Author: DBC

  • রায়গঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা


    সিরাজগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা:

    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন, পাড়া মহল্লা গুলোতে এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

    স্থানীয়রা বলছেন এবারের আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আমেজ এখন থেকেই জমে উঠেছে, কারণ আত্মপ্রকাশ করা প্রত্যেকটি প্রার্থী যেনো কেউ কারো তুলনায় কোন অংশেই কম নয়। আর তাইতো জনগণের মন জয় করে যে কোন একজনকে বিজয়ী হতে গেলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা ।

    স্থানীয়রা আরো বলছেন ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষের সাথে গণসংযোগ, মতবিনিময়, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি সহ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিজের কার্যদক্ষতা প্রকাশ করছেন।

    আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক‌‌‌ জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা যুবদল, স্বৈরাশাসক ও ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জনাব তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশের মধ্যে প্রথম পোস্টারিং করে কারাবরণ করেন। তিনি ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ-২৪ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন কিন্তু বিএনপির নেতৃবৃন্দের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন শেখ আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল।

    শেখ আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল রাজনীতিতে একজন পরিচিত ও কর্মী বান্ধব এবং জনবান্ধব নেতা। তিনি মুলত ছাত্র জীবন (৯০ এর দশক) থেকেই রাজনীতিতে আসেন এবং কলেজ, উপজেলার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন আস্থাভাজন নেতায় পরিনত করেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সংগঠনের একজন নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন।

    অপরদিকে আরেকজন হেভি ওয়েট প্রার্থী হলেন, হাসিল হোসেন কুমার গাড়া, ব্রহ্মগাছা ইউনিউনের কৃতি সন্তান, ধর্ম ভীরু, দেশ প্রেমিক, শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এ বি সিদ্দিক ফিরোজ। দাদা ছিলেন ব্রিটিশ ও পাক ভারত পিরিয়ডের সময় জমিদার, বাবা একজন মাওলানা এবং সাবেক শিক্ষক, নানা ছিলেন ব্রিটিশ ও পাক ভারত পিরিয়ডের সময় জমিদার এবং ধানগড়া ইউনিয়নের একজন ন্যায় পরায়ণ প্রভাব শালী চেয়ারম্যান ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একজন সহযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান

    এবি সিদ্দিক ফিরোজ স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের কাছে একজন হেভি ওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। মানুষের সাথে গণসংযোগ, মতবিনিময়, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি থাকেন। উপজেলার প্রত্যেকটি পাড়া, মহল্লা, গ্রামে চায়ের দোকানে যার নাম শুনামের সহিত ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে, সকল প্রার্থীদের তুলনায় তিনি কম বয়সি, তরুণদের প্রথম পছন্দ তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা করেন রায়গঞ্জ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা।

    এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের জনগন বলেন এবি সিদ্দিক ফিরোজ একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ, সাধারণ মানুষের দুঃসময়ের কান্ডারী, তাই তার মত একজন পরিষ্কার মনের মানুষকে তারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।
    এবি সিদ্দিক ফিরোজ বলেন তিনি সকল প্রার্থী, সকল জনগণের সাথে সুসমপর্ক বজায় রেখে কাজ করবেন এতে জনগন যাকেই নির্বাচিত করুক তার প্রতি তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এবি সিদ্দিক ফিরোজ একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনা রয়েছে।

    ইতোমধ্যে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ হতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করেছে দলটি । আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর পক্ষ হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, আরেক হেভি ওয়েট প্রার্থী, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম আব্দুস সাত্তার। বিগতকালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কালীন সময়ে, আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিগত নির্বাচন গুলোতে তিনি ক্ষমতাশালী দল আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। আবারো তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার, হেভি ওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

    এদিকে সলংগা থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল মান্নান তালুকদার এর আস্থাভাজন, সমাজ সেবক ও সংগঠক, রাশেদুল হাসান তালুকদার পাপন। বর্তমানে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়েও আলোচনা চলছে । যদিও বা এখন পর্যন্ত নিজে থেকে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি, তবে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট ও বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার এর মাধ্যমে প্রকাশ করছেন তাকে রায়গঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।

    অপরদিকে আরো একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজসেবক দুলাল হোসেন খান। তিনি ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন এই প্রার্থী, চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ এবং মতবিনিময়।

    আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ব্যারিস্টার আব্দুল বাতেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোকাদ্দেস হোসেন সোহান, ও মোঃ সাব্বির আহমেদ, প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে আলোচনায় রয়েছেন।

    স্থানীয় সাধারণ ভোটার এবং সচেতন মহলের একাংশ বলছেন নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে যেই আসুক না কেন, আমরা চাই সাধারণ মানুষের ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদান এবং সমাজের গরীব দুস্থ অসহায় মানুষদেরকে সঠিকভাবে সরকারি সেবা প্রদান করবেন, যার দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে এমন একজন সেবক।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাক চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার সারেংকান্দি গ্রামের হাসিন সিকদারের ছেলে মো. সোলেমান সিকদার (২২) এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ মান্দাইল এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে কাওসার হোসেন (২৮)।

    পুলিশ ও নিহত কাওসার হোসেনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী শান্ত জানান, চার বন্ধু সাজ্জাদ, আরিফ, মো. সোলেমান সিকদার ও কাওসার দুটি মোটরসাইকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আরেক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক কাওসার ও সোলেমানের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়।

    মাওনা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক ট্রাক ও দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেল জব্দ করা হলেও ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • কটিয়াদীতে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ: দেড় মাসেও অধরা অভিযুক্ত, আতঙ্কে ভুক্তভোগী পরিবার 

    ​কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

    কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আরিফুল ইসলাম (১১) নামে এক পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে। 

    উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের পং মসুয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর দীর্ঘ দেড় মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

    ​​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদুল আজহার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া শিশু আরিফুলকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো এবং ফটকা (বাজি) ফোটানোর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। 

    পরে তাকে কৌশলে এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত বোলায় এবং বলাৎকারের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে চতুর শিশুটি আত্মরক্ষার্থে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়ার হাতে সজোরে কামড় দিয়ে তার কবল থেকে পালিয়ে আসে এবং পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ​ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল প্রথমে সালিশ-দরবারের মাধ্যমে আপোসের চেষ্টা চালায়। সালিশে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে কয়েক লক্ষ টাকার প্রলোভন (অফার) দেওয়া হলেও, শিশুটির পরিবার তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অটল থাকে।

    ​এরপর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারটির অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

    ​​প্রবাস থেকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। প্রিয় পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছি। কিন্তু দেশে যদি আমার স্ত্রী-সন্তানই নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা কার কাছে বিচার চাইব? ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি এবং কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। আমি কোনো টাকার বিনিময়ে সমঝোতা চাই না, সমাজের এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই।”​তিনি আরও বলেন, “আমার সন্তান ভয়ে এখন স্কুলেই যেতে চাচ্ছে না।

    তিনি আরো বলেন আমি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট জালাল উদ্দিন মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, তিনি যেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন।”

    ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদধারী নেতা না হলেও সে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তবে দলটির কটিয়াদী উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদারের সাথে তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির সাথে জামাতে ইসলামী সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এটা বলছেন সেটি সম্পুর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও ভিত্তিহীন। মূলত দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই মিথ্যা অপবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

    ​এদিকে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর মা। তিনি বলেন, “আজ যদি আমার সন্তানের সাথে ঘটা এই অন্যায়ের বিচার না হয়, তবে কাল অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, বাচ্চুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”

    ​​অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, প্রথমে কল রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই সে সংযোগটি কেটে দেয়। পরবর্তীতে অসংখ্যবার কল করা হলেও সে আর ফোন রিসিভ করেনি।

    ​সার্বিক বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান:
    ​”আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়িতে ৩-৪ বার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সে আত্মগোপনে থাকায় তাকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে এবং দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    ​আইনি পদক্ষেপ দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

  • বিরামপুরে অসহায়দের হাতে সরকারি অনুদান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

    বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বিরামপুরে অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী পরিবার, আদিবাসী শিক্ষার্থী ও এতিমদের সহায়তায় সরকারি এককালীন অনুদান এবং চার উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন।অনুষ্ঠানে শতাধিক অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী পরিবার ও শিক্ষার্থীর হাতে সরকারি এককালীন অনুদানের চেক তুলে দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমের প্রতিনিধিদের হাতে ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক হস্তান্তর করা হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায়, প্রতিবন্ধী, এতিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মন্ত্রী বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠানের অবশিষ্ট অংশ পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।উপস্থিত উপকারভোগী ও স্থানীয়রা জানান, সরকারের এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অসহায়, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী পরিবার, মেধাবী শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

  • সংগ্রাম থেকে সম্মানের শিখরে — দেলোয়ার হোসেনের জীবনগাথা

    লোহাগাড়া চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

    গ্রামের মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে আজও কেউ যদি জানতে চায়, “সংগ্রাম কাকে বলে?”—তবে অনেকেই হয়তো একটি নাম উচ্চারণ করবে, দেলোয়ার হোসেন।
    আমি এমন এক পরিবারের সন্তান, যেখানে সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা আর পরীক্ষার গল্প একসঙ্গে মিশে আছে। আমার বাবা, মরহুম জাগির মিয়া সওদাগর, ছিলেন গ্রামের একজন সম্মানিত মানুষ। আল্লাহ তাঁকে ধন-সম্পদ দিয়েছিলেন—বাজারে দোকান, চাষাবাদের জমি, পুকুর এবং মানুষের সম্মান। কিন্তু পৃথিবীর নিয়ম বড় নির্মম। একদিন বাবা চলে গেলেন না-ফেরার দেশে, রেখে গেলেন বিশাল দায়িত্ব আর অনিশ্চয়তায় ভরা ভবিষ্যৎ।
    আমি ছিলাম ছোট স্ত্রীর বড় ছেলে। আমার মা শামসুন্নাহার বেগম ছিলেন একজন অসাধারণ ধৈর্যশীলা নারী। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের ভার যেন পাহাড় হয়ে তাঁর কাঁধে এসে পড়ল। চোখের জল লুকিয়ে, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তিনি তিন ছেলে আর পাঁচ মেয়েকে মানুষ করার সংগ্রামে নেমে পড়লেন।
    মা আমাকে অন্য সবার চেয়ে একটু বেশি আদর করতেন। কারণ তিনি জানতেন, এই ছেলেটিই একদিন সংসারের হাল ধরবে। সেই বিশ্বাস দেলোয়ার কখনো ভাঙেননি।
    জীবনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। সৎ মায়ের সন্তানদের কাছ থেকে নানা কষ্ট, অবহেলা আর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় অন্যায়ের ভার এতটাই কঠিন ছিল যে বুক ভেঙে কান্না আসত। কিন্তু আমি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। আমি ধৈর্য ধরেছি, পরিশ্রম করেছি এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছি।
    বাবার মৃত্যুর পর ছোট ছোট বোনদের চোখে আমি শুধু বড় ভাই ছিলাম না—আমি ছিলাম বাবার ছায়া। বোনদের প্রতিটি আবদার পূরণ করার চেষ্টা করেছি নিজের সাধ্যের শেষটুকু দিয়ে। কত রাত নির্ঘুম কেটেছে, কত স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে—তার হিসাব কেউ জানে না। কিন্তু একে একে পাঁচ বোনের বিয়ে দিয়েছি সম্মানের সঙ্গে। আজ সবাই নিজ নিজ সংসারে সুখে-শান্তিতে আছে। এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি।
    জীবিকার জন্য আমি গড়ে তুলেছি একটি মিষ্টির দোকান। সততা, পরিশ্রম আর মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণ আমাকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমি সমাজসেবার পথও বেছে নিয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পুটিবিলা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সচিব হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছি সুখে-দুঃখে।
    আজ আমি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। আমার সহধর্মিণী সাদিয়া আক্তার জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থেকেছি শক্তির উৎস হয়ে।
    আল্লাহর অশেষ রহমত এবং মা-বাবার দোয়ার বরকতে আজ আমি নিজের একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। সমাজে আমি সম্মানিত একজন মানুষ। মানুষ আমাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে, আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। কিন্তু আমি কখনো ভুলে যাননি সেই কষ্টের দিনগুলো, যখন আমার মা না খেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন।
    আমি যখন মায়ের দিকে তাকায়, তখন তাঁর চোখ ভিজে ওঠে। তিনি মনে মনে বলেন—
    “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ জমি-জমা নয়, বাজারের দোকান নয়, পুকুর নয়। আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার মা। আমার ত্যাগ, আর দোয়া আর আমার চোখের অশ্রুই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
    আমি বিশ্বাস করি, মানুষের সম্মান টাকা দিয়ে কেনা যায় না। সম্মান অর্জন করতে হয় সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য এবং মা-বাবার দোয়া দিয়ে।
    জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও যদি কেউ তাঁর পরিচয় জানতে চায়, তিনি হয়তো বলবেন—
    “আমি দেলোয়ার হোসেন। আমি কোনো রাজা নই, কোনো বড় ব্যবসায়ী নই। আমি একজন সংগ্রামী মানুষের সন্তান। একজন মায়ের স্বপ্ন পূরণের গল্প। একজন ভাইয়ের দায়িত্ব পালনের গল্প। একজন স্বামীর ভালোবাসার গল্প। একজন বাবার স্বপ্নের গল্প। আর সর্বোপরি, আল্লাহর অশেষ রহমত আর মা-বাবার দোয়ার জীবন্ত সাক্ষী।”
    এই গল্প শুধু একজন মানুষের নয়; এটি সেই সব মায়েদের গল্প, যারা নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানদের মানুষ করেন। এটি সেই সব বড় ভাইদের গল্প, যারা বাবার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারের আশ্রয় হয়ে ওঠেন। আর এটি সেই বিশ্বাসের গল্প, যেখানে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আল্লাহর ওপর ভরসা একদিন মানুষকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেয়।
    আল্লাহ তাআলা মরহুম জাগির মিয়া সওদাগরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন, শামসুন্নাহার বেগমকে সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন এবং আমি দেলোয়ার হোসেন আমার পরিবারকে ঈমান, সম্মান ও বরকতে পরিপূর্ণ জীবন দান করুন। আমীন।,,,

