
স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাঈদুল ইসলামকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাঈদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও তার পরিবার বা পিতার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতার নামে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বা গেজেট তালিকায় নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকা যাচাই করেও তার পিতার নাম অনুপস্থিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদে ব্যবহৃত ঠিকানা নিয়েও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলেও দাবি করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের “পরিদর্শক/ইন্সপেক্টর” পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শ্বশুরবাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কাশিয়াগাড়ী গ্রামে অবস্থিত। একইসঙ্গে তার পিতার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ (নং–১৯০৭০৪, তারিখ–১৯/০৫/২০১৩) অনুযায়ী ঠিকানা ধামশ্রেণী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উল্লেখ থাকলেও তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আকাশ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক এইচ এম হাকিম, সাংবাদিক হাসান, সাংবাদিক টুটুল, সাংবাদিক সুমাইয়া, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী কালু পাটোয়ারী, সাংবাদিক পনির, সাংবাদিক আনজার শাহসহ অনেকে।