Blog

  • জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখা। গত মঙ্গলবার শহরের নতুন স্টেডিয়ামে শহর শাখার স্পোর্টস বিভাগের উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি ইউসুফ আল গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর শাখার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান। এ সময় শহর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউসুফ আল গালিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের আত্মদান আমাদের ন্যায়, সত্য ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মকে সেই চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

    ইউসুফ আল গালিব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তরুণদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ক্রীড়াচর্চার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন থানার দল অংশ নিচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

  • হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এর হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মাসুম আলী, মুখ্য ছাত্র প্রতিনিধি মুত্তাসিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য সাব্বির আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জীবনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধানস্বীকৃত। কিন্তু সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের ওপরও গুরুতর আঘাত।চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন ও শান্তিকামী নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়।

    দাবিগুলো হলো— হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, আহত নেতা-কর্মীদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সকল নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।স্মারকলিপিতে আশা প্রকাশ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • কিশোরগঞ্জে রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ


    স্টাফ রিপোর্টার:
    কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

    এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

    স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেন নতুন কমিটি গঠনে এত দীর্ঘসূত্রতা? এর পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজন বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়লে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারখানা।

    এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।

    স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য এই বিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

  • মনুমুখ ইউনিয়নের সাধু হাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে আহত ৫


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২নং মনুমুখ ইউনিয়নের পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে একই পরিবারের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মোছা: মালা বেগম (৬০) বাদী হয়ে প্রতিবেশী আনকার মিয়া (৪৫), আনছার মিয়া (৪৮) ও শরীফ মিয়াসহ (২২) তিনজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, পশ্চিম সাধুহাটি গ্রামের মৃত সাদিক মিয়ার স্ত্রী মালা বেগমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আনকার মিয়া ও আনছার মিয়াদের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র, কাঠের রোল ও লাঠিসোটা নিয়ে মালা বেগমের বসতবাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

    এ সময় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা প্রথমে মালা বেগমের পুত্রবধূ হাজেরা বেগমকে (৩০) এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে লীলাফুলা জখম করে। তাকে বাঁচাতে মালা বেগম ও তাঁর ছেলে আল-আমিন (৪০) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা কাঠের বর্গা ও লাঠি দিয়ে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং ব্যাপক মারধর করে।

    একপর্যায়ে হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনা নিয়ে মামলা না করার জন্য এবং পরিবারটিকে ভিটেমাটি ছাড়া করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে কেটে পড়ে।

    পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাজেরা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং মালা বেগম ও আল-আমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।

    এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মালা বেগম জানান, “প্রতিবেশীদের হামলায় আমরা গুরুতর আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকা ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

    মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, শুনেছি থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে,অভিযোগ এর কপি আমার হাতে এলে ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • আহত সাংবাদিক জামালকে দেখতে হাসপাতালে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

    টেকনাফ,কক্সবাজার প্রতিনিধি:
    টেকনাফে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে দেখতে কক্সবাজারের আল ফুয়াদ হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

    বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আবুল হোসেন, টিম লিডার শফিকুল ইসলাম ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তাক আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

    এ সময় তারা সাংবাদিক জামালের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

  • কুলাউড়া পৌর বিএনপি’র কমিটি স্থগিত


    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর বিএনপির বর্তমান কমিটি স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি। সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুলাউড়া পৌর বিএনপির বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হওয়ায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    এতে আরও জানানো হয়, কুলাউড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন থেকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি-আদর্শ বজায় রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযান: ১৫ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছসহ মাদক কারবারি আটক, যুবকদের সাহসিকতা প্রশংসিত

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে স্থানীয় যুবসমাজের সাহসিকতা এবং পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পরিপক্ক গাঁজা গাছ ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ মনজু আলম (৫৫) নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চর খলিশাকুড়ি গ্রামে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। আটক মনজু আলম ওই গ্রামের মৃত নজির উদ্দিনের ছেলে।

    যুবসমাজ ও শিক্ষকদের প্রশংসনীয় মাদকবিরোধী মিশন
    সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে সম্প্রতি বলদিয়া ইউনিয়নের যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। যুবকদের এই মহৎ মিশনে স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহল স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

    এলাকার যুবসমাজের এমন সুসংগঠিত ও সাহসী ভূমিকা পুরো ভূরুঙ্গামারী জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
    যেভাবে আটক হন মাদক সম্রাট মনজু
    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে চর খলিশাকুড়ি এলাকায় মনজু আলমের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় টের পেয়ে মাদক কারবারি মনজু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় সাহসী যুবকরা তাকে বাধা দেন।

    এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মনজু ওই যুবকদের হাতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরবর্তীতে যুবকদের সহযোগিতায় উপস্থিত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাকে সাহসিকতার সাথে কাবু করে আটক করেন। এ সময় তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার একটি বিশাল সতেজ গাঁজা গাছ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
    মাদকবিরোধী এই যৌথ অভিযানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এবং সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ফরিদুল ইসলাম খান।

    সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজের এমন সচেতন ও সাহসী ভূমিকা সত্যিই অনুকরণীয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • রাঙ্গুনিয়া আলোচিত মাসুদ হ,ত্যা মামলায় শুটার ‘ধামা ইলিয়াছ’ আটক

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ
    রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং চট্টগ্রামে ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইলিয়াস সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
    জানা গেছে, গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাউজান থানায় মামলা করেন।

    মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মো. ইলিয়াস, মো. মোবারক, দিদারুল আলম, মো. ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আটজনকে আসামি করা হয়।

    পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
    সোমবার (২৮ জুলাই ) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়ার নেতৃত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান অনু, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজু, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা।

    এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম জাকারিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে হোসেনডাঙ্গা এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

  • ফরিদপুরে হাতির তাণ্ডবে উল্টে গেল অটোরিকশা, প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশু আরিশার

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় চলন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি হাতির ধাক্কা লাগার ঘটনায় হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী। নিহত শিশু আরিশা জান্নাত ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের গুলবন্দি গ্রামের সজিব মোল্যার মেয়ে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ আরিশা জান্নাতকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার মা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে আটরশি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে একটি হাতি নিয়ে সড়কে অবস্থান করছিলেন মাহুত। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সময় হাতিটি শুঁড় উঁচু করলে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে অটোরিকশাটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।

    দুর্ঘটনায় মায়ের কোলে থাকা শিশু আরিশা অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে শিশুটি মারা যায়।

    এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুর স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়া (২৪)-কে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে হাতিটিকেও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    পুলিশ জানায়, আটক মাহুত বকুল মিয়া জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে।

    সদরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মোখলেসুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর মাহুতকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাতিটিকে থানার হেফাজতে আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

    ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনসাধারণের অভিযোগ, সড়কে হাতি নিয়ে অর্থ সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।