Author: DBC

  • ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি বাবুলের নির্দেশে সদরপুর-চরভদ্রাসন সড়কের গর্ত সংস্কার


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার সদরপুর-চরভদ্রাসন সড়কের গাবতলার আগে একটি ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত সংস্কার করা হয়েছে। এর আগে একই সড়কের আরেকটি গর্ত সংস্কার করা হলেও পাশেই অবস্থিত আরও একটি বড় গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছিল।
    স্থানীয় অটোরিকশা চালকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল-এর নির্দেশে গর্তটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
    সদরপুর উপজেলা যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম নান্নু-এর নেতৃত্বে একদল যুবক ও স্থানীয় লোকজন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আজ গর্তটি সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন।
    এ উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। তারা বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে ৯কোটি টাকার রাস্তা তিন মাসেই ধস, ত্রুটি স্বীকার এলজিইডির, দ্রুত পুন নির্মানের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:

    গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের একটি অংশ নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় ধসে পড়ার ঘটনায় পরিকল্পনা ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

    শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত রাজাবাড়ি-দমদমা সড়ক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজে বিশেষ নজরদারি এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদী, খাল ও ক্যানেলসংলগ্ন অংশ প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিটার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাত্র ৮৩ মিটার। বাকি অংশ আগের নকশা অনুযায়ী ঠিক আছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটির নিচের স্তর দুর্বল হওয়ায় সড়ক ধসে গেছে। এজন্য নতুন নকশা করা হয়েছে। বড় ধরনের পাইলিংয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, কোথাও সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারে অনিয়ম হলে গণমাধ্যমকে তা তুলে ধরতে হবে। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে হয়। তবে এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো অনিয়মের তথ্য আসেনি বলেও জানান তিনি।

    এর আগে গত ২৯ জুন এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মো. সাদেকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়কটির প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকার কারণেই নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই সূতি নদীসংলগ্ন অংশ ধসে গেছে।’

    তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য নতুন নকশা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির নকশা বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলনের পর সংস্কার ব্যয় কোন খাত থেকে বহন করা হবে—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন ‘তিন মাসেই ধস ৯ কোটির সড়কে’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়ন থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২১ সালে সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয় ২০২৬ সালে। নির্মাণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সূতি নদীসংলগ্ন চিনাশুকানিয়া এলাকায় সড়কের একটি বড় অংশ দেবে যায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নদীতীরে বসানো ব্লকও ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে।

    পরিকল্পনা ও নকশাগত ত্রুটির বিষয়টি সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্বীকার করার পর প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি এবং দায় নিরূপণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    পরিদর্শনের সময় গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে টোল ইস্যুতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

     
    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোলমুক্ত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় সড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এই বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ জামিউল হক সোহেল ও যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া সাউনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীবৃন্দ।  সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোলমুক্ত করার দাবির আড়ালে মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। বক্তারা এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তারা।

    উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই বিকেলে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোলমুক্ত করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা সেতু এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে প্রসূতি নারীসহ বহু যাত্রী দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়েন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

  • নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু

    হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

    হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় জনমতে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজ উদ্যোগে অংশ নিয়ে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত।
    এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন একাধিক বাসিন্দা।
    এ বিষয়ে বখতিয়ারুল ইসলাম বাচ্ছু বলেন, “শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি। ক্ষমতার চেয়ার নয়, জনগণের সেবক হওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”

  • অত্যান্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে, দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক কবি ও গুণিজন সংবর্ধনা এবং বর্ণাঢ্য এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান

    নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :

    বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তন
    আজই অনুষ্ঠিত হলো ০৩-০৭-২৬ জুলাই, শুক্রবার ২০২৬ ইং
    নানা ক্যাটাগরিতে যে সকল সম্মাননা প্রদান করা হলো তা নিম্নরূপঃ
    ১। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি এওয়ার্ড।
    ২। “রত্নগর্ভা মা” সম্মাননা
    ৩। “গর্বিত আদর্শ পিতা” সম্মাননা
    ৪। “একান্নবর্তী সুখী পরিবার” সম্মাননা
    ৫। “সাদা মনের মানুষ” সম্মাননা
    ৬। আবৃত্তি সম্মাননা
    ৭। সেরা সংগঠক সম্মাননা
    ৮। “অনন্য মানবিক সংগঠন” সম্মাননা
    ৯। সেরা গীতিকার ও সুরকার সম্মাননা
    ১০। সাহিত্য সংস্কৃতিতে ঈর্ষণীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ সম্মাননা।
    এবার এবার ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক কবি ও গুণীজন সংবর্ধনা এবং বর্ণাঢ্য এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে নওগাঁর ( থানা পত্নীতলা, পোস্ট গগনপুর খিরসীনের ) আলোচিত ,প্রতিবাদী, ও সাম্যের কবি গুলজার রহমান কে আজীবন সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান করেন, পিতা মৃত কছিমুদ্দিন ,মাতা মৃত মোসাঃ মোমেনা বেগমের পাঁচ সন্তানের তৃতীয় সন্তান, কবি গীতিকার সুরকার সংগঠক সম্পাদক সংগঠক সমাজসেবক মোঃ গুলজার রহমান।
    জানা যায় কবি গুলজার রহমান শৈশব থেকেই গান গজল ইসলাম সংগীত লেখতেন এবং সকন্ঠে পরিবেশন ও উপস্থাপন করতেন তিনি অতি সাধারণ গৃহস্থ ঘরের সন্তান পেশায় কৃষক ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন ,অনেক কষ্ট, ক্লেশ ,বাঁধা অতিক্রম করে সত্য ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ,ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে সুদৃঢ় মনের পরিচয় দিয়ে বাংলা সাহিত্যের ঈশানিত্ব অবদান রেখে চলেছেন। আমরা সকলে তাঁর সর্বাঙ্গীন মঙ্গল করুন করছি।
    অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কবি গবেষক ও সংগঠক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ।

  • নেত্রকোনায় আমার ‘আমার গ্রাম আমার শহর ‘প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ


    দূর্জয়- নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার ২নং সাহতা ইউনিয়নের ডেমুরা গ্রামে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় ৮৫৪৫৯১০/ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯০টি টয়লেট নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার,অপর্যাপ্ত সিমেন্ট, ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই এবং দুর্বল কাঠামোর কারণে উদ্বোধনের আগেই অনেক টয়লেটে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি টয়লেটের দেয়াল ও ঢালাইয়ের অংশ হাতের চাপেই ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিটবালু ব্যবহার এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণকাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। অনেক উপকারভোগী বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন বস্তা সিমেন্ট কিনে দিলেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি। ডেমুরা গ্রামের উপকারভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিজের টাকায় সিমেন্ট কিনে দিতে হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ সন্তোষজনক হয়নি।

    স্থানীয় বাসিন্দা শামসুজ্জামান কানন বলেন, এলাকার প্রায় সব টয়লেটের কাজই নিম্নমানের হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই অনেকগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা বারবার আপত্তি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। অভিযোগ রয়েছে, টয়লেটের পিলারে রডের খাঁচা তৈরির পরিবর্তে কোথাও একটি মাত্র রড ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কোথাও জিআই তার ব্যবহার করে দায়সারা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের কাঠ ও অল্প টিন ব্যবহারের কারণে অনেক টয়লেটের ছাউনি দিয়ে শুরু থেকেই পানি পড়ছে।

    ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি টয়লেটের দরজা ও ছাউনি নির্মাণের জন্য স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিকে মাত্র ৪৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এত অল্প বরাদ্দে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব নয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
    স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে নির্মাণসামগ্রী পর্যন্ত পৌঁছেনি। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. বিদ্যুৎ মিয়া বলেন, আমরা সর্বাবস্থায় কাজের তদারকি করছি। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে অন্যদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি যথাযথ তদারকি থেকেই থাকে, তাহলে উদ্বোধনের আগেই কেন টয়লেটগুলোতে ফাটল ধরছে এবং প্লাস্টার খসে পড়ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন এই প্রকল্পের প্রকৃত উপকারভোগীরাই।

  • নেত্রকোনায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    দূর্জয়- নেত্রকোনা : উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে নেত্রকোণায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), নেত্রকোণা।

    প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি বিভাগে অংশ নিয়ে নিজেদের সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ ঘটায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. জাফরুল ইসলাম, বিআরডিবির উপপরিচালক সজল চন্দ্র সূত্রধর, জেলা কালচারাল অফিসার মো. আতিকুর রহমান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আল সামছ মোহাম্মদ গোলাম মৌলা এবং হিসাবরক্ষক সেন্টু কুমার তালুকদার।

    প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এমন সৃজনশীল আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে আরও উৎসাহ জোগাবে।বিআরডিবির উপপরিচালক সজল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, পল্লী উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ মানুষের সার্বিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করা হয়েছে।

  • তাহমিদ-আবীরের নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া,কুবি ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি ঘোষণা

    কুবি প্রতিনিধি :

