Blog

  • রাজশাহীতে সাংবাদিকে কুপিয়ে জখম

    রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

    রাজশাহী মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সাংবাদিক ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট (২৭)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর শাহমখদুম থানা এলাকার পল্লবী আবাসিক সংলগ্ন গাংপাড়া কবরস্থানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
    আহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সহকর্মীর বাসায় যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত সম্রাটের পথরোধ করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তার মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
    ইব্রাহিম হোসেন সম্রাট বাংলাদেশ মেইল ২৪, দৈনিক সময়ের কাগজ, দৈনিক গণকণ্ঠ ও সাপ্তাহিক বাংলার বিবেক পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার কেদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
    এ ঘটনায় সাংবাদিক আবির শেখ, তার ছোট ভাই আব্রাহাম (৯), বড় বোন কারিমা (১৯), মা আফরোজা বেগম (৪২) এবং দাদি সোনিয়া (৭০) আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
    সাংবাদিক আবির শেখ দাবি করেন, অবৈধ পুকুর খনন-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ এবং ছবি-ভিডিও ধারণের জেরে তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা দুলাল ও হিরার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায়।
    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
    শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    সাংবাদিকের ওপর এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক যুবকের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    লোহাগাড়ার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    ৩০জুলাই বিকেলে উপজেলা সদরে চট্টগ্রাম-মহাসড়কের সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল ( নতুন ভবনের) পার্শ্বে একটি স্থানে মোঃ সামির নামে এই যুবককে হা/ম/লা চালানো হয় বলে জানান তার স্বজনরা।

    আহত মোঃ সামির(১৯) উপজেলা সদরের লতিফ বিল্ডিং এর ভাড়া বাসায় থাকে এবং কক্সবাজারের পেকুয়ার জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র বলে জানা গেছে এবং আহত মোঃ সামির উপজেলা সদরের দরবেশ হাট সওদাগর পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইলিয়াছের নাতি ও বটতলী স্টেশনে ঝাল বিতানের স্বত্বাধিকারী মোঃ রাসেলের ভাগিনা।

    আহত সামির কে দ্রুত উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছে, তার মাথায় মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম হয়েছে,অনেক সেলাই করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশংকাজনক দেখা দিলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

  • লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পদ্মায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি :
    ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট নৌরুটে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার চলছে। প্রতিদিন এ রুট দিয়ে ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রী স্পিডবোট ও লঞ্চে পদ্মা নদী পার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থা। বিশেষ করে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘাটে খাস আদায় চলাকালে ও নদীতে দুর্ঘটনার কারণে স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক ছিল। তবে চলতি বছর ঘাট ইজারা দেওয়ার পর সেই নিয়ম কার্যত আর মানা হচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীদের পদ্মা নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

    বুধবার সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাট ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণের উত্তাল ঢেউ, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও খোলা স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ১৪ জন ধারণক্ষমতার একটি স্পিডবোটে ১৯ জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এছাড়া আগে যেখানে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা, বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১৮০ টাকা।

    একই নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ বয়া নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্ধঘণ্টা পরপর শত শত যাত্রী এসব লঞ্চে পারাপার হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    ঘাটের ইজারাদার বাবুল শিকদার এ বিষয়ে বলেন, “প্রতিটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। তারা না চাইলে আমাদের করার কিছু নেই।”

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।

    গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, “২০২২ সালে আমরা ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাটের ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর ঢাকার কমিশনার কার্যালয় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের না জানিয়ে রহস্যজনকভাবে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় স্থানীয় কয়েকজনের কাছে ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। বিষয়টি স্বচ্ছ ও বৈধ পদ্ধতিতে হয়নি বলে আমরা মনে করি।”

    তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী চাপ কিছুটা কমে গেলেও বর্তমানে আবার এ নৌরুটে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে।

    ঘাটের যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) বলেন, “স্পিডবোটে ওঠার পর আমরা বারবার লাইফ জ্যাকেট চেয়েছি। কিন্তু চালক আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি।”

    অন্যদিকে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা বলেন, “লাইফ জ্যাকেট স্পিডবোটের ড্রয়ারে রাখা আছে। প্রয়োজন হলে বের করা হবে।”

    এদিকে স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

  • কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির মিছিলে বিএনপির হামলা,আহত-২৫, গুরুতর-৭

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে এনসিপি। গতকাল এই উপজেলায় স্বল্প পরিসরে এনসিপির আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছিল সেখানে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আযান আহমেদ শাওনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রদলের বিজয়, আদম, হামিদুলসহ কতিপয় নেতাকর্মী। শাওনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়, তিনি সেখানেই আদ্যাবধি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপির নেতাকর্মীরা আজ সন্ধ্যায় ওই ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল নিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎপেতে থাকা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বেধড়ক মারপিট ও গুরুতর জখম করেন। এসময় যুবদলের নেতা মাইদুল, মইনুল, মাসুদ ও টুকু এনসিপি ও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের উপর লোহার পাইপ ও গাছের ডালের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে।

    জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করা হয়েছে এতে এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৫ নেতাকর্মী আহত হন, এদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতরা হলেন-জেলা যুব শক্তির সিনিয়র সদস্য সচিব তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলা এনসিপির সিনিয়র সদস্য সচিব রাজু আহমেদ, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নাগেশ্বরী শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। গুরুতর ৭ আহতের মধ্যে তাওহীদ হাসান শান্ত ও রাজু আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ি উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের কেউ হতাহত হয়নি। তারা এলোপাতাড়ি মারপিট করে চম্পট দেয়।

    এ ব্যাপারে কথা হলে ফুলবাড়ি থানার এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের এখনো কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। উপজেলা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • টেকনাফে মানব পাচারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত


    টেকনাফ, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

    অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে মানব পাচারের কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানব পাচারের কৌশল, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজই মানব পাচার রোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

    হ্নীলা-মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল আলম বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

    হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল হাসেম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালচক্রের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশিষ্ট আইনজীবী শাহিন শাহ বলেন, “মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

    দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মংটিং অং সীমান্ত এলাকার মানুষকে দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    ক্যাম্প-২৪-এর আরআরআরসি কার্যালয়ের আইএ মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটকে পুঁজি করে অপরাধীরা মানব পাচারের চেষ্টা চালায়। তাই সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    এপিবিএনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মাইনুদ্দিন এবং টেকনাফ থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইকবাল বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

    হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুরাই মানব পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার। তাই পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

    ইয়ুথ পিসবিল্ডার তানজিনা মোহাম্মদ জয়া ও আমিনুল ইসলাম তরুণদের মানব পাচারবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন যুবসমাজই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানব পাচারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

    বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • কটিয়াদীতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত


    ​এ.এস.এম হামিদ হাসান
    কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
    ​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

    ​সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা,কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী ইসরাইল মিয়া,উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

    ​সভায় কটিয়াদী উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    ​এ ছাড়া আগামী ১৬ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে সভায় বিশেষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর আগমন যেন সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    ​সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “একটি শান্তিময় ও নিরাপদ উপজেলা গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না।”

    ​একই সাথে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

  • বরগুনায় আমতলীতে এনএসএস ও পিভিএ এর উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সরকারি দপ্তরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার দিয়েছে সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার এ চারাগাছ বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন চারাগাছগুলো গ্রহণ করেন।

    এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিভিএ-এর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ এডমিন মহসিন মাতুব্বর, বরগুনা বনবিভাগের আমতলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মো. মনিরুল হক এবং এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পিভিএ ও এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।

  • ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়ন যুব সমাজের উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধন


    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী জনবহুল এলাকা জয়মনিরহাট ইউনিয়ন ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সর্বগ্রাসী মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে সুরক্ষার দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    “মাদককে না বলুন, সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে জয়মনিরহাট ইউনিয়ন যুব সমাজ ও জয়মনিরহাট সচেতন যুব সমাজের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়মনিরহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

    উক্ত মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নানা পেশা-শ্রেণির হাজারো তৌহিদী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে পুরো এলাকা মাদকমুক্ত করার জোরালো দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।

    জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল , উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য কাজী নিজাম উদ্দিন, এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ জয়মনিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজিম উদ্দিন জয়মনিরহাট মহিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ফজলুল হক , ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান ওলামা পরিষদ নেতা।

    নজরুল ইসলাম যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব** এবং বণিক সমিতির নেতা শাহজালাল প্রমুখ।
    বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহ ছোবলে আজ যুবসমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকদের বাঁচাতে সীমান্তবর্তী এই জনপদে মাদকের মূল উৎপাটন করা জরুরি। অবিলম্বে মাদক কারবারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকাবাসী আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।

    সামগ্রিক এই মানববন্ধনের চমৎকার তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন। মানববন্ধন শেষে এলাকার যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

  • নওগাঁয় নিয়ামতপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু


    নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
    নওগাঁর নিয়ামতপুরে দিলীপ মিনজ (২২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (২৯ জুলাই) রাতে খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুম থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তাঁর।

    নিহত দিলীপ উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের গৈল গ্রামের শুকরা মিনজের ছেলে।

    পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে নিজ শয়নকক্ষে দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান দিলীপ। বুধবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তার মা শ্রীমতি পালানি তাকে ডাকতে গেলে ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

    সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাজশাহী নেওয়ার প্রস্তুতিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তিনি কীটনাশক জাতীয় কিছু খেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসক।

    এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান পিপিএম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

  • কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা, প্রত্যাখ্যান ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর


    কুবি প্রতিনিধি:
    নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার নতুন কমিটি ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক বিচারহীনতার কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

    মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমিনুর বিশ্বাসকে সভাপতি এবং পার্থ সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন জানিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করবে।

    সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, কুবি শাখার সংগঠক মারুফ শেখ বলেন, “ছাত্রলীগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ইতোমধ্যেই ঘৃণিত সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই কমিটি ঘোষণাও সেই ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি টিকিয়ে রাখারই চেষ্টা। আমরা এটিকে জুলাইয়ের মতোই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাই।”

    কুবি শাখা ছাত্র শক্তির সংগঠক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, “ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন। আমরা যতদিন এই ক্যাম্পাসে আছি, ততদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।”

    কুবি শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ শিক্ষাঙ্গনে দলীয় আধিপত্য, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অতীতের ঘটনার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করেই ছাত্রলীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।”
    তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনো প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই বিচারহীনতাই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।”

    কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এই কমিটিকে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সব ছাত্রসংগঠন প্রত্যাখ্যান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই এই কমিটিকে গ্রহণ করবে না। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের কেউই বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করছেন না। তাই এ ধরনের কমিটি সম্পূর্ণ হাস্যকর।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ছাত্রদল সতর্ক অবস্থানে থাকবে।”