Category: প্রচ্ছদ

  • সরকারি অর্থে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী পরিত্যক্ত অবস্থায়

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।

    তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

  • মানবতার ফেরিওয়ালা রামিম: এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের অনুপ্রেরণার গল্প

    নরসিংদী প্রতিনিধি:

    “মানুষ মানুষের জন্য”—এই চিরন্তন সত্যই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। চারপাশে যখন স্বার্থপরতার ছাপ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখনও কিছু তরুণ নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।

    তেমনই একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক রামিম, যিনি নিজের সময়, শ্রম ও মানবিকতা দিয়ে হয়ে উঠেছেন অনেক মানুষের আস্থার প্রতীক।

    ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির সময় চারদিকে যখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন রামিমের মনে জন্ম নেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প। সেই সময় থেকেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি শুধু একজন রক্তদাতা নন, বরং অসহায় মানুষের নির্ভরতার নাম হয়ে ওঠেন।

    রামিমের মানবিক যাত্রার অন্যতম অধ্যায় রক্তদান। ২০২২ সালে প্রথমবার একজন রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীকে রক্তদান করার মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেন, একটি ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

    যখনই কোনো রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়, তিনি সাড়া দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, প্রতিটি জীবনই অমূল্য।
    রক্তদানের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কম্বল বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার মতো নানা মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশ নেন তিনি।

    নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।

    নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে রামিম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার জীবনের ব্রত। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে পারার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।

    সমাজ যখন ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রামিমের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার নিরলস পথচলা প্রমাণ করে, মানুষের সেবা করতে বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি সহানুভূতিশীল মন এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা। রামিমের এই মানবিক অভিযাত্রা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।

  • চট্টগ্রামে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ায় শোভাযাত্রা ও সভা অনুষ্ঠিত


    চট্টগ্রামরাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
    উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) উদ্যোগে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত হয়। এ উপলক্ষে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রশাসনিক এলাকায় শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    বিআরডিবি রাঙ্গুনিয়ার সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংস্থার সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ওসমান গনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নোয়াব মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহার, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, যুগ্ম আহবায়ক হেলাল উদ্দিন শাহ, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাহেদ কামাল,রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজাত কুমার চৌধুরী, বিআরডিবি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, এওয়াক ম্যানেজার আসহাবুল ইসলাম সিদ্দিকী প্রমুখ।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। বিআরডিবির মাধ্যমে অবহেলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সরকার ঋণের ব্যবস্থা করে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক কাজ যাতে সংগঠিত না হয় সেদিকে সকলের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন তিনি।
    শেষে বিআরডিবির বিভিন্ন সমিতিভুক্ত সদস্যদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

  • ফরিদপুরে নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপানের দাবিতে ভিডিও ভাইরাল


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপান করার দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    গত ৫ জুলাই তুরান রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া কয়েকজন কিশোরী এম এন একাডেমি ও গার্লস স্কুল–এর শিক্ষার্থী এবং তারা স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন।

    তবে ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তারা উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: সময়মতো ট্রাকসেল না করায় ডিলারকে শাস্তি দিলেন ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামান

    অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: সময়মতো ট্রাকসেল না করায় ডিলারকে শাস্তি দিলেন ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামান

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    সরকারি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডি-৪ এলাকার সহকারী আঞ্চলিক কর্মকর্তা (এআরও) তারিকুজ্জামান। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা কিংবা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে তিনি কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না—সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন তিনি।

    জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডি-৪ এলাকার ডিলার খাইরুন নেছার ট্রাকসেল কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ চাল ও আটা কেনার আশায় ট্রাকসেলের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

    কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ট্রাক ঘটনাস্থলে না পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ট্রাকসেল শুরু না হওয়ায় নারী, পুরুষ ও বয়স্ক ক্রেতাদের মধ্যে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড রোদ ও অপেক্ষার কারণে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর সকাল ১১টার দিকে ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামান দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন।

    পরিদর্শনে সময়সূচি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। শাস্তিস্বরূপ ওই দিনের ট্রাকসেল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরদিন সকাল ঠিক ৯টায় ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

    এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ট্রাক ভাড়া, শ্রমিক ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তবে এ বিষয়ে এআরও তারিকুজ্জামান বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারি সেবার মান বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো ডিলার যেন সময়সূচি লঙ্ঘনের সাহস না পান, সে লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন,
    “আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, ততদিন আমার এলাকায় কোনো ধরনের অন্যায়, অনিয়ম কিংবা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। সরকারি সেবা নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, আমি তা-ই করব। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    এআরওর এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রাকসেলে আসা একাধিক ক্রেতা। তাদের ভাষ্য, অনেক সময় ডিলারদের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এমন কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভবিষ্যতে অন্য ডিলাররাও সময় মেনে দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তাই মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের মতে, ডি-৪ এলাকার এআরও তারিকুজ্জামানের এমন পদক্ষেপ সরকারি সেবায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।

  • বিশ্বনাথের স্থানীয় রাজনীতিতে ইউপি চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিনের চমক

    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
    সিলেটর এক আলোচিত রাজনীতির জনপদ বিশ্বনাথ। গত দুই দশকে স্থানীয় রাজনীতিতে যত আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের অন্য কোন উপজেলায় ততটা ঘটেনি। একারণে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার দৃষ্ঠি সব সময় বিশ^নাথের দিকে তাক করা থাকে। স্থানীয় রাজনীতিতে সর্বশেষ চমক দিলেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবিরের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে হুমায়ুন কবিরের বলয়ে যোগ দিবেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার।

    বাংলাদেশের আলোচিত এক রাজনৈতিক জনপদ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা। প্রবাসী অধ্যূষিত এই জনপদে গত দুই দশকে স্থানীয় রাজনীতিতে নানান ঘটনা আলোড়ন সৃষ্ঠি করেছে, এরমধ্যে গত ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার রাজপথ থেকে গুম হন বিশ্বনাথের কৃতি সন্তান বিএনপির প্রভাভশালী নেতা এম. ইলিয়াস আলী। যার গুমের প্রকৃত রহস্য এখনও উম্মোচিত হয়নি।

    শুধু তাই নয় রাজণৈতিক কারণে রাজপথে ঝরেছে ৭টি তাজা প্রাণ। গত দুই দশকে একানকার রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত যত ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের অন্য কোন উপজেলায় ততটা ঘটেনি। একারণে দেশী-বিদেশী মিডিয়ার দৃষ্ঠি থাকে বিশ্বনাথের দিকে। বিশ্বনাথের জনপ্রিয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদার ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দারুন এক চমক দেখান।

    তিনি যখন নির্বাচিত হন তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীণ সময় অন্তরবর্তি সরকার এবং বর্তমানে বিএনপি সরকারকে পেয়েছেন। তিন সরকারের আমলেই তিনি বেশ দাপটের সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। সবার মনে প্রশ্ন ছিল দয়াল তুমি কার? চেয়ারম্যান হাজী মো. দয়াল উদ্দিন তালুকদারের রাজনৈতিক স্পষ্ট কোন পরিচিতি না থাকলেও তিন সরকারের আমলেই কারো সাথে তাঁর কোন দূরত্ব সৃষ্ঠি হয়নি।
    বরং সবার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে চেয়ারম্যান দয়াল ছিলেন সবার।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবিরের সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে তুলেছেন চেয়ারম্যান দয়াল। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে একান্তে সাক্ষাত করেছেন উপদেষ্ঠা হুমায়ুন কবিরের সাথে। হুমায়ুন কবিরের সাথে এরকম কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচার করা হয়।

    তাতে বিশ্বনাথের হুমায়ুন বলয়ের নেতাকর্মীরা খুশি হনসম্প্রতি ফেসবুকে এক সাক্ষাতকারে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে হুমায়ুন কবির ভাইয়ের কাছে যোগদান করব। আমি বিএনপির রাজনীতিতে আগেই ছিলাম। বর্তমান বিএনপিতে যারা আছেন তাদের অনেকের সিনিয়র আমি। কাগজ খুজলে পাওয়া যাবে। আমি দুই নৌকায় পা রাখতে চাইনা। একারণে একদিকে থাকতে চাই।

    সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় চেয়ারম্যান দয়াল বলেন, । ইনো আদা পথ মাইর করি মরমু দেখছি। এরলাগি হরিয়া যাইরামগি। তারা শান্তি থাখউক্ষা।

  • লোহাগাড়ায় পর্যটক বাহী বাস উল্টে আহত অন্তত ১৫


    লোহাগাড়ার প্রতিনিধি:
    চট্টগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পর্যটক টিআর ট্রাভেলসের বাস উল্টে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    রোববার (২৮জুন ) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের লোহার দিঘীর পাড়ের এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা আহতদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে সূত্রে জানা গেছে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুমাইয়া (২৪), সাব্বির (২৪), রিয়াদ (১০), সাকিব হাসান (২২), নাঈম (২০), মইনুল (১৮), এবং মতিউর রহমান (২০), এছাড়া আরো কয়েকজন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের সবাই বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা। আহত মিজানুর রহমান জানান, তারা বগুড়া থেকে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন।

    রোববার সকালে কক্সবাজার থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর লোহাগাড়া লোহার দিঘির পাড়ে এলাকায় পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে বাসটি মহা সড়কে উল্টে যায় দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান বলেন, চট্টগ্রাম মুখী পর্যটক বাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে , অতিরিক্ত গতির কারণে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • ব্র্যাকের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩ হাজারের বেশি গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    সবুজে গড়ি পরিবেশ, সুন্দর হোক বাংলাদেশএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও চারা গাছ বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ব্র্যাক পরিচালিত ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল এবং ১০০টি স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১৩ হাজার ৪৮৪টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসলাম কবীরের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ডিভিশনাল ম্যানেজার রাজ কেশর রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. ফেরদৌস হোসেন তালুকদার, জেলা প্রতিনিধি মোছা. মোমেনা খাতুন, উপজেলা ব্যবস্থাপক এস. এম. রফিকুল ইসলাম এবং কর্মসূচি সংগঠক মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সবুজ বাংলাদেশ গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।


  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    সবুজে গড়ি পরিবেশ, সুন্দর হোক বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও চারা গাছ বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ব্র্যাক পরিচালিত ৬৩টি প্রাইমারি স্কুল এবং ১০০টি স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১৩ হাজার ৪৮৪টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসলাম কবীরের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির ডিভিশনাল ম্যানেজার রাজ কেশর রায়।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. ফেরদৌস হোসেন তালুকদার, জেলা প্রতিনিধি মোছা. মোমেনা খাতুন, উপজেলা ব্যবস্থাপক এস. এম. রফিকুল ইসলাম এবং কর্মসূচি সংগঠক মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সবুজ বাংলাদেশ গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

  • নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদককে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন ফুটবলপ্রেমীরা

    নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদককে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন ফুটবলপ্রেমীরা। রবিবার সকাল ৯টায় দুর্গাপুরে ফুটবলপ্রেমীরা প্রতীকীভাবে মাদককে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন।এদিকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ফুটবলপ্রেমীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন। রবিবার সকাল ৯টায় দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ফুটবলপ্রেমীরা শপথ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতীকীভাবে মাদককে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন।

    এসময় উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) শাহীনুর ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে লাল কার্ড যেমন মাঠ থেকে বহিষ্কারের প্রতীক, তেমনি সমাজ থেকেও মাদককে চিরতরে বহিষ্কার করতে হবে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক বিকাশই ঘটায় না, এটি তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। মাঠের এই লাল কার্ড যেন সবার মনে মাদকের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়ায় এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ।’

    এদিকে এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, ‘মাদক একটি জাতিকে রুগ্ন ও মেধাশূন্য করে দেয়। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতাই পারে এই ব্যাধি দূর করতে। এ লক্ষ্যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

    ফুটবলপ্রেমীদের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে মাদককে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। সবাই সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুললে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এসময় উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।