিলম্বে পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী চক্রসহ সকল অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে কুলাউড়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—আর কত বন উজার হলে টনক নড়বে প্রশাসনের?
    ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮

  • মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক


    মোহাম্মদ হোসাইন,টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বহিঃনোঙ্গর এলাকায় গত ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৭ টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার বহনকারী একটি কার্গো বোট পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলে অবস্থান করছে।

    পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, একই দিন সকাল ১০ টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্তৃক পতেঙ্গা ১৫ নাম্বার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কার্গো বোটে থাকা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা (২২ হাজার ৫০০ কেজি) ডিএপি (DAP) সার এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে তিলাই ইউনিয়নবাসীর মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে হামলা,আহত ১ থানায় অভিযোগ দায়ের


    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ৩ নং তিলাই ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলাকালে মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের হামলায় একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শনিবার সকালে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ‘এলাকাবাসী ও সুধিসমাজ’-এর উদ্যোগে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের সরকারপাড়া মাদ্রাসা মোড়ে একটি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে এলাকার শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    এ সময় তারা এলাকার মাদকসেবনকারী ও বিক্রেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন।
    কর্মসূচি চলাকালীন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সাথে যুক্ত থাকা একই এলাকার মৃত রফাতউল্লার ছেলে গোলজার হোসেন (৪৭) রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য:
    এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই আহত গোলজার হোসেন চারজনকে অভিযুক্ত করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন— নাছির উদ্দিন (৫২) এবং তার তিন ছেলে রমজান আলী (৩২), হযরত আলী (২৮) ও কফিল উদ্দিন (২০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী আমিনুর, আলম, মাসুদ ও আলতাফ জানান, অভিযুক্ত এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মাদকবিরোধী শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পেইনে মাদক ব্যবসায়ীদের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
    এ বিষয়ে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন থেকে ফেরার পথেই তার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি ভুক্তভোগীকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ৯৬ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ


    ​মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর একটি বিশেষ অভিযানে ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।​আজ ০১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ ফতেপুর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল রাত ১টার সময় এই অভিযান পরিচালনা করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া গ্রাম থেকে এই মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
    ​
    ​উদ্ধারকৃত মাদক: ৯৬ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ। ​বাজারমূল্য: ৩৮,৪০০/- (আটত্রিশ হাজার চারশত) টাকা।
    ​ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে।
    ​
    ​গত জুলাই মাসে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে নিম্নলিখিত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়:​এস্কাফ সিরাপ: ৬৯৯ বোতল (০১ জন আসামীসহ)।​ফেয়ারডিল সিরাপ: ৬৪ বোতল।​মদ: ৯০ বোতল।​মোট বাজারমূল্য: ৪,৪০,২০০/- (চার লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশত) টাকা।
    ​
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশ ইন প্রতিরোধ করাসহ যেকোনো অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে এবং বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু দস্যুদের আস্তানায় হানা


    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান: জব্দ ৮ হাজার ঘনফুট বালু, এক্সক্যাভেটর ও ৫টি মেশিন।

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের আলিসারকুল (বরপাড়া) এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় ৮ হাজার ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু, একটি এক্সেভেটর (ভ্যাকু) মেশিন, বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৫টি বোমা মেশিন এবং প্রায় ১ হাজার ফুট পানির পাইপ জব্দ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা অভিযানটি পরিচালিত হয়।শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নং ভূনবীর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আলিসার কুল (বরপাড়া) এলাকায় এ অভিযানটি চালানো হয়েছে।
    উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। অভিযানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন।

    অভিযানকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলে কোনো বালু খেকোকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু, এক্সক্যাভেটর (ভ্যাকু) বোমা মেশিন এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় জব্দ তালিকা মুলে রাখা হয়েছে।

    এদিকে জনস্বার্থে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ফুট পাইপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও বিনষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত বালু ও অন্যান্য মালামাল প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইন মোতাবেক নিলাম বা প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হবে।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ভিডিও ধারণকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় এনসিপির একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ইনসাফ টাইমস ২৪–এর কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    ঘটনা অনুযায়ী, ফুলবাড়ী উপজেলার এনসিপি কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পার্টি অফিস থেকে প্রায় ১০০ গজ এগোতেই বিএনপির ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    এ সময় ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করছিলেন ইনসাফ টাইমস ২৪–এর কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার ওপরও আক্রমণ চালায় এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ভাঙচুর করে।

    এতে সাংবাদিকের ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে এক পথচারী তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে, পথিমধ্যে আবারও তাকে আটকিয়ে মারধর করা হয় এবং বহনকারী গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও হামলা থামেনি; বরং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইনসাফ টাইমস ২৪।

    এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইনসাফ টাইমস ২৪।
    এ বিষয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির মিছিলে বিএনপির হামলা,আহত-২৫, গুরুতর-৭

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে এনসিপি। গতকাল এই উপজেলায় স্বল্প পরিসরে এনসিপির আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আযান আহমেদ শাওনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদলের বিজয়, আদম, হামিদুলসহ কতিপয় নেতাকর্মী। শাওনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, তিনি সেখানেই আদ্যাবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা আজ সন্ধ্যায় ওই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর জখম করেন। এসময় যুবদলের নেতা মাইদুল, মইনুল, মাসুদ ও টুকু এনসিপি ও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের উপর লোহার পাইপ ও গাছের ডালের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে।

    জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে এতে এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মী আহত হন, এদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন-জেলা যুব শক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির সিনিয়র সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নাগেশ্বরী শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। গুরুতর ৭ আহতের মধ্যে তাওহীদ হাসান শান্ত ও রাজু আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের কেউ হতাহত হয়নি। তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে চম্পট দেয়।

    এ ব্যাপারে কথা হলে ফুলবাড়ি থানার এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের এখনো কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। উপজেলা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।