ময়মনসিংহে সোহেল হত্যা: মূলহোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও কোদাল উদ্ধার


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকায় আলোচিত সোহেল সরকার (২৫) হত্যা মামলার মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, ভুক্তভোগীর রক্তমাখা পোশাক ও পায়ের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২৬ জুলাই) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকালে মীরকান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল সরকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন একটি বাগান থেকে গলাকাটা অবস্থায় একটি অর্ধগলিত মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের পাশের মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হলে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে সোহেল সরকারের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে এসআই (নি.) রিপন চন্দ্র সরকার, এএসআই (নি.) সুকান্ত দেবনাথ, এএসআই (নি.) আলী হোসেন এবং এএসআই (নি.) মো. মাহবুব আলম অংশগ্রহণ করেন। তাদের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), মো. সেলিম (৩০), মো. আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। তাদের সবার বাড়ি মীরকান্দাপাড়া গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেল সরকারকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছ।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *