বিআরটিএ মিরপুর সার্কেল-১-এ দালালচক্রের দাপট, অতিরিক্ত টাকা না দিলে হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত নাজমুলের নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, গাড়ির পরীক্ষায় অযথা ত্রুটি দেখানো এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ে দালালদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। ফলে সরকারি নিয়মে সরাসরি সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কোনো গাড়িকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ত্রুটি দেখিয়ে ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রেখে গ্রাহকদের দালালদের মাধ্যমে কাজ করাতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে বিষয়টি জানতে গেলে নাজমুল ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্রের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের দাবি, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, নাজমুলের বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলেও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসান ও নাজমুলের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

সেবাপ্রার্থীদের দাবি, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘুষ, অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এখন প্রশ্ন—সাধারণ গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করতে মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১-এর কথিত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে?

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *