Blog

  • তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ওই নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিম্ন আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বহাল থাকল।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম।

    মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও নিহত তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। তিনি অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান।

    গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

    পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ৫ অক্টোবর আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বাদীর রিভিশন আবেদন খারিজ করেন।

    মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন—শেখ রবিউল আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

    অন্যদিকে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ রবিউল আলম, প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। ফলে নয়জনকে মামলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন উচ্চ আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেক প্রতিনিধি:

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নারীটি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি মহিলা বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষের দরজায় নক করেন। ৪ নম্বর কক্ষে একাধিকবার নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সহকর্মীদের ডাকেন। পরে দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে ঝুলন্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যদের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ জানান, কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

    কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা ছুরি

    মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই এলাকায় ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগও পাওয়া যায়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ জানান, সকালে রক্তমাখা ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ওই স্থান পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর বাথরুমে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন তিনি।

    ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পান। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তের দাগ ও ছুরি পাওয়ার বিষয়টিও জানতে পারেন।

    তিনি বলেন, হাসপাতালের ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

    ঘটনাস্থলে শাহবাগ থানা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। মরদেহের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটও সেখানে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধার, আলামত পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

    ওসি জানান, নারীর ব্যাগে পাওয়া একটি চিরকুট ও ব্যাংকের নথিতে ‘তন্ময় মণ্ডল’ নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর নাম ‘ঝুমা রানী দে’ বলে জানা গেলেও পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

    তন্ময় মণ্ডল নামে কেউ আটক আছেন কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ নামে কাউকে তাদের থানায় আটক করা হয়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, রক্তমাখা ছুরিটি ওই নারীর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    **নিজস্ব প্রতিবেদক:**

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার

    শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলেও উচ্চ আদালতে এসে আটকে আছে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি এখনো শুরু হয়নি।

    মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়। এতে মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    রায়ের দুই দিন পরই মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। ওই বেঞ্চ ইতোমধ্যে ২৪টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে চলতি বছরের মধ্যেই রামিসা হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সম্পন্ন হতে পারে।

    ঢাকা পোস্টকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে রামিসা হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। হত্যাকাণ্ডের পর সরকারপ্রধান ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    উচ্চ আদালতে শুনানি বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৬০ দিনের সময় রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী ক্ষুব্ধ পক্ষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের এই আইনি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ওই সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়েছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার শেষ হওয়ার পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের দুটি জেল আপিলও মঞ্জুর হয়েছে। মামলাটি শুনানির তালিকায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলোর শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। ওই বেঞ্চ গঠনের পর জুন থেকে হাইকোর্টে অন্তত ২৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলা ও ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও রয়েছে। রামিসা হত্যা মামলাটিও ওই বেঞ্চের শুনানির তালিকায় রয়েছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের আশা, ২৫ অক্টোবর আদালতের অবকাশ শেষ হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলাকালে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় আসতে পারে। শুনানি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের মধ্যেই উচ্চ আদালতের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চলতি বছরের ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নিয়ে যান।

    সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে আসামির কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তারা। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তাঁর মাথা পাওয়া যায়।

    ঘটনাস্থলে স্বপ্না আক্তারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্বজনরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তখন স্বপ্না জানান, তাঁর স্বামী মো. সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন।

    এ ঘটনায় ১৯ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন। পরে স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

    ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন একদিনেই রামিসার বাবা-মা, বোন, প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

    ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

    ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করে।

    বিচারিক কার্যক্রমের সব ধাপ শেষ হওয়ার পর ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ৯ জুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়সহ ৬৯ পৃষ্ঠা এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্সসংক্রান্ত তিন পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, স্বপ্না তাঁর স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেননি।

    বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার ও রায় ঘোষণার পর এখন উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বহুল আলোচিত এ মামলা। আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের অবকাশ শেষ হলে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।### শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার

  • পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    পোস্তগোলায় দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ঘিরে অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক :

    রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর শ্যামপুর থানার আওতাধীন পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত পাশে এবং শ্যামপুর থানার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচলের কারণে স্থানীয় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

    এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলটির আশপাশে নিয়মিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল দেখা যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। হোটেলটির সামনে ও আশপাশে বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের আড্ডা ও চলাচলের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

    একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “দিন-রাত হোটেলটির সামনে বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা ব্যবসা করি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির কারণে সব সময় উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়।”

    অভিযোগের বিষয়ে হোটেলসংশ্লিষ্ট হানিফ ও বিপ্লব-এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা দাবি করেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাদের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, হোটেলটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আবাসিক হোটেল যদি নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আখড়া হয়ে ওঠে, তাহলে এর প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; আশপাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের নিরাপত্তার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এলাকাবাসী আরও জানান, পোস্তগোলা ও শ্যামপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও সিটি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজরে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

  • চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    চাল-আটা ভর্তি ট্রাক নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ ডিলার রিয়াজের বিরুদ্ধে

    স্টাফ রিপোর্টার: 

    রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা ওএমএসের ডি-১ ডিলার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চাল ও আটা বিক্রি বন্ধ করে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বিক্রয়স্থল ত্যাগ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির জন্য একটি ট্রাক নিয়ে আসা হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিকেল ৩টার আগেই পণ্য বিক্রি শেষ না করে চাল ও আটা ভর্তি ট্রাকটি বিক্রয়স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা কিনতে আসা অনেক মানুষ পণ্য না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    ভুক্তভোগী ক্রেতাদের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ওএমএসের পণ্য কেনার জন্য বিক্রয়স্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পণ্য কিনতে পারেননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সরকারি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক ক্রেতা জানান, ওএমএসের চাল ও আটা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি পণ্য বিক্রির জন্য ট্রাক নিয়ে এসে নির্ধারিত সময়ের আগে কেন বিক্রয়স্থল ত্যাগ করা হলো এবং অবিক্রীত পণ্য কোথায় নেওয়া হয়েছে—এর যথাযথ ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।

    অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ওএমএসের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নির্ধারিত সময়ের আগে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এআরও শহীদুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক বিক্রয়স্থল থেকে বিকেল ৫টা বাজার আগে যাওয়ার কথা নয়। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

    সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওএমএসের ট্রাক বিক্রয়স্থলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

    স্থানীয় ভুক্তভোগী ও ক্রেতারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগে পণ্য বিক্রি বন্ধ করার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বিক্রিত ও অবিক্রীত চাল-আটার হিসাব পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

    তবে মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

  • ‎নাসিরনগরের খান্দুরায় হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত -১৫

    ‎মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
    ‎শনিবার (১আগস্ট) মাগরিবের নামাজের আগ মুহূর্তে খান্দুরা সালামবাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ধরমন্ডল ও শিমুলঘর দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
    ‎ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের খান্দুরা গ্রামের সালাম বাজার সংলগ্ন খেলার মাঠে।

    ‎জানা যায়,শনিবার ১লা আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল কাবাডি দল বনাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার শিমুল ঘর গ্রামের মধ্যে হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলার শেষ পর্যায়ে ধরমন্ডল দল ৪.০ পয়েন্টে শিমুল ঘর দলকে পরাজিত করে। পরাজয় মেনে নিতে না পেরে, পরাজিত শিমুল ঘর দল ও সমর্থক ধরমন্ডল দলের এক খেলোয়াড়কে আটক করার চেষ্টা করে, আটকাতে না পেরে উত্তেজিত খেলোয়াড় ও সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে ধরমন্ডল দলের ২ সদস্যের উপর হামলা চালায় ও আহত হয়। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা  ধাওয়া শুধু হয়।
    ‎
    ‎এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয়ই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
    ‎পরে নাসিরনগর থানা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
    ‎

  • জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি


    আফজাল মিয়া,বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
    সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর তাই তারা দেশবাসীর উন্নয়নের চেয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দখলবাজি-চাঁদাবাজি আর ধর্ষণ করা নিয়ে ব্যস্থ রয়েছেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করেই বিএনপি ফ্যাসিস্ট হাসিনার পথেই হাটছে, কিন্তু তারা জানে না হাসিনা যত শক্তিশালী, বিএনপি তত শক্তিশালী নয়। তাই ভূলে যাবেন না এদেশের ছাত্র-জনতা চাইলে কি না করতে পারে।

    তিনি শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ‘গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যায় জড়িত শেখ হাসিনা’সহ ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিচারের দাবিতে এবং জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে নতুন বাজারস্থ প্রবাসী চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়।

    বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মতিউর রহমান ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জাহেদুর রহমানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর এইচএম আক্তার ফারুক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান, দশঘর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ফখরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ পশ্চিম ছাত্র শিবিরের সভাপতি হোসাইন শাহ।

    এসময় গণমিছিল ও পথসভায় জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • দৈনিক বাংলাদেশ ক্রাইমে সংবাদ প্রকাশের পর কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পাশে এমপি শহিদুল ইসলাম খান বাবুল


    জাকির হোসেন ফরিদী ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে ঘরের জানালা ভেংগে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে দেখা করলেন ফরিদপুর -৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। এ সময় ভুক্তভোগির পরিবার কে শান্তনা দেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্য কে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেংগে পরেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

    শনিবার(১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩ টার সময় উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ কালে শহিদুল ইসলাম খান বাবুল আরো বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত সঠিক তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহবান জানান তিনি।

    এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সঠিক তদন্ত ও দোষীদের উপযুক্ত্ বিচারের দাবী করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম (অর্থ ও প্রশাসন),সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, সেকেন্ড অফিসার মোখলেসুর রহমান, ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাউসার সহ স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।

    উল্লেখ্য গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে বসতঘরের জানালা ভেংগে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করা হয়। কিশোরী অসুস্থ্য হয়ে পরলে দুই যুবক মোটর সাইকেলে করে কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালাবার চেস্টা করলে স্থানীয়রা তাদের কে গনপিটুনী দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।