

চট্টগ্রাম লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরে কেমন করলেন নেইমার?
মায়ামির রাতটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল আর ব্রাজিলের গ্রুপসেরা হওয়ার হলেও, আবেগের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি ছিল সেলেসাও রাজপূত্র নেইমারের মাঠে নামা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের শেষ ভাগে বদলি হিসেবে নামেন ব্রাজিলের নম্বর ১০। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন তিনি।ম্যাচ তখন ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুই গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনিয়া ব্যবধান ৩-০ করেছেন। এরপর ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি। স্টেডিয়ামে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাসেই বোঝা যাচ্ছিল, এই বদলি শুধু কৌশলগত ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ।
নেইমার শেষবার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। সেই ম্যাচেই বাঁ হাঁটুতে গুরুতর চোট পান তিনি। এরপর অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন, নতুন করে শারীরিক সমস্যা, সব মিলিয়ে জাতীয় দলের বাইরে কেটে যায় ৯৮১ দিন।
স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার পর খুব বেশি সময় পাননি নেইমার। গোলও পাননি, বড় সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। তবে তাঁর ফেরাটাই ছিল ব্রাজিলের জন্য বড় খবর। বল পেলে আক্রমণে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ম্যাচের ছন্দে নিজেকে আবার মানিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপটা পেরিয়েছেন।
এই ম্যাচের আরেকটি বড় গুরুত্ব আছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল নেইমারের ১৪তম ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সংখ্যায় পেলের পাশে বসেছেন তিনি। পেলে, গিলমার ও লিয়াওরও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে ১৪টি করে ম্যাচ আছে। এই তালিকায় সবার ওপরে কাফু, তাঁর ম্যাচ ২০টি।
নেইমারের ফেরা তাই শুধু একটি বদলি নামার ঘটনা নয়। এটি চোটের দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসা। নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিলের জন্য এটি নতুন স্বস্তি। ভিনিসিয়ুস এখন দারুণ ছন্দে, রায়ানও সুযোগ পেয়ে নজর কাড়ছেন। এর মধ্যে নেইমারের ফেরায় আনচেলত্তির হাতে আক্রমণে আরও একটি বড় বিকল্প তৈরি হলো।
নেইমার পুরো ছন্দে ফিরেছেন, এমন দাবি এখনই করা যাবে না। তিনি কত মিনিট খেলতে পারবেন, নকআউটে তাঁর ভূমিকা কতটা বড় হবে, সেটি সময় বলবে। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই একটি বাধা পেরোলেন তিনি। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে ফেরা, আর ফিরেই পেলের পাশে বসা, নেইমারের জন্য রাতটা তাই স্মরণীয় হয়েই থাকল।