সড়কে ইট-বালু লোড-আনলোডে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ভোগান্তিতে চরভদ্রাসনের মানুষ

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের আওতাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ট্রাক ও ট্রলি পার্কিং করে ইট-বালু লোড-আনলোড করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের নজুর দোকান এলাকা থেকে আমিরে ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের একাধিক স্থানে নিয়মিতভাবে ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন দাঁড় করিয়ে নির্মাণসামগ্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। ফলে ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশের কিছু নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে ইট ও বালু খালাস করলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও ছোট যানবাহনের চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়ক দখল করে মালামাল লোড-আনলোডের কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে থাকলেও সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তার ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানোর কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সড়কের পাশে গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য মালামাল ফেলে রাখার কারণে অনেক স্থানে রাস্তা আরও সরু হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা দ্রুত অবৈধ পার্কিং ও সড়ক দখল বন্ধে প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কে অবাধে ইট-বালু লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ এবং অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হবে।

নিউজটি আপনার স্যোসাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *