Blog

  • নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার পেলেন ডা: তারিক আজিজ সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ


    যাত্রাবাড়ি-ঢাকা প্রতিনিধি:
    বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৯ জুলাই, রবিবার সন্ধ্যায় ‘সমীকরণ আদর্শ সাংস্কৃতিক সংগঠন’ এবং ‘নব উজ্জীবিত বাংলাদেশ সমাজ’—এই দুটি অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেলসন ম্যান্ডেলা: আদর্শ ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক ধর্ম, পানি সম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। তার বক্তব্যে নেলসন ম্যান্ডেলার ত্যাগ ও মানবিক আদর্শের কথা স্মরণ করে তরুণ প্রজন্মকে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্যবসায়ি ও সমাজসেবক এস এম আমান উল্লাহ, মো: হাবিবুল হক- এ্যাডভোকেট জজ কোর্ট ঢাকা, ড. মো: মনসুর আলী- প্রভাষক জাহাঙ্গীর নগর স্কুল এন্ড কলেজ, মো: হুমায়ন কবির- সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ব্রান্চ অপারেশন ম্যানেজার পদ্মা ব্যাংক শ্যামপুর শাখা, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম- শিক্ষাবিদ লেখক ও সমাজ উন্নয়ন কর্মী, ওবায়দা বেগম- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদীকা স্মার্ট উদৌগতা ফোরাম।

    অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সমীকরণ আদর্শ সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা এবং স্মার্ট উদ্যোক্তা ফোরাম ও এফ জেড কালেকশনসের স্বত্বাধিকারী মাহফুজা শিউলি ও পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আবৃত্তি শিল্পী সৌধিন আজিজ এবং নারী উদ্যোক্তা সালমা সুলতানা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠন দুটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুম রানা।

    অনুষ্ঠানে সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬’ ও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিরা হলেন, ড. মো: মনসুর আলী, বদরুল মুত্তাকিন চৌধুরী, লায়ন মোহাম্মদ হোসেন রানা, মোছা: রুমা আক্তার, ওবায়দা বেগম,অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, মো: হাবিবুল হক, ডা: তারিক আজিজ, রাশেদ সিকদার, হুমায়ুন কবির, বাইস কাদির, অপূর্ব, হাবিবুর রহমান বাবু, ড. দেওয়ান মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, মো: ইসমাঈল হোসেন, আনন্দ কিত্তর্নিয়া, রীনা পারভিন, হোসনে আর খান শিখা, দুলাল হালদার, প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, মো: হাবিবুল হক, ড. মো: মনসুর আলী, মো: হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, ওবায়দা বেগম ও মাহফুজা শিউলি।

    আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।১৯ জুলাই রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় ভাঙ্গনকবলিত এলাকা দেখেন এবং ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সুখ দুঃখ দুর্দশা দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুজ্জামান বদু ও বিএনপির সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্লা এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিক। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদী খাল খননের পাশাপাশি কৃষকের প্রতি যেমন কাজ করে গেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তেমনি কাজ করছেন।

    তিনি আর ও বলেন আমাদের প্রতি ভরসা রাখেন বর্তমান নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলিয়ে অতি দূরত্ব ভাঙ্গন শাসন করব। শুকনো মৌসুমে আকটেচর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা হতে চন্দ্রপাড়া ঘাট পর্যন্ত স্থায়ীভাবে নদী শাসনের স্থায়ীবাদ আমরা করে দেবো। সকল জনগণের ভালোবাসা ও এমপি মহোদয়ের কথা শুনে সবাই আশার আলো নিয়ে ঘরে ফেরেন।

  • উদয়নমোড়-রেলস্টেশন গেট সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উদয়ন মোড় (আলাউদ্দীন হোটেল) থেকে রেলস্টেশন (গেট) পর্যন্ত সড়ক ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১১ ঘটিকায় জেলা পরিষদের আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। জেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯০ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জেলা পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

    উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াহিদ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক, পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, আহসান হাবীব, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদুল হক নিখিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    জেলা প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, সড়কটি ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন করা হলে পথচারী ও যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬


