Author: DBC

  • কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

    স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

    গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

    স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

    এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

  • ভাঙন থামাতে বিষখালী নদী তীরে জরুরি জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম উদ্বোধন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঝালকাঠির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সভার আগে ট্রলারে করে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয় এবং নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মামুন আল ইসলাম, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    পরে বড়ইয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বিষখালী নদীর ভাঙন পরিস্থিতি, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশা।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম. নিলয় পাশা বলেন, বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বড়ইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে চারটি প্যাকেজের আওতায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর এ অংশে একটি স্থায়ী নদী সংরক্ষণ প্রকল্প (স্কিম) গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, বিষখালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত স্থায়ী প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে।

  • সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস যুবসমাজ রক্ষায় রাজপথে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ

    হালুয়াঘাট প্রতিনিধি :

    এক সময় যে সীমান্ত দিয়ে সাবান, শ্যাম্পু, চিনি, তেল কিংবা জিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চোরাচালান হতো, আজ সেই পথেই হালুয়াঘাটে ঢুকছে মরণনেশা মাদক। হালুয়াঘাটে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও প্রতিবেশী দেশ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুট দিয়ে আসা বিষাক্ত মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। কিছু অসাধু ও অর্থলোভী মানুষের কারণে আজ ঘরে ঘরে সন্তান ও পরিজনেরা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যারা আমাদের মৌলিক চাহিদাকে পুঁজি করে চোরাচালান করত, তারাই আজ সুকৌশলে আমাদের যুবসমাজের শরীর, মন ও মানসিক চিন্তাশক্তি কেড়ে নিতে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এই দেশদ্রোহীদের রুখে দিতে এবং হালুয়াঘাটকে দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। গঠিত হয়েছে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’

    এক মঞ্চে প্রশাসন, আলেম সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে হালুয়াঘাটকে মুক্ত করতে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছে।

    এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হয়েছেন
    স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ওলামা ও আলেম সমাজ
    শিক্ষিত তরুণ, ছাত্রসমাজ এবং অভিজ্ঞ মুরুব্বিগণ

    লক্ষ্য দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা
    সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো হালুয়াঘাট থেকে মাদক সেবনকারী ও অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে নির্মূল করা। অর্থের লোভে যারা নিজেদের সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    এ বিষয়ে এলাকার বিজ্ঞ মুরুব্বি ও সচেতন নাগরিকরা অত্যন্ত আশাবাদী। তারা মনে করছেন, তরুণদের এই ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা এবং প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা অচিরেই হালুয়াঘাটকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত আদর্শ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

  • লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে : তানভীর জিহান

    লোহাগাড়ারা চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

    লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিকে ঘিরে সভাপতি প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন তানভীর জিহান । বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
    দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ, কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সভাপতি প্রত্যাশী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। এছাড়া, বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের গণআন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
    স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আলোচনায় কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে তানভীর জিহান এর নামও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
    এ বিষয়ে তানভীর জিহান বলেন, “দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। আমার লক্ষ্য সব সময় দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া।”

  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টা ওমর ফারুক সুমনের পাশে জনতা


    হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

    ময়মনসিহের হালুয়াঘাট উপজেলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সুপরিচিত ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমনের(আনন্দ টিভি) বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সচেতন মহল। এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা এবং সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন তারা।

    সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ওমর ফারুক সুমনের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত সততা নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ফেসবুকে প্রচার করছে। এই পোস্টগুলোতে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। অথচ তার সাংবাদিকতা সবসময় সাহসিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষ, সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সাংবাদিক সুমনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    স্থানীয় সাংবাদিক ফোরামের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ওমর ফারুক সুমন একজন সাহসী ও সততার মূর্ত প্রতীক। তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অনেক দুর্নীতি ও অনিয়ম সামনে এনেছে। যারা সমাজবিরোধী কাজের সাথে জড়িত, তারা এই ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে তার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। তবে আমরা তার পাশে আছি এবং এই ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানাই।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওমর ফারুক সুমনের বিরুদ্ধে হওয়া এই নেতিবাচক প্রচারণার বিপরীতে মানুষ তার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই পোস্ট লিখে এবং মন্তব্য করে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফেসবুক পেজের অনেকেই মন্তব্যে বলেছেন, তারা সাংবাদিক সুমনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং এই ধরনের অপপ্রচারে তারা বিভ্রান্ত হবেন না।

    ওমর ফারুক সুমন বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং এই পথে চলতে গিয়ে সত্য প্রকাশে পিছুপা হইনি। আমি জানি, সত্য প্রকাশ করলে অনেকেই অখুশি হয়। এই অপপ্রচারগুলো আমার সততারই প্রমাণ। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব এবং এই ধরনের মিথ্যার সামনে কখনো মাথা নত করব না।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিন : বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি

    স্টাফ রিপোর্টার, যাত্রাবাড়ি, প্রতিনিধি:

    আজ ১লা জুলাই-২০২৬ রোজ বুধবার বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির আহ্ববায়ক(রিদওয়ান হাসান) ও সদস্য সচিব(সালাউদ্দিন জাহাঙ্গীর) এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সেই আত্মত্যাগ কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং জাতির ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। সেই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

    গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছিল। জনগণ মনে করেছিল, ক্ষমতার প্রতীক একটি ভবনকে জনগণের স্মৃতির ভাণ্ডারে পরিণত করা হবে একটি নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জাদুঘরটি এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।

    বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি মনে করে, একটি জাতির ইতিহাস সংরক্ষণে অযথা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উদ্বোধনের তারিখ বারবার পিছিয়ে যাওয়া, প্রশাসনিক ধীরগতি এবং অনিশ্চয়তা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। ইতিহাসকে যত বেশি বিলম্বিত করা হবে, ততই সেই ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও সংযোগ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

    জুলাই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা সরকারের সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের স্মারক। এখানে শুধু একটি ভবন সংরক্ষণ নয়, বরং একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, বেদনা, সাহস এবং প্রতিরোধের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন নিজ চোখে সেই ইতিহাস জানতে পারে, গবেষকরা যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও দলিল সংগ্রহ করতে পারেন এবং দেশ-বিদেশের মানুষ যেন বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন—সেজন্য জাদুঘরটি দ্রুত উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।

    আমরা মনে করি, জাদুঘরটি শুধু প্রদর্শনীর স্থান না হয়ে গবেষণা, আর্কাইভ, শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতার একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। সেখানে শহীদদের জীবন, আহতদের সংগ্রাম, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিও, দলিল, দেয়াললিপি, পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে এ জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্মৃতি-প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

    আমরা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি—

    * অবিলম্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
    * উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ার কারণ জাতির সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
    * জাদুঘরের পরিচালনা ও সংরক্ষণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
    * গবেষক, ইতিহাসবিদ, শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর পরিচালনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
    * জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দলিল, স্মারক ও তথ্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

    জুলাইয়ের ইতিহাস কোনো ফাইলের ভাঁজে বা প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকার ইতিহাস নয়। এটি জনগণের ইতিহাস। এটি একটি জাতির আত্মত্যাগ, সাহস ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

  • নেত্রকোনার গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি: কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলো। একসময় গ্রামবাংলার ছেলেমেয়ে পড়াশোনা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে বিভিন্ন ধরনের খেলায় কাটাত। এর মধ্যে কুস্তি খেলা, কানামছি, দাড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, ঘোড়া দৌড়, ফুটবল, লবণ কোঠা, গোল্লাছুট, লাঠি খেলা এবং পানিতে নেমে টগা, দীর্ঘ লাফ, মোরগ যুদ্ধ খেলা ছিল অন্যতম। এসব খেলার কথা এখন শুধু মুখে মুখেই শোনা যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় নেত্রকোনায় গ্রাম বাংলার বিনোদনের উৎস এসব খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার কিছু প্রচলন থাকলেও গ্রামাঞ্চল থেকে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাধুলা প্রায় বিলুপ্তির পথে। পূর্বে প্রতিটি গ্রামের স্কুলের মাঠ, বাড়ির পাশের খালি জমি, হাট-বাজারের মাঠে প্রতিদিন বিকালে কুস্তি খেলা, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হতো। এসব প্রতিযোগিতায় টেলিভিশন, রেডিও, গরু, ছাগল, খাসি, কাপ, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপহার দেওয়া হতো। বিজয়ীদের নিয়ে আসা পুরস্কার গরু-ছাগল দিয়ে আর প্রতিটি বাড়ি থেকে চাল তুলে চলত গ্রাম্য ভোজের আয়োজন। এই প্রতিযোগিতায় কুস্তি খেলা ও ফুটবল খেলা এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রাম, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়া, এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিবাহিত ও অবিবাহিত, হিন্দু ও মুসলমান এভাবে খেলা চলত।

    গ্রামের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে এসব খেলা দেখে খুবই আনন্দ পেত। গ্রাম ও শহরের প্রতিটি বাড়ির ছোট বড় ছেলেরা বিভিন্নভাবে কুস্তি খেলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করত। একই রকম ছিল হা ডু ডু খেলার ঐতিহ্য। আধুুনিক বাংলাদেশে বর্তমানে ক্রিকেট খেলার কারণে সেই হা ডু ডু খেলাও হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে কুস্তি ও হা ডু ডুসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যেন রূপ কথার গল্পের মতো। এমন এক সময় ছিল যে, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে খেলায়াড় ভাড়া করে নেওয়া হতো কুস্তি খেলার জন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রাম ও ক্লাব পর্যায়ে প্রতিযোগিতার খেলায় যে আমেজ ছিল তার মজা একমাত্র যারা এই খেলা দেখেছেন তারাই বলতে পারেন। প্রতিদিন স্কুলে ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এসে বিকেলে নিজ বাড়ির উঠানে ও পাশের খালি মাঠে কানামাছি ও ভলিবল খেলত। সন্ধ্যা হলেই খেলা ছেড়ে ছেলেমেয়েরা প্রদীপ বা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে বসত। লুডু খেলাও ছিল অন্যতম খেলার মতো একটি প্রিয় খেলা। অবসর পেলেই ছোট-বড়, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, স্বামী-স্ত্রী সবাই নিজ ঘরের বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে লুডু খেলতে বসত। লুডু খেলায়ও চলত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বৃষ্টি নামলেই লুডু খেলা আর খই ও তেল মরিচ পেঁয়াজ মাখানো মুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে যেত।

    অন্যদিকে তাস খেলাও একটি জনপ্রিয় শখের খেলা ছিল। মানুষ অবসর পেলেই আড্ডা আর তাস খেলায় মেতে উঠত। তবে বর্তমানে তাস দিয়ে সর্বনাশা জুয়া খেলা হয় বলে এর ঐতিহ্য অনেকটাই অম্লান হয়ে গেছে। লাটিম খুবই প্রাচীন একটা খেলা। ছোট-বড় সবাই বিকাল হলেই লাটিম খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। প্রতিযোগিতায় লাগত কে কার লাটিম ফাটাতে পারে। এর মধ্যে অন্য একটি প্রতিযোগিতা ছিল কে কত বড় লাটিম বানাতে পারে। লাটিম ঘোরার ভোঁ ভোঁ শব্দ মানুষের মনকে আনন্দ দিত।নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী পুরোনো দিনের খেলাধুলার কথা বলতে তারা এটাকে শুধুই গল্প ছাড়া আর কিছু মনে করে না। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দৈনন্দিন জীবন কর্মব্যস্ততার কারণে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো বিলুপ্তির পথে। মানুষের নিত্য বিনোদনের জন্য এসব খেলা আবার ফিরিয়ে আনা উচিত। এতে এক দিকে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মকে উপহার দেওয়া যাবে। অপরদিকে অবসর সময়ে খেলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এজন্য এসব খেলাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও ব্যায়াম, বেসরকারি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান, ক্লাব ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।

  • নেত্রকোনায় আমন মৌসুমে সরকারি বীজে কৃষকের অনিহা প্রকাশ, খোলা বাজারেই একমাত্র ভরসা


    নেত্রকোনা প্রতিনিধি:নেত্রকোনায় আমন মৌসুমে সরকারি বীজের উপর নেই কৃষকের ভরসা। তাই আমন মৌসুমকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কৃষকদের মধ্যে এবার সরকারি প্যাকেটজাত বীজের পরিবর্তে খোলা বীজ কেনার প্রবণতা বেড়েছে। গত মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ করা বীজ ব্যবহার করে ক্ষতির মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা এবং তুলনামূলক বেশি দামের কারণে অনেক কৃষক এবার স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খোলা বীজ সংগ্রহ করছেন।এদিকে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার গোপালপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়,খোলা বাজারে সারিবদ্ধভাবে বস্তাভর্তি ধানের বীজ নিয়ে বসেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেখানে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-১০৩, তেজপাতাসহ বিভিন্ন জাতের বীজ বিক্রি হচ্ছে। বাজারে শনিবার ও মঙ্গলবার হাটের দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এসে এসব খোলা বীজ কিনছেন।

    এদিকে বারহাট্টা উপজেলার এক কৃষক তপন চৌধুরী জানান, তিনি এবারও প্রায় ৫০ মণ ধানের বীজ সংরক্ষণ করেছেন। তার উৎপাদিত বীজের মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এসে বীজ কিনছেন। তিনি আরও জানান, তার উৎপাদিত বীজ অতীতেও সরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হয়েছে। আসমা গ্রামের কৃষক লোকমান মিয়া বলেন, এখানে যারা বীজ বিক্রি করেন, তারা নিজেরাই ভালো কৃষক। তাদের কাছ থেকে বীজ কিনলে কোনো সমস্যা হয় না। তাই আমি নিজেও খোলা বীজ কিনতে এসেছি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারহাট্টা বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছ থেকে মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করে নিয়মিত বিক্রি করেন। তাদের মধ্যে চাকুয়া গ্রামের তাবিল মিয়া, গুমুরিয়া গ্রামের হাসেম মিয়াসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, গত মৌসুমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ করা বীজ ব্যবহার করে অনেকেই আশানুরূপ ফলন পাননি। পাশাপাশি এসব বীজ তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হয়েছে। ফলে এবার তারা খোলা বাজারের বীজের প্রতিই বেশি আস্থা রাখছেন।

    অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর বারহাট্টায় অতিরিক্ত দামে বীজ বিক্রির বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর বাজার তদারকি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রস্তুত করা ২ হাজার ২৪৯ জনের প্রণোদনার তালিকায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম বাদ দিয়ে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ ও মানববন্ধন হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, বারহাট্টায় যারা প্রকৃত কৃষক আছেন, তাদের কাছ থেকে বীজ কিনলে কোনো সমস্যা নেই। আর বাজার তদারকির জন্য আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কৃষকদের দাবি, বাজার তদারকি আরও জোরদার করা, মানসম্মত বীজ নিশ্চিত করা এবং কৃষি প্রণোদনার তালিকায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

  • ভৈরবে মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত

    ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে ও বিষয়টি ফেসবুকে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার পর জানা যায়

    মোঃ মাসুদ মিয়া ৪২ । পিতা- মৃত আসাদ মেম্বার। গ্রাম -মাইজচর শ্যামপুর পারা।পোস্ট অফিস -দিলালপুর, উপজেলা -বাজিতপুর, জেলা -কিশোরগঞ্জ।

    পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    নৃশংসভাবে নিহত মাসুদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    পরিবারের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা বলেন, এমন নৃশংস ঘটনার সঠিক বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পরিবারটি চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ফাঁসি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

  • গাজীপুর সদর উপজেলার সকল দপ্তর নগরীতে

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুর সদর উপজেলাধীন এলাকায় একসময় ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। ২০১৩ সালে গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভাকে একত্র করে এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর কিছু এলাকা নিয়ে যাত্রা শুরু হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক)। একই সঙ্গে অবশিষ্ট দূরবর্তী দুটি ইউনিয়ন পরিষদকে চারটিতে রূপান্তরিত করে পুনর্বিন্যস্ত গাজীপুর সদর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

    কিন্তু উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, সরকারি সব দপ্তর ও নাগরিক সেবা সেই সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকাতে থেকে গেছে। কোনো কার্যালয়ই সদর উপজেলার ভূখণ্ডে স্থানান্তর করা হয়নি। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর নানা শর্ত পূরণ না হওয়ায় সদরের কোনো পৌরসভাও নেই। এমনকি উপজেলাবাসীর জন্য নিজ এলাকায় নেই কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

    ফলে এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকারের যেকোনো ধরনের সেবা নিতে উপজেলাবাসীকে যেতে হচ্ছে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরের সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায়। এতে নিত্য ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সদর উপজেলাবাসীকে।

    জানা গেছে, ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর পূর্বের সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন থেকে যায়। এর মধ্যে মির্জাপুর ইউনিয়নকে পুনর্বিন্যাস করে ভাওয়ালগড় ও পিরুজালী নামের আরও দুটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। এ ছাড়া রয়েছে বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ। সব মিলিয়ে চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় সদর উপজেলা। আয়তনের দিক দিয়ে ছোট হলেও উপজেলাটি শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত হওয়ার কারণে এখানে বেশি মানুষের বসবাস। প্রায় ৮ লাখ মানুষের বসবাস এখানে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশন গঠনের আগে বর্তমান গাজীপুর মহানগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এলাকায় উপজেলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় ছিল।

    বর্তমানে এই কার্যালয় থেকে পরিচালিত হচ্ছে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সদর উপজেলার সব ধরনের কার্যক্রম। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, শিক্ষা অফিস, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সরকারি সব দপ্তর মহানগরীতে রয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা পেতে। কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ছাড়া কোনো স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই এখানে। শুধু থানা-পুলিশের কার্যক্রম নিজ ভূখণ্ডে রয়েছে।

    সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের শুধু নামে উপজেলা রয়েছে। নাগরিক সুবিধা পেতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এখানে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও নেই। ইউনিয়নের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পাশের শ্রীপুর উপজেলায় যতে হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে সেবা নিতে হয়। সরকারি দপ্তরের সেবা পেতে ভোগান্তির শেষ নেই। যেতে হয় মহানগরীতে।’

    শিরিরচালা গ্রামের বাসিন্দা সুমন হায়দার বলেন, ‘সরকারি কোনো একটি দপ্তর আমাদের উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ভেতর নেই। কোনো প্রয়োজন হলেই মহানগরীতে যেতে হয়। সামান্য একটি জন্মনিবন্ধনের সংশোধন করতেও ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।’

    একই ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানান রাজনৈতিক নেতারাও। গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সদর উপজেলা নামে থাকলেও উপজেলার সীমানায় কোনো সরকারি দপ্তর নেই। দাপ্তরিক সেবা নিতে এই উপজেলার মানুষের অনেক কষ্ট, ভোগান্তি হচ্ছে। যাতায়াত খরচ হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। বর্তমান সংসদ সদস্য আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি আমাদের নাগরিক সমস্যার সমাধান হবে।’

    এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে গত শুক্রবার গাজীপুর সদর উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনসহ সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিজ ভূখণ্ডে নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। উপজেলার হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

    গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার আগে থেকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়টি এখানে (মহানগরীতে) অবস্থিত। তবে নাগরিক সেবা নিতে সদর উপজেলাবাসীর ভোগান্তি হচ্ছে, এটা সঠিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।’

    জানতে চাইলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সমস্যাটি নতুন নয়। সরকারের কার্যালয় স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। জনসাধারণের চিকিৎসাসেবাসহ অনন্য সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

    এ বিষয়ে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর উপজেলা)

    আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি,দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।