Blog

  • ‌‌আসন্ন গুমানমর্দ্দন ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে পারভেজ মাসুদুর


    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
    আসন্ন গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জনমনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পারভেজ মাসুদুর রহমান (পিএম রহমান)। তিনি গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে তার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা তাকে এলাকায় একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
    পারভেজ মাসুদুর রহমান জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা, জেল-জুলুম এবং চাপের মুখেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিকূলতা তাকে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আরও দৃঢ় করেছে।
    তিনি বলেন, “রাজনীতি করেছি সর্বদা জনগণের জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা। আমি বিশ্বাস করি, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বই একটি ইউনিয়নের প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে।

    আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার প্রিয় গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের জনগণের কাছে আমি একটি সুযোগ চাই। আপনাদের একটি মূল্যবান ভোট আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ করে দিতে পারে। নির্বাচিত হলে গুমানমর্দ্দনের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের সেবায় নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করব।

    স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়নজুড়ে পারভেজ মাসুদুর রহমানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসংযোগ তাঁকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও তার প্রতি একটি আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবেন ভোটাররাই।

  • ব্লাকমেইলের অভিযোগের রিসোর্ট “মেঘ মালতী” বদলে “বেলা শেষে”


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার একটি রিসোর্টে অতিথির গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিতর্কিত সেই রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, ‘মেঘ মালতি’ নামের ওই রিসোর্টে অবস্থান করা এক যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উল্টো ওই যুবক সঙ্গীদের নিয়ে এসে রিসোর্ট কর্মীদের মারধর ও অর্থ দাবি করেছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে রিসোর্টটির নাম ‘মেঘ মালতি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ৮ই জুলাই মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে ওই রিসোর্টের ১০১ নম্বর রুমে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

    অপূর্ব সূত্রধরের অভিযোগ, রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়।

    পরদিন ৯ই জুলাই অপূর্ব বেশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে ওই রিসোর্টে যান। সেখানে রিসোর্ট ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে পরে মারামারিতে পরিনত হয়।

    অপূর্বের দাবি, একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ছবি পাঠিয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে তিনি টাকা দেননি বলে জানান।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, যে ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের ‘নাসির’ নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

    রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৯ই জুলাই অপূর্ব এসে একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলের কথা বলেন। আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা এসে আমাদের গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টাকা দেয়নি বলে স্বীকার করে।’

    রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জানান, তিনি বাড়িতে থাকার সময় মালিকপক্ষ নামটি পরিবর্তন করেছে।

    এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপূর্ব সূত্রধর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা কথা বলছেন। পূর্বে মিডিয়ার সামনে আমি যা বলার বলেছি। এ নিয়ে আমার আর নতুন করে কিছু বলার মানসিকতা নেই।’ তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তাপস দাশ বলেন, ‘আমরা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছি। অপূর্ব যে ছবিটি দেখিয়েছিলেন, সেটির দেয়ালের রঙের সঙ্গে রিসোর্টের দেয়ালের মিল নেই। ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।’

    শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন পুলিশ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। সেখানে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব নামের ওই যুবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও পরিস্কার উল্লেখ করেন তিনি।

  • অসহায় কিডনি রোগী তাওরাত কে বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসুন ঔষধ খরচ প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা

    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    রবিবার (২৬,জুলাই) তাওরাত বাঁচতে চাই,সবাই তাওরাত কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন ছেলেটির, কিডনি রোগে আক্রান্ত

    নাম :তাওরাত হোসেন সানি, বাবার নাম শাহাবুদ্দিন, মায়ের নাম আইরিন সুলতানা,

    ছেলেটির বাড়ি মধ্যম আমিরাবাদ পেস্কার পাড়া ৩ নং ওয়ার্ড
    ছোট্ট তাওরাত কিডনি রোগে আক্রান্ত তাওরাতের বাবা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী

    ছেলেটির চিকিৎসা করার জন্য প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ

    সেই খরচ যোগাড় করতে না পেরে আজকে অনলাইনের মাধ্যমে আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া

    সবাই এই ছোট্ট বাচ্চাটাকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন
    ছেলেটার মায়ের নগদ নাম্বার, ০১৬৩২,৪৭৪৫৬৮,বিকাশ,০১৮৩০৪৬৯০৯৪

  • ময়মনসিংহে সোহেল হত্যা: মূলহোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও কোদাল উদ্ধার


    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
    ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকায় আলোচিত সোহেল সরকার (২৫) হত্যা মামলার মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, ভুক্তভোগীর রক্তমাখা পোশাক ও পায়ের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    রবিবার (২৬ জুলাই) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকালে মীরকান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল সরকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই বিকেলে অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন একটি বাগান থেকে গলাকাটা অবস্থায় একটি অর্ধগলিত মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের পাশের মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হলে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে সোহেল সরকারের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে এসআই (নি.) রিপন চন্দ্র সরকার, এএসআই (নি.) সুকান্ত দেবনাথ, এএসআই (নি.) আলী হোসেন এবং এএসআই (নি.) মো. মাহবুব আলম অংশগ্রহণ করেন। তাদের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), মো. সেলিম (৩০), মো. আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। তাদের সবার বাড়ি মীরকান্দাপাড়া গ্রামে।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

    তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহেল সরকারকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছ।

  • স্বস্তি ফিরেছে নেতাকর্মীদের মাঝে: ভালুকা শ্রমিকদল সভাপতি সৌমিক হাসান সোহাগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার


    ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
    ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সৌমিক হাসান সোহাগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সদস্য পদও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ​রবিবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    ​বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ময়মনসিংহ জেলা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ভালুকা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সৌমিক হাসান সোহাগকে পূর্বে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    ​এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সৌমিক হাসান সোহাগ জানান, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। রবিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ সিদ্ধান্তে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় ভালুকা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে পুনরায় দলের সেবায় আত্মনিয়োগ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তিনি।

  • বদলগাছীতে খালে গোসলে নেমে তলিয়ে গেলেন স্বামী, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও


    নওগাঁ প্রতিনিধি:
    মৃত ব্যক্তিরা হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নূর ইসলাম (২২) ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৮)। সুমাইয়া কার্তিকাহার গ্রামের শাহিন ইসলামের মেয়ে। ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকেলে স্ত্রীকে নিয়ে কার্তিকাহার গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন নূর ইসলাম। আজ বেলা একটার দিকে কার্তিকাহার গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া একটি খালে গোসল করতে নামেন নূর ইসলাম। এ সময় খালের তীরে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্ত্রী সুমাইয়া। হঠাৎ নূর ইসলাম খালের পানিতে তলিয়ে যান। একপর্যায়ে তাঁকে উদ্ধার করতে খালে নামেন সুমাইয়া।

    এরপর সুমাইয়াও খালের পানিতে নিখোঁজ হন। ঘটনা টের পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ডুবে যাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুজনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাঁদের বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

  • ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা




    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
    ‎টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় শাক-সবজির পাশাপাশি হু হু করে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম।

    ‎বেশ কিছুদিন ধরে ২০০ টাকার ওপরে থাকলেও তা এখন ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।
    ‎নাসিরনগরের বিভিন্ন বাজারে কোথাও ৩২০ টাকা, কোথাও ৩১০ কিংবা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে মরিচ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির সরবরাহ ও অনেক কম। এতে করে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    ‎আজ রবিবার (২৬ জুলাই) নাসিরনগরের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।  

    ‎বিক্রেতাদের মতে, বাজারে নতুন কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি, আর পুরোনো কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ৩২০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে।

    ‎তারা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা। টানা বৃষ্টিতে মরিচের দাম বেড়ে গেছে বলে তারা দাবি করেন। 

    ‎নাসিরনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মিন্টু মিয়া জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু সবজি না অনেক কিছুর দাম ই ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের সঙ্গে দাম দিয়ে মাঝেমধ্যে ই বিবাদে জড়াতে হচ্ছে আমাদেরকে।

    ‎তিনি বলেন, আমাদের কিনে আনতে হচ্ছে বেশি দামে, কমে কিভাবে বিক্রি করবো। বৃষ্টি কমলে হয়তো দামও কমে যেতে পারে।
    ‎বাজার করতে যাওয়া একজন গৃহিণী আঁখী আক্তার বলেন, দাম আসলে আমাদের নাগালের বাইরে। কাঁচামরিচের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, এখন রান্নাতে তো প্রয়োজনীয় জিনিস এটা। কাঁচামরিচ ছাড়া রান্না করবো কিভাবে। অন্যান্য সবজির দামও বেশি। দুই-তিন রকমের সবজি অল্প করে কিনতে গিয়েও দুই তিনশো টাকার মতো চলে যাচ্ছে।

