Author: DBC

  • শত বছরের ঐতিহ্য: ধামইরহাটে ঐতিহাসিক শাকই শংকরপুরের মাদারের মেলা অনুষ্ঠিত

    নওগাঁর প্রতিনিধি:
    নওগাঁ ধামইরহাটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক শাকই শংকরপুরের ‘মাদারের মেলা।এলাকার প্রায় শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

    শতাব্দীর প্রাচীন এই মেলাটি শুধু একটি উৎসবই নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে বাহারি রকমের কুটির শিল্প, কাঠের আসবাবপত্র, খেলনা এবং মুখরোচক মিষ্টি-খাবারের দোকান।

    স্থানীয়রা জানান, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই মেলাটি তাদের প্রাণের উৎসব। এটি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

  • সপ্তাহের ব্যবধানে সদরপুরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ফুটবল উন্মাদনায় মুখর জনপদ

    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশ্ব ফুটবলের দুই জনপ্রিয় দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্যোগে দুটি বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দুই আয়োজন ঘিরে পুরো উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

    গত ১৯ জুন শুক্রবার ব্রাজিল সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করেন। সবুজ-হলুদ পতাকা, জার্সি, ব্যানার ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিপুলসংখ্যক সমর্থকের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    এর ঠিক এক সপ্তাহ পর আজ শুক্রবার (২৬ জুন) আর্জেন্টিনা সমর্থকরা আগের আয়োজনকে ছাপিয়ে আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও চমকপ্রদ র‌্যালির আয়োজন করেন। নীল-সাদা পতাকা, বিশালাকার ব্যানার, নানা সাজসজ্জা এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থকের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি এক উৎসবের রূপ নেয়।

    আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দাবি, অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ও আয়োজনের দিক থেকে এটি দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সর্ববৃহৎ র‌্যালি। র‌্যালিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    স্থানীয়দের মতে, বিশ্ব ফুটবলকে ঘিরে সদরপুরে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন কেবল খেলাপ্রেমই নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর সংস্কৃতিকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দলের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি এখন সদরপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

  • লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী রুবেলের মৃত্যু


    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া আমিরাবাদ পুরান বিওসি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় রুবেল নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল উপজেলার পদুয়া এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে পুরাতন বিওসি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    নিহত রুবেল লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের হিন্দুরহাট এলাকার সামমহজানের বাড়ির বাসিন্দা। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরমান নিশ্চিত করেছেন।

  • লোহাগাড়া ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    লোহাগাড়া ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন।
    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লোহাগাড়া ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    ২২ জুন (সোমবার) সকালে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী।

    সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, পরিবেশ রক্ষা আজ আর কোনো বিকল্প কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ও নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ঘোষণার বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ মানে শুধু সবুজ নয় এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন, নিরাপত্তা ও টেকসই পরিবেশের প্রতিশ্রুতি। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং সেগুলোর যত্ন নিয়ে একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

    এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার সুনীল কুমার চৌধুরীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:বিশ্ব মাদক সমস্যা বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ, ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নায়েব সুবেদার নাসির, ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সেরাজ উদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুল ওদুদ।জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেওয়া। সভাপতির বক্তব্যে উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেরও বড় অন্তরায়। জীবন একটাই, তাই জীবনকে ভালোবাসুন এবং মাদক থেকে দূরে থাকুন।” তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফল বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।

    মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার এবং তাদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শেষে মাদকবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ।

    দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

  • ট্রাইব্রেকারের নাটকীয়তায় চ্যাম্পিয়ন মাইনীমু, রানার্সআপ খেদারমারা


    রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
    দর্শকের উত্তেজনা আর শ্বাসরুদ্ধকর ট্রাইব্রেকারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো “লংগদু জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”।

    রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মাইনীমুখ ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

    আজ শুক্রবার ( ২৬ জুন ২০২৬) লংগদু উপজেলা মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় খেদারমারা ইউনিয়ন বনাম মাইনীমুখ ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ের খেলায় দুই দলই গোলশূন্য ড্র করলে খেলা গড়ায় সরাসরি ট্রাইব্রেকারে।

    ট্রাইব্রেকারে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয় “মাইনীমুখ ইউনিয়ন”। অন্যদিকে কঠিন লড়াই করে রানার্সআপের সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়ে খেদারমারা ইউনিয়ন।

    পুরস্কার বিতরণ:
    খেলা শেষে জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ পিএসসি

    তিনি চ্যাম্পিয়ন মাইনীমুখ ইউনিয়ন দলের হাতে নগদ ২৫,০০০/- টাকা ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং রানার্সআপ খেদারমারা ইউনিয়ন দলের হাতে নগদ ১৫,০০০/- টাকা তুলে দেন।

    ব্যক্তিগত পুরস্কার:
    টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় গোল্ডেন বল জিতেছেন খেদারমারা ইউনিয়নের অধিনায়ক খোকন চাকমা।
    -সর্বোচ্চ গোলদাতা টুর্নামেন্টে ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন ঝন্টু দাস।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য:
    প্রধান অতিথি বলেন, “যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মন ও শরীর উভয়কেই শক্তিশালী করে তোলে।”
    তিনি চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন ও রানার্সআপকে উৎসাহিত করেন।তিনি মাঠে উপস্থিত প্রায় তিন সহস্রাধিক দর্শকের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানান।

  • কুবিতে কারবালার প্রান্তর শীর্ষক সেমিনার সভা অনুষ্ঠিত


    কুবি প্রতিনিধি:
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পবিত্র ১০ই মহররম উপলক্ষে ‘কারবালার প্রান্তর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    ​শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল আজহার বিশ্ববিদ্যালযয়ের আরবি প্রশিক্ষক হামেদ রেজা আল আজহারী মাদ্দাজিলহুল আলী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাগর আহমেদ। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুবি শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান।

    সেমিনারে বিশেষ অতিথি সাগর আহমেদ বলেন,’কারবালার ঘটনা আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আমাদের সকলের উচিত মহান আল্লাহ তায়লা নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। মুসলিম হিসেবে আমাদের অবশ্যই নামাজকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হামেদ রেজা আল আজহারী মাদ্দাজিলহুল আলী বলেন, ‘পবিত্র কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য শোকের নয়, বরং সত্য, ন্যায় ও ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা।’

    তিনি ১০ মহরম তথা পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

    এ সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক মাজার ভেঙে ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

    নামাজের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘নামাজ মানুষের নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।’

    সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘গাউসিয়া কমিটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সবাই জানেন একটা মানবিক এবং ধর্মীয় সংগঠন। তো এই সংগঠনে যারা কাজ করে, মোটামুটি সবাই কোনো স্বার্থ নিয়ে এখানে আসে না। কারণ এখানে কারো কোনো আর্থিক স্বার্থ নাই, কারো কোনো কিছু স্বার্থ নাই। সবাই একটাই উদ্দেশ্য, হাক্কানি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলকে খুশি করা এবং মানুষ ও দ্বীনের খেদমত করা।’

  • ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত বিক্রির টাকায় উঠছেনা খরচ


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    পেঁয়াজের রাজধানী খ্যাত জেলা ফরিদপুর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই জেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ।

    পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা ফরিদপুর। এ জেলায় ৯টি উপজেলাই পেঁয়াজের আবাদ হয়, তার মধ্যে ভাঙ্গা, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের চাষাবাদ বেশি হয়।

    এ জেলায় পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।

    বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।
    কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে।

    এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
    ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের কৃষক তৈয়াব মুন্সি (৪৭) বলেন, বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।

    অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ যেহেতু পচনশীল শস্য, তাই সরকার যদি আমাদের এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

    ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোল্লা মো. মামুন জানান, চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষের জন্য আবহাওয়া খুবই অনুকুলে থাকায় উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম। কৃষকের মজুদকৃত পেঁয়াজ শেষ হলে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।

    ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন বলেন, ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি।

    সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার ফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭০০ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে আড়াই হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা যুবকের পেট থেকে ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার


    চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে বহন করা ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ওই যুবককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে ইয়াবাগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে শরীরের ভেতরে বহন করছিলেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ওই রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়। পরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এক্স-রে ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে তার পাকস্থলী ও অন্ত্রে ইয়াবা বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    পরবর্তীতে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তার পেট থেকে ৫ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোর বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারী চক্রটির। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য, মাদক পাচারকারীরা এখন নানা অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে। তাই মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে কেমন খেললেন নেইমার


    চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
    ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে কেমন করলেন নেইমার?
    মায়ামির রাতটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল আর ব্রাজিলের গ্রুপসেরা হওয়ার হলেও, আবেগের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি ছিল সেলেসাও রাজপূত্র নেইমারের মাঠে নামা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের শেষ ভাগে বদলি হিসেবে নামেন ব্রাজিলের নম্বর ১০। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন তিনি।ম্যাচ তখন ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনিয়া ব্যবধান ৩-০ করেছেন। এরপর ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। স্টেডিয়ামে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যাচ্ছিল, এই বদলি শুধু কৌশলগত ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ।

    নেইমার শেষবার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। সেই ম্যাচেই বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পান তিনি। এরপর অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন, নতুন করে শারীরিক সমস্যা, সব মিলিয়ে জাতীয় দলের বাইরে কেটে যায় ৯৮১ দিন।

    স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার পর খুব বেশি সময় পাননি নেইমার। গোলও পাননি, বড় সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। তবে তাঁর ফেরাটাই ছিল ব্রাজিলের জন্য বড় খবর। বল পেলে আক্রমণে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ম্যাচের ছন্দে নিজেকে আবার মানিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপটা পেরিয়েছেন।

    এই ম্যাচের আরেকটি বড় গুরুত্ব আছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল নেইমারের ১৪তম ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সংখ্যায় পেলের পাশে বসেছেন তিনি। পেলে, গিলমার ও লিয়াওরও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে ১৪টি করে ম্যাচ আছে। এই তালিকায় সবার ওপরে কাফু, তাঁর ম্যাচ ২০টি।
    নেইমারের ফেরা তাই শুধু একটি বদলি নামার ঘটনা নয়। এটি চোটের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসা। নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিলের জন্য এটি নতুন স্বস্তি। ভিনিসিয়ুস এখন দারুণ ছন্দে, রায়ানও সুযোগ পেয়ে নজর কাড়ছেন। এর মধ্যে নেইমারের ফেরায় আনচেলত্তির হাতে আক্রমণে আরও একটি বড় বিকল্প তৈরি হলো।

    নেইমার পুরো ছন্দে ফিরেছেন, এমন দাবি এখনই করা যাবে না। তিনি কত মিনিট খেলতে পারবেন, নকআউটে তাঁর ভূমিকা কতটা বড় হবে, সেটি সময় বলবে। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই একটি বাধা পেরোলেন তিনি। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফেরা, আর ফিরেই পেলের পাশে বসা, নেইমারের জন্য রাতটা তাই স্মরণীয় হয়েই থাকল।