
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভরান হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক কারবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিসহ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশীয় মদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ঘর দখল, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে ‘দাবারু’ নামে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি পুনরায় হাজী মাজার বস্তিতে ফিরে আসেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি সহযোগী রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে **‘কিং বাবু’**কে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিউল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, হেলেনা নামে এক নারী বস্তির একটি বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে হেরোইন বিক্রি করেন। এছাড়া ডাবলু নামে আরেক ব্যক্তি ওই সিন্ডিকেটকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হিরনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
এলাকাবাসী বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার যুবসমাজ আরও বেশি মাদকের ভয়াবহতার মধ্যে পড়ে যাবে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে দাবারু, রবিউল ইসলাম বাবু (কিং বাবু), হেলেনা ও ডাবলুর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”