Blog

  • আলম ওরফে শাকিল-বাপ্পিকে ঘিরে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

    আলম ওরফে শাকিল-বাপ্পিকে ঘিরে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

    স্টাফ রিপোর্টার:

    চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন সিনা ভিলেজ মোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারী আসেন। তাদের একটি বড় অংশ আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি আবাসিক হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কোতোয়ালি থানার সিনা ভিলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার আলম ওরফে শাকিল এবং মালিক বাপ্পির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিন-রাত হোটেলটিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাতায়াত অব্যাহত থাকে। এতে আশপাশের ব্যবসায়ী, পথচারী ও পরিবার নিয়ে বসবাসকারী বাসিন্দারা চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, হোটেলটিতে প্রায়ই এলাকার বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন সময় উচ্ছৃঙ্খল নারী-পুরুষের যাতায়াতের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশের অবনতি ঘটছে। তাদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নজরে আনা হলে তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে হোটেলটির ম্যানেজার আলম ওরফে শাকিল এবং মালিক বাপ্পি অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে বলেন, “আমরা যা করি প্রকাশ্যেই করি। যদি কিছু বলার থাকে, আসেন, চা খেয়ে যান।” তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু একটি নয়—নগরীর যেসব আবাসিক হোটলকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কার্যকলাপ বা মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জোরদার এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    প্রসঙ্গত, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।

  • কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে কয়েদি পলায়ন, ৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী বরখাস্ত


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় মামলা করেছে।

    পালিয়ে যাওয়া কয়েদির নাম রিম্পা (২১)। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

    আজ শুক্রবার কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কারাগার থেকে এক নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আজ কারা কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে।

    পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিয়মিত বন্দী গণনার সময় রিম্পাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
    এ বিষয়ে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • ৬০ হাজার ইয়াবা জীম্বংখালী বিওপির উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির অভিযানে উদ্ধার

    টেকনাফ, কক্সবাজার:

    কক্সবাজারের উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-৬৪ এর অভিযানে মালিকবিহীন ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    শনিবার (১৮ জুলাই) উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ জীম্বংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ইশাকের ঘের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ফাঁকা গুলি ছুড়লে তারা সঙ্গে থাকা একটি পোটলা ফেলে দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

    পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত পোটলার ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী মোড়কে রাখা ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।

    উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে।

  • রানীনগরে পুলিশের অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য

    স্টাফ রিপোর্টার:

    নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের করজগ্রাম বটতলা এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সজীব দেবনাথ (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তাকে আটক করে রানীনগর থানা পুলিশ।
    আটক সজীব দেবনাথ করজগ্রাম হিন্দুপাড়া গ্রামের অসিত চন্দ্র দেবনাথের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে সজীবের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
    রানীনগর থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
    স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপি নানা আয়োজনের পর বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব এ.টি.এম. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজের এই ত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
    অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • উৎসবমুখর পরিবেশে নিয়ামতপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা

    নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নিয়ামতপুর প্রেসক্লাবের সদস্যদের আয়োজনে বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র ‘সাথী পার্কে’ দিনব্যাপী এ আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করেন।
    প্রেসক্লাবের সদস্যদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বনভোজনে ছিল নানান আয়োজন। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর সাংবাদিকরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এক আনন্দঘন ফটোসেশনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে উপজেলার ছাতড়া বিলে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করেন।
    সবশেষে ঘুঘুডাঙ্গা তালতলীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ঘুরে সান্ধ্যকালীন দিনটির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।
    নিয়ামতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাজাহান সাজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মিলনমেলায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক রঞ্জিত মিনস সদস্য জাকির হোসেন, এস এম রকিবুল, আব্দুল করিম, তৈয়বুর রহমান, নাজমুল প্রমুখ।
    ব্যক্তিগত ও জরুরি ব্যস্ততার কারণে কমিটির অন্য সদস্যরা বনভোজনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রেসক্লাবের সদস্য সবুজ সরকার চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন শেখ জরুরি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় এবং নির্বাহী সদস্য রেজাউল ইসলাম সেলিম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বর্তমানে বিশ্রামে থাকায় তাঁরা উপস্থিত হতে পারেনি।
    দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর হয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা সঞ্চারিত হয়েছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।

  • গাজীপুরে শিশুকে দর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা – ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং মামলার কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করার দাবিতে এলাকাবাসী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর মিলগেইট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে আটটা থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলমান রয়েছে।

    ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা যায়।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শিশুটিকে চিপস খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লব তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

    ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করলেও প্রভাবশালী একটি মহলের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    শিশুর মা জানান, অভিযোগ দায়েরের পর তাকে ও শিশুকন্যাকে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, একজন শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনার পরও যদি মামলা নিতে দেরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? পুলিশ আমাকে আসামির অবস্থান জানাতে বলছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা তো পুলিশের দায়িত্ব।

    এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে। তবে মামলা গ্রহণে বিলম্বের কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

    অবরোধে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

    টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, আমরা আসামি ধরার চেষ্টা করছি। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আসামি ধরার ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো সময় তাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

  • রায়গঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা :

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া মধ্যপাড়া এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্রের হামলায় আহত আব্দুর রহমান (১৯) নামের এক যুবক ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত ১৪ জুলাই রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুর রহমান রায়গঞ্জ পৌর এলাকার মো. ফিরোজ আহমেদের ছেলে। এই ঘটনায় হাছান শেখ নামের আরও একজন আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাত ৮টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা টিটোন (৪৫) মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আব্দুর রহমান তাকে বাধা দিলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে টিটোন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুর রহমান ও হাছান শেখকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আব্দুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে বগুড়ায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আব্দুর রহমানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই তার বাড়িতে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে।

    ওসি আরও বলেন, “ঘটনাটি কয়েকদিন আগের হলেও এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

  • ‎সুন্দরবনের লোকালয়ে অজগরের হানা: বন থেকে উদ্ধার করে পুনরায় অবমুক্ত



    ‎বাগেরহাটঃ

    ‎বাগেরহাটের শরণখোলায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ, যা পরে বগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    ‎বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের অন্তর্গত বগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন জনবসতিতে একটি অজগরের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। গত ১৭ জুলাই শুক্রবার দুপুরে মঠবাড়ীয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রাম থেকে প্রায় ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই অজগরটি উদ্ধার করে বন বিভাগের একটি দল। স্থানীয়রা অজগরটিকে লোকালয়ে দেখতে পেয়ে দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করে বগী ফরেস্ট স্টেশনে নিয়ে আসেন। বন বিভাগের তথ্যমতে, অজগরটি সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে কিংবা বনের সীমানা পেরিয়ে পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, উদ্ধার পরবর্তী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাপটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থানের চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রায়শই বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা জনজীবনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লোকালয়ে সাপ বা অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর উপস্থিতি তাদের গবাদি পশু ও শিশুদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এবং বর্ষাকালে বনের সীমানা পেরিয়ে লোকালয়ে আসা প্রাণীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। যদিও বন বিভাগ দ্রুত সাড়া দিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করেছে, তবুও স্থানীয়দের মতে, বনের ভেতরে খাদ্যের অভাব বা আবাসস্থল সংকটের কারণেই প্রাণীরা এভাবে জনবসতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বন বিভাগ যেন বনের ভেতরের পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি বাড়ায় যাতে প্রাণীরা বনের গহীনেই অবস্থান করে।

    ‎ঘটনার প্রেক্ষিতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বগী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার কাজী তামিল রসুল জানান, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর প্রবেশ রোধে বন বিভাগ সবসময়ই তৎপর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত অজগরটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল, যার কারণেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখা দিলে তা আঘাত না করে যেন অবিলম্বে বন বিভাগকে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা নিয়মিত টহল জোরদার করেছেন এবং বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে আসা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট ও দুর্গম বনাঞ্চলের কারণে সব সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা সমাধান করতে তারা স্থানীয়দের সচেতনতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    ‎এই অজগর উদ্ধারের ঘটনাটি সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী জনপদগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংকটের একটি ক্ষুদ্র প্রতিফলন মাত্র। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন এবং বনের বাস্তুসংস্থানে মানুষের হস্তক্ষেপের ফলে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত বহন করছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বনের সীমানা চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর এই অবাধ চলাচল বন্ধ করতে না পারলে এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

  • লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য হলেন তারেক কামাল চৌধুরী।

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

    চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ২৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এ কমিটিতে ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়ানুরাগী তারেক কামাল চৌধুরী নির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

    তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির সন্তান এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর ভাতিজা।

    গত ৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়োজিদ-বিন-আখন্দের স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

    পদাধিকারবলে ইউএনও মো. বায়োজিদ-বিন-আখন্দ কমিটির সভাপতি এবং ক্রীড়া সংগঠক এসএম চিশতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

    নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় তারেক কামাল চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়ার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ, গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করে গড়ে তুলতে তিনি সকল ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। নতুন প্রতিভা বিকাশ, খেলাধুলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করেন।