    “মায়ের চোখের জল”
    : বাবার ছায়া
    ভোরের কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। গ্রামের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসছে। দূরে ধানের ক্ষেতে শিশির ঝিলমিল করছে। বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো যেন আল্লাহর রহমতের মতো নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে। পাখির ডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর কাঁচা রাস্তা ধরে মানুষের হাঁটার আওয়াজে জেগে উঠছে পুরো গ্রাম।
    এই গ্রামেরই এক সম্মানিত পরিবার—মরহুম জাগির মিয়া সওদাগরের পরিবার।
    আল্লাহ বাবাকে অঢেল সম্পদ দিয়েছিলেন। বাজারে একের পর এক দোকান, বিস্তীর্ণ চাষের জমি, বড় বড় পুকুর—সবই ছিল তাঁর। গ্রামের মানুষ সম্মানের সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারণ করত। কিন্তু পৃথিবীর কোনো সম্পদই মৃত্যুকে আটকাতে পারে না।
    একদিন হঠাৎ করেই তিনি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
    সেদিন যেন শুধু একজন মানুষ মারা যাননি; ভেঙে পড়েছিল একটি পরিবারের আকাশ।
    সেদিন ছোট্ট দেলোয়ার বুঝতে পারেনি, কেন মানুষ এত কাঁদছে। কেন তাঁর মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে পুরো আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে।
    “ও আল্লাহ… আমার এতগুলো সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব?”
    মা শামসুন্নাহার বেগমের সেই কান্না আজও যেন গ্রামের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
    সেদিন থেকেই বদলে গেল সবকিছু।
    যে উঠোনে একসময় হাসির শব্দ শোনা যেত, সেখানে নেমে এল নীরবতা। যে ঘরে বাবা বসে সবার খোঁজ নিতেন, সেই ঘরের দরজায় শুধু স্মৃতি দাঁড়িয়ে রইল।
    দেলোয়ার তখনও তরুণ। কিন্তু সেদিন থেকেই তাঁর শৈশব শেষ হয়ে গেল।
    তিনি আর শুধু বড় ছেলে নন…
    আমি হয়ে গেলেন বাবার ছায়া।
    মায়ের দিকে তাকিয়ে আমি বুঝে ফেললাম—এখন আর কান্না করার সময় নেই। এখন দাঁড়িয়ে থাকার সময়।
    সংসারে তিন ভাই, পাঁচ বোন। ছোট ছোট বোনগুলো আমার দিকে এমনভাবে তাকাত, যেন বাবাই ফিরে এসেছেন।
    “ভাইয়া, তুমি তো আছো… তাই না?”
    এই একটি প্রশ্নই আমার বুকের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে দিত।
    আমি মনে মনে বলতাম,
    “হ্যাঁ, আমি আছি। যতদিন বেঁচে আছি, তোদের চোখে পানি আসতে দেব না।”
    কিন্তু জীবন এত সহজ ছিল না।
    মানুষ ভাবে, সম্পদ থাকলেই বুঝি সুখ থাকে।
    কিন্তু সম্পদের চেয়ে বড় ছিল মানুষের লোভ।
    বাবার মৃত্যুর পর শুরু হলো সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েন। সৎ মায়ের ছেলেদের আচরণ ধীরে ধীরে বদলে গেল। অপমান, অবহেলা, কষ্ট—সবকিছু যেন একসঙ্গে নেমে এল।
    অনেক রাত এমন গেছে, যখন মা শামসুন্নাহার বেগম নামাজের সিজদায় পড়ে শুধু কেঁদেছেন।
    “হে আল্লাহ… আমার সন্তানদের তুমি রক্ষা করো।”
    আমি দূরে দাঁড়িয়ে মায়ের কান্না দেখতাম।
    নিজের চোখের জল তিনি লুকিয়ে রাখতেন।
    কারণ তিনি জানতেন—
    বড় ছেলেরা কাঁদতে পারে না।
    তারা কাঁদলে পুরো পরিবার ভেঙে পড়ে।
    দিনে কাজ, রাতে চিন্তা।
    কখনো বাজারে, কখনো জমিতে, কখনো মানুষের দ্বারে।
    শুধু একটি স্বপ্ন—
    “আমার বোনদের মাথা যেন কখনো নিচু না হয়।”
    এক এক করে পাঁচ বোনের বিয়ে দিলাম।
    কেউ জানল না, কত রাত আমি না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন।
    কেউ জানল না, কত ইচ্ছা তিনি কবর দিয়েছেন বোনদের হাসিমুখ দেখার জন্য।
    বিয়ের দিন বিদায়ের সময় এক বোন আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল—
    “ভাইয়া… তুমি না থাকলে আজ আমি এই ঘর থেকে কনে হয়ে বের হতে পারতাম না।”
    সেদিন প্রথমবার আমি সবার অগোচরে কেঁদেছিলাম।
    সেদিন আমার মনে হয়েছিল—
    বাবা হয়তো আকাশ থেকে তাকিয়ে বলছেন,
    “বাবা, আজ আমি তোমার ওপর গর্বিত।”
    সময়ের চাকা থেমে থাকেনি।
    আমি নিজের পরিশ্রমে গড়ে তুললাম একটি মিষ্টির দোকান।
    সততা ছিল আমার মূলধন।
    মানুষ শুধু মিষ্টি কিনতে আসত না।
    আসত আমার হাসিমুখ দেখতে।
    আসত আামার আন্তরিকতা অনুভব করতে।
    ধীরে ধীরে সমাজও আমাকে আপন করে নিল।
    আনি হলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পুটিবিলা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সচিব।
    মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই হয়ে উঠল আমার পরিচয়।
    এদিকে আমার জীবনসঙ্গী সাদিয়া আক্তার নীরবে তাঁর সংগ্রামের সাথী হয়ে রইলেন।
    আল্লাহআমাদের ঘর আলোকিত করলেন তিন ছেলে ও এক মেয়ের মাধ্যমে।
    অনেক ঝড়ঝাপটার পর একদিন যখন নিজের নতুন বাড়ির সামনে দাঁড়ালাম আমি, তখন তাঁর চোখ চলে গেল মায়ের দিকে।
    মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন।
    চোখে জল।
    ঠোঁটে হাসি।
    আমার আমমুর হাত ধরে বললাম
    “মা… আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতেন…”
    মা আর কথা বলতে পারলেন না।
    শুধু আমার মাথায় হাত রেখে বললেন—
    “বাবা… আজ আমি গরিব নই। আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ তুই।”
    সেদিন আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না
    মায়ের পায়ে মাথা রেখে আমি শিশুর মতো কেঁদে বললাম।
    চারদিকে নীরবতা।
    শুধু মা আর ছেলের কান্নার শব্দ।
    আকাশটাও যেন সেদিন কেঁদেছিল।
    কারণ পৃথিবীর সব যুদ্ধ জয় করা যায়।
    কিন্তু মায়ের চোখের এক ফোঁটা জল—সেটার দাম কোনো সম্পদ দিয়ে শোধ করা যায় না।
    সেদিন গ্রামের এক বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলেছিলেন—
    “যে ছেলে মায়ের চোখের জল মুছে দিতে পারে, আল্লাহ তাকে একদিন মানুষের হৃদয়ের রাজা বানিয়ে দেন।”

  • এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বুড়িচংয়ে অনুপস্থিত ৬৯ পরীক্ষার্থী

    বুড়িচং
    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

    সারা দেশের মতো কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়ও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের পরীক্ষায় উপজেলার আটটি কেন্দ্রে মোট ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

    বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার আটটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি, আলিম ও ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী, আলিম পরীক্ষায় ৩২০ জন এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১২৫ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম দিনের পরীক্ষায় সব মিলিয়ে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও বাকিরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

    পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাবলিহা আনবার নেতৃত্বে প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম দিনব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন ও তদারকি করে। কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

    এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রের বাইরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

  • কাঁঠালিয়ায় ‘নজরুল বর্ষ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন।

    আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সাম্যের চেতনার ওপর আলোকপাত করেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে জমে ওঠেছে কাঁঠালের হাট

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :

    গাজীপুরকে বলা হয় কাঁঠালের রাজধানী। এর মধ্যে অন্যতম শ্রীপুর উপজেলার কাঁঠাল। কাঁঠালের ভরা মৌসুমে পুরোদমে জমে উঠেছে জৈনা বাজার কাঁঠালের হাট। প্রতিবছর কাঁঠালের মৌসুমে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জৈনা বাজার হলো সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট। এ জেলায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে মৌসুমি ফল হিসেবে কাঁঠাল এখানকার অন্যতম অর্থকরী ফসল। গাজীপুরের এই কাঁঠাল ৪৭তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয় হওয়ায় এ জেলার কাঁঠালের খ্যাতি রয়েছে সারাদেশে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পাইকাররা এখানে কাঁঠাল কিনতে আসেন।

    এছাড়া জেলার শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জের মাটির গুণে কাঁঠালের ফলন ও স্বাদ বেশি। প্রতিবছর এই অঞ্চলে গড়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। বাগান মালিক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কাঁঠালের দাম কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকার বিদেশে কাঁঠালের বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশানুরূপ ফল আসছে না।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, জৈনা বাজারের পশ্চিম পাশে বিশাল জায়গাজুড়ে কাঁঠালের পাইকারি বাজার বসেছে। বাজারে বড় বড় আড়তদারের কাছ থেকে পাইকারি দরে কাঁঠাল কিনে সেগুলো ট্রাকে তুলছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সড়কের পাশে শত শত ভ্যানগাড়িতে কাঁঠাল ভর্তি করে বিক্রির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। একেকটি ভ্যানগাড়িতে রয়েছে মাঝারি আকারের ২০ থেকে ৫০টি কাঁঠাল। বড় পাইকাররা ভ্যানগাড়িতে থাকা কাঁঠালগুলোর আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে দর কষাকষি করে কিনে নিচ্ছেন। এ মৌসুমে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে পানির দরে। ১৫ কেজির বেশি ওজনের বড় আকারের একটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর মাঝারি আকারের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ টাকায়। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এলাকার অনেকে কাঁঠাল বাড়িতে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে খাওয়াচ্ছেন।

    জৈনা বাজারের ব্যবসায়ী জালাল মিয়া বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে এখানে আড়তদারি করি। নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ফেনী, চাঁদপুর, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁঠালের জন্য পাইকাররা আসেন। কম দামে ভালো মানের কাঁঠাল পাওয়া যায় এই ঐতিহ্যবাহী হাটে।’

    আবদার গ্রামের বাগান মালিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘কাঁঠাল গাছের খুব একটা যত্ন করি না। তবু এবার আমার বাগানের ৪৯-৫০টি গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। গত ১৫ দিনে ছোট-বড় ৫০০-৬০০ কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেছি। এর মধ্যে ২০০টি মাঝারি ও ছোট আকারের কাঁঠাল প্রতি পিস ২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। বড় আকারের কাঁঠালগুলো প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁঠালগুলো দ্রুত পেকে পচে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।’

    জৈনা বাজারের আড়তদার সোহেল রানা বলেন, ‘সিলেটে এবারের বন্যার কারণে কাঁঠাল বেচাকেনাও কম। উপজেলায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম পেতেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন।’

    স্থানীয় আড়তদার মোফাজ্জল সরকার বলেন, ‘গত দুই বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের বেচাকেনা ভালো জমে উঠেছে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররাও খুব খুশি।’

    বরিশাল থেকে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘জৈনা বাজারের কাঁঠাল খুবই ভালো মানের। অনেক সুস্বাদু, তাই এর চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে আমরা বিক্রি করি।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, ‘এ বছর প্রচুর কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছরের ফলন ভালো হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে গাজীপুরের কাঁঠাল বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।’

  • বিশ্বনাথে সিডস অব সাদাকাহ’র দুই শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন

    সিলেট বিশ্বনাথ উপজেলা প্রতিনিধি:

    সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সিডস অব সাদাকাহ-এর উদ্যোগে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধলিপাড়া গ্রামের দুই অসহায় ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত ৪৮৮ ও ৫৩০ নম্বর শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২ জুলাই ২০২৬) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আব্দুন নুর।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, রাজনীতিবিদ, জালালাবাদ সিন্ডিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর নির্বাচনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা অধ্যাপক আব্দুল হান্নান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, বিশিষ্ট সমাজসেবী রজব আলী, মিয়া মোহাম্মদ সাহেদ, হোসাইন আহমেদ ও কফিল উদ্দিন।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিডস অব সাদাকাহ’র সুপারভাইজার হাবিবুর রহমান আবিদ, সুলতান আহমদ, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা একটি মহৎ মানবিক দায়িত্ব। সিডস অব সাদাকাহ দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, আবাসন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধলিপাড়া গ্রামের দুই গৃহহীন পরিবারের জন্য এই দুটি শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।

    তারা আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়ই নিশ্চিত করে না; বরং উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ, স্বস্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে। সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান বক্তারা।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৮৮ ও ৫৩০ নম্বর শেল্টার প্রজেক্টের উদ্বোধন করেন এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

  • ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এর অর্থায়নে চকরিয়ায় বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

    বিশেষ প্রতিনিধি :

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্র্যাকের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

    ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে এবং ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির সহযোগিতায় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপজেলার ব্র্যাক আঞ্চলিক অফিসে ১৮টি ব্র্যাক প্রাইমারী স্কুল এবং ১৭টি ব্র্যাক প্রি-প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগণের হাতে ৯৭১টি চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে নিকটবর্তী দিগর পানখালী ব্র্যাক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীগণও উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ তৈয়ব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির এলাকা ব্যবস্থাপক নন্দন তালুকদার, ব্র্যাক চকরিয়া শাখার ম্যানেজার সুমন শর্মা (দাবি), ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উপজেলা ব্যবস্থাপক মো: শাহীনুর ইসলাম ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ তৈয়ব আলী বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে। আজকের এই চারাগুলোই আগামী দিনের সবুজ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করবে।”

    বিশেষ অতিথি নন্দন তালুকদার বলেন, “শুধু চারা গ্রহণ করলেই হবে না, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ চারাটি যত্নসহকারে রোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে। একটি গাছ একটি প্রাণ—এই উপলব্ধি থেকেই আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান, সামাজিক বনায়ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ৩ লাখ ৩৫৩টি গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ১৮১৭ টি গাছের চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া আড়ংয়ের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।