শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অভিযোগের পর উধাও সাব-রেজিস্ট্রার শাহিন আলম

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি, রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া সাব-রেজিস্ট্রার মো. শাহিন আলমকে গত ২১ জুন ২০২৬-এর পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে তার বর্তমান অবস্থান, চলমান তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি, রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগের পর নিবন্ধন অধিদপ্তরের নির্দেশনায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় মো. শাহিন আলমকে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর থেকে শাহিন আলমকে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আর দেখা যায়নি। তিনি বর্তমানে কোথায় কর্মরত, ছুটিতে রয়েছেন কি না অথবা অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতিও জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এসব আলোচনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রশাসনিক অবস্থান এবং অভিযোগের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে গুজবের অবসানের পাশাপাশি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তবে শাহিন আলমের অনুপস্থিতির কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ—এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

তথ্যসূত্র: রূপালী বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদন, স্থানীয় সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য।

দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইম নিউজ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা হুবহু ও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *