Author: DBC

  • তিন মাসের শিশুর মৃত্যু: শনিআখরা পপুলার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিআখরা এলাকায় অবস্থিত পপুলার হাসপাতালে কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মাত্র তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

    পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে দ্রুত শনিআখরা পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেন যে শিশুটির অবস্থা গুরুতর নয় এবং যথাযথ চিকিৎসা দিলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে চিকিৎসা চলাকালে শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও পরিবারের দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    স্বজনদের ভাষ্য, শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকদের কাছে বারবার অনুরোধ করার পরও যথাসময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান কিংবা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের সন্তানকে হারাতে হয়েছে।

    শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

    নিহত শিশুর স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে সুস্থ করার আশায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আমাদের বুক খালি হয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”

    এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসায় অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে যদি চিকিৎসাগত গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

    এ ঘটনায় এলাকাবাসীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান, জবাবদিহিতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে, এ ঘটনায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, অভিযোগে যদি চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মেলে, তবে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • ডিবির জালে দুই মাদক কারবারি ইয়াবা-দেশীয়মদ নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবির) বিশেষ অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৩ পিস ইয়াবাট্যাবলেট, ১.৭০ লিটার কেরু ব্র্যান্ডের দেশীয় মদ এবং মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ই জুলাই) সন্ধ্যায় কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে লহরাজপুর গ্রামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুলাউড়া উপজেলার লহরাজপুর গ্রামের মো. আব্দুল বাজিদ (৪০) এবং বর্তমানে একই এলাকায় বসবাসকারী কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার কামাল (৪২)।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই (নিঃ) আহলাদ ইবনে জামিল, পিপিএম-এর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দু’জন পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।

    পরে তল্লাশিকালে আটককৃত আব্দুল বাজিদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দোকান থেকে ১.৭০ লিটার দেশীয় মদ এবং মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
    অপরদিকে কামালের কাছ থেকে আরও ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

    জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ইয়াবা ও মদ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এছাড়া সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল বাজিদ ও কামাল উভয়ের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামি দ্বয়কে শনিবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

  • ‎নাসিরনগরে প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন (প্রাচাস) এর পক্ষ থেকে সাংসদ সদস্য এমএ হান্নানকে গণ সংবর্ধনা প্রদা

    ‎

    ‎স্টাফ রিপোর্টার:

    ‎

    ‎নাসিরনগরের গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এমএ হান্নান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাকে গণ-সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে ।

    ‎আজ শনিবার সকালে  গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সংগঠনের (প্রাছাস) এর আয়োজনে  এ গণ-সংবর্ধনার দেয়া হয়।

    ‎গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

    ‎

    ‎এসময় গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে  সংসদ সদস্য এম এ হান্নানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় । গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সংগঠনের আহবায়ক আবুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,

    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের নব নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব এমএ হান্নান।

    ‎

    ‎গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমএ হান্নান বলেন,

    ‎আমি গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন  ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত এবং আমাকে নির্বাচিত করায়  আপনাদের কাজে চিরকৃজ্ঞ। আমি সকলের সহযোগিতা নিয়ে  যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নাসিরনগরকে আধুনিক রূপে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা চাই। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক  হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি জনাবা শাহীনা নাছরীন।

    ‎বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,

    ‎অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কবি মফিজ উদ্দিন আহমেদ ফরিদ

    ‎বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ ছগির,

    ‎নাসিরনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ রমজান আলী,

    ‎গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সনজিৎ কুমার দেব,

    ‎প্রাছাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি কেএম খালেদ,

    ‎প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান,প্রাক্তন শিক্ষক মারুফ আলী মাষ্টার,

    ‎উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও প্রাক্তন ছাত্র আজিজুর রহমান চৌধুরী,

    ‎উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আরাফাত উল্লাহ

    ‎ও নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের সভাপতি জনাব সৈয়দ আবু সারোয়ার।

    ‎

    ‎প্রাছাসের সদস্য সচিব আশরাফ উদ্দিনের ও সৈয়দ এহসানুল কাদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,

    ‎প্রাছাসের সদস্য হাফিজুর রহমান খান শিবলী।

    ‎গণ সংবর্ধনা সভায় ইউনিয়ন বিএনপির  সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল আহমেদ, উপজেলা জাসাসের আহবায়ক সৈয়দ আবেদ উল্লাহ নিউটন, প্রাছাসের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ আজাদ, প্রাছাসের সদস্য তোষার মোল্লা, প্রাছাসের যুগ্ম-আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী সোহাগসহ স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    ‎

    ‎অনুষ্ঠানে গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতাসহ ৬ জনকে মরণোত্তর ও ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

    ‎এসময় গোকর্ণ সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী- শিক্ষকমন্ডলী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    ‎

  • জমকালো আয়োজনে ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা, নগদ অর্থ ও হুইল চেয়ার বিতরণ

    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    নানা রঙে ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো SSC ১৯৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা। আনন্দঘন এই উৎসবের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সহযোগিতার হাত। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গ্রিন পয়েন্ট রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলনমেলাটি শুধু বন্ধুদের পুনর্মিলনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল একটি মানবিক মহোৎসবে।

    সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন অসহায় ও পঙ্গু মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ৮টি হুইলচেয়ার এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
    দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্ধুদের ঢল নামে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলা সদরসহ গৌরীপুর, ভালুকা, ত্রিশাল, ধোবাউড়া, ফুলবাড়ীয়া, মেলান্দহ ও হালুয়াঘাট উপজেলার প্রায় ৩০০ জন বন্ধু এই মিলনমেলায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন পুরোনো বন্ধুরা। স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর হাসিগল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ।

    অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ৯৩ ব্যাচের উদ্যমী বন্ধু শাহ কামাল, কাহার ও আনোয়ারসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।

    আয়োজকরা জানান, বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মিলনমেলার শেষাংশে উপস্থিত বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • আওয়ামী লীগ নেতার বাগান নিয়ে ভাইরাল ভিডিও; প্রমাণ চাইল উপজেলা বিএনপি, না দিলে বহিষ্কারের সতর্কতা

    লংগদু রাংগামাটি প্রতিনিধি:

    রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার সেগুন বাগান থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

    গত ১৭ জুলাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে এ নোটিশ জারি করা হয়।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাক দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজুল আজীম ফয়েজের একটি সেগুন বাগান থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করেছে উপজেলা বিএনপি। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

    তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, “দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে।”

    শোকজ নোটিশে রাজ্জাককে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তার বক্তব্যের স্বপক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

  • জমকালো আয়োজনে ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা, নগদ অর্থ ও হুইল চেয়ার বিতরণ


    ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
    নানা রঙে ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো SSC ১৯৯৩ ব্যাচের বন্ধুদের সংগঠন ‘আমরা ৯৩’ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ব্যাচের মিলনমেলা। আনন্দঘন এই উৎসবের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সহযোগিতার হাত। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গ্রিন পয়েন্ট রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মিলনমেলাটি শুধু বন্ধুদের পুনর্মিলনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল একটি মানবিক মহোৎসবে।

    সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন অসহায় ও পঙ্গু মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ৮টি হুইলচেয়ার এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য নগদ ২ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
    দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্ধুদের ঢল নামে। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলা সদরসহ গৌরীপুর, ভালুকা, ত্রিশাল, ধোবাউড়া, ফুলবাড়ীয়া, মেলান্দহ ও হালুয়াঘাট উপজেলার প্রায় ৩০০ জন বন্ধু এই মিলনমেলায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন পুরোনো বন্ধুরা। স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর হাসিগল্পে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ।

    অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ৯৩ ব্যাচের উদ্যমী বন্ধু শাহ কামাল, কাহার ও আনোয়ারসহ আরও বেশ কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য।

    আয়োজকরা জানান, বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মিলনমেলার শেষাংশে উপস্থিত বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি গঠন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় আম গবেষণা কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মো. আবুল কাসেম। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাংবাদিক এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মো. রবিউল ইসলাম। সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন আলহাজ্ব শহীদ হাবিবুল্লাহ আল মাহমুদ, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মো. এনামুল হক নাসিম, মহাসচিব পদে মো. শাহীন আকতার, যুগ্ন -মহাসচিব পদে মো. ইমাম হাসান জুয়েল, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আবুল কাসেম, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. রিপন আলী, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক পদে মো. বিপ্লব হাসান এবং সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ ও মনিরুল ইসলাম মুনির। সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সদস্যদের মাসিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধসহ সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
    নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ঐক্য, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক ও ট্রাক মালিক গ্রুপের নবনির্বাচিত সদস্যদের চেম্বারের শুভেচ্ছা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চেম্বারের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহেদ নবনির্বাচিত সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সফল দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, পরিচালক আলহাজ মো. শুকুরুদ্দিন, মো. মনিরুল ইসলাম মুনি, শহিদুল ইসলাম শহীদ, আরিফ উদ্দিন ইতি, সাবেক সহ-সভাপতি মো. মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম এবং ব্যবসায়ী শামসুল হক গানুসহ চেম্বারের অন্যান্য সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সড়ক পরিবহন ও ট্রাক মালিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে জেলার পরিবহন খাতের উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ সংরক্ষণে নবনির্বাচিত কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা নতুন কমিটির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

  • প্রয়ত মান্নান তালুকদারের স্বরণ সভায় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে সাবেক এমপি আব্দুল মান্নান তালুকদারের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীর স্বরণ সভায় বিদুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ কথা বলেন।

    ১৮ জুলাই শনিবার রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে দিনব্যাপী স্বরণ সভা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন সারাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।সাবেক এমপি মান্নান তালুকদারের স্বরণ সভায় মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ কথা বলেন

    উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম। পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান মিরনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এমপি ভিপি আয়নুল হক, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ, প্রয়াত এমপি মান্নান তালুকদারের সু্যোগ্য পুত্র সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য রাহিদ মান্নান লেলিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হাতেম আলী সুজন, রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি খায়রুল মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সলঙ্গা থানা যুবদলের আহবায়ক রাশেদুল হাসান পাপন।

    বক্তারা আব্দুল মান্নান তালুকদারের রাজনৈতিক কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে বলেন, তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মরহুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ছিলেন, রাজনীতিতে তার নীতি আর্দশ ত্যাগ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, আব্দুল মান্নান তালুকদারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্থানীয় এমপি ভিপি আয়নুল হককে উন্নয়ন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আহবান করেন।

    ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর বিদ্রেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। । উল্লেখ্য গত১৮ জুলাই ২০২৫ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ছাত্রদল সেচ্ছাসেবক দল কৃষক দল তাঁতীদল ওলামা দল জাসাসের হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বরণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

  • চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে জুয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শহরে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডও দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

    এমনই একটি অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং থানাধীন হাড্ডি কোম্পানি এলাকার একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত কথিত জুয়ার আসরকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ জুয়া বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দিন-রাত প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ওই স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে অংশ নেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয় বলে তাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এ কারণে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারও এ কারণে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করেন, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হতে হয়। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার্থে নিয়মিতভাবে ডবলমুড়িং থানার কিছু কর্মকর্তার কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে ডবলমুড়িং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ দেন, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলাম উদ্দিনও নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কাজ করে খাই। সবাইকে দেই।” তবে তিনি “সবাইকে দেই” বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

    আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালিত হলে তা শুধু জুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এর সঙ্গে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

    এলাকার সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।