Blog

  • সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    সৌদিতে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল কুমিল্লার সজিবের

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোনের আঘাতে মো. সজিব হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুতিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি নাগরিক সজিব হোসেন প্রাণ হারান।

    বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    সজিবের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁর পরিবারের সদস্য ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে দূতাবাস।

    এদিকে সজিব হোসেনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় তাঁর স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ইজারা বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’।

    এ দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। পুরান পল্টনের মুক্তি ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এতে অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী অংশ নেন।

    মিছিলটি পুরান পল্টন এলাকা থেকে প্রেসক্লাব হয়ে কদম ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    মিছিলে আন্দোলনকারীদের ‘এই মাটি কারও বাপের না, এই মাটি আমাদের’, ‘এই মাটি দালালের না’, ‘এই মাটি আমেরিকার দালালের না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘এই রক্ত দেব, জীবন দেব, বন্দর দেব না’—এ ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    এ সময় আন্দোলনকারীরা বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

  • বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে গ্রাহক-কর্মকর্তার মারামারি, আহত ৫

    বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে গ্রাহক-কর্মকর্তার মারামারি, আহত ৫

    ভোলা প্রতিনিধি:

    ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডাকবাংলো মোড় এলাকায় ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন ওজোপাডিকোর মনপুরা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির এবং হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাতে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এ নিয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহের ভোগান্তির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে উপসহকারী প্রকৌশলীসহ চার গ্রাহক আহত হন।

    পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ এনে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। পরে তাঁরা ঘটনার বিচার দাবি করে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।

    আহত গ্রাহক সোহাগ, নিরব, শরীফ ও আক্তার অভিযোগ করেন, রাতে তাঁরা মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন বলেও তাঁদের অভিযোগ। টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা। এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে মনির উত্তেজিত হয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে দাবি করেন তাঁরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়নি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। গ্রাহকেরা কোনো কথা না শুনে তাঁর ওপর হামলা করেছেন। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় মামলা করেছেন।

    ওজোপাডিকোর মনপুরা আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি মেশিন দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অফিসে গিয়ে গ্রাহকদের কর্মকর্তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মনপুরার বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

    মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তড়িৎ চন্দ্র শীল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ জানিয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি, সীমান্তে ফেলে গেল বিএসএফ

    বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয়কে গুলি, সীমান্তে ফেলে গেল বিএসএফ

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    কুড়িগ্রামের দইখাওয়া সীমান্তে বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় নাগরিককে গুলি করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। আহত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশি পাহারায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    আহতরা হলেন ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ সালমারা-মাঙ্কাচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু এলাকার ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)। তাদের দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল থেকে মধ্যরাতের মধ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দুর্গম দইখাওয়া চর সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় জেলে ও মাঝিরা আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    আহতদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তাঁরা ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় গরু পারাপারের সময় বিএসএফ সদস্যদের হাতে আটক হন। তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক মনে করে আটক করার পর মারধর এবং গুলি করা হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। পরে তাঁদের মৃত ভেবে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলেও তাঁরা দাবি করেন।

    আহত ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল আলীম নিজেদের ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, কোনো অপরাধ করে থাকলে নিজ দেশের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

    রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দুই ভারতীয় নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।

    তবে সীমান্তে গুলির ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন-২২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা তাঁদের জানা নেই। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।

    ঘটনাটি নিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহত দুই ভারতীয় নাগরিকের বক্তব্য, পুলিশের তদন্ত এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থানের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ, তদন্তে পাঁচটির সত্যতা পাওয়ার দাবি

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

    এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চোরাই তেল ও নদীর মাটি কাটার সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অভিযোগগুলোর তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওসি মাহবুব আলম তা অস্বীকার করেছেন।

    প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফতুল্লা মডেল থানার প্রায় ৩০০ গজের মধ্যে মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অবৈধ চোরাই তেলের দোকান থেকে প্রতি মাসে দেড় লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ছাড়া থানার এসআই ও এএসআইদের বদলি ঠেকানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে লাখ টাকা করে নেওয়া এবং জহির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে থানার মুন্সি পদে পদায়নের জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার ভেতরে ধর্ষণ মামলার আপস-মীমাংসা করে বাদীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। রাসেল নামের কথিত এক মাদক কারবারিকে আটক করে দুই দফায় মোট আট লাখ টাকা উৎকোচ নেওয়া এবং নদী থেকে মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো কয়েকটি ছবিতে ওসি মাহবুব আলমকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের কয়েকটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রুবেল হোসেন, যার নামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগটি জমা পড়েছে বলে আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। রুবেল দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি এবং তাঁর নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয়।

    ওসি মাহবুব আলমও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগে উল্লিখিত কোনো ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগটি সত্য নয়। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী কোনো মহল তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে।

    এদিকে সম্প্রতি ফতুল্লায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ওসি মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বক্তাবলী বাজার এলাকায় হামলায় তাওহীদুলসহ এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে এ ঘটনায় বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান গাফফারি অভিযোগ করেন, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখান ওসি। পরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ এনসিপির নেতারা থানায় গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে মামলা নেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

    গাফফারি আরও বলেন, একজন থানার ওসির প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সবার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রকাশ্যে প্রশংসা করা কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো আচরণ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে মামলাটি শেষ পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল থানায় গ্রহণ করা হয় এবং মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসি মাহবুব আলম নিজেই। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    তামিম হত্যা মামলায় মন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে ওই নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিম্ন আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বহাল থাকল।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম।

    মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও নিহত তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। তিনি অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান।

    গত ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

    পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে ৫ অক্টোবর আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বাদীর রিভিশন আবেদন খারিজ করেন।

    মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন—শেখ রবিউল আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

    অন্যদিকে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ রবিউল আলম, প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। ফলে নয়জনকে মামলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন উচ্চ আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেকের বাথরুমে নারীর মরদেহ, রক্তমাখা ছুরি ঘিরে রহস্য

    ঢামেক প্রতিনিধি:

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। নারীটি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি মহিলা বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষের দরজায় নক করেন। ৪ নম্বর কক্ষে একাধিকবার নক করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সহকর্মীদের ডাকেন। পরে দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে ঝুলন্ত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আনসার সদস্যদের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ জানান, কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

    কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তমাখা ছুরি

    মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তমাখা একটি ফল কাটার ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই এলাকায় ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগও পাওয়া যায়।

    পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী সন্তোষ জানান, সকালে রক্তমাখা ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ওই স্থান পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর বাথরুমে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন তিনি।

    ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত মরদেহের খবর পান। পরে কনফারেন্স রুমের সামনে রক্তের দাগ ও ছুরি পাওয়ার বিষয়টিও জানতে পারেন।

    তিনি বলেন, হাসপাতালের ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

    ঘটনাস্থলে শাহবাগ থানা পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। মরদেহের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটও সেখানে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধার, আলামত পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

    ওসি জানান, নারীর ব্যাগে পাওয়া একটি চিরকুট ও ব্যাংকের নথিতে ‘তন্ময় মণ্ডল’ নাম পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর নাম ‘ঝুমা রানী দে’ বলে জানা গেলেও পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

    তন্ময় মণ্ডল নামে কেউ আটক আছেন কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ নামে কাউকে তাদের থানায় আটক করা হয়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, রক্তমাখা ছুরিটি ওই নারীর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই পলাশপুরে দশতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

    **নিজস্ব প্রতিবেদক:**

    রাজধানীর কদমতলী থানার পলাশপুর এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি দশতলা ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর আওতাধীন পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশপুর সিটিধারা ১ নম্বর রোড এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও বশির গংয়ের নামে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে রাজউকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তবে ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও নির্মাণ নকশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডেভেলপার অভিযোগ করে বলেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি রাজউকের জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেন।

    ওই ডেভেলপারের দাবি, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কারণে একসময় তাকে অন্য জোনে বদলি করা হয়েছিল। পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি আবার আগের জোনে ফিরে আসেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের অথরাইজার ইলিয়াসের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর এলাকায় আরও বেশ কিছু ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এসব ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাদের।

    পলাশপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করেই যদি ভবন নির্মাণের সুযোগ থাকে, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তারা নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    এ বিষয়ে ভবনের মালিক আনোয়ার ও বশির গং বলেন, ‘ভাই, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে কোনো ভবন তৈরি হয়নি। আমরাও করতে পারিনি। আর রাজউককে ম্যানেজ না করে কেউ কাজ করতে পারবে না।’

    নির্মাণাধীন ভবনটির অনুমোদন এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার

    শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলেও উচ্চ আদালতে এসে আটকে আছে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি এখনো শুরু হয়নি।

    মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়। এতে মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    রায়ের দুই দিন পরই মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। ওই বেঞ্চ ইতোমধ্যে ২৪টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে চলতি বছরের মধ্যেই রামিসা হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সম্পন্ন হতে পারে।

    ঢাকা পোস্টকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে রামিসা হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। হত্যাকাণ্ডের পর সরকারপ্রধান ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    উচ্চ আদালতে শুনানি বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৬০ দিনের সময় রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী ক্ষুব্ধ পক্ষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের এই আইনি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ওই সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়েছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার শেষ হওয়ার পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের দুটি জেল আপিলও মঞ্জুর হয়েছে। মামলাটি শুনানির তালিকায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলোর শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। ওই বেঞ্চ গঠনের পর জুন থেকে হাইকোর্টে অন্তত ২৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলা ও ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও রয়েছে। রামিসা হত্যা মামলাটিও ওই বেঞ্চের শুনানির তালিকায় রয়েছে।

    অ্যাটর্নি জেনারেলের আশা, ২৫ অক্টোবর আদালতের অবকাশ শেষ হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলাকালে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় আসতে পারে। শুনানি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের মধ্যেই উচ্চ আদালতের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। চলতি বছরের ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নিয়ে যান।

    সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে আসামির কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তারা। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তাঁর মাথা পাওয়া যায়।

    ঘটনাস্থলে স্বপ্না আক্তারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্বজনরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, তখন স্বপ্না জানান, তাঁর স্বামী মো. সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেন।

    এ ঘটনায় ১৯ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন। পরে স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

    ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন একদিনেই রামিসার বাবা-মা, বোন, প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

    ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

    ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করে।

    বিচারিক কার্যক্রমের সব ধাপ শেষ হওয়ার পর ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ৯ জুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়সহ ৬৯ পৃষ্ঠা এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্সসংক্রান্ত তিন পৃষ্ঠাসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, স্বপ্না তাঁর স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেননি।

    বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার ও রায় ঘোষণার পর এখন উচ্চ আদালতের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বহুল আলোচিত এ মামলা। আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের অবকাশ শেষ হলে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।### শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, উচ্চ আদালতে থমকে আছে বিচার