Category: প্রচ্ছদ

  • রড দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে”—হত্যার অভিযোগে বড় ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে মামলা

    রড দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে”—হত্যার অভিযোগে বড় ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে মামলা

    শেখ মামুনুর রশীদ মামুনঃ ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের বুকে নেমে এসেছে এক বেদনাময় অন্ধকার—ভাইয়ের হাতে ভাই খুন! জমিজমার ছোট্ট টুকরো নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব শেষ হলো মৃত্যুতে। আর এখন,নিহতের তরুণ স্ত্রী তানজিলা আক্তার বুকফাটা কান্নায় একটাই দাবি করছেন—“আমার স্বামীকে তারা পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে মেরেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই—যে করেই হোক!” নিহতের নাম আজহারুল ইসলাম চুন্নু (৩২)। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে,গত ১৬ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে,শম্ভুগঞ্জে নিজ বাড়িতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই মাজহারুল ইসলাম সুমন (৩৫) ও ভাবি জান্নাত আক্তার (৩০) লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই বিকট সংঘর্ষে শুধু রক্ত নয়—ভ্রাতৃত্বের বন্ধনটাও ছিন্ন হয়ে যায়!
    চুন্নুর ছোট ভাই আব্দুল করিম রনি (২৫) মাথায় রডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।
    চুন্নু এগিয়ে এলে—“তুই আর বেঁচে থাকতে পারবি না!” চিৎকার করে বলে রডের আঘাতে তার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে সুমন!
    মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় উঠান। চুন্নুর হাত-পা-কোমর ভেঙে দেয় পাষণ্ডরা।

    স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়, রেখে যায় রক্তাক্ত ভাইটিকে মাটিতে লুটিয়ে।
    প্রথমে তাকে চরপাড়া রাজধানী ক্লিনিকে,পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
    সেখানে ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টায়, চিকিৎসকরা ঘোষণা দেন—“তিনি আর নেই…”

    এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের মৃত্যু!
    এ কেমন নির্মম পরিণতি? ভ্রাতৃঘাতী এই ঘটনার পর শম্ভুগঞ্জে এখন নেমেছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।
    স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিকের কণ্ঠে ক্ষোভ—
    “যেখানে ভাইয়ের হাতে ভাই মরতে হয়,সেখানে সমাজে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়,এরা আবারও হত্যা করবে!”
    নিহতের স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন,“আমার স্বামীকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। দিন দুপুরে মারতে মারতে রড দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে। এখন তারা পলাতক—আমি আমার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”

    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কোতোয়ালী মডেল থানায় তিনি একটি এজাহার দায়ের করেন। থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন,“এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কেন এখনো অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে?
    –কবে তাদের গ্রেপ্তার হবে?
    –আর কত পরিবার এভাবে ভাইয়ের হাতে ভাইকে হারাবে? স্থানীয়দের দাবি—
    “এই হত্যার বিচার না হলে শম্ভুগঞ্জে আর কোনো ভাই নিরাপদ থাকবে না!”

    চুন্নুর লাশ এখন শীতল মাটি,কিন্তু তার স্ত্রীর চোখের আগুন নিভে যায়নি—সেই আগুনই এখন শম্ভুগঞ্জবাসীর বুকেও জ্বলছে! তারা একটাই স্লোগান তুলেছে— “ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের বিচার চাই—বিচার চাই, বিচার চাই!”

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রাম ট্রাকের চাপায় নিহত ইকবাল, প্রশ্ন আয়নীয় পদক্ষেপে

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রাম ট্রাকের চাপায় নিহত ইকবাল, প্রশ্ন আয়নীয় পদক্ষেপে

    স্টাফ রিপোর্টারঃমো: সোহেল রানা
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি ড্রাম ট্রাকের চাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম ইকবাল, পিতা মৃত হাসেম কবিরাজ। তিনি বরিশাল জেলার চাখার গ্রামের বাসিন্দা।

    ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত বারোটা বাজে যাত্রাবাড়ী কলাপট্টি এলাকায় ঘটনা ঘটে (২৪ অক্টোবর ২০২৫) দুপুর ১২টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি ড্রাম ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলার সময় ইকবালকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    নিহতের মৃত্যুর ঘটনায় জিডি নম্বর ২৭১৪, তারিখ ২৪/১০/২৫ এ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাকটির হেল্পার মোহাম্মদ রুবেল মিয়া (২৬), যিনি কুমিল্লা জেলার দলপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে ঢাকার স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করেন, তিনিই নাকি ঘটনাস্থলে ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন। জানা গেছে, তিনি একজন অদক্ষ হেল্পার, তবুও নিয়মিত ট্রাক চালানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনেক ট্রাকই অদক্ষ হেল্পার বা চালকদের দ্বারা পরিচালিত হয়, যার কারণে বারবার এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তবুও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর বা আইনানুগ পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো তরঙ্গ টিভির প্রতিনিধির পর সিটি কর্পোরেশন লোকজন হামলা করে। দেশ আজ কোথায়? নিউজ করাতে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন একজন সাংবাদিককে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে।

    ফলে দিন দিন বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, আর নাগরিকদের মনে প্রশ্ন—
    “এই বেপরোয়া ট্রাকচালনা রোধে কখন জবাবদিহি হবে?”

  • দেশনেতা তারেক রহমান যার হাতে ধানের শীষ তুলে দেবেন, আমরা তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব “ধর্মের নামে জান্নাত-জাহান্নামের ব্যবসা করার সুযোগ নেই”-সাংবাদিক নেতা সাঈদ খান

    দেশনেতা তারেক রহমান যার হাতে ধানের শীষ তুলে দেবেন, আমরা তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব “ধর্মের নামে জান্নাত-জাহান্নামের ব্যবসা করার সুযোগ নেই”-সাংবাদিক নেতা সাঈদ খান

    পিরোজপুর অফিস ::
    জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সাংবাদিক নেতা হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান বলেছেন, দেশনেতা তারেক রহমানের প্রণীত ৩১ দফা সাধারণ মানুষের আশার প্রতীক, আগামী বাংলাদেশের স্বপ্নের নকশা। দেশনেতা তারেক রহমান যার হাতে ধানের শীষ তুলে দেবেন, আমরা তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের নামাজপুর ঝনঝনিয়া সাইক্লোন সেন্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত “রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণের ৩১ দফা কর্মসূচি” প্রচারের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মল্লিক এবং সঞ্চালনা করেন বিপ্লব সিকদার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাঈদ খান বলেন, ভোটই নাগরিকত্ব রিনিউ করার একমাত্র পথ। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করে না; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চায়। সাঈদ খান বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশে সবার সমান অধিকার রয়েছে। এখানে ধর্মের নামে জান্নাত-জাহান্নামের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ‘পিআর’ নামে একটি পক্ষ নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। যে দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল নিজ এলাকায় ভোটে জিততে পারে না, তারা এখন ‘পিআর’-এর নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে,-মন্তব্য করেন তিনি।সমালোচনামূলক ভঙ্গিতে তিনি আরও বলেন, আপনি ভোট দেবেন পীরকে, এমপি হবে চোর- এটাই তাদের পিআর। মুখে এক, অন্তরে আরেক। এদেরকে বলে মুনাফিক, মুনাফিকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে সাঈদ খান বলেন, দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, নাগরিক হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব আছে। আপনি যদি নিজের অধিকার আদায় করতে না পারেন, তাহলে নিজের বিবেকের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন। তিনি আরও বলেন, যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ধর্মপ্রাণ মানুষকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে সমাজে হেয় করা হয়েছে, কালো আইন প্রণয়ন করে অনেককে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। সাঈদ খান বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক ভোটের মাধ্যমেই স্থাপিত হয়। গত ১৫ বছর ধরে জনগণ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার আমাদের নাগরিকত্ব রিনিউ করতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে। তিনি অভিযোগ করেন, যে রাষ্ট্রে ভোটের অধিকার নেই, সেখানে ভাতের অধিকারও থাকে না। জনগণের তথ্য বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, বিএনপি জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার ও একটি জনগণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণের ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ শেখ, জেলা যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এস. এম. আল ইমরান, আরাফাত রহমান কোকো ক্রিয়া সংসদ পিরোজপুর পৌর শাখার সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হাওলাদার মারুফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মুনতাসির, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন শেখ, ভান্ডারিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিক রেজা, ছাত্রনেতা আতিক ও ব্যবসায়ী নেতা লিটন প্রমুখ।

    হাসান মামুন,পিরোজপুর।
    ০১৭১০১৮১৯১০
    ২৪.১০.২৫

  • সুনামগঞ্জে খ্রিস্টান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত হলো হেযবুত তওহীদের সম্প্রীতি সমাবেশ

    সুনামগঞ্জে খ্রিস্টান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত হলো হেযবুত তওহীদের সম্প্রীতি সমাবেশ

    সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

    সুনামগঞ্জে খ্রিস্টান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত হলো হেযবুত তওহীদের সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যেগে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের নারায়নতলা মুগাইপাড় গ্রামে এই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে এই সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরান তেলাওয়াত ও বাইবেল পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।

    খ্রিস্টান কমিউনিটির সাবেক চেয়ারম্যান পুতুল সাংমার সভাপতিত্বে এবং সদস্য মোঃ আকবর আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তাওহীদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজ সেবক মোঃ আতিকুর রহমান দানীস।

    মূখ্য আলোচক তার বক্তব্যে পবিত্র কোরান ও বাইবেলের বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব আমরা সকল ধর্মের লোকই সম্মিলিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মানুষের তৈরি করা বিধান মেনে নিয়েছি। ফলে দুনিয়াময় চরম অশান্তি, যুদ্ধ রক্তপাত চলছে। সকল প্রকার অশান্তি ও বিভক্তিকে বাদ দিয়ে আদম হাওয়ার সন্তান হিসেবে আমরা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ থাকবে না, কোন সাম্প্রদায়িক মনোভাব থাকবে না। তাই আমরা সবাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি হিসেবে স্রষ্টার আনুগত্য করা উচিত। উপস্থিত কৃষকগনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন কৃষিব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, বিনাসুদে কৃষকগন অর্থ সহায়তা পাবেন, উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম, অর্গানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ, উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষি ও কৃষকদের নানান সুবিধার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়নতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সেবাষ্টিয়ান। আরও বক্তব্য রাখেন খ্রিস্টান কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যক্তি ট্রিউপিল মারাক ও ভেরোনিকা জেংচাম। এ সময় খ্রিস্টান কমিউনিটির প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। হেযবুত তওহীদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ইসমাইল হোসেন , মোঃ তুহিন মিয়া, ফুল মিয়া প্রমুখ। ##

    কুলেন্দু শেখর দাস
    সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
    ২৪.১০.২৫

  • সব সময় আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব  ফজলুল হক মিলন

    সব সময় আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব ফজলুল হক মিলন

    খসরু মৃধা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় মানুষের পাশে থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনারা ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন যেন সবাই মিলেমিশে সত্যিকারের একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ে তুলতে পারি। আমি সব সময় আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি উৎসবে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন এ সব বলেন।
    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নস্থ ভাইয়াসূতি শ্রী জয়কালী ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরে শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামা মায়ের আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পূজার আয়োজন এবং সর্বত্র আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিতে শ্যামা মাতার পূজা, তারকব্রক্ষ হরিনাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্ঠকালীন লীলা কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়।
    শ্যামাপূজা উদযাপন কমিটির কার্যকরী সভাপতি বাবু পানু চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. সিরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
    শ্যামাপূজা উদযাপন কমিটির সদস্য লিটন চন্দ্র দাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. নাজমুল হাই মামুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আজাহার হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম সুমন, শ্যামাপূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু রিপন চন্দ্র দাস প্রমূখ।

  • আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতা ফরিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতা ফরিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

    আলমাস হোসাইন :
    আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরিদের নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন কারখানার শতাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে আশুলিয়ার বগাবাড়ী এলাকায় জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রমিক নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও একটি চক্র মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানিমূলক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি।

    তারা আরও বলেন, ফরিদুল ইসলাম ফরিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিরুল হক আমিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়।
    শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এভাবে যদি বিনা কারণে শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তবে আমরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হব।

    জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্টু প্রমুখ।

  • ও.এম.এস. পণ্য গুদামজাত করে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ ডিলার মোস্তফার বিরুদ্ধে

    ও.এম.এস. পণ্য গুদামজাত করে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ ডিলার মোস্তফার বিরুদ্ধে

    স্টাফ রিপোর্টার :

    রাজধানীর খোলা বাজারে সস্তায় চাল–আটা বিক্রির নামে সরকারের ও.এম.এস. (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচিকে ফাঁকি দিয়ে গরিব মানুষের অধিকার হরণ করছেন ডিলার মোস্তফা। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সরকারের বরাদ্দকৃত চাল–আটা ট্রাকসেল থেকে সরাসরি বিক্রি না করে বস্তায় ভরে গুদামজাত করছেন এবং পরে খোলা বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, ডি-৫ এর ও.এম.এস. ডিলার মোস্তফা রাজধানীর হামদাদ ল্যাবরেটরির সামনে ট্রাকসেল থেকে জনগণের হাতে পণ্য না দিয়ে চক্রবদ্ধভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখে অবৈধভাবে বাজারে মজুদ তৈরি করছেন। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ন্যায্যমূল্যে খাদ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “সরকার গরিব মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে চাল–আটা দিচ্ছে। কিন্তু ডিলার মোস্তফা সেই পণ্য জনগণের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে গুদামজাত করে বেশি দামে বিক্রি করছে। এটি স্পষ্ট দুর্নীতি ও অন্যায়।”

    সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার মোস্তফা কোনো সদুত্তর না দিয়ে বরং সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে চাপ প্রয়োগ করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করানোর জন্য মোস্তফা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

    ডি-৫ এর এ আর ও শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন,

    “যদি ডিলার মোস্তফা সাংবাদিকদের ম্যানেজ না করে, তবে তার ডিলারশিপ বাতিল করে দেওয়া হবে। আসলে সাংবাদিকদের কেন ম্যানেজ করবে ।

    এলাকাবাসীর দাবি, ও.এম.এস. পণ্যের অবৈধ মজুদ ও খোলা বাজারে বিক্রির সঙ্গে ডিলার মোস্তফার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে তার ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

    ;

  • কুড়িল লেক ভিউ আবাসিক হোটেলে মাদক, জুয়া ও নারী দেহ ব্যবসা

    কুড়িল লেক ভিউ আবাসিক হোটেলে মাদক, জুয়া ও নারী দেহ ব্যবসা

    স্টাফ রিপোর্টার  :

    ঢাকার ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কুড়িল লেক ভিউ আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। হোটেলের মালিক মোলহোতা হৃদয় গঙ্গরা। হোটেলের তিনতলায় মাদক ও জুয়া খেলা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন থাকলেও দেখেও না দেখার ভান করছে।

    হোটেলে চলমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নারী দেহ ব্যবসাও। হোটেলের কক্ষের ছবি ও কয়েকটি মোবাইল নম্বর কার্ডে উল্লেখ থাকে, তবে ঠিকানা থাকে না। শুধুমাত্র এলাকার নাম থাকে, এবং “আসার আগে ফোন দিন” লেখা থাকে।

    প্রতিবেদনকারীর অনুসন্ধান অনুসারে, কার্ডে থাকা নম্বরে ফোন করলে বিস্তারিত ডিরেকশন দেওয়া হয়। হোটেলে পৌঁছালে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা কয়েকজন পিছু নেয়। উপরের তলায় গেলে ‘ভাই’ নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের সরাসরি প্রস্তাব দেয়। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় সারারাত থাকতে পারার অফারও দেওয়া হয়।

    প্রশ্ন করলে তারা জানান, সব কার্যক্রম ম্যানেজ করা হয়, কেউ বাধা দেয় না। কার্ডে থাকা নামগুলো মূলত দালালের। দালালরা যৌনকর্মীদের কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেয় বা বাসায় সরাসরি সাপ্লাই করে। ঠিকানা দেওয়া হয় না, কারণ দালালরা নিজেই কাস্টমার নিয়ে আসে।

    যুবকদের কথায়, এই কাজে যারা যুক্ত তারা দিনে ৪–৫শ টাকা পান। প্রয়োজনে বড় ‘ভাই’দের শেল্টারও দেওয়া হয়। কার্ডগুলো হোটেলের দেয়ালে সাজানো হয়, যেখানে শিশু কিশোররাও যুক্ত থাকে। দালালদের নিয়ন্ত্রণকারী বা বড় ‘ভাই’দের নাম কেউ প্রকাশ করে না।