  • বর্জ্য থেকে প্লাষ্টিক, লোহা, কাগজ ইত্যাদি কুড়িয়েই চলে সীমান্তের সংসার

    শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
    যে ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে সাধারণ মানুষ দুর্গন্ধে নাক চেপে দ্রুত চলে যান, সেখান থেকে প্লাস্টিক, লোহা, কাঁচ, কাগজসহ বিক্রিযোগ্য বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করে চলে সীমান্তের পাঁচ সদস্যের সংসার। গাজীপুরের শ্রীপুর অংশে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্য স্তূপে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটে সীমান্ত (৩০) ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সুমনের। বর্জ কুড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনমতে চলে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার।

    শুধু সীমান্তের পরিবারই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পরিবার একই পেশার ওপর নির্ভরশীল। দুর্গন্ধ, বিষাক্ত বর্জ্য, সংক্রমণ এবং ধারালো বস্তু থেকে আহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় তাদের।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সামিট পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রসংলগ্ন একটি ময়লার ভাগাড়ে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি অটোভ্যান রেখে বাবা-ছেলে বর্জ্যের স্তূপে বিক্রিযোগ্য সামগ্রী খুঁজছেন। হাতে গ্লাভস নেই, পায়ে নিরাপত্তা জুতা নেই, মুখেও নেই কোনো মাস্ক। দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে তারা প্লাস্টিক, লোহা, কাঁচ, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহ করা সামগ্রী বস্তায় ভরে আবারও নতুন করে খোঁজাখুঁজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

    ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা সীমান্ত বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এমসি বাজারের মাজম আলী মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বর্জ্য সংগ্রহ করেন। এরপর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। কুড়িয়ে পাওয়া বর্জ্য এমসি বাজারের একটি ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০ /৭৫০ টাকার মালামাল বিক্রি হয়। মাসে আয় হয় প্রায় ২২থেকে ২৩ হাজার টাকা। এই আয় দিয়েই সংসারের ব্যয় ও ছোট মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়।

    সীমান্ত বলেন, “তিন বছর আগে বিষাক্ত বর্জ্যের সংস্পর্শে এসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন ছিলাম। কিন্তু বিকল্প কোনো আয়ের উৎস না থাকায় সুস্থ হওয়ার পর আবারও এই কাজেই ফিরতে হয়েছে।”

    একই পেশায় প্রায় ১২ বছর ধরে কাজ করা আরিফ (৩১) জানান, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির ফেলে দেওয়া বর্জ্যের মধ্যে অনেক সময় মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়। তবে দুর্গন্ধ, বিষাক্ত গ্যাস, ধারালো কাঁচ ও লোহার কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।

    তিনি বলেন, ধারালো কাঁচ বা লোহার আঘাতে প্রায়ই হাত-পা কেটে যায়। গ্লাভস, নিরাপত্তা জুতা ও মাস্ক থাকলে অন্তত কিছুটা নিরাপদে কাজ করা যেত।”

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বর্জ্য ভাগাড়ে প্রতিদিন আরও বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে বর্জ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা।

    মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম মৃধা বলেন, “অনেক অসহায় পরিবার জীবিকার জন্য বর্জ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

    জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলে রাখার ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বর্জ্য সংগ্রহকারীরা সংক্রমণ, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই তাদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশায় নিয়োজিত মানুষদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ, প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও টেকসই করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রোববার (২৬ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আমির আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. বুলবুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    মতবিনিময় সভায় জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    বিশেষ করে জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন, বাজারজাতকরণ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বক্তারা বলেন, কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি করে জেলার কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তারা।

    সভা শেষে কৃষি উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

  • রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সরফভাটা ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে আবদুল মালেক (৫৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ করা হলেও অভিযুক্তদের দাবি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ক্ষেত্রবাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল মালেক, স্থানীয়ভাবে ‘ট্রলি মেম্বার’ নামে পরিচিত। তিনি সরফভাটা ইউনিয়নের বুলেন্ন্যার বাড়ির বাসিন্দা ও ৬নং ওয়ার্ডে সাবেক ইউপি সদস্য।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ক্ষেত্রবাজারে একটি মামলা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে আবদুল মালেকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের মেয়ে পারভিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জায়গা ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
    অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ জানান, অভিযুক্তদের দাবি আবদুল মালেক হাতাহাতির একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে।
    রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পলাশ চন্দ্র বণিক বলেন, “মরদেহে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে হার্ট অ্যাটাকেও মৃত্যু হতে পারে। প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”

    রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। মাগরিবের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
    দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া পদুয়া ইউনিয়নে চাচাতো ভাইয়ের হাতে ওবায়দুল্লাহ নামক একজন খুন হয়।

    এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।