Category: অন্যান্য

  • সরকারি অর্থে ১৫ হাজার স্বাস্থ্য কার্ড বস্তাবন্দী পরিত্যক্ত অবস্থায়

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সরকারি অর্থে ছাপানো প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বছরের পর বছর মানুষের হাতে না পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্ডগুলোর ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে বস্তাভর্তি স্বাস্থ্য কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, ২০২৪ সালে বড়লেখায় যোগদানের পর তিনি এসব কার্ডের বিষয়ে অবগত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের তথ্য বারবার রেজিস্টারে লেখার পরিবর্তে ট্যাবভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের সুবিধার জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, তথ্যগত ত্রুটি ও কিছু ডুপ্লিকেট কপি থাকায় কার্ডগুলো বিতরণ করা হয়নি।

    তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রশ্ন, যদি কার্ডগুলোতে তথ্যগত ত্রুটি থেকেই থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এত বিপুল সংখ্যক কার্ড কেন ছাপানো হয়েছিল? ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর কেন তা সংশোধন করা হয়নি? কেন বিষয়টি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি? আর কেন বছরের পর বছর কার্ডগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রইল?

    স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও দৌড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। একদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে তৈরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্ডগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাকি এর পেছনে আরও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তদন্তে যদি দায়িত্বে অবহেলা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা বা আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    এলাকাবাসীর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা স্বাস্থ্য কার্ডগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এ কারণে সরকারি অর্থের কতটা ক্ষতি হয়েছে—সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কার্ডগুলো ছাপানো ও সংরক্ষণের বিষয়টি ঘটে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্ডগুলো অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

  • আমতলীতে অংশীদারদের সঙ্গে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত


    আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
    বরগুনার আমতলী উপজেলায় অংশীদারদের অংশগ্রহণে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কর্মশালায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা উন্নয়ন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আমতলী উপজেলার সোনালী কমিউনিটি সেন্টারে আমতলী এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রামের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন এনএসএস-এর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন স্পেশালিস্ট আখতারুজ্জামান।

    প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিকুল আলম। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপির চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস, এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার, এনএসএস-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অতিদাস ও প্রতিভা মণ্ডল, এনএসএস-এর ফিল্ড অপারেশন অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যাকলিন টুম্পা মণ্ডল, খোকন দাস, রাধা রানী ও তানিয়া আক্তার।

    এছাড়াও কর্মশালায় তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তারানী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উপকারভোগী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    কর্মশালায় গত এক বছরে এরিয়া প্রোগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও অর্জন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। আলোচনায় শিশু সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারী ও যুব উন্নয়ন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

    এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
    কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামী বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • বিশ্বনাথে পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ।

    বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

    বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পণ্ডিত ছিপত আলী মেমোরিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে স্কুল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
    বৃক্ষপ্রেমিক আব্দুল গফ্ফার উমরা মিয়ার সভাপতিত্বে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান অমির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সকলকে পড়ালেখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ক্রিড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের মন ও শরীর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।’
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোপাল চন্দ্র সূত্রধর, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজীদয়াল উদ্দিন তালুকদার, বিএডিসির কর্মকর্তা নাজমুল হক।
    এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানুরাগী আব্দুল মান্নান রিপন, জাহাঙ্গ

  • মানবতার ফেরিওয়ালা রামিম: এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের অনুপ্রেরণার গল্প

    নরসিংদী প্রতিনিধি:

    “মানুষ মানুষের জন্য”—এই চিরন্তন সত্যই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। চারপাশে যখন স্বার্থপরতার ছাপ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখনও কিছু তরুণ নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।

    তেমনই একজন মানবিক স্বেচ্ছাসেবক রামিম, যিনি নিজের সময়, শ্রম ও মানবিকতা দিয়ে হয়ে উঠেছেন অনেক মানুষের আস্থার প্রতীক।

    ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারির সময় চারদিকে যখন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তখন রামিমের মনে জন্ম নেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প। সেই সময় থেকেই তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি শুধু একজন রক্তদাতা নন, বরং অসহায় মানুষের নির্ভরতার নাম হয়ে ওঠেন।

    রামিমের মানবিক যাত্রার অন্যতম অধ্যায় রক্তদান। ২০২২ সালে প্রথমবার একজন রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীকে রক্তদান করার মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেন, একটি ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত রক্তদান করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ১২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

    যখনই কোনো রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়, তিনি সাড়া দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, প্রতিটি জীবনই অমূল্য।
    রক্তদানের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কম্বল বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার মতো নানা মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশ নেন তিনি।

    নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকেই তিনি জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন।

    নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানিয়ে রামিম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার জীবনের ব্রত। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসতে পারার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আমি চাই, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।

    সমাজ যখন ক্রমেই যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, তখন রামিমের মতো তরুণদের মানবিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার নিরলস পথচলা প্রমাণ করে, মানুষের সেবা করতে বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি সহানুভূতিশীল মন এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা। রামিমের এই মানবিক অভিযাত্রা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হোক এমন প্রত্যাশাই সবার।

  • ‎মোংলা বন্দরে ১৫৩৮ কোটি টাকার ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প: নাব্যতা ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

    ‎
    ‎ডাকুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
    ‎মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের নাব্যতা ও ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফল বজায় রাখতে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প শুরু হয়েছে।
    ‎
    ‎দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পশুর চ্যানেলে শুরু হয়েছে ১৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সংরক্ষণ বা ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প। সম্প্রতি দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর সময় নিয়ে সম্পন্ন হওয়া ইনার বার ড্রেজিং প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মূলত ইনার বার ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের যে গভীরতা অর্জন করা হয়েছে, পলি জমে তা যেন পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে, যা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জাহাজ চলাচলের পথকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের নৌ-চ্যানেলের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বন্দর প্রশাসন।
    ‎
    ‎বন্দর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মতে, অতীতে ড্রেজিংয়ের অভাবে পশুর চ্যানেলে প্রায়ই নাব্যতা সংকট দেখা দিত, যার ফলে বড় জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষমাণ থাকতে হতো। ম্যান্টেন্যান্স ড্রেজিংয়ের এই ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করা না গেলে ইনার বার ড্রেজিংয়ের সুফলগুলো দ্রুতই হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ অনুযায়ী, যথাযথ সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের অভাবে অতীতে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং ও খালাস প্রক্রিয়ায় যে ধীরগতি দেখা গিয়েছিল, তা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শুরুর ফলে বন্দরের জেটিগুলোতে সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটার গভীরতার ড্রাফট সম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে পারবে, যা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ড্রেজিং নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হলে বন্দরের টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ব্যয়বহুল লাইটারিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।
    ‎
    ‎প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে চ্যানেলটি সচল রাখা হবে। প্রকল্পের বাজেট ও সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে পলি জমার হার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করবে না, বরং প্রশাসনিক ও কারিগরি নজরদারির মাধ্যমে ড্রেজিং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই, কারণ পশুর চ্যানেলের তলদেশ সবসময়ই পলির উপস্থিতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ড্রেজিং খাতে অনিয়মের অভিযোগ কমে আসবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    ‎
    ‎এই মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারায় বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পথ প্রশস্ত হবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ শেষ করাটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মোংলা বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করবে এবং দেশের সমুদ্রবন্দর খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
    ‎

  • ফরিদপুরে নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপানের দাবিতে ভিডিও ভাইরাল


    ফরিদপুর প্রতিনিধি:
    ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্কুলড্রেস পরিহিত কয়েকজন কিশোরীর ধূমপান করার দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    গত ৫ জুলাই তুরান রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ভিডিওতে দেখা যাওয়া কয়েকজন কিশোরী এম এন একাডেমি ও গার্লস স্কুল–এর শিক্ষার্থী এবং তারা স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন।

    তবে ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তারা উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

  • দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে নাহিদ ইসলাম

    গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
    দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই মাদক কারবারিদের বন্ধ করুন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখুন। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবীদের মহাসমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার এখনো সেই সংস্কারের বাস্তবায়ন করেনি।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার জাতির সাথে বেইমানি ও গাদ্দারি করেছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও চলতি বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। তিনি দেশে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

    এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড হলে, তা যে রাজনৈতিক দলই করুক না কেন, তার সমালোচনা করার সাহস থাকতে হবে। একই সঙ্গে কোনো দল ভালো কাজ করলে সেটিরও প্রশংসা করা উচিত।

    এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়ে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে মহাসমাবেশ শেষ হয়।

  • জামায়াত-শিবির পরিচয়ে মার্কেট দখল, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

    ঢাকা প্রতিনিধি:
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ (নগর প্লাজা) দখল করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে একটি গ্রুপ চাঁদাবাজি ও বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কেটের একদল দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেছেন, মার্কেটে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগর প্লাজার নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।

    ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে মো. সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।

  • কুবির চিত্তনামার নেতৃত্বে ফাহাদ-রিক্তা


    কুবি প্রতিনিধি:
    চিন্তা ও চিত্তের প্রকাশ ঘটুক, মূল্যবোধের চর্চা হোক’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাহিত্য ও মূল্যবোধভিত্তিক সংগঠন চিত্তনামার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির নবীনবরণ অনুষ্ঠান।

    সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বাংলা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ফাহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিক্তা চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। পরে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

    সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মারুফ শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরামর্শক ও বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ রায়হান এবং শিশু ও কিশোর মেলা সাহিত্য সংগঠনের সম্পাদক দীপা মজুমদার।

    নবনির্বাচিত সভাপতি আল ফাহাদ বলেন, সংগঠনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে পূর্বসূরিদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে মূল্যবোধের চর্চা ও মানবিকতা জাগ্রত রাখতে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

    সাধারণ সম্পাদক রিক্তা চক্রবর্তী বলেন, চিত্তনামা মানুষের হয়ে ওঠা, চিন্তার বিকাশ এবং মূল্যবোধ চর্চার একটি প্ল্যাটফর্ম। নতুন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে ড. নাহিদা বেগম বলেন, স্বাধীন ও সাহসের সঙ্গে চিত্তের কথা প্রকাশ করাই চিত্তনামার মূল শক্তি। ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করলেও সদস্যদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা সংগঠনটিকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • বিরামপুরে একের পর এক অভিযোগ: জনদুর্ভোগ,শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়ম, জনদুর্ভোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রমাণ তারা দেখতে পাননি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী,১লা জুলাই ২০২৬গত ৩-৪ মাস পূর্ব থেকে উক্ত অভিযোগ গুলো উপজেলা প্রশাসনের বেশ কিছু দপ্তরে জমা পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও অনেক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছেন তারপরও উপজেলা প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয় নাই।উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে অনিয়ম,কথিত ভুয়া শিক্ষাগত সনদের মাধ্যমে চাকরি,উপস্থিত না থেকেও বেতন ভাতা উত্তোলন এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ সময় ট্রাক্টর ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিযোগ গুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা তাদের একমাত্র দ্বায়িত্ব।এলাকাবাসীর দাবি,দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয়রা আরও বলেন, তারা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির হয়রানি চান না; একই সঙ্গে কোনো অভিযোগও যেন ধামাচাপা না পড়ে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসী বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন,সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।