    স্টাফ রিপোর্টার:
    “বাঁচাও উদ্যোক্তা, বাঁচাও দেশ—উদ্যোক্তা বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১৭০৪, সাজেদা ভিলা)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ এবং বিষয়ভিত্তিক সাংগঠনিক আলোচনা সভা।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. কে. আলম সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল জলিল পাটোয়ারী, উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কাঞ্চন চৌধুরী সুমন এবং কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, প্রচার সম্পাদক মাসুম রাদওয়ান, শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নান্নু চোকদার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী (টিপু), সহ-প্রচার সম্পাদক লিমন মাহমুদ এবং কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।

    সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সদস্যরা সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত তুলে ধরেন।

    ফল উৎসব ও আলোচনা সভায় এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সাংগঠনিক শূন্যতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অর্থ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শাহজালাল ফারুকের নাম প্রস্তাব করেন। পরে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে শতভাগ কণ্ঠভোটে শাহজালাল ফারুককে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভাপতি এম. কে. আলম সরকার বলেন, “দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখার বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের অধিকার রক্ষা, বৈধ ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কল্যাণকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

    নবনির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল ফারুক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সদস্যদের এই সর্বসম্মত সমর্থন আমার জন্য বড় দায়িত্ব। সংগঠনকে আরও গতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। উদ্যোক্তাদের বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সদস্যদের সম্পৃক্ত করাই হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

    বিশেষ অতিথি আব্দুল জলিল পাটোয়ারী বলেন, “দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত উদ্যোগ, সুশাসন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

    উপদেষ্টা কাঞ্চন চৌধুরী সুমন বলেন, “উদ্যোক্তাদের সফলতা ও সমস্যাগুলো সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা সংগঠন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”

    বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদল হাসান বলেন, “সংগঠনের সাংগঠনিক ঐক্য, কাজের স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই একটি সংগঠনের মূল শক্তি। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য যেন মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে, অকল্যাণ নয়—সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

    অনুষ্ঠানের শেষে এসোসিয়েশনের সম্মানিত সাধারণ সদস্য, উপস্থিত সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মৌসুমি ফল উৎসব-২০২৬ ও সাংগঠনিক আলোচনা সভার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • মহিলা কারাগার থেকে বন্দি পলায়ন: কারাগারের সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

    কাশিমপুর

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে অভিযান ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

    কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাতজনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

    কারা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মেট্রনদের তদারকিতে ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বন্দি রিম্পা (২১) অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সি.আর. মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে দণ্ড ভোগ করছিলেন।

    এর আগে বন্দি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগার থেকে এক নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সব বন্দিকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে লকআপে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঐদিন নির্ধারিত সময়ে লকআপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ সুযোগেই রিম্পা কৌশলে কারাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    এআইজি মো. জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এই পলায়নের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনাটি কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

  • গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুমতি ছাড়া কৃষি জমিতে বালু ভরাট: মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

    গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুমতি ব্যতীত কৃষি জমিতে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
    রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার উত্তর ভাদাত্তী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    অভিযান পরিচালনা করেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
    আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর ভাদাত্তী এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনুমতি ছাড়া ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষি জমিতে বালু ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঘটনার সত্যতা পেয়ে ঘোনপাড়া এলাকার মৃত করিম মিয়ার ছেলে আবুল কালাম (৩৫)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় একটি মামলায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
    অভিযানকালে প্রসিকিউটর হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মাহবুবুল ইসলাম। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ।
    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং কৃষি জমি রক্ষায় এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ৫০ হাজার মানুষ মৌলভীবাজারে টিলা ধসের ঝুঁকিতে

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    টিলাধসের ঝুঁকিতে ৫০ হাজার মানুষ টিলার কিছু অংশ এরই মধ্যে ধসে পড়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়ে থাকছে একটি পরিবার। গতকাল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এলাকায়।

    বর্ষা এলেই মৌলভীবাজারের টিলা-পাহাড়ঘেরা জনপদে নেমে আসে আতঙ্ক। তবু ঝুঁকি নিয়ে এসব স্থানে বসবাস করছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চার বছরে টিলাধসে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপদ পুনর্বাসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হলেও টিলা কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে টিলাধস ও প্রাণহানি।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় টিলা ভূমি রয়েছে। এসব টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। তবে সারা বছর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে টিলা কাটা হচ্ছে। ফলে বর্ষা এলেই টিলা ধসে পড়ে। শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, মহাজিরাবাদ ও কমলগঞ্জের কালেঙ্গায় টিলাধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা না থাকায় টিলা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। আর এতে ঝুঁকি বাড়ছে টিলার ওপর ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের। বৃষ্টি হলে টিলাধসের শঙ্কা দেখা দেয়। ভারী বৃষ্টি হলে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

    শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া এবং এর আশপাশে টিলার বাসিন্দা সবিতা তাঁতী, শশী তাঁতী, ফ্রান্সিস কন্দ, জয়ন্তী তাঁতী বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড়ধসে ঘর ভাঙে, তবু যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। এবারও বসতির পাশের পাহাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে সবকিছু। সমতলে থাকার জায়গা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েও আমরা থাকছি। আমাদের পাশের টিলায় তিন বছর আগে ধসে চারজন মারা যায়। আমাদের টিলার মাটিও দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা-বাগানে টিলা ধসে চার নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। একই বছর কুলাউড়ার ভাটেরায় পাহাড়ধসে একই গ্রামের ৩ শিশু এবং চাতলাপুর চা-বাগানে আরও এক নারী মারা যান। ২০২৪ সালের কমলগঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালেঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জিতে কাজ করার সময় টিলাধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গৃহস্থালির কাজের জন্য টিলার মাটি আনতে গিয়ে মাটি চাপায় এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘যারা টিলা কাটে, তারা পরিবেশ ও প্রতিবেশ—দুটির ক্ষতি করছে। প্রকৃতিকে হত্যা করা হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব বিষয় শক্তভাবে প্রতিহত করা। টিলাগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। টিলা কাটার প্রভাবে নিয়মিত টিলা ধসে পড়ছে, এমনকি এসব টিলাধসের ঘটনায় প্রতিবছর মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’

    মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন,‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। টিকা কাটার অভিযোগ পেলে আমরা অভিযান পরিচালনা করি।’

    শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বর্ষার শুরু থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টিলাধসে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি জনপদে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালানো হচ্ছে।

  • জাতীয় লেখক পরিষদের গুণীজন সম্মাননা ও জাতীয় লেখক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:

    দেশের আলেম-উলামা ও ইসলামী চিন্তাধারার লেখকদের সংগঠন জাতীয় লেখক পরিষদ-এর উদ্যোগে ‘গুণীজন সম্মাননা ও জাতীয় লেখক সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর পল্টন টাওয়ারের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ শামছুল হুদা।

    সম্মেলনে লেখালেখি ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘গুণীজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং অসংখ্য লেখক তৈরির অন্যতম কারিগর মাওলানা লিয়াকত আলী, শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য মাওলানা ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী এবং ইতিহাস, দর্শন, গবেষণা ও রাষ্ট্রচিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশিষ্ট দার্শনিক, গবেষক ও সমাজচিন্তক মাওলানা মুসা আল হাফিজ-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও ইতিহাসবিদ মাওলানা মনযূর আহমদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক ড. ওয়ালীউর রহমান খান আজহারী, শিকড় সাহিত্য মাহফিলের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা লাবিব আব্দুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসরুরুল হাসান, জাতীয় লেখক পরিষদের সাবেক সভাপতি মুফতি জহির ইবনে মুসলিম, বিশিষ্ট লেখক মাওলানা কামরুল হাসান রহমানী, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, শায়খ মুহাম্মদ উসমান গনি, বিশিষ্ট লেখক ও আলোচক হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ, সবার খবর সম্পাদক মাওলানা আবদুল গাফফার, রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা আফজাল হোসাইন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা উবাইদুল্লাহ শাকির, মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী, বিশিষ্ট লেখক ও ক্যালিগ্রাফার হা মীম কেফায়েত, অ্যাডভোকেট মুফতি আল আমীন, মুফতী আব্দুল কাইয়ুম শেখ, আব্দুল্লাহ আল মামুন আশরাফী, সানাউল্লাহ খান, মুহিব ইমতিয়াজ, কামাল উদ্দীন ফারুকী, সাজ্জাদ শরীফ, মাহমুদুল হক জালিস, মাওলানা মাহমুদুল হাসানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় লেখক পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা রবিউল ইসলাম। পরে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আব্দুল্লাহ আল হাসিব।

    সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ শামছুল হুদা বলেন, ইসলামি সাহিত্য, গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখিকে সমৃদ্ধ করতে লেখকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নতুন প্রজন্মের লেখকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মানসম্পন্ন গ্রন্থ রচনা এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চাকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে জাতীয় লেখক পরিষদের কার্যক্রম আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

    বক্তারা বলেন, কলমের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শ প্রচারে লেখকদের দায়িত্ব অপরিসীম। তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণে জ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও গবেষণাধর্মী লেখালেখির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নতুন লেখকদের উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সাহিত্যচর্চা ও সম্মাননা প্রদানের মতো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সার্বিকভাবে প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই গুণীজন সম্মাননা ও জাতীয় লেখক সম্মেলন-২০২৬ লেখক, গবেষক ও সাহিত্যসেবীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

  • গাজীপুরে সিটিতে রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে ভুগছে নগরবাসী

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুর হয়ে অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর প্রতিটি ট্রেনের জন্য লেভেল ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করতে হয় কমপক্ষে ১০ মিনিট। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে যানজট।

    সড়কপথে গাজীপুর শহরের প্রবেশমুখে রেলের লেভেল ক্রসিং। এ লাইন দিয়ে দেশব্যাপী অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর একটি ট্রেন আসা মানেই লেভেল ক্রসিংয়ে কমপক্ষে ১০ মিনিটের অপেক্ষা। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে অসহনীয় যানজট। এতে নষ্ট হয় হাজারো কর্মঘণ্টা। তাই লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভারের দাবি দীর্ঘদিনের।

    কিন্তু আজও তা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গাজীপুর নগরবাসী।

    গাজীপুর শহরে দিন দিন প্রকট হচ্ছে যানজট সমস্যা। রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথ, শিল্পায়ন আর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীসহ জেলা শহরের সরকারি অফিসে সেবাপ্রত্যাশী হাজারো মানুষকে।

    স্থানীয়রা বলছেন, যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতকারী জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছে বহু বছর।

    সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন, আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ডায়াবেটিস সেন্টার, রেজিস্ট্রি অফিস, প্রধান ডাকঘরসহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে লেভেল ক্রসিংয়ের বাধা পার হতে হয়। তার ওপর রেলগেটের

    দুই পাশে সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আধিক্য এবং ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।

    এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর আড়াআড়ি বসেছে দোকানপাট। এগুলো সবই ভ্রাম্যমাণ দোকান। এদের মধ্যে ফল বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ট্রেন কাছাকাছি এলে ফলের ঝুড়িগুলো তুলে নেন বিক্রেতারা। ট্রেন চলে গেলে আবারও বসেন একইভাবে। অনেকে ট্রেন আসার আগে লেভেল ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলার পর নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকে সেগুলো উঁচু করে বিপজ্জনকভাবে পারাপার হন। এতে অনেক সময় ঘটেও দুর্ঘটনা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, লেভেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। শহরে প্রবেশের এটি প্রধান সড়ক।

    এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এখানে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।

    বোরহান উদ্দিন অরণ্য নামের এক বাসিন্দা বলেন, রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের কমপক্ষে ১০ মিনিট আগে লেভেল ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক ধরে যেতে হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও আদালতে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় আটকে থাকে। একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ খুবই জরুরি। দীর্ঘ বছর যাবত প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে নির্বাচনী জনসভায় যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মনোয়ার হোসেন রনি নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ হবে। আসলে কত দিনে তা হবে, তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে রেলগেট বন্ধ ও খোলা হয়। যেহেতু এটি জংশন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে, তাই বারে বারে গেট ফেলতে এবং ওঠাতে হয়।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জাইকার তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর বাসন ইসলামপুর থেকে কাশিমপুর যাওয়ার জন্য দুটি সেতুও এ প্রকল্পভুক্ত আছে। নকশা তৈরিসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর শিববাড়ী থেকে জেলা পরিষদের সামনে রথখোলা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

  • একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে জেলা প্রশাসক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও নতুন পোশাক বিতরণ করেন।

    সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৪ জনের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শনিবার ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীনদের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটান। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের করুণ অবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন।