Author: DBC

  • গাজীপুরে সিটিতে রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে ভুগছে নগরবাসী

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    গাজীপুর হয়ে অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর প্রতিটি ট্রেনের জন্য লেভেল ক্রসিংয়ে অপেক্ষা করতে হয় কমপক্ষে ১০ মিনিট। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে যানজট।

    সড়কপথে গাজীপুর শহরের প্রবেশমুখে রেলের লেভেল ক্রসিং। এ লাইন দিয়ে দেশব্যাপী অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন। আর একটি ট্রেন আসা মানেই লেভেল ক্রসিংয়ে কমপক্ষে ১০ মিনিটের অপেক্ষা। এর প্রভাবে দিনব্যাপী আশপাশের সড়কে থাকে অসহনীয় যানজট। এতে নষ্ট হয় হাজারো কর্মঘণ্টা। তাই লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে একটি ফ্লাইওভারের দাবি দীর্ঘদিনের।

    কিন্তু আজও তা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গাজীপুর নগরবাসী।

    গাজীপুর শহরে দিন দিন প্রকট হচ্ছে যানজট সমস্যা। রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথ, শিল্পায়ন আর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীসহ জেলা শহরের সরকারি অফিসে সেবাপ্রত্যাশী হাজারো মানুষকে।

    স্থানীয়রা বলছেন, যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াতকারী জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছে বহু বছর।

    সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসন, আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ডায়াবেটিস সেন্টার, রেজিস্ট্রি অফিস, প্রধান ডাকঘরসহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে লেভেল ক্রসিংয়ের বাধা পার হতে হয়। তার ওপর রেলগেটের

    দুই পাশে সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের আধিক্য এবং ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।

    এ ছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর আড়াআড়ি বসেছে দোকানপাট। এগুলো সবই ভ্রাম্যমাণ দোকান। এদের মধ্যে ফল বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। ট্রেন কাছাকাছি এলে ফলের ঝুড়িগুলো তুলে নেন বিক্রেতারা। ট্রেন চলে গেলে আবারও বসেন একইভাবে। অনেকে ট্রেন আসার আগে লেভেল ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক ফেলার পর নিচ দিয়ে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের অনেকে সেগুলো উঁচু করে বিপজ্জনকভাবে পারাপার হন। এতে অনেক সময় ঘটেও দুর্ঘটনা।

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, লেভেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। শহরে প্রবেশের এটি প্রধান সড়ক।

    এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এখানে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।

    বোরহান উদ্দিন অরণ্য নামের এক বাসিন্দা বলেন, রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন প্রবেশের কমপক্ষে ১০ মিনিট আগে লেভেল ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক ধরে যেতে হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও আদালতে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় আটকে থাকে। একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ খুবই জরুরি। দীর্ঘ বছর যাবত প্রতিশ্রুতি পেয়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুরে নির্বাচনী জনসভায় যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মনোয়ার হোসেন রনি নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুনছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ হবে। আসলে কত দিনে তা হবে, তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    জয়দেবপুর জংশন রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হানিফ আলী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে রেলগেট বন্ধ ও খোলা হয়। যেহেতু এটি জংশন এবং প্রতিদিন প্রায় ৫২ জোড়া ট্রেন চলাচল করে, তাই বারে বারে গেট ফেলতে এবং ওঠাতে হয়।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জাইকার তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগরীর বাসন ইসলামপুর থেকে কাশিমপুর যাওয়ার জন্য দুটি সেতুও এ প্রকল্পভুক্ত আছে। নকশা তৈরিসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর শিববাড়ী থেকে জেলা পরিষদের সামনে রথখোলা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

  • একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাশে জেলা প্রশাসক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও নতুন পোশাক বিতরণ করেন।

    সাম্প্রতিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৪ জনের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শনিবার ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীনদের সার্বিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটান। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের করুণ অবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

    এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাক প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন।

  • প্রবাসির স্ত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযুক্ত দু’জন আটক

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বসতঘরে ঢুকে জোরপূর্বক প্রবাসির স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ি ও ইয়াবাখোর যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আতুয়া গ্রামে শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরবেলা।

    আটককৃতরা হচ্ছেন- করমপুর গ্রামের মসুদ আলীর ছেলে জুনেদ আহমদ (২৯) ও আতুয়া গ্রামের ফরিদ আলীর ছেলে নাজির আহমদ (২৮)।

    ভুক্তভোগি গৃহবধু, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রতিদিনের মতো প্রবাসির স্ত্রী (গৃহবধু) বসতঘরের দরজা খুলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে চার/পাঁচ যুবক ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধুকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সম্ভ্রম রক্ষায় প্রবাসির স্ত্রী ধস্তাধস্তি ও চিৎকার দিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্বজন ও প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে জুনেদ আহমদ ও নাজির আহমদকে আটক করেন। কিন্ত অন্যরা পালিয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, এরা দু’জনই ইয়াবাখোর ও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের অপকর্মে এলাকাবাসি অতিষ্ট। এছাড়া আটকদ্বয়ের একজন বড়লেখা পৌরশহরের হার্ডওয়ার ব্যবসায়ি শশাংক দত্ত অপহরণ মামলার এজাহার নামীয় তিন নম্বর আসামি।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, ভুক্তভোগির চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশিরা ধর্ষণ চেষ্টাকারি দুই যুবককে আটক করে রাখেন। দুপুরে ভুক্তভোগি মহিলা ও তিনি আটককৃতদের থানায় সোপর্দ করেছেন।

    বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) ওবায়দুল হক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সংবাদে বিএনপিকে গালি, বিতর্কে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা


    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন শাহাদত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একটি সংবাদে মন্তব্য করে নিজ দল বিএনপিকে অশালীন ভাষায় গালি দেওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির ফেসবুক পেজে “শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী” শীর্ষক একটি পোস্টের মন্তব্যে মোজাফ্ফর হোসেন আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির সমালোচনা করেন। মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোজাফ্ফর হোসেন মন্তব্যটি নিজের বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দল তাঁকে মূল্যায়ন করছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তার ব্যবসা ও সম্পত্তি দখল করেছে এবং একাধিক মামলার হুমকি দিয়েছে।

    তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া বা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে সম্প্রতি বন্যা-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও মোজাফ্ফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত দুর্গতদের পরিবর্তে তিনি নিজের আত্মীয়স্বজনের নামে ত্রাণ কার্ড বরাদ্দ দেন। কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মা, চাচা, চাচি ও এক আত্মীয়ের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    অভিযোগের বিষয়ে মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই ত্রাণ কার্ড দিয়েছেন। তার দাবি, রিকশাচালক আত্মীয় দীর্ঘদিন কর্মহীন ছিলেন, তাই তাকে সহায়তা করা হয়েছে। দল যদি এটিকে অপরাধ মনে করে, তবে সাংগঠনিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা তিনি মেনে নেবেন। তবে নিজের মা, চাচা ও চাচিকে ত্রাণ কার্ড দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    তবে স্থানীয়দের অভিযোগ- মোজাফফর বিগত সরফভাটা ইউনিয়নে যুবলীগের নেতাদের সাথে উঠা বসা ছিল, এমনকি আওয়ামীলীগ আমলে তার নামে কোন মামলা ছিল না, অবাধে ব্যবসা বানিজ্য করে এখন ত্যাগী নেতা হিসাবে পরিচয় দিয়ে দাপটে চলে।

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যুবদলের সভাপতি শাহাজাহান সিকদার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের স্ক্রিনশট তিনি দেখেছেন। তার মতে, একজন দলীয় নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য মোটেও কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • গাজীপুরের পুবাইল জয়দেবপুর ৫ কিলোমিটার সড়কের উদ্বোধন

    গাজীপুর প্রতিনিধি:
    গাজীপুরের পূবাইলে বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন ও ভ‌িত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পূবাইল-জয়দেবপুর সড়কের ৫ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে মোনাজাত পরিচালনা করেন। সংসদ সদস্যের এমন উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি হয়।

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পূবাইল-জয়দেবপুর সড়কের ইছালী ব্রিজ থেকে পূবাইল কলেজগেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক প্রশস্তকরণ, বিটুমিনাস ও আরসিসি ঢালাই, ড্রেন এবং ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কেই-বি এন্ড সি (জেভি)’।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে পূবাইল, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ ও ঘোড়াশাল এলাকার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

    দীর্ঘদিন ধরে ইছালী ব্রিজ থেকে কলেজগেট পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরা ও সরু ছিল। সামান্য বৃষ্টিতে কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে এই পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জয়দেবপুরের বাঙ্গালগাছ থেকে ইছালী ব্রিজ পর্যন্ত উন্নয়নকাজ আগেই প্রায় শেষ হয়েছে। এখন বাকি ৫ কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হওয়ায় পুরো সড়কটি একটি আধুনিক যোগাযোগপথে রূপ নিতে যাচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, এই সড়কটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, আধুনিক ও টেকসই মান বজায় রেখে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।

  • গাক উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নামোশংকরবাটি ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর সিনিয়র পরিচালক ড. মো. মাহবুব আলম। ক্যাম্পে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান এবং ছানি রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।

    এ সময় বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ সেবা গ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় অপারেশনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে তারা জানান।

  • শিক্ষক কেবল জ্ঞানদানকারী নন, তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস: কুবি উপাচার্য 


    কুবি প্রতিনিধি:
    একজন শিক্ষক কেবল জ্ঞানদানকারী নন, তিনি শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস’, বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।

    শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও একাডেমিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ৭ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, উদ্ভাবন ও আন্তঃবিষয়ক গবেষণার যুগ। এ বাস্তবতায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতিতে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষক কেবল জ্ঞানদানকারী নন, তিনি শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস। তাই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

    শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিস ইউনিট’ চালু করতে যাচ্ছি। এই ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে খাবারের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট সেবা ইউনিটগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের নতুন ক্যাম্পাসকে একটি ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, শিখন-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

    অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে উপাচার্য ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।

  • প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের পক্ষ থেকে নাঙ্গলমোড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ৪র্থ দফায় ত্রাণ বিতরণ


    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত নিম্নআয়ের ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৪র্থ দফায় খাদ্যসামগ্রী ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
    ত্রাণ বিতরণকালে হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক, নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং চমেক হাসপাতালের এডহক কমিটির সদস্য আলহাজ সালাউদ্দীন আলী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার এক হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কৃষিজমি এবং জীবিকার উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর নির্দেশনায় ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
    তিনি বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য”— এই মানবিক দর্শনকে ধারণ করেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে মানবিক দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
    নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগম, ইউপি সদস্যা নিলুফার ইয়াসমিন, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আজম, হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ও নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু, উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সেলিম হাসান, যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সুবিধাভোগী।
    বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি-এর পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • তিন মাসের শিশুর মৃত্যু: শনিআখরা পপুলার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিআখরা এলাকায় অবস্থিত পপুলার হাসপাতালে কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাত্র তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে দ্রুত শনিআখরা পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেন যে শিশুটির অবস্থা গুরুতর নয় এবং যথাযথ চিকিৎসা দিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে চিকিৎসা চলাকালে শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও পরিবারের দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    স্বজনদের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করার পরও যথাসময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান কিংবা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের সন্তানকে হারাতে হয়েছে।

    শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    নিহত শিশুর স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে সুস্থ করার আশায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আমাদের বুক খালি হয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

    এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসায় অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে যদি চিকিৎসাগত গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    এ ঘটনায় এলাকাবাসীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান, জবাবদিহিতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগে যদি চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মেলে, তবে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • ডিবির জালে দুই মাদক কারবারি ইয়াবা-দেশীয়মদ নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবির) বিশেষ অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৩ পিস ইয়াবাট্যাবলেট, ১.৭০ লিটার কেরু ব্র্যান্ডের দেশীয় মদ এবং মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ই জুলাই) সন্ধ্যায় কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে লহরাজপুর গ্রামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুলাউড়া উপজেলার লহরাজপুর গ্রামের মো. আব্দুল বাজিদ (৪০) এবং বর্তমানে একই এলাকায় বসবাসকারী কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার কামাল (৪২)।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই (নিঃ) আহলাদ ইবনে জামিল, পিপিএম-এর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দু’জন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

    পরে তল্লাশিকালে আটককৃত আব্দুল বাজিদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দোকান থেকে ১.৭০ লিটার দেশীয় মদ এবং মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
    অপরদিকে কামালের কাছ থেকে আরও ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ইয়াবা ও মদ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এছাড়া সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল বাজিদ ও কামাল উভয়ের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি দ্বয়কে শনিবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।