Category: প্রচ্ছদ

  • ‎ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল নাসিরনগরের ওহি, পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা ‎


    ‎ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
    ‎২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি। তার এই কৃতিত্বে পরিবার, বিদ্যালয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
    ‎
    ‎ওহি ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। সে নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
    ‎
    ‎ওহির বাবা আশরাফ উদ্দিন আহাম্মেদ ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মা শিরিন আক্তার আশা একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের মধ্যে ওহি বড়।
    ‎
    ‎পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ওহি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ও পরিশ্রমী। নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহ-অনুপ্রেরণার ফলেই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে।
    ‎
    ‎ওহির এই কৃতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভবিষ্যতেও সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে, এমন প্রত্যাশা সবার।
    ‎
    ‎ইফতেখার আহাম্মেদ ওহি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছে।
    ‎

  • গাজীপুরে জনসংখ্যা দিবস পালিত ও পরিকল্পিত পরিবার গঠন শীর্ষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    “জনসংখ্যা ও উন্নয়ন”আগামীর সুরক্ষায় পরিবার পরিকল্পনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা ও কৃতী কর্মীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
    ‎
    ‎​উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরে আল-আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদ নিয়াজ শিশির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম।
    ‎
    ‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া ফারুক (মা ও শিশু), ডা. মাখরুজা (মা ও শিশু) সহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীবৃন্দ।
    ‎
    ‎​প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদ নিয়াজ শিশির বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পিত পরিবার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই শ্রীপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটছে।”
    ‎
    ‎​আলোচনা শেষে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে অসামান্য অবদান ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
    ‎
    ‎​পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা:
    ‎​সেরা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক: মকবুল হোসাইন (তেলিহাটি ইউনিয়ন) — যিনি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন।
    ‎​সেরা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (উপজেলা পর্যায়): মিনারা খাতুন (রাজাবাড়ি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (উপজেলা পর্যায়): তানিয়া আক্তার (তেলিহাটি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা পরিবার কল্যাণ সহকারী (উপজেলা পর্যায়): হাসিনা বেগম (তেলিহাটি ইউনিয়ন)।
    ‎​সেরা ইউনিয়ন পরিষদ: তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদ।
    ‎​সেরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র: বরমী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।
    ‎
    ‎​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

  • মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক উন্নতি হয়েছে।

    মনু,ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে তারা বাড়ি ফিরেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার। জেলায় এপর্যন্ত সরকারি ভাবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে।

    বন্যায় ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

    কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে টেংরা ইউনিয়নের মনুনদীর ২টি স্থান উজিরপুর, একামধু ও কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আশরাফ আলী নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেকই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর ভাঙ্গন দিয়ে বন্যার পানি প্রবল বেগে বের হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে।

    বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে মনুনদীর একামধু এলাকায় মনু প্রকল্পের বাঁধে দ্বিতীয় ভাঙ্গন দেখো দিলে টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের আরো ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

    প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও, গনেশপুর। মনসুরনগর ইউনিয়নের-শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর, গোবিন্দশ্রী এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসগস্র ও দত্তগ্রাম।

    অপরদিকে কুলাউড়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনুনদীর বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

    বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, পানিতে তোড়ে ভেসে গিয়ে বৃদ্ধ আশরাফ আলী নিখোজ হলে দীর্ঘ সময় খোজাখোজির পর আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের সাথে শুক্রবার সকালে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে।

    জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করে জানান, সংশ্লিষ্ট সকলকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবায়ন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

    মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

    এদিকে মৌলভীবাজার শহরের কাছে চাঁদনিঘাট পয়েন্টে মনুনদীর পানি শুক্রবার সকাল ৯ টায় বিপদ সীমার ৭৫ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহি হচ্ছে। কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ী নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। এর মধ্যে ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার বন্যার্থ মানুষ আশ্রয় নেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।

    মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকৎসিক বন্যা দেখা দেয়। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ৩টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ধলাই নদীর ভাঙ্গনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ গুলো ভাঙ্গন রোধে তারা সর্তক নজদারি রাখছেন।
    ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮

  • গুমের নাটক সাজিয়ে ২ বছর আত্মগোপন: নির্দোষ ঠিকাদারকে ৪ মাস জেল খাটিয়ে অবশেষে জীবিত উদ্ধার


    ​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে থেকে নিজের ‘অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের’ মিথ্যা মামলা করানোর এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার ঘটনা ফাঁস করেছে পুলিশ। এই সাজানো মামলার জালে ফেঁসে প্রধান আসামি হিসেবে টানা চার মাস কারাভোগ করেছেন জামান মিয়া নামের এক স্থানীয় ঠিকাদার।
    অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে তথাকথিত ‘নিখোঁজ’ যুবক মোস্তফা কামালকে (২৮) জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ।

    ​শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

    ​বিরোধের সূত্রপাত ও নিখোঁজ নাটক
    ​অনুসন্ধানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মোস্তফা কামাল মূলত ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তার পরিবার কুলিয়ারচরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করত। পেশায় রাজমিস্ত্রি কাম সাব-কন্ট্রাক্টর মোস্তফা কামালের সাথে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার ঠিকাদার জামান মিয়ার ব্যবসায়িক সুবাদে পরিচয় হয়। একসাথে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়।

    ​ঠিকাদার জামান মিয়ার দাবি, মোস্তফা কামাল কাজের হিসাবের বাইরে তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা অতিরিক্ত অগ্রিম নিয়ে আর কাজে আসেননি। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছালে মোস্তফা কামাল একপর্যায়ে সুকৌশলে বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যান এবং পরিবারের সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

    এদিকে ​ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়— ঠিকাদার জামান মিয়া ও তার সহযোগীরা মোস্তফা কামালকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করেছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি রুজু হয় এবং পুলিশ প্রধান আসামি জামান মিয়াকে গ্রেফতার করে।

    ​নির্দোষ জামান মিয়া শুরু থেকেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দাবি জানিয়ে আসলেও দীর্ঘ চার মাস তাকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

    জামান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মিথ্যা মামলার কারণে আমার ব্যবসা, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
    ​
    ​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল হক জানান, মামলার তদন্ত করতে গিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণে বেশ কিছু অসঙ্গতি তাদের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির নজরদারি বৃদ্ধি করে।

    অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ভোগড়াচালা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোস্তফা কামালকে।

    জানা গেছে, সেখানে তিনি স্বাভাবিকভাবে রাজমিস্ত্রির কাজ করার পাশাপাশি নতুন করে বিয়ে করে সংসারও করছিলেন।
    ​
    ​মিথ্যা গুমের ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, “আমরা ভেবেছিলাম ছেলেটি সত্যিই খুনের শিকার হয়েছে। এখন জানা গেল সব নাটক। যারা এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

    ​কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া যুবককে আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “পুরো এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং পরিবারের সদস্যরা জেনেশুনে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছে কি না— তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • দরিদ্র শিক্ষার্থী, বেকার ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের কল্যাণে কাজ করবে মেইজ ফাউন্ডেশন


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন মেইজ ফাউন্ডেশন। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহিদুল ইসলাম খান। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    সংগঠনটির সভাপতি মনসুর আলী খলিফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মেইজ ফাউন্ডেশন মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করবে। এর অংশ হিসেবে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা, অতিদরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
    বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মেইজ ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

    প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সামাজিক সংগঠনগুলো মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মেইজ ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে। তিনি সংগঠনটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাফর, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম আবু সাইদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন।

  • রায়গঞ্জের ধানঘরা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করার উদ্যোগ: আশার আলো দেখালেন এমপি ভিপি আয়নুল হক

    রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা:
    সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ধানঘরা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক।

    রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পরিচিতি সভায় স্থানীয় শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক আক্ষেপ করে বলেন, “রায়গঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয় সরকারি হলেও ধানঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সরকারি না হওয়াটা হতাশাজনক।”

    তিনি উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করে জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি ডেমি-অফিসিয়াল (ডিও) লেটার প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ যথাযথ দপ্তরে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে এমপি আয়নুল হক বলেন, “একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।” তিনি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা ও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    পরিচিতি সভায় বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাতেম আলী (সুজন), সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান মিরন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান সরকার (রোম বাদশা)।

    অনুষ্ঠানে ধানঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • ​সাংবাদিক নিজামের ভিডিওতে সাড়া: শিউলি বেগমের দায়িত্ব নিল প্রশাসন


    কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধ:
    একটি মানবিক ভিডিও প্রতিবেদন বদলে দিল অসহায় এক নারীর জীবনের গল্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও দেখে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অত্যন্ত অসহায়, অসুস্থ আম বিক্রেতা শিউলি বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান মারুফ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    ​জানা গেছে, গত ১৫ জুন গণমাধ্যমকর্মী নিজাম উদ্দীন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আম বিক্রেতা শিউলি বেগমকে নিয়ে একটি সচিত্র ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনটিতে শিউলি বেগমের জীবনসংগ্রাম ও তার বর্তমান অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে ওঠে। ভিডিওটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান মারুফের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

    ​ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইউএনও মোঃ কামরুল হাসান মারুফ বলেন, “গত জুনের ১৫ তারিখ সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন তার ব্যক্তিগত আইডিতে আম বিক্রেতা শিউলি বেগমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। ভিডিওটি দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে। এরপরই আমি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে ওই ভদ্রমহিলার ঠিকানা সংগ্রহ করি। আজ আমি নিজেই উনাকে সশরীরে দেখতে গিয়েছিলাম।”

    ​ইউএনও আরও জানান, শিউলি বেগম বর্তমানে অত্যন্ত অসুস্থ এবং সম্প্রতি তার পায়ে একটি অপারেশন হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার জন্য ৩০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে কথা বলে তার চিকিৎসা খরচ যেন সর্বনিম্ন রাখা হয়, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    ​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, শিউলি বেগম সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে অথবা অন্য কোনো সম্মানজনক উপায়ে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে উপজেলা প্রশাসন।

    ​একজন গণমাধ্যমকর্মীর বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষ সাংবাদিক নিজাম উদ্দীন ও ইউএনও মোঃ কামরুল হাসান মারুফকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বহু হতাহতের আশংকা


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে অফিসিয়ালি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    শনিবার (১১ জুলাই) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

  • খাদ্য বর্জ্য থেকেই মাছের খাদ্য, কুবি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    কুবি প্রতিনিধি:
    হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ির খাবারের উচ্ছিষ্ট আর শুধু বর্জ্য নয়। সেই খাদ্য বর্জ্যই এখন রূপ নিচ্ছে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব মাছের খাদ্যে। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (বিএসএফ) লার্ভা ব্যবহার করে এমনই একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। পরিবেশ দূষণ কমানো, খাদ্য বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং স্বল্প ব্যয়ে বিকল্প মাছের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যেই তাদের এ উদ্যোগ।

    উদ্যোগটি নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবেদ হোসেন, শাকিল আহমেদ, মুক্তিব হাসান জনি, নাজমুল হাসান চৌধুরী। ফাইন্যান্স বিভাগের কাওছার আহমেদ শাহীন এবং পরিসংখ্যান বিভাগের জয়া ভৌমিক এবং কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ফখরুল ইসলাম এবং আদেল হোসাইন।

    উদ্যোক্তারা জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা খাবারের উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই লার্ভাগুলো উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ জৈব উপাদানে পরিণত হয়। পরে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে মাছের জন্য মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন করা হয়। এতে একদিকে খাদ্য বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছের খাদ্য উৎপাদনের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হচ্ছে।

    উদ্যোক্তাদের মতে, দেশে মাছের খাদ্য উৎপাদনে প্রচলিত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি খাদ্য বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নেও এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।

    এবিষয়ে উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ বলেন, “আমরা এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করছি, যেখানে খাদ্য বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কম খরচে পুষ্টিকর মাছের খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।”

    আরেক উদ্যোক্তা আবেদ হোসেন বলেন, “আমাদের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু বিকল্প মাছের খাদ্য উৎপাদন নয়। বরং খাদ্য অপচয় কমানো, জৈব বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং টেকসই মৎস্যচাষে অবদান রাখা। একই সঙ্গে প্রচলিত ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও আমাদের উদ্দেশ্য।

  • ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা নেই, অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত ডা. ইসমাইল


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
    ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন দাবি করেছেন, সরকারি হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট থেকেই তিনি ম্যাক্স হাসপাতালের সব শেয়ার ও মালিকানা তাঁর বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাই বর্তমানে হাসপাতালটির সঙ্গে তাঁর কোনো মালিকানা বা শেয়ার নেই।

    এর আগে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানা থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডা. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে।

    গত ৫ জুলাই ২০২৬ জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন যে, ডা. ইসমাইল সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেও হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতালের অংশীদার। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়।

    তবে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরির বিধিমালা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরই তিনি নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি প্রাইমারি শেয়ার বন্ধু মো. রবিউল ইসলাম (রবি)-এর কাছে হেবা (দানপত্র) দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “চাকরি বিধির প্রতি সম্মান দেখিয়েই গত বছরের আগস্টে আমার সব শেয়ার বন্ধুর কাছে দিয়ে দিই। বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতালে আমার কোনো মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ নেই।” হেবা দলিল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চিকিৎসক হিসেবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অংশীদার থাকা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় কোনো প্রকার আর্থিক প্রতিদান ছাড়াই তিনি তাঁর সব শেয়ার বন্ধুর কাছে স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করেন।

    দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট থেকে এই হস্তান্তর কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এরপর থেকে ওই শেয়ার থেকে প্রাপ্ত সব ধরনের অধিকার, লভ্যাংশ ও সুবিধা গ্রহীতা ভোগ করবেন। দলিলটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ আদালতের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়। ডা. ইসমাইল আরও বলেন, গত ৩ জুন তদন্ত কমিটি পরিদর্শনে এলেও তাঁর কাছে কোনো কাগজপত্র চাওয়া হয়নি। ফলে তদন্তে পুরোনো নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজসহ লিখিত জবাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।
    তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করি প্রকৃত তথ্য বিবেচনায় ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত হবে।”