Author: DBC

  • সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত।

    স্টাফ রিপোর্টার-ঢাকা: বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির উদ্যোগে “সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। তিনি সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরেন।

    গোলটেবিল বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ আম্মার। তিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির পক্ষ থেকে করণীয় প্রস্তাবনা পেশ করেন:
    ১. সীমান্ত হত্যা ০% নামিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
    ২. সীমান্তে নিহত নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
    ৩. ভারতকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত নাগরিকদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সীমান্তবর্তী নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
    ৫. সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সর্বদলীয় কাউন্সিল করে ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে।
    ৬.পুশইন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে অবস্থান সুস্পষ্ট করা এবং এর যৌক্তিক সমাধান করা।
    ৭. সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিক, মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে আন্তর্জাতিকভাবে তার বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে।
    ৮. সীমান্তে আধুনিক নজরদারী ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা।
    ৯. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিকায়ন করা।
    ১০. নাগরিক নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
    ১১. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
    ১২. রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    আলোচনায় এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “সীমান্ত কেবল রাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি রেখা নয়; এটি লাখো মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সীমান্তে একজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যুও জাতির জন্য বেদনাদায়ক। সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
    তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে বিজিবির আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নজরদারী ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে।”
    তিনি সীমান্তবর্তী নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক সামরিক ও নিরাপত্তা সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “সচেতন ও প্রশিক্ষিত নাগরিক সমাজ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।”

    আলোচনায় জাতীয় সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত- মহিলা)মারদিয়া মমতাজ, ডেল এইচ খান, সামান্তা শারমিন- এনসিপি, এবং আব্দুল্লাহ আল জাবের- ইনকিলাব মঞ্চ
    সীমান্ত হত্যা বন্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং পুশইন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। প্রতিবেশী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার পাশাপাশি সীমান্তে প্রাণহানি ও পুশইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান জরুরি।

    গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান

    নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
    ২৪ জুন(বুধবার) সন্ধ্যায় উপজেলার বসুরহাট বাজার ও সিরাজপুর ইউনিয়নে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম।

    জানা গেছে, বসুরহাট বাজারে অবস্থিত ‘আজমেরী হোটেল’-এ অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
    অন্যদিকে, সিরাজপুর ইউনিয়নের তালের চারা এলাকায় ‘আবুল স্টোর’-এ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে কোক, জুস, বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, সরিষার তেল, ড্রাই কেক, ঝালমুড়ি, ইন্সট্যান্ট নুডলস ও বিরিয়ানি মশলাসহ প্রায় ২৫ রকমের পণ্য রয়েছে। এই অপরাধে আবুল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
    জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • দীঘিনালাতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুরাঘোরা এলাকায় সুজন চাকমা (২৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    নিহত ব্যক্তি ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
    বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বাবুছড়া এলাকার মুরাঘোরা এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত সুজন চাকমা দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া এলাকার বিন্দু মোহন চাকমার ছেলে জানা যায়।

    ইউপিডিএফ (প্রসীত) সূত্র দাবি করেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেএসএসের একটি গ্রুপ জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেএসএস সন্তুু লারমার দলের পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।”
    এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলি: উদ্ধার একে-৪৭

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির জেলা রামগড়- মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সীমান্তবর্তী তৈকাথান-প্রেমতলা এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

    এ ঘটনায় ইউপিডিএফের এক সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩৫ নিহত হয়েছে। অপর একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।
    বুধবার (২৪ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে উপজেলার প্রেমতলা সংলগ্ন এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর সশস্ত্র সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। কিছু সময় গোলাগুলি চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ব্যক্তি ববিন ত্রিপুরা (৩৫)। তিনি রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন সুনিল ত্রিপুরা। তিনি কমল বিকাশ ত্রিপুরা ও তিরবালা ত্রিপুরার ছেলে। তার বাড়ি দাতারাম পাড়ায়।

    স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আহত সুনিল ত্রিপুরা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তাকে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
    এদিকে, গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনী একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে ।

  • নাচোলে ডিএনসির অভিযানে এস্কাফ সিরাপসহ গ্রেফতার ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ বোতল এস্কাফ (Eskuf) উদ্ধারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
    বুধবার (২৪ জুন ) সকাল ৭টা থেকে ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নাচোল উপজেলার উত্তর সাকুপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মো. জুয়েল (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উত্তর সাকুপাড়া গ্রামের মৃত ওবায়দুর রহমান ও মৃত আমেনা বেগমের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে ১০ বোতল এস্কাফ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে নাচোল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান জানান , মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ফরিদপুরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনিরুজ্জামান সরদারের ইন্তেকাল

    ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী মনিরুজ্জামান সরদার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

    বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের বিলগোবিন্দপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরদার বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ওই গ্রামের মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ সরদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

    মনিরুজ্জামান সরদার দীর্ঘদিন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিলগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, তালমা নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি বিলগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, তিন কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মরহুমের ভাতিজা ও সমাজসেবক সরদার সাব্বির ইবনে জামান। তিনি বলেন, “মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও উপকার করাই ছিল চাচার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আমরা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারালাম।”

    বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিলগোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সোহরাব হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সৈয়দ শাহিনুজ্জামান শাহিন, দেলোয়ার হোসেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। নামাজে জানাজা পরিচালনা করেন আল্লামা শাহ আকরাম আলী (ধলা) হুজুর।

    তাঁর মৃত্যুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু (এমপি) গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও লস্করদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি বিলায়েত হোসেন লিটনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।

  • ফরিদপুরের সদরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই, নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা

    জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর জামতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জামতলা বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন আলী আহম্মেদ সর্দার, জাকির সর্দার, শুকুর সর্দার, মান্নান বেপারী, রাজন সর্দার ও বিমল শীল। ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিমল শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে এসে দেখি চোখের সামনে দাউ দাউ করে সব জ্বলছে। কিছুই বের করতে পারিনি। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।”

    আরেক মুদি ব্যবসায়ী বলেন, “ভোর রাতে আগুন লাগার সময় আশপাশে তেমন লোকজন ছিল না। আমরা কোনো মালামাল বের করতে পারিনি। সবকিছু পুড়ে গেছে।”

    এ বিষয়ে সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ নরেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

    স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

  • বিশ্বনাথে সিডস অফ সাদাকাহ এর ঘর পেলো তিনটি অসহায় পরিবার


    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
    সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান সিডস অব সাদাকাহ’র তিনটি ঘর পেলো বিশ্বনাথের তিনটি অসহায় পরিবার।

    বুধবার (২৪ শে জুন) দুপুরে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের আকিলপুর গ্রামের আত্বর আলী ও ৩নং ওয়ার্ডের খোজারপাড়া গ্রামের দুই গৃহহীন পরিবার শেল্টার প্রজেক্টের ৫২৪, ৪৮৪ ও ৪৮৫ নং ঘর তিনটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন সিদ্দিকী।

    এ উপলক্ষে তিনটি স্থানে সমাজ সেবক আব্দুল আলীর সভাপতিত্ব ও জুয়েল আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,
    সমাজসেবী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন।
    উপস্থিত ছিলেন, ফয়সল আহমেদ, মোক্তার হোসাইন ও আব্দুল খালিক,সুপার ভাইজার হাবিবুর রহমান আবিদ,কাওছার আহমদসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব। সিডস অব সাদাকাহ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনটি গ্রামে তিনটি অসহায় পরিবারকে নির্মাণ করে দেওয়ায় ভুয়সী প্রশংসা করেন তারা। অতিথিগন আরোও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করে না, বরং উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে।

    অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে শেল্টার প্রজেক্টের এ ঘর তিনটি উদ্বোধন করেন এবং উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

  • নিয়ামতপুরে ওয়ালটন প্লাজার উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প

    নিয়ামতপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
    সারাদেশেের ন্যায় নওগাঁর নিয়ামতপুরে ওয়াল্টন প্লাজার উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প  অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    আজ বুধবার (২৪ শে জুন) সকাল ১০ টায় ওয়াল্টন প্লাজার সামনে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন হয়। দিনব্যাপী চলা ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের  মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
     
    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে,  জনসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাশাপাশি ওয়ালটন প্লাজা নিয়ামতপুর শাখাও  এই বিশেষ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অসহায় দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত নারী ও পুরুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পান। এই উদ্যোগ আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা।

    আগত রোগীরা জানান দূরদূরান্ত থেকে এসে বিনামূল্যে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ সেবা পেয়েছেন। এতে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও  আনন্দিত। অনেকেই বলেন এ ধরনের  উদ্যোগ নিয়মিত হলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

    স্থানীয়রা জানান,নিয়ামতপুর উপজেলার মানুষ নানান কারণে উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হোন। বেসরকারি সংগঠনগুলো এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।

    আয়োজকরা জানান মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি  ওয়ালটন প্লাজা নিয়ামতপুর শাখা  ব্যবস্থাপক  জনাব মো:  খায়রুল ইসলাম  সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাড়া লক্ষ্য করা যায়। #২৪ জুন ২০২৬ ইং

  • আমতলীতে সাড়ে ৬ হাজার গাছের চারা ও ৩০ হাজার কেজি সার বিতরন


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    আমতলীতে কৃষি পুনর্বান কর্মসূচীর আওতায় চলতি বছর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ৬ হাজার ৬শ’ ৭০টি ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা এবং ৩০ হাজার কেজি জৈব ও রাসায়নিক সার বিতরন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে কৃষকদের হাতে গাছের চারা ও সার তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও।
    আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল এর সভাপত্বি অনুষ্ঠিত গাছের চারা ও সার বিতরনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম।

    এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. জালাল উদ্দিন ফকির, আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রোকৌশলী মো. ইদ্রস আলী, বনকর্মকর্তা মো. মনিরুল হক, সমবায় কর্মকর্তা মো. আজাদুর রহমান, আমতলী উপজেলা সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদেও সভাপতি মো. জাকির হোসেন, আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম, আমতলী উপজেলা সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদেররর সম্পাদক মো. হায়াতুজ্জামান মিরাজ প্রমুখ।

    আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, ২০২৫-২৬ অর্ত বছরের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় আমতলী উপজেলার ৬ হাজার ৬শ’ ৭০ জন কৃষকের মধ্যে নারিকেল, আম, জাম, লেবু, শরিফা, কাঠাল, অর্জুন, মেগিনি, রেন্টিসহ বিভিন্ন ধরনের ওষধি গাছের চারা, গাছ রোপনের খুটি ও ৩০ হাজার কেজি জৈব ও রাসায়নিক সার বিতরন করা হয়।।#