
স্টাফ রিপোর্টার:
আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক বেচাকেনার অভিযোগ; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পুরান ঢাকার বাবুবাজার এলাকায় অবস্থিত হোটেল রাজমহল আবাসিককে ঘিরে মাদক বেচাকেনা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে একটি প্রচারিত অভিযোগমূলক ছবিতে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রচারিত ছবিতে হোটেলটির নাম ও ঠিকানা হিসেবে ১০১/৭, দক্ষিণ বাবুবাজার, ঢাকা-১২০৪ উল্লেখ রয়েছে। ছবিতে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে মাদক বিক্রি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত এবং কারও প্রভাব বা আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক বেচাকেনার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রচারিত ছবিতে তারেক নামের এক ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয়, হোটেলটির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডে তাঁর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, হোটেলটির বৈধ লাইসেন্স, আবাসিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন, অতিথিদের নিবন্ধন এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়েরও দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যেন যাচাইবিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ, অভিযুক্ত হিসেবে প্রচারিত ব্যক্তির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Leave a Reply