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ছায়া জাতিসংঘের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ তাজওয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষ ও বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আবীর।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মঈনুল হাসান এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার হাসিন মাহাতাব মাহিন। এছাড়া সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন শাহরিয়ার আহমেদ রাহিম, যুগ্ম সচিব হিসেবে রাবেয়া সুলতানা সাথী, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তানজিলা আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আবু বকর সিদ্দিক, শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান নিলয় ও মোহাম্মদ আদনান, প্রতিনিধি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নাদিরা জান্নাত চৌধুরী, এডমিনিস্ট্রেশন হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াসির হামিদ চৌধুরী, ইভেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে মেহরাব হোসেন, অপারেশন হিসেবে আহমেদ ফাহমিদ কাদের, ডকুমেন্টস এন্ড মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছেন নূর মোহাম্মদ পরশমণি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মঈনুল হাসান বলেন, ‘সংগঠনের সামনে এবং পিছনে যারা থাকেন তাদের সবার অবদানই সমান। সবাইকে যথাযথ প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে। তবেই একটি সংগঠন তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। আমি আশা রাখি বিগত বছরের ন্যায় এবছরও নতুন দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।’

    নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান আবির বলেন, “কখনো ভাবিনি এই সংগঠনকে একদিন এই জায়গা থেকে দেখব। এখন চেষ্টা থাকবে, যেন আগামী প্রজন্মও এটিকে নিয়ে একই রকম গর্ব করতে পারে।”

    নবগঠিত কমিটির সভাপতি তাহমিত তাজওয়ার বলেন, “এই পদে আসার আনন্দের চেয়ে এর দায়িত্বটাই এখন বেশি অনুভব করছি। যারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আশা করি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারব। আমার এবং আমার কমিটির মূল লক্ষ্য থাকবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কূটনৈতিক দক্ষতা আরও বিকশিত করা, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতি হাসিন মাহাতাব মাহিন বলেন, এই ক্লাবের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো এর নেটওয়ার্ক। আমরা যারা অ্যালামনাই হিসেবে আছি, অনেকেই এখন বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছি। আর নতুন আপনারা যে পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে নতুন যে কমিটি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, তাদের জন্যও আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল।’

    উল্লেখ্য, ছায়া জাতিসংঘ সংক্ষেপে মান (MUN) হলো এক ধরনের অনুকরণমূলক আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে। এখানে তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির মতামত উপস্থাপন করে, বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজে।

  • কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে- এমপি জসিম উদ্দিন

    (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

    কারিগরি শিক্ষার প্রসার ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকার কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।-এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক মনিরা ইয়াসমিন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতানির্ভর শিক্ষারও বিকল্প নেই। তাই তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান কান্তি রুদ্র, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বুড়িচং উপজেলা আমির ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. অহিদুর রহমান, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রবিউল আলম, সহকারী অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবু নাছের মুন্সী, যুবদলের আহ্বায়ক জাবেদ কাউসার সবুজ, সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ভূঁইয়া, কলেজের শিক্ষক আবদুল জলিল ভূঁইয়া, মো. হোসেন আলী, শাহজাহান, মো. আজাদ খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কলেজের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে অতিথিরা কলেজের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • সদরপুরে সফলভাবে সম্পন্ন হলো পবিত্র কালিমার পতাকা মিছিল

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদরপুরে উপজেলার সর্বস্তরের মুসলিম জনতার উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পবিত্র কালিমার পতাকা মিছিল’। শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ জুমুআ সদরপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সমবেত হন। পরে তারা পবিত্র কালিমা খচিত পতাকা হাতে ও মাথায় কালিমা সংবলিত ব্যাচ ধারণ করে একটি বিশাল মিছিল বের করেন।

    মিছিলটি সদরপুরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা “তোমার আমার পতাকা—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “তেরা মেরা রিশতা কেয়া—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “তুমি কে? আমি কে? মুসলিম, মুসলিম” প্রভৃতি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা।

    মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সদরপুর উপজেলা বোর্ডের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্জ মাওলানা আমির হোসেন, উপজেলা মডেল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী রেজাউল করিম, মাওলানা মুখতার হুসাইন, মো. সাইফুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, মো. জুয়ের, মোল্লা সোহেল আমীন, আজিজুল ইসলাম নান্নু, আমান উল্লাহ আমান এবং মো. রিজভী।

    মিছিলে বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের হাতে পবিত্র কালিমা খচিত পতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়। পুরো কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর।

    সমাবেশে উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে কালিমার পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র এই পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

    কর্মসূচির আয়োজক প্রতিনিধিবৃন্দের প্রধান মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, “এই আয়োজন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। মানুষের মাঝে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পবিত্র কালিমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”

    পরে একটি মোটরসাইকেল র‌্যালি সদরপুর থেকে শুরু হয়ে কালিখোলা ও আটরশি এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সদরপুরে এসে শেষ হয়।

    আয়োজকদের দাবি, সমাজে সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ, পবিত্র কালিমার প্রতি ভালোবাসা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।