Category: রাজনীতি

  • জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে প্রতিরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল


    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অপতৎপরতা প্রতিহত করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে প্রতিরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১১ টায় বাতেন খাঁর মোড় থেকে বের হয়ে শান্তি মোড়, আরামবাগ হয়ে বিশ্বরোড, বিশ্বরোড হয়ে নিউমার্কেট হয়ে আবার বাতেন খাঁর মোড়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইননবাবগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ জামিউল হক সোহেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক অকিলুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রোমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক বদিউজ্জামান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদর উপজেলা সদস্যসচিব মেজর ডালিমসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশের অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তারা দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকলকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

    কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

  • খানাখন্দে ভরা সড়ক মেরামত করে আলোচনায় বাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার

    খানাখন্দে ভরা সড়ক মেরামত করে আলোচনায় বাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার

    স্টাফ রিপোর্টার:

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার নিজ অর্থায়নে জনকল্যাণমূলক কাজ করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।

    সম্প্রতি তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপজেলার জোড়া ব্রিজ থেকে বিজিবি ক্যাম্প হয়ে প্রতাপপুর পর্যন্ত যাতায়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ও খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি ইট ও আদলা দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে মেরামত করে দিয়েছেন।

    রাস্তাটির এই বেহাল দশার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে জনসাধারণের এই চরম দুর্ভোগ লাঘবে আবুল বাশারের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তিনি সর্বসাধারণের কাছে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবুল বাশার সবসময়ই এলাকার মানুষের যেকোনো সমস্যায় এবং সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন, যা তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে।

    সমাজসেবা ও মানবউন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বাঁকা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন তার নাম শোনা যাচ্ছে।

    দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, আবুল বাশারের মতো একজন জনবান্ধব, নিঃস্বার্থ ও উন্নয়নকামী মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে বাঁকা ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে।

    এলাকাবাসীর এই ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল বাশার জানান, পদের লোভ বা প্রচারের জন্য নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সবসময় কাজ করে আসছেন। ভবিষ্যতে নির্বাচিত হতে পারলে বাঁকা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন।

  • তৃণমূলের আস্থা ও ত্যাগের প্রতীক আবুল বাশার: বাঁকা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী মুখ

    তৃণমূলের আস্থা ও ত্যাগের প্রতীক আবুল বাশার: বাঁকা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য শক্তিশালী মুখ

    স্টাফ রিপোর্টার:

    চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন একটিই নাম—আবুল বাশার।

    বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সফল সাধারণ সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল বাশার তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং চরম প্রতিকূলতার মাঝেও জীবননগর ও বাঁকা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন তিনি।

    দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্যের প্রমাণ মেলে তার রাজনৈতিক জীবনের পদাঙ্ক লক্ষ্য করলে। স্বৈরাচারী আমলে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে তাকে ১২টি রাজনৈতিক মামলার বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলুম ও অমানবিক নির্যাতন। দীর্ঘ এক মাস কারাবরণ করেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। উল্টো কারাগার থেকে ফিরে দ্বিগুণ উদ্দীপনায় রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দিয়েছেন নিয়মিত আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা।

    শুধু দলীয় গণ্ডিতেই নয়, করোনাকালীন চরম সংকটের সময় তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক অনুদান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময়েও তিনি জনগণের ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের পক্ষে কথা বলায় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তৎকালীন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান তার ৩১ মাসের ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানী ভাতা আবুল বাশারকে দেননি। কিন্তু কোনো অন্যায় বা চাপের কাছে মাথা নত করেননি আবুল বাশার।

    রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক পরিমণ্ডলেও আবুল বাশারের সুনাম সর্বজনবিদিত। তিনি বর্তমানে এলাকার স্বনামধন্য সামাজিক সংগঠন ‘লোকমর্চা’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বিগত ৭ বছর ধরে তিনি মাঠপর্যায়ে আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

    একই সঙ্গে তিনি সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে মাদকের বিরুদ্ধে শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এলাকার প্রতিটি অঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষের বিপদে-আপদে তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরম বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তাকে বাঁকা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মী ও আপামর জনসাধারণের মাঝে আবুল বাশারের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার ও সুদৃঢ় সমর্থন সৃষ্টি হয়েছে। দল ও সমাজের প্রতি এমন ত্যাগী, সৎ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতাকে যদি আসন্ন বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি জয়লাভ করবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা শতভাগ নিশ্চিত।

    আবুল বাশার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দল তাকে মূল্যায়ন করলে এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে সমর্থন করলে তিনি বাঁকা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে এই ইউনিয়নটি দেশনায়ক তারেক রহমান ও বিএনপিকে উপহার দেবেন।

    চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে তিনি জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার, অবহেলিত গ্রামীণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবেন। একই সঙ্গে তিনি বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য প্রশাসনিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত ও সহজলভ্য করার অঙ্গীকার করেছেন।

    এলাকার সাধারণ ভোটারদের দাবি—ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাঁকা ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আবুল বাশারের মতো সুযোগ্য ও জনদরদী নেতার কোনো বিকল্প নেই।

  • স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামান

    স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসছে জুনেই — সভাপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাদরেজ জামা

    স্টাফ রিপোর্টার:জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এই কমিটি নিয়ে জোর আলোচনা ও লবিং-তদবির শুরু হয়েছে। দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন নেতৃত্ব আনতে যাচ্ছে বিএনপি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন মাসের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বের প্রতীক্ষা:২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। দলের হাইকমান্ড সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ত্যাগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই করছে।

    তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। ওই বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে রাজপথে সক্রিয় থেকে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যাঁরা সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাঁদের মূল্যায়নের বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    এক নেতার এক পদ’ নীতিতে বড় চমকের আভাস:দলের অভ্যন্তরে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আলোচনা থাকায় এবারের কমিটিতে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই পদ থেকে নতুন কমিটিতে কাউকে না রাখার আলোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    সভাপতি পদে এগিয়ে সাদরেজ জামান এই বাস্তবতায় সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক অন্যতম ছাত্রনেতা সাদরেজ জামান। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক দুঃসময়ে মাঠে থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।

    এ প্রসঙ্গে সাদরেজ জামান বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন জেল-জুলুম-নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে বলে প্রত্যাশা করছি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত থাকব।

    সভাপতি পদে আরও যাঁদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাঁরা হলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।

    সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী:সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া মামুন এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম, এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং উত্তরের সভাপতি ফরিদ।

    পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন কমিটির নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

    নেতাদের প্রত্যাশা ত্যাগীদের মূল্যায়ন হোক:বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো একে একে পুনর্গঠন করা হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক রয়েছে, তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন।

    নজরুল ইসলাম নোমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং তৃণমূলকে সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তাদেরকে বিএনপি চেয়ারম্যান মূল্যায়ন করবেন বলে আমার প্রত্যাশা।

    মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম বলেন, ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন করলে স্বেচ্ছাসেবক দল হবে একটি শক্তিশালী সংগঠন। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে এটা আমার দৃঢ় প্রত্যাশা।

     

    যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ বলেন, মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরে আসবে।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। সাংগঠনিক অভিভাবক যে দায়িত্ব দেবেন, সেটাই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।

    সংগঠনে নতুন প্রাণ আসবে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা:দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, এবারের কমিটিতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হবে। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে সাদরেজ জামান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

  • বেনাপোলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিলের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল


    (শার্শা)যশোর প্রতিনিধি:
    যশোরের বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় আজ দুপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

    এরই প্রতিবাদে শুক্রবার ( ৫ জুন ২০২৬) বিকেলে শার্শা উপজেলা ছাত্রদল ও বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বেনাপোলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান মেনে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।

    মিছিলে শার্শা উপজেলা ছাত্রদল ও বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি চলাকালে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

  • বেনাপোলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল শুরুর আগেই ছত্রভঙ্গ করল ছাত্রদল আটক ২


    শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:বেনাপোলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল শুরু হওয়ার আগেই ভেস্তে দিয়েছে ছাত্রদলের এক নেতা। ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা রেজাউর রহমান ভুট্টোর হুংকারে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিলটি। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
    ভিডিওতে দেখা যায়, বেনাপোল পৌর গেট এলাকায় জুম্মার নামাজের আগ মুহূর্তে ২৫/৩০ জন যুবক হাতে ছাত্রলীগের ব্যানার নিয়ে মিছিল শুরু করে। এসময় ছাত্রদল নেতা রেজাউর রহমান ভুট্টোর উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সন্দেহজনক হওয়ায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

  • পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগের অভিযোগে মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার:

    মৌলভীবাজার জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঈদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও তার পরিবার বা পিতার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতার নামে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা গেজেট তালিকায় নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকা যাচাই করেও তার পিতার নাম অনুপস্থিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

    মানববন্ধনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদে ব্যবহৃত ঠিকানা নিয়েও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলেও দাবি করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের “পরিদর্শক/ইন্সপেক্টর” পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করা হয়।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শ্বশুরবাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কাশিয়াগাড়ী গ্রামে অবস্থিত। একইসঙ্গে তার পিতার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ (নং–১৯০৭০৪, তারিখ–১৯/০৫/২০১৩) অনুযায়ী ঠিকানা ধামশ্রেণী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উল্লেখ থাকলেও তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক এইচ এম হাকিম, সাংবাদিক হাসান, সাংবাদিক টুটুল, সাংবাদিক সুমাইয়া, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী কালু পাটোয়ারী, সাংবাদিক পনির, সাংবাদিক আনজার শাহসহ অনেকে।

  • আশুলিয়ায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    আশুলিয়ায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্যকে ধারণ করে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভাদাইল ইসরাফিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন। রমজানের আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মাহফিল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
    অনুষ্ঠানে ক্লাবের সভাপতি ও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী ইসরাফিল হোসেন বলেন, রমজান আমাদের সংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সমাজে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত রাখতে ভাদাইল প্রাইমারি ফেন্ডস ক্লাব নিয়মিতভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
    ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি, তরুণ সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তোলেন।
    দোয়া মাহফিলে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। শান্ত, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে আয়োজিত এই আয়োজন শেষ হয় পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।

  • চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাড়িপাল্লার বিপুল জয়: রুহুল আমিন এগিয়ে ছেচল্লিশ হাজারের বেশি ভোটে

    চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাড়িপাল্লার বিপুল জয়: রুহুল আমিন এগিয়ে ছেচল্লিশ হাজারের বেশি ভোটে

    এইচ এম হাকিম:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন। বিজিএম‌ই এর সভাপতি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুকে ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি বিজয়ী হন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনের মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৪টি। এর মধ্যে গণনা হওয়া কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী ইসি ও মাঠ–পর্যায়ের তথ্য নিম্নরূপ—
    প্রাপ্ত ভোট
    ধানের শীষ: ১,৬৩,২৯৯
    দাড়িপাল্লা: ২,১০,১১১
    ফলে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ৪৬,৮১২ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং বেসরকারিভাবে বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

    এ আসনের দামুড়হুদা, জীবননগর এবং সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা-২ দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
    এবারও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তবে শেষ পর্যন্ত দাড়িপাল্লা প্রতীকই ব্যাপক ভোটে এগিয়ে বিজয়ের মুকুট অর্জন করে।

    নির্বাচন-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা সাপেক্ষে চূড়ান্ত তথ্য জানাবে নির্বাচন কমিশন।

  • ঢাকা-১৯ এ শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে নজর এখন ফলাফলে

    ঢাকা-১৯ এ শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে নজর এখন ফলাফলে

    আলমাস হোসাইন | ঢাকা প্রতিনিধি
    ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ দিনভর চলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিল চোখে পড়ার মতো ভোটার উপস্থিতি। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও মাঝারি ভিড়—সব মিলিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সরগরম ছিল পুরো এলাকা।
    সাভার পৌরসভা, আশুলিয়া, বিরুলিয়া ও শিমুলিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। তরুণ ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ভোটার রোকেয়া বেগম বলেন, আমরা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চাই। যে এগুলো নিশ্চিত করবে, তাকেই ভোট দিয়েছি। এমন প্রত্যাশাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে দিনভর ভোটকেন্দ্রগুলোতে।
    ভোটের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন দুই প্রধান প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার চালান। ভোট শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটসমর্থিত প্রার্থী দিলসানা পারুল দাবি করেন, মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে তিনি আশাবাদী।
    ভোটের দিন বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি কেন্দ্রে ধীরগতির ভোটগ্রহণ নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ দেখা দিলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি ছিল জোরদার।
    বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এই আসনে শ্রমজীবী ভোটার ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উভয় শিবিরই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছে।
    এখন শুরু হয়েছে ভোট গণনার কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। রাত যত গভীর হবে, ততই স্পষ্ট হবে—সাভার-আশুলিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনের বিজয়ের মুকুট উঠছে কার হাতে।