    ;

  • বনানীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ: এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ

    বনানীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ: এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ

    ঢাকা প্রতিবেদক:

    রাজধানীর বনানী এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত রবিন ও মোশারফ গঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বনানীর রাজিয়া ভবনের নিচতলায় এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনানীর বাড়ি নং-৮২, রোড নং-১৭, ব্লক-ই, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত রাজিয়া ভবনের নিচতলা বহুদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, এখানে রাতের পর রাত বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে, যা স্থানীয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করছে।

    এলাকাবাসী জানান, এই কার্যক্রমের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। পরিবারের নারী-পুরুষরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং শিশু-কিশোররাও খারাপ পরিবেশের প্রভাবের মুখে পড়ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, রবিন ও মোশারফ গঙ্গা তাদের রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ আশ্রয়ে মাদক ব্যবসা, দেহ ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় পুরো এলাকা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এলাকাবাসী জানিয়েছেন, “আমরা প্রতিদিন ভোগান্তিতে আছি। রাতের বেলা শব্দদূষণ, ঝগড়া-বিবাদ, অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা—এসব কারণে আমাদের পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

    তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এবং বলেছেন, অবিলম্বে এই অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না করলে বনানীর সামাজিক পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই বিভিন্নভাবে উচ্চ পর্যায়ে অবহিত হয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    এলাকাবাসী মনে করছেন, দ্রুত ও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিলে বনানীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

    ;

  • রাজধানীর ওএমএস ডি-১ জোনে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক সেলে অনিয়মের অভিযোগ

    রাজধানীর ওএমএস ডি-১ জোনে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক সেলে অনিয়মের অভিযোগ

    কাউসার আহমেদ পনির:

    রাজধানীর ওএমএস ডি-১ জোনে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক সেলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ধোলাইপাড় কবরস্থান এলাকায় ডিলার করিম উদ্দিন ভাড়া চালায় হাবিব। জানা যায়, গত রবিবার সরকারি চাল ও আটার ট্রাকের সম্পূর্ণ মাল বিক্রি হওয়ার আগেই ট্রাক নিয়ে চলে যায়, ফলে স্থানীয় দরিদ্র জনগণ সময়মতো পণ্য গ্রহণে ব্যর্থ হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলার করিম উদ্দিন নিয়মিতভাবে সরকারি চাল ও আটার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ করে নিজ স্বার্থে মাল বিক্রি করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং প্রশাসনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে।

    ট্রাক সেল ঘিরে অনিয়ম
    সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাক সেল চালু থাকার কথা থাকলেও এসব ডিলারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ট্রাক দুপুর  হতেই বিক্রয় স্থান ত্যাগ করে। অথচ ট্রাকেই থেকে যায় বিপুল পরিমাণ চাল ও আটা। ফলে প্রকৃত দরিদ্র জনগণ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সেই চাল পরে বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

    ডি-১ এর এআরওর মন্তব্য
    ডি-১ এর এআরওকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই ধরনের অনিয়ম পুনরায় ঘটতে পারে যদি কঠোর নজরদারি ও তদন্ত করা না হয়।

    প্রশাসনের করণীয়
    বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওএমএস কার্যক্রমে যদি স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা সরাসরি গরিব মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী করার হাতিয়ার হয়ে উঠবে। স্থানীয়রা চাইছেন, একমাত্র দাবি হলো একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকল ডিলার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

    সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের হুমকি
    এই দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করলে ডিলাররা সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। একজন ডিলার বলেন, “আরেকবার ফোন দিলে চাঁদাবাজির মামলায় জেলে ঢুকিয়ে দেব।” অভিযোগে বলা হয়েছে, এনামুল হক, মামুন খান ও ফজলুল হক সবচেয়ে বেশি হুমকিদাতা হিসেবে পরিচিত।

    ভুক্তভোগীদের অভিমত
    প্রতিদিন সরকারি চাল-আটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে থাকা মানুষ বলছেন, তারা চায় না ওএমএস কর্মসূচি বন্ধ হোক—তারা চান শুধু দুর্নীতি বন্ধ হোক। তাদের দাবি, সরকারি ত্রাণ যেন প্রকৃত দরিদ্রদের হাতে পৌঁছায়, সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ;