Category: অপরাধ

  • গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    গাজীপুরের পূবাইলে ধারালো চাকু ও সুইচ গিয়ারসহ দুইজন আটক

    খসরু মৃধা:

    গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন হারবাইদ এলাকা থেকে একটি বড় ধারালো চাকু ও একটি সুইচ গিয়ার চাকুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ। গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

    ১. মো. সফিকুল ইসলাম সাজু (৩২), পিতা—মৃত আঃ রশিদ, মাতা—মৃত শামসুন্নাহার, সাং—হারবাইদ (নন্দিবাড়ী), ওয়ার্ড নং-৪২, থানা—পূবাইল, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    ২. সিয়াম (২৫), পিতা—মৃত কাজল খন্দকার, মাতা—শাহনাজ বেগম, সাং—খরতৈল (ব্যাংকপাড়া), থানা—টঙ্গী পশ্চিম, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আনোয়ার হোসেন খান সঙ্গীয় এএসআই (নিঃ) সুমন মিয়া ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পূবাইল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। অভিযানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূবাইল থানাধীন হারবাইদ মধ্যপাড়া এলাকার আল-আরাফাহ জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে ওই দুইজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁদের হেফাজত তল্লাশি করে স্টিলের তৈরি একটি বড় ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। চাকুটির বাটসহ মোট দৈর্ঘ্য ২৩.৫ ইঞ্চি এবং ধারালো অংশের দৈর্ঘ্য ১৬.৫ ইঞ্চি। এ ছাড়া লোহার তৈরি একটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়, যার দৈর্ঘ্য খোলা অবস্থায় ১০ ইঞ্চি এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ ইঞ্চি। পরে চাকু দুটি জব্দ করা হয়।

    জব্দ করা আলামতসহ আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী তাঁদের আদালতে সোপর্দ করেছেন।

  • স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

    জেলা প্রতিনিধি:

    টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধর্ষণ মামলায় মো. আরিফ ও মো. রুবেল নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মণবাড়ী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আরিফ এবং একই এলাকার আয়নালের ছেলে মো. রুবেল।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারী তার স্বামী মোস্তাক আহমদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় আরিফ ও রুবেল তার পথরোধ করেন। পরে তার স্বামী সেখানে পৌঁছালে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

    ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মধুপুর থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

    রায়ে প্রত্যেক আসামিকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

  • অপহরণের ১৮ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    অপহরণের ১৮ দিন পর শিশুকে জীবিত উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহৃত ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে এসআরবি-৪। অপহরণের পর শিশুটিকে একাধিক জায়গায় বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    পরে স্থানীয় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের আদর্শনগরে একটি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে হস্তান্তর করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওই কেন্দ্র থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

    এসআরবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪।

    তিনি জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

    তদন্তে এসআরবি-৪ জানতে পারে, শিশু বায়জিদের বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েক দিন ধরে ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে নাসরিনের একটি শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় সংস্থাটি।

    পরে নাসরিন ও লিপি মিলে শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাজীপুরে নিয়ে যায় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে শিশুটিকে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে রাস্তায় ফেলে যায় তারা বলে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।

  • ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

    এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চোরাই তেল ও নদীর মাটি কাটার সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অভিযোগগুলোর তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওসি মাহবুব আলম তা অস্বীকার করেছেন।

    প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফতুল্লা মডেল থানার প্রায় ৩০০ গজের মধ্যে মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অবৈধ চোরাই তেলের দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া থানার এসআই ও এএসআইদের বদলি ঠেকানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ টাকা করে নেওয়া এবং জহির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে থানার মুন্সি পদে পদায়নের জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার ভেতরে ধর্ষণ মামলার আপস-মীমাংসা করে বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। রাসেল নামের কথিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় মোট আট লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া এবং নদী থেকে মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো কয়েকটি ছবিতে ওসি মাহবুব আলমকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের কয়েকটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রুবেল হোসেন, যার নামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগটি জমা পড়েছে বলে আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। রুবেল দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি এবং তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয়।

    ওসি মাহবুব আলমও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগে উল্লিখিত কোনো ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগটি সত্য নয়। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী কোনো মহল তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে।

    এদিকে সম্প্রতি ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ওসি মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলায় তাওহীদুলসহ এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে এ ঘটনায় বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি অভিযোগ করেন, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখান ওসি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ এনসিপির নেতারা থানায় গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে মামলা নেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

    গাফফারি আরও বলেন, একজন থানার ওসির প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সবার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা করা কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো আচরণ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল থানায় গ্রহণ করা হয় এবং মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি মাহবুব আলম নিজেই। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    স্টাফ রিপোর্টার: 

    রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওএমএসের ডি-১ ডিলার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চাল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বিক্রয়স্থল ত্যাগ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য একটি ট্রাক নিয়ে আসা হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার আগেই পণ্য বিক্রি শেষ না করে চাল ও আটা ভর্তি ট্রাকটি বিক্রয়স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে আসা অনেক মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ওএমএসের পণ্য কেনার জন্য বিক্রয়স্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পণ্য কিনতে পারেননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক ক্রেতা জানান, ওএমএসের চাল ও আটা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক নিয়ে এসে নির্ধারিত সময়ের আগে কেন বিক্রয়স্থল ত্যাগ করা হলো এবং অবিক্রীত পণ্য কোথায় নেওয়া হয়েছে—এর যথাযথ ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।

    অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ওএমএসের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এআরও শহীদুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বিক্রয়স্থল থেকে বিকেল ৫টা বাজার আগে যাওয়ার কথা নয়। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

    সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওএমএসের ট্রাক বিক্রয়স্থলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

    স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে পণ্য বিক্রি বন্ধ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বিক্রিত ও অবিক্রীত চাল-আটার হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    তবে মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

  • ‎নাসিরনগরের খান্দুরায় হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত -১৫

    ‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
    ‎শনিবার (১আগস্ট) মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে খান্দুরা সালামবাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ধরমন্ডল ও শিমুলঘর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
    ‎ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের সালাম বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠে।

    ‎জানা যায়,শনিবার ১লা আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল কাবাডি দল বনাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শিমুল ঘর গ্রামের মধ্যে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলার শেষ পর্যায়ে ধরমন্ডল দল ৪.০ পয়েন্টে শিমুল ঘর দলকে পরাজিত করে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে, পরাজিত শিমুল ঘর দল ও সমর্থক ধরমন্ডল দলের এক খেলোয়াড়কে আটক করার চেষ্টা করে, আটকাতে না পেরে উত্তেজিত খেলোয়াড় ও সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে ধরমন্ডল দলের ২ সদস্যের উপর হামলা চালায় ও আহত হয়। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা  ধাওয়া শুধু হয়।
    ‎
    ‎এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়ই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
    ‎পরে নাসিরনগর থানা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    ‎

  • কক্সবাজারের চকরিয়ায় সারদা মহাজনের ঐতিহাসিক পুকুর, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন


    মোহাম্মদ হোসাইন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
    কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক সারদা মহাজনের পুকুর, বাড়ি, শ্মশান ও মন্দিরভূমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ একটি প্রভাবশালী মহল বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রাচীন পুকুরটি ভরাট এবং সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সম্পত্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করে জাল খতিয়ান তৈরি এবং সেই খতিয়ানের ভিত্তিতে জমি বিক্রির মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

    স্থানীয়দের দাবি, সারদা মহাজনের সম্পত্তির চারজন বৈধ ওয়ারিশ থাকা সত্ত্বেও রতন কিশোর দাশ বিএস ২১১ নম্বর খতিয়ান থেকে জমি বিক্রি করে দখল নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ফনিন্দ্র লাল দাশের তিন কন্যাকে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মনিন্দ্র লাল দাশ ও ফনিন্দ্র লাল দাশের ওয়ারিশরা পৃথকভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

    মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শ্মশান ও মন্দিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই ঐতিহাসিক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় সম্পত্তি সংরক্ষণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রিজার্ভ বনভূমিতে গাছ কেটে বন ভূমি দখলের প্রয়াস


    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জাধীন বরমাচল বিটের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট (ব্লক-২) এর আওতায় থাকা প্রায় ১৫০ একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা (Status Quo) তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে বন দখল, গাছ কর্তন এবং জমি উজার করার পাঁয়তারা। স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের একাংশ নিজেদের ‘দুর্বল’ ও প্রান্তিক হিসেবে জাহির করলেও, প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নেপথ্য মদদেই তারা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস। তবে বিস্ময়করভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অভিযানের সময় বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
    অভিযানকালে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চন্দন কুর্মি এবং ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির প্রধান (মন্ত্রী) লিডিয়া পিয়া প্রশাসনের কাছে বনের গাছ কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, তারা গাছ কাটার পক্ষে নন এবং কোনো গাছ কাটা হচ্ছে কি না তাও তাদের জানা নেই। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে চাইলে তারা নানা অজুহাতে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান।

    পরবর্তীতে এসিল্যান্ড দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে জবরদখল ও তাজা গাছ কেটে সুপারি চারা রোপণসহ বন উজারের স্পষ্ট প্রমাণ পান। কিন্তু কৌশলগতভাবে অপরাধীদের আড়াল করে রাখা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযুক্তদের হাতেনাতে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি বা জরিমানা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

    একই সাথে এই প্রতিবেদকের নিজস্ব অনুসন্ধানেও উক্ত বনাঞ্চলে ব্যাপক হারে ও জোরেসোরে গাছ কাটার একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রমাণ মিলেছে। তবে ওই এলাকায় প্রভাবশালী চক্র ও দখলদারদের সশস্ত্র মহড়া এবং তীব্র প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বা সাধারণ বাসিন্দাদের বক্তব্য রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।

    সংযুক্ত সরকারি নথি ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৭১, তারিখ: ২৫/০৭/২০২৬ এবং জিডি নং- ৯৮২, তারিখ: ২০/০৭/২০২৪) পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে (স্বত্ব মামলা নং- ১৮৫/২০২২) এই ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত উভয় পক্ষকে ওই জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছালছড়া পান পুঞ্জির হরলাল পথাং (৫১), লিডিয়া পিয়া (৪০), আলফায়েস পথাং (৪৪), জনি সিঙ্গা (৩০) সহ একদল লোক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিজার্ভ ফরেস্টে মহড়া দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী মহলের গোপন আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় তারা সরকারি বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাছপালা কেটে বনভূমি দখল ও জুম চাষের সাহস পাচ্ছে। বরমাচল বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বারবার থানায় জিডি করলেও পরিস্থিতি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

    ঘটনা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না মুঠোফোনে জানান, “বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। ক্ষেত্রবিশেষে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সরকারি জমি সুরক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।”
    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, “আমরা সরেজমিনে গিয়ে বন উজারের আলামত পেয়েছি। নেপথ্যে যাদেরই ইন্ধন থাকুক বা আদালতের আদেশ অমান্য করে সরকারি জমিতে যারা অবৈধ কার্যক্রম চালাবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। একদিকে প্রভাবশালী চক্রের হুমকি-ধামকি, অন্যদিকে জনবল সংকট—সব মিলিয়ে আমরা চরম ঝুঁকিতে কাজ করছি। তবুও সরকারি সম্পদ রক্ষায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার জানান, “আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে সরকারি রিজার্ভ বনভূমি দখল বা গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। এই অপকর্মের পেছনে যারা মদদ দিচ্ছে এবং যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সবাইকে আইনি আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সচেতন মহল জানান, বন বিভাগের চরম জনবল সংকট এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়ায় খাসিয়াদের লাগাতার হুমকিস্বরূপ আচরণের কারণে বন কর্মকর্তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে জেলা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ নাজমুল আলমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বনাঞ্চলের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ কুলাউড়ায় একদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ‘দুর্বলতার’ দোহাই, অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কায়েমী স্বার্থের কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অনুসন্ধানে গাছ কাটার জোরালো প্রমাণ মেলা এবং আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজনৈতিক ও স্থানীয় মদদে রিজার্ভ ফরেস্টে একের পর এক জিডি হওয়ার পরও দখলের উৎসব চলে—তা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ যেখানে প্রাণভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না, সেখানে প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযানের কথা বললেও বাস্তবে বন উজারের গতি থামছে না।

    বন বিভাগের তীব্র জনবল সংকট এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নীরবতা ভূমিদস্যুদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। অবিলম্বে পর্দার আড়ালের প্রভাবশালী চক্রসহ সকল অবৈধ দখলদারকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে কুলাউড়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—আর কত বন উজার হলে টনক নড়বে প্রশাসনের?
    ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮

  • মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক


    মোহাম্মদ হোসাইন,টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বহিঃনোঙ্গর এলাকায় গত ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার সকাল ৭ টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার বহনকারী একটি কার্গো বোট পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলে অবস্থান করছে।

    পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, একই দিন সকাল ১০ টায় কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম কর্তৃক পতেঙ্গা ১৫ নাম্বার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কার্গো বোটে থাকা পাচারকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা (২২ হাজার ৫০০ কেজি) ডিএপি (DAP) সার এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোট জব্দ করা হয়।

